📄 জীব বিজ্ঞান প্রতিটি জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে
পানি থেকে প্রাণের সৃষ্টি: বিজ্ঞান ও কুরআন
পানি ও প্রাণের উৎস: কুরআনিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ
কুরআনের আয়াতটিতে লক্ষ্য করি:
أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا ۖ وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ۖ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ
"কাফেররা কী ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি সৃষ্টি করলাম পানি থেকে। এরপরও কী তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না?"
–সূরা আম্বিয়া: ৩০
বিজ্ঞানের অনেক অগ্রগতির কারণে বর্তমানে শতকরা ৮০ ভাগ পানি দ্বারা তৈরি কোষের সারবস্তু সাইটোপ্লাজম সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞান এটাও জানিয়েছে যে, অধিকাংশ জীবের গঠনে শতকরা ৫০-৯০ ভাগ পানি এবং প্রত্যেক জীবের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পানি অপরিহার্য। প্রত্যেক প্রাণী যে পানি থেকে সৃষ্টি তা ১৪ শতাব্দি পূর্বে কোন মানুষের পক্ষে কী অনুমান করা সম্ভবপর ছিল? আরবের মরুঅঞ্চলের কোন মানুষের পক্ষে এ ধরণের অনুমান কী কল্পনাযোগ্য হতো যেখানে সর্বদা পানির দুষ্প্রাপ্যতা ছিল?
সকল প্রাণীর সৃষ্টিতে পানির ভূমিকা
কুরআনের পানি দ্বারা প্রাণীর সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে-
وَاللَّهُ خَلَقَ كُلَّ دَابَّةٍ مِّن مَّاءٍ
"আল্লাহ প্রত্যেক প্রাণীকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।"
–সূরা আন-নূরঃ ৪৫
মানব সৃষ্টিতে পানির গুরুত্ব
নীচের আয়াতটি পানি দ্বারা মানুষের সৃষ্টি সম্পর্কে বলে-
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا فَجَعَلَهُ نَسَبًا وَصِهْرًا ۗ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًا
"তিনিই পানি থেকে মানবকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার পালনকর্তা সবকিছু করতে সক্ষম।"
–সূরা আল-ফুরক্বান: ৫৪
📄 অতিপারমাণবিক কণিকার অস্তিত্ব
পরমাণুবাদ: বিজ্ঞান ও কুরআন
পরমাণুবাদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
'পরমাণুবাদ' প্রাচীনকালে একটি সুপরিচিত তত্ত্ব ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছিল। মূলত প্রায় ২৩ শতাব্দিকাল পূর্বে গ্রীকরা বিশেষতঃ গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস কর্তৃক এই তত্ত্বটি প্রস্তাবিত হয়েছিল। এই তত্ত্বটি মূলত গ্রীকরা প্রস্তাব করেছিল, তবে ডেমোক্রিটাস এবং তার পরবর্তী লোকেরা ধারণা করত যে, পরমাণু হচ্ছে বস্তুর ক্ষুদ্রতম একক। আরবরাও একই রকম বিশ্বাস করত। আরবী শব্দ ذَرَّة (জাররাহ)-এর অতিসাধারণ অর্থ হচ্ছে পরমাণু।
আধুনিক বিজ্ঞান ও পরমাণুর বিভাজ্যতা
বর্তমানে বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, পরমাণু বিভাজ্য। পরমাণু যে বিভাজিত হতে পারে তা বিংশ শতাব্দির আবিষ্কার। এমনকি ১৪০০ বছর পূর্বে এই ধারণা আরবের কারও জানা ছিল না। সেজন্য ذَرَّة (জাররাহ) ছিল একটি সীমা যা কেউ অতিক্রম করতে পারত না।
কুরআনে ক্ষুদ্র কণার ধারণা
তথাপি নিচের আয়াতটি এই সীমা স্বীকার করে না:
وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِن ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
কাফিরগণ বলে-ক্বিয়ামত আমাদের নিকট আসবে না। বল, না, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদের নিকট তা অবশ্য অবশ্যই আসবে। তিনি যাবতীয় অদৃশ্যের জ্ঞানী। তাঁর থেকে লুক্কায়িত নেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুকণা, আকাশ ও পৃথিবীতে, না তার থেকে ছোট আর না তার থেকে বড় (কোনটাই নেই লুক্কায়িত)। সবই আছে (লাওহে মাহফুয নামক) এক সুস্পষ্ট কিতাবে।
–সূরা সাবা: ৩
وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِن قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَن رَّبِّكَ مِن مِّثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِن ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
"আর তোমার প্রতিপালকের দৃষ্টির আড়ালে নেই এমন অণু পরিমাণ, যা আছে পৃথিবীতে, আর না আছে আসমানে, না তাথেকে ছোট বা না তাথেকে বড় কোন বস্তু, যা (লেখা) আছে এক সুস্পষ্ট কিতাবে।
–সূরা ইউনূস: ৬১
কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গতি
এ আয়াত দ্বারা আল্লাহর অসীম জ্ঞান, তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন সকল কিছুর জ্ঞানের কথাই বলে। তারপর এটি বলে যে, পরমাণু অপেক্ষা ক্ষুদ্র বা বৃহৎ সবকিছুর ব্যাপারে আল্লাহ সচেতন। এভাবে আয়াতটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, পরমাণু অপেক্ষা ক্ষুদ্র কোন কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে, যে সত্যটি আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারা অতি সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে।
📄 উদ্ভিদকে জোড়ায় জোড়ায় (পুরুষ ও স্ত্রী) সৃষ্টি করা হয়েছে
উদ্ভিদে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ: বৈজ্ঞানিক ও কুরআনিক দৃষ্টিকোণ
উদ্ভিদের লিঙ্গভেদ ধারণা
পূর্বে মানুষ জানত না যে, উদ্ভিদের মাঝেও পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ রয়েছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের মতে, প্রত্যেক উদ্ভিদের পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে। এমনকি সমজাতীয় লিঙ্গ বিশিষ্ট উদ্ভিদেরও পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গ আছে।
কুরআনে উদ্ভিদের লিঙ্গভেদ
وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّىٰ
"আর আকাশ থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেন, আর তা দিয়ে আমি বিভিন্ন লতা-যুগল উৎপন্ন করি, যার একেকটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
–সূরা ত্ব-হাঃ ৫৩
📄 ফল জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে
ফলের প্রজনন প্রক্রিয়া: বিজ্ঞান ও কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি
কুরআনে ফলের প্রজনন
وَمِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ
"আর সকল প্রকারের ফল হতে। সেখানে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।"
–সূরা রা'দঃ ৩
ফলের প্রজনন প্রক্রিয়া ও গঠন
ফল হচ্ছে উৎকৃষ্ট উদ্ভিদের প্রজনন প্রক্রিয়ার শেষ পরিণতি। ফল উৎপাদনের পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফুল পাওয়া যায়; এই ফুলে পুরুষ অঙ্গ পুংকেশর ও স্ত্রী অঙ্গ গর্ভকেশর রয়েছে। কোনো ফুলের স্ত্রী অঙ্গে যখন পরাগের মাধ্যমে পুংকেশর প্রবিষ্ট হয়, তখন সে ফুল হয় গর্ভবতী। পরে এই ফল পরিপক্ক হয় এবং তার বীজ ছড়ায়। সকল ফলের মধ্যেই যে পুরুষ ও স্ত্রী অঙ্গ রয়েছে, তা কুরআনে উল্লিখিত এক মহাসত্য।
অনিষিক্ত ফল এবং বিকল্প প্রজনন পদ্ধতি
কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির ফল অনিষিক্ত (গর্ভহীন) ফুল থেকে উৎপন্ন হতে পারে যেমন, কলা, বিশেষ প্রকারের আনারস, ডুমুর, কমলা, আঙ্গুর ইত্যাদি। অবশ্য এসব ফল তাদের অন্য ধরনের গাছগাছালি থেকেও উৎপন্ন হয়, যেসব গাছগাছালিতে সুস্পষ্ট যৌন-প্রজনন প্রক্রিয়া দেখা যায়।