📘 Biggan zakir naik 📄 ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে

📄 ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে


ফলের প্রজনন প্রক্রিয়া: বিজ্ঞান ও কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

কুরআনে ফলের প্রজনন

وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ

"আর সকল প্রকারের ফল হতে। সেখানে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।"

–সূরা রা'দঃ ৩


ফলের প্রজনন প্রক্রিয়া ও গঠন

ফল হচ্ছে উৎকৃষ্ট উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি। ফল উৎপাদনের পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফুল পাওয়া যায়; এই ফুলে পুরুষ অঙ্গ পুংকেশরস্ত্রী অঙ্গ গর্ভকেশর রয়েছে। কোনো ফুলের স্ত্রী অঙ্গে যখন পরাগের মাধ্যমে পুংকেশর প্রবিষ্ট হয়, তখন সে ফুল হয় গর্ভবতী। পরে এই ফল পরিপক্ক হয় এবং তার বীজ ছড়ায়। সকল ফলের মধ্যেই যে পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গ রয়েছে, তা কুরআনে উল্লিখিত এক মহাসত্য


অনিষিক্ত ফল এবং বিকল্প প্রজনন পদ্ধতি

কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির ফল অনিষিক্ত (গর্ভহীন) ফুল থেকে উৎপন্ন হতে পারে যেমন, কলা, বিশেষ প্রকারের আনারস, ডুমুর, কমলা, আঙ্গুর ইত্যাদি। অবশ্য এসব ফল তাদের অন্য ধরনের গাছগাছালি থেকেও উৎপন্ন হয়, যেসব গাছগাছালিতে সুস্পষ্ট যৌন-প্রজনন প্রক্রিয়া দেখা যায়।


📘 Biggan zakir naik 📄 সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে

📄 সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে


কুরআনের দৃষ্টিতে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি

প্রত্যেক বস্তুর যুগল সৃষ্টি

وَمِن كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ

"আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।"

–সূরা আয-যারিয়াতঃ ৪৯

জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি সম্পর্কিত এ আয়াত মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও ফলসহ সবকিছুকে বুঝায়। এমনকি এটা ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটনের সমন্বয়ে গঠিত বিদ্যুতের পরমাণুকেও বুঝায়।


অজানা বস্তুর যুগল সৃষ্টি

سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ

"পূত পবিত্র সেই সত্ত্বা যিনি প্রত্যেকটির জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যা উৎপন্ন করে যমীন আর তাদের নিজেদের ভিতরেও আর সে সবেও যা তারা জানে না।”

–সূরা ইয়াসীন: ৩৬

কুরআন এখানে বলে যে, বর্তমানে মানুষ যা জানে নাভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হতে পারে সেগুলোসহ সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে।


📘 Biggan zakir naik 📄 প্রাণী ও পাখি দলীয়ভাবে বসবাস করে

📄 প্রাণী ও পাখি দলীয়ভাবে বসবাস করে


প্রাণী ও পাখির সামাজিক জীবন: কুরআন ও বিজ্ঞান

কুরআনে প্রাণীকূলের ঐক্যবদ্ধতা

وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُم

"ভূপৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোন জীব নেই, আর দু'ডানা দ্বারা উড়ন্ত এমন কোন পাখি নেই, যারা তোমাদের মত একটি উম্মাত নয়।"

–সূরা আন-আনআম: ৩৮


প্রাণী ও পাখির দলবদ্ধতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

গবেষণায় প্রমাণিত যে, প্রাণী ও পাখি দলগতভাবে বাস করে; উদাহরণস্বরূপ- তারা সুসংগঠিত হয় এবং একত্রে কাজ ও বসবাস করে


📘 Biggan zakir naik 📄 পাখির উড্ডয়ন

📄 পাখির উড্ডয়ন


পাখির উড়া: কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

কুরআনে পাখির উড়া

পাখির উড়া সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে:

أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

"তারা কী উড়ন্ত পাখিকে দেখে না? এগুলো আকাশের অন্তরীক্ষে আজ্ঞাধীন রয়েছে। আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোকে আগলে রাখে না। নিশ্চয় এতে বিশ্বাসীসের জন্যে রয়েছে নিদর্শনাবলী।”

–নাহল: ৭৯

নীচের আয়াতে একই রকম বর্ণনা পুনরাবৃত্তি হয়েছে।

"তারা কী তাদের উপর দিকে পাখীগুলোর প্রতি খেয়াল করে না। যারা ডানা মেলে আবার গুটিয়ে নেয়? দয়াময় ছাড়া অন্য কেউই তাদেরকে (উপরে) ধরে রাখে না। তিনি সবকিছুর সম্যক দ্রষ্টা।"

আরবী শব্দ أَمْسَكَ (আমসাকা)-এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, 'কারো হাত উপরে রাখা, আটক করা, ধরে রাখা, কাউকে পিছন থেকে ধরে রাখা', অর্থাৎ এখানে এটিই প্রকাশ করে যে, আল্লাহতায়ালাই নিজস্ব ক্ষমতাবলে পাখিদের আকাশে ধরে রাখেন। আয়াতগুলোর মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, পাখির চলাচল পুরোপুরি সৃষ্টিকর্তার নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ


পাখির অভিপ্রয়াণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণ করে যে, নির্দিষ্ট প্রজাতির এমন কিছু পাখি রয়েছে, যাদের চলাচলে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচীর উৎকর্ষের পরিচয় পাওয়া যায়। শুধুমাত্র পাখির 'genetic code' (বংশানুগতির তথ্য বা সংকেতাবলী জীবকোষস্থিত Chromosome এ রক্ষিত থাকে)- এ সঞ্চিত গমনাগমন সম্পর্কিত কর্মসূচীর কারণেই এ ধরণের পাখির বাচ্চারা পর্যন্ত দীর্ঘ ও দুর্গম যাত্রাপথের উদ্দেশ্যে সফরে সাফল্য অর্জনে সক্ষম-যাদের দেশান্তরে গমনাগমনের কোন রূপ পূর্ব অভিজ্ঞতা এমনকি কোন পথ নির্দেশনাও থাকে না। শুধু তাই নয়, একইভাবে তারা যে জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে যথারীতি সে স্থানে ফিরেও আসে

প্রফেসর হামবার্গার তাঁর 'Power and Fragility'- বইতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী 'mutton-bird'- নামক এক প্রকার পাখির উদাহরণ দিয়েছেন। এ পাখিরা তাদের আবাসস্থল থেকে যাত্রা শুরু করে বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশ্যে প্রায় ২৪,০০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করার পর আবার যখন তারা সে আবাসস্থলে ফিরে আসে, তখন তাদের গোটা যাত্রাপথের রেখাচিত্র দাঁড়ায় অনেকটা ''-এর মত। এই পাখিরা তাদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে ৬ মাসেরও বেশি সময় নেয়, কিন্তু সে স্থান থেকে আবাসস্থলে ফিরে আসতে সর্বাধিক সময় লাগে এক সপ্তাহের মত

অতএব, আঁকাবাঁকা এ ধরণের জটিল সফরের তথা পথযাত্রার পুরো নির্দেশনাই এই প্রজাতির পাখির স্নায়ুকোষে অবশ্যই ধারণকৃত থাকতে হবে। এই জটিল সফর ও প্রত্যাবর্তনের কর্মসূচী নিশ্চিতভাবে নির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত। আমাদের কী এই সুনির্ধারিত কর্মসূচীর প্রণেতার স্বরূপ সম্পর্কে ভেবে দেখা উচিত নয়?


ফন্ট সাইজ
15px
17px