📘 Biggan zakir naik 📄 বাতাস মেঘকে পূর্ণ করে

📄 বাতাস মেঘকে পূর্ণ করে


কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানে পানিচক্র এবং বৃষ্টির বর্ণনা

বৃষ্টিপাত এবং বায়ুর ভূমিকা

وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ فَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَاكُمُوهُ

"আমি বৃষ্টিগর্ভ বায়ু পরিচালনা করি, অতঃপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, এরপর তোমাদেরকে তা পান করাই।"

–সূরা হিজর : ২২

এখানে ব্যবহৃত আরবী শব্দ হচ্ছে, لَوَاقِح (লাওয়াকিহ) যা لَاقِح (লাকিহ) শব্দের বহুবচন এবং এর উৎপত্তি لَقَح 'লাক্বাহ' শব্দ থেকে যার অর্থ হচ্ছে পূর্ণ করা, গর্ভবতী করা অথবা উর্বর করা। এখানে 'পূর্ণ' করার অর্থ হচ্ছে যে, বাতাস মেঘমালাকে একসাথে ধাক্কা দিয়ে ঘনীভবনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ফলে আকাশে বিদ্যুত চমকায় এবং বৃষ্টির সূচনা হয়


أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُزْجِي سَحَابًا ثُمَّ يُؤَلِّفُ بَيْنَهُ ثُمَّ يَجْعَلُهُ رُكَامًا فَتَرَى الْوَدْقَ يَخْرُجُ مِنْ خِلَالِهِ وَيُنَزِّلُ مِنَ السَّمَاءِ مِن جِبَالٍ فِيهَا مِن بَرَدٍ فَيُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ وَيَصْرِفُهُ عَن مَّن يَشَاءُ ۖ يَكَادُ سَنَا بَرْقِهِ يَذْهَبُ بِالْأَبْصَارِ

"তুমি কী দেখ না যে, আল্লাহ মেঘমালাকে সঞ্চালিত করেন, অতঃপর তাকে পুঞ্জীভূত করেন, অতঃপর তাকে স্তরে স্তরে রাখেন; অতঃপর তুমি কী দেখ যে, তাহতে বারিধারা নির্গত হয়। তিনি আকাশস্থিত শিলাস্তূপ থেকে শিলা বর্ষণ করেন। এবং তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন। এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা, তা অন্যদিকে ফিরিয়ে দেন। তার বিদ্যুৎ ঝলক দৃষ্টিশক্তি যেন বিলীন করে দিতে চায়।”

– সূরা আন-নূর ৪৩


"তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্যে থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।”

– সূরা আর-রুম ৩০:৪৮


"শপথ চক্রশীল 'আকাশের'"

–সূরা তারিক: ১১


পানিচক্র: আধুনিক বিজ্ঞান ও কুরআনের বর্ণনা

পানি বিজ্ঞানের আধুনিক তথ্যের আঙ্গিকে কুরআনের বর্ণনাগুলো সন্দেহাতীতভাবে নির্ভুল এবং সঠিক। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে পানি চক্রের বর্ণনা রয়েছে, যেমন-


"তিনিই (আল্লাহ) বৃষ্টির পূর্বে সুসংবাদবাহী বায়ু পাঠিয়ে দেন। এমনকি যখন বায়ুরাশি পানিপূর্ণ মেঘমালা বয়ে আনে, তখন আমি এ মেঘমালাকে একটি মৃত ভূখণ্ডের দিকে পাঠিয়ে দেই। অতঃপর এ মেঘ থেকে বৃষ্টি ধারা বর্ষণ করি। অতঃপর পানি দ্বারা সব রকমের ফল উৎপন্ন করি। এমনিভাবে মৃতদেরকে বের করি যাতে তোমরা চিন্তা কর।"

–সূরা আল-আ'রাফ ৫৭


"তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর স্রোতধারা স্ফিত ফেনারাশি উপরে নিয়ে আসে।"

–সূরা রা'দ ১৭


"তিনিই রহমতের প্রাক্কালে বাতাসকে সুসংবাদবাহীরূপে প্রেরণ করেন। এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পানি বর্ষণ করি। তদদ্বারা মৃত ভূখণ্ডকে জীবিত করার জন্যে এবং আমার সৃষ্ট জীবজন্তু ও মানুষের তৃষ্ণা নিবারণর জন্যে।"

–সূরা আল-ফুরকান: ৪৮-৪৯


"আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর সে বায়ু মেঘমালাকে পরিচালিত করে। অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খণ্ডের দিকে পরিচালিত করি, অতঃপর তদদ্বারা সে ভূ-খণ্ডকে তার মৃত্যুর পর সজীব করে দেই। এমনিভাবে হবে পুনরুত্থান।"

– (সূরা ও আয়াতের উল্লেখ নেই)


"আমি পৃথিবীতে প্রবাহিত করি নির্ঝরিনী।"

"আল্লাহ আকাশ থেকে যে রিযিক (বৃষ্টি) বর্ষণ করেন, অতঃপর পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন, তাতে এবং বায়ুর পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।"

–সূরা আল-জাসিয়া : ৫


"আমি কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদদ্বারা বাগান ও শস্য উৎপন্ন করি, সেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়। এবং লম্বমান খর্জুর, বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর, বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত জনপদকে জীবন দান করি। এমনিভাবে পুনরুত্থান ঘটবে।"

–সূরা ক্বাফঃ ৯-১১


পানির উৎস ও কৃতজ্ঞতা

"তোমরা যে পানি পান কর, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কী? তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আন, না আমি বর্ষণ করি? আমি ইচ্ছা করলে তাকে লোনা করে দিতে পারি, অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?'

–সূরা আল-ওয়াকিয়া ৬৮-৭০


📘 Biggan zakir naik 📄 ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞান

📄 ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞান


ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানে পৃথিবীর পৃষ্ঠ ও পর্বতসমূহের ভূমিকা

ভূ-পৃষ্ঠের গঠন ও ভাঁজ ধারণা

ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানে 'ভাঁজ করার' বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত সত্য। পৃথিবীর যে কঠিন পৃষ্ঠে (crust) আমরা বাস করি তা শক্ত খোলের মত, অন্যদিকে পৃথিবীর অভ্যন্তর উত্তপ্ত ও তরল, ফলে যেকোনো প্রাণীর জন্য তা বসবাসের অনুপোযোগী।


পর্বতসমূহের ভূমিকা ও পৃথিবীর স্থিতিশীলতা

তাছাড়া এটাও প্রমাণিত যে, পাহাড়-পর্বতের দায়িত্ব ভাঁজ করার মত বিস্ময়কর ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত কারণ নড়বড়ে অবস্থা থেকে পরিত্রাণের মাধ্যমে পাহাড়-পর্বতের ভিত্তি স্থাপন করাই ছিল এ ভাঁজগুলোর কাজ।

ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৩,৭৫০ মাইল এবং যে ভূপৃষ্ঠে আমরা বাস করি তার বিস্তার এক মাইল থেকে ত্রিশ মাইল পর্যন্ত। যেহেতু পৃষ্ঠটির বিস্তার পাতলা তাই আন্দোলিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পাহাড়-পর্বত পেরেকের মত পৃথিবীপৃষ্ঠকে ধারণ করার মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে।


📘 Biggan zakir naik 📄 পাহাড় পর্বতগুলো পেরেক সদৃশ

📄 পাহাড় পর্বতগুলো পেরেক সদৃশ


কুরআন ও আধুনিক ভূ-তত্ত্ব: পর্বতমালার ভূমিকা

কুরআনে পর্বতমালার বর্ণনা

কুরআনের আয়াতে হুবহু একই বর্ণনা রয়েছেঃ

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا

"আমি কী ভূমিকে বিছানা করিনি, এবং পর্বতমালাকে পেরেক?"

–সূরা নাবা ৬-৭


পর্বতমালা ও ভূতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা

এখানে ব্যবহৃত আরবী শব্দ أَوْتَاد (আওতাদ)-এর অর্থ হচ্ছে পেরেক (যা দড়ি বা রজ্জুকে ভূমির সঙ্গে নির্দিষ্ট করে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়); এগুলো ভূতাত্ত্বিক ভাঁজের গভীর ভিত্তি যা উপর থেকে নীচ পর্যন্ত বিস্তৃত।

'Earth' হচ্ছে সারাবিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিষয়ে ব্যবহৃত প্রাথমিক রেফারেন্স বই। এই বইয়ের অন্যতম লেখক ফ্রাঙ্ক প্রেস যিনি ১২ বছর যাবত আমেরিকার Academy of Sciences- এর প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বিজ্ঞান বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

এই বইয়ে তিনি বর্ণনা দেন যে, পাহাড়-পর্বতসমূহ পেরেকাকৃতি এবং এগুলো অবিভক্ত বস্তুর এক ক্ষুদ্র অংশমাত্র যার মূল ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে নীচ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিস্তৃত

ড. প্রেসের মতে, পৃথিবীর কঠিন উপরিতলকে (crust) সুস্থিত অবস্থায় রাখতে পাহাড়-পর্বতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


ভূমিকম্প প্রতিরোধে পর্বতের ভূমিকা: কুরআনের বর্ণনা

পৃথিবীকে কাঁপা থেকে রক্ষা করতে পাহাড়-পর্বতের ভূমিকার কথা কুরআনও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে:

وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ

"আমি পৃথিবীতে ভারি বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।"

–সূরা আম্বিয়া: ৩১


আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে কুরআনের ঐক্য

কুরআনে বর্ণনাসমূহ আধুনিক ভূ-তাত্ত্বিক উপাত্তের সাথে নির্ভুলভাবে ঐক্যমত পোষণ করে।


📘 Biggan zakir naik 📄 সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র প্রযুক্তি বিষয়ক বিজ্ঞান

📄 সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র প্রযুক্তি বিষয়ক বিজ্ঞান


কুরআন ও মিষ্টি-লবণাক্ত পানির প্রতিবন্ধক: বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ

মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির সংমিশ্রণ ও অন্তরাল

মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যেকার প্রতিবন্ধক সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:

مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ - بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لَّا يَبْغِيَانِ

"তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন, উভয়ের মাঝখানে রয়েছে অন্তরাল, যা তারা কখনো অতিক্রম করতে পারে না। "

–সূরা আর-রাহমান: ১৯-২০

আরবী ভাষায় بَرْزَخ (বারযাখ) শব্দটির অর্থ হচ্ছে 'একটি প্রতিবন্ধক' বা 'বিভাজন'। এই বিভাজন কোন শারীরিক বিভাজন নয়। আরবী শব্দ مَرَجَ (মারজা)-এর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে যে-তারা উভয়ই একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায়'। প্রথম যুগের, কুরআনের তাফসীরকারকরা দুরকমের পানির দুইটি বিপরীত অর্থের ব্যাখ্যা করতে অসমর্থ ছিলেন; উদাহরণস্বরূপ- তাদের মধ্যে প্রতিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও তারা একত্রে মিশে একাকার হয়ে যায় অথচ একই সময়ে উভয়ের মাঝে রয়েছে প্রতিবন্ধক। বর্তমানে বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, দুটি ভিন্ন সমুদ্র একত্রে মিলিত হলে সেখানে উভয়ের মধ্যে একটি প্রতিবন্ধক থাকে। এই প্রতিবন্ধক দুটি সমুদ্রকে বিভক্ত করে, ফলে প্রত্যেক সমুদ্রের নিজস্ব তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং ঘনত্ব বজায় থাকে। 'সমুদ্র সম্পদ ও সমুদ্র প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের এই আয়াতটি ব্যাখ্যা করার এখনই তুলনামূলক সুবর্ণ সুযোগ। দুটি সমুদ্রের মাঝে অদৃশ্য ঢালু পানির প্রতিবন্ধক রয়েছে যার মধ্য দিয়ে এক সমুদ্রের পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে।

কিন্তু যখন এক সমুদ্র থেকে পানি অন্য সমুদ্রে প্রবেশ করে তখন সে সমুদ্রটি তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং অন্য সমুদ্রের সাথে মিশে একাকার হয়ে যায়। এভাবে এই প্রতিবন্ধকটি দু'ধরণের পানির মধ্যে পরিবর্তনমূলক একীভূতকারী বন্ধনী হিসেবে কাজ করে।


দুই সমুদ্রের মাঝে অদৃশ্য অন্তরায়

এই বিষয়টি সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:

وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا

"তিনিই দুই সমুদ্রের মাঝখানে অন্তরায় রেখেছেন।”

–সূরা আন-নামল: ৬১

এই প্রতিবন্ধক জিব্রাল্টারে ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলসহ আরও কয়েক জায়গায় দেখা যায়। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কেইপ পয়েন্টে ও কেইপ পেনিনসুলায় একটি সাদা প্রতিবন্ধক পরিষ্কারভাবে দেখা যেতে পারে, যেখানে আটলান্টিক মহাসাগর ভারত মহাসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।


মিষ্টি ও লবণাক্ত পানির সুনির্দিষ্ট বিভাজন

কিন্তু কুরআন যখন মিষ্টি পানি ও লবণাক্ত পানির মধ্যে বিভক্তকারীর সম্পর্কে কথা বলে, তখন ঐ প্রতিবন্ধকের সাথে একটি নিবৃত্তিকর বিভাজনের বিদ্যমানতাও বলে।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-

وَهُوَ الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ هَٰذَا عَذْبٌ فُرَاتٌ وَهَٰذَا مِلْحٌ أُجَاجٌ وَجَعَلَ بَيْنَهُمَا بَرْزَخًا وَحِجْرًا مَّحْجُورًا

"তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, একটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও একটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল"

–সূরা আল-ফুরক্বান: ৫৩

আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে যে, নদীর মোহনায় যেখানে স্বাদু (মিঠা) পানিলবণাক্ত পানি মিলিত হয়, সে অবস্থাটি যেখানে দুটি লবণাক্ত পানির সমুদ্র মিলিত হয় তা থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়। নদীর মোহনায় যা মিঠা পানিকে লবনাক্ত পানি থেকে পৃথক করে তা হচ্ছে দুই ধরণের পানিকে বিচ্ছিন্নভাবে ঘনত্ব পৃথককারী একটি স্থান। এ বিভাজন স্থানে এক প্রকার লবণাক্ততা আছে যা মিঠা ও লবণাক্ত উভয় থেকেই ভিন্ন।

মিশরের নীলনদ যেখানে ভূমধ্যসাগরের সাথে মিলিত হয় সে স্থানসহ আরও অনেক স্থানে এধরণের বিভাজনের দৃশ্য দেখা যায়।


বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও স্বীকৃতি

কুরআনে উল্লেখিত এই বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলো আমেরিকার 'University of Colorado'- এর ভূতত্ত্ব বিদ্যার প্রফেসর ও বিখ্যাত সমুদ্র বিজ্ঞানী ড. উইলিয়াম হেইয়ের দ্বারাও দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত।


ফন্ট সাইজ
15px
17px