📘 Biggan zakir naik 📄 পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার

📄 পৃথিবীর আকৃতি গোলাকার


কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান: পৃথিবীর আকৃতি

পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণা

পূর্বকালে মানুষ বিশ্বাস করত পৃথিবী চ্যাপ্টা। পৃথিবীর কিনারা থেকে ছিটকে পড়ার ভয়ে শত শত বছর ধরে মানুষ বেশি দূর পর্যন্ত ভ্রমণ করত না। স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক প্রথম ব্যক্তি যিনি ১৫৯৭ সালে পৃথিবীর চতুর্দিকে নৌ-ভ্রমণের পর প্রমাণ করেছিলেন যে, পৃথিবী গোলাকার


দিন ও রাত্রির পরিবর্তন এবং কুরআনিক নির্দেশনা

দিন ও রাত্রির পরিবর্তন সম্পর্কে কুরআনের আয়াতটিকে বিবেচনা করা যাক-

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ

"তুমি কী দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন, এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন?'

–সূরা লুকমানঃ ২৯

এখানে বলা হচ্ছে, রাত্রি ধীরে ধীরে ক্রমশ দিনে পরিবর্তিত হয় এবং অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে ক্রমশ রাত্রিতে পরিবর্তিত হয়। শুধুমাত্র পৃথিবী গোলাকার বলেই এই ঘটনা ঘটতে পারে। পৃথিবী চ্যাপ্টা হলে রাত্রি থেকে দিনে ও দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত।


পৃথিবীর আচ্ছাদন ও কুরআনের বর্ণনা

خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ

"তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন।”

–সূরা যুমারঃ ৫

এখানে আরবী শব্দ "يُكَوِّرُ" অর্থ 'আচ্ছাদিত করা' বা 'কোন জিনিসকে প্যাঁচানো'- যেমনি মাথার চতুর্দিকে পাগড়ী পেঁচানো হয়। দিন ও রাত্রির 'আচ্ছাদিত করা' বা 'কুণ্ডলী পাকানোর' ঘটনাটি শুধুমাত্র তখনই ঘটতে পারে যদি পৃথিবীটা গোলাকার হয়।


পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি: ভূ-গোলক ও কুরআনিক ইঙ্গিত

পৃথিবীটা বলের মত পুরোপুরি গোলাকার নয় বরং ভূ-গোলকের মত, এটি মেরুর দিকে চ্যাপ্টা অর্থাৎ মেরুকেন্দ্রিক চ্যাপ্টা। নিচের আয়াতটি পৃথিবীর আকারের একটা বর্ণনা ধারণ করে-

وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَٰلِكَ دَحَاهَا

"এবং আল্লাহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতি করে তৈরি করেছেন।"

–সূরা আন-নাযিআতঃ ৩০

এখানে ডিমের জন্য ব্যবহৃত আরবী শব্দ হচ্ছে দাহাহা (دَحَاهَا), যার অর্থ একটি উটপাখির ডিম। একটি উটপাখির ডিমের আকৃতি হচ্ছে পৃথিবীর ভূ-গোলকীয় আকৃতি সদৃশ। এভাবেই কুরআন পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে সঠিকভাবে বর্ণনা করে, যদিও কুরআন নাযিল হওয়ার সময়ে পৃথিবী চ্যাপ্টা হবার ধারণাটাই ব্যাপকভাবে সর্বত্র প্রচলিত ছিল।


📘 Biggan zakir naik 📄 চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো

📄 চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো


সূর্য ও চাঁদের আলো: কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞান

প্রাচীন বিশ্বাস ও আধুনিক বিজ্ঞান

আদি সভ্যতাগুলো বিশ্বাস করত যে, চাঁদ তাঁর নিজস্ব আলো দেয়। বিজ্ঞান আমাদেরকে জানায় চাঁদের আলো হচ্ছে প্রতিফলিত আলো। অবশ্য ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআন নিচের আয়াতটিতে এ বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছিলঃ

تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُّنِيرًا

"কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমণ্ডলে রাশিচক্র সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে রেখেছেন সূর্য ও দীপ্তিময় চন্দ্র।"

–সূরা আল-ফুরকান: ৬১


কুরআনে সূর্যের আলোর প্রকৃতি

কুরআনে সূর্যের জন্য ব্যবহৃত শব্দ হচ্ছে شمس (শামস)। আবার سِرَاجًا (সিরাজ) হিসেবেও উল্লেখ করা হয় যার অর্থ মশাল, 'ওয়াহহাজ' হিসেবে যার অর্থ 'প্রজ্জ্বলিত বাতি' অথবা 'দিয়া' হিসেবে যার অর্থ উজ্জ্বল জ্যোতি। তিনটি বর্ণনার সবগুলোই সূর্যের জন্য যথোপযুক্ত, কারণ সূর্য অন্তর্দাহের মাধ্যমে প্রচণ্ড তাপ ও আলো উৎপন্ন করে (Internal combustion হচ্ছে যে প্রক্রিয়ায় কোন কিছুর অভ্যন্তরে গ্যাস বা বাষ্পের বিস্ফোরণের দরুন শক্তি উৎপন্ন হয়)।


কুরআনে চাঁদের আলোর প্রকৃতি

قمر (ক্বামার) হচ্ছে চাঁদের জন্য কুরআনে ব্যবহৃত আরবী শব্দ এবং এটি কুরআনে مُنِيرًا (মুনীর) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা প্রতিফলিত আলোদানকারী একটি বস্তু। তাছাড়া, চাঁদ হচ্ছে একটি নিষ্ক্রিয় বস্তু, যা সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে, চাঁদের প্রকৃতিগত এ বৈশিষ্ট্যের সাথে কুরআনে বর্ণিত বর্ণনা যথাযথ মিলে যায়। কুরআনে শুধুমাত্র সূর্যকে سِراج (সিরাজ), وَهَّاجًا (ওয়াহহাজ) বা ضياء (দিয়া) হিসেবে এবং চাঁদকে نور (নূর) বা منير (মুনীর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং কুরআনে চাঁদের আলো ও সূর্যের আলোর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্যের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।


আরও কুরআনিক দৃষ্টান্ত

নিচের আয়াতগুলো সূর্যেরচাঁদের আলোর প্রকৃতির সাথে সম্পর্কযুক্ত-

هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا

"তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সূর্যকে উজ্জ্বল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে।”

–সূরা ইউনূসঃ ৫

أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا - وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا -

"তোমরা কী লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে, এবং সেখানে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে।"

–সূরা নূহঃ ১৫-১৬


উপসংহার

সূর্যের আলো এবং চাঁদের আলোর প্রকৃতির পার্থক্যের ব্যাপারে কুরআন এবং আধুনিক বিজ্ঞান এভাবেই প্রকৃত সামঞ্জস্যতা বিধান করে।


📘 Biggan zakir naik 📄 সূর্য চক্রাকারে আবর্তিত হয়

📄 সূর্য চক্রাকারে আবর্তিত হয়


মহাবিশ্বের গতি: বিজ্ঞান ও কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণার বিবর্তন

দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকেরা বিশ্বাস করত যে, পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে সম্পূর্ণ স্থির এবং সূর্যসহ সবকিছু পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরছে। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে টলেমির যুগ থেকে মহাবিশ্বের এ ভুকেন্দ্রিক ধারণা পাশ্চাত্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত সত্য হিসেবে প্রচলিত ছিল। ১৫১২ সালে নিকোলাস কোপারনিকাস তার 'সূর্যকেন্দ্রিক গ্রহসংক্রান্ত গতিতত্ত্ব' এতে বলেন যে, 'সূর্য তার চতুর্দিকে ঘূর্ণায়ন গ্রহগুলোর সৌরজগতের কেন্দ্রে গতিহীন'।

১৬০৯ খ্রিঃ জার্মান বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার 'Astronomia Nova' নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এ বইটিতে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে, শুধুমাত্র গ্রহগুলোই সূর্যের চারদিকে ডিম্বাকৃতির কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে না, বরং গ্রহগুলো তাদের নিজস্ব অক্ষে অসম গতিতে আবর্তন করে। এ জ্ঞানের ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের পক্ষে রাত্রি ও দিনের অনুক্রমসহ সৌরজগতের অনেক কাজপদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছে।

এসব আবিষ্কারের পরেও বিশ্বাস করা হতো যে, সূর্য স্থির এবং এটি পৃথিবীর মত নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তন করে না। আমার মনে পড়ে যখন আমি স্কুলে পড়ি, তখন ভূগোল বই পড়ে এই ভুল ধারণাটি জেনেছি।


কুরআন ও মহাকাশের বস্তুর গতি: সূরা আল-আম্বিয়া ৩৩

নিচের আয়াতটিকে মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করি:

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

"তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।"

–সূরা আম্বিয়া: ৩৩

উপরের আয়াতে ব্যবহৃত আরবী শব্দ হচ্ছে يَسْبَحُونَ (ইয়াহবাহুন)। এই শব্দটি سبح (সাবাহা) শব্দ থেকে এসেছে। এ শব্দটি যেকোনো চলমান বস্তু থেকে উদ্ভূত গতি বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। শব্দটি যদি মাটির উপরে কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়, তাহলে এর অর্থ হবে না যে, সে গড়াচ্ছে বরং এটি তার হাঁটা বা দৌড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করবে। আবার শব্দটি যদি পানিতে অবস্থানরত কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়, তাহলে এর অর্থ হবে না যে, সে ভাসছে বরং এটি তার সাঁতরানোর দিকে ইঙ্গিত করবে।

একইভাবে, যদি আপনি يَسْبَحُونَ (ইয়াহবাহুন) শব্দটি কোন মহাকাশের কোন বস্তু, যেমন, সূর্যের জন্য ব্যবহার করেন, তাহলে এটা শুধুমাত্র মহাশূন্যের মধ্যে দিয়ে উড়ার অর্থই বহন করে না, বরং এর অর্থ এটি এমনভাবে আবর্তিত হচ্ছে যে, এটি মহাশূন্যের ভেতর দিয়েও যাচ্ছে।


সূর্যের গতি: আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

অনেক স্কুলের পাঠ্যক্রমে এখন এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, সূর্য তার কক্ষপথে আবর্তন করে। নিজের কক্ষপথে সূর্যের আবর্তন একটি যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করা যেতে পারে, যা সূর্যের ছবিটিকে একটি টেবিলের উপর প্রতিফলিত করে। এবং কেউ বিচারবুদ্ধিহীন না হলে সূর্যের ছবিটি পরীক্ষা করতে পারে। লক্ষণীয় যে, সূর্যের নিজস্ব অবস্থান অঞ্চল আছে যা প্রতি ২৫ দিনে একটি বৃত্তাকারে আবর্তন করে, অর্থাৎ নিজের কক্ষপথের চতুর্দিকে ঘুরতে সূর্যের প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে।

সূর্য প্রায় ২৪০ কি. মি./সেকেন্ড গতিতে মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে এবং আমাদের ছায়াপথের (মহাকাশে নক্ষত্রপুঞ্জ বা নীহারিকাসৃষ্ট সুদীর্ঘ জ্যোতির্ময় বেষ্টনী) কেন্দ্রের চতুর্দিকে একটি পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর লাগে।


কুরআন ও মহাকাশের বস্তুর গতি: সূরা ইয়াসিন ৪০

لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَن تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ ۚ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ

"সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে।”

–সূরা ইয়াসিনঃ ৪০

এ আয়াতটি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের অতি সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে নির্দেশ করে; যেমন, সূর্য ও চন্দ্রের পৃথক পৃথক কক্ষপথের অস্তিত্ব এবং এগুলোর নিজস্ব গতিতে মহাশূন্যে ভ্রমণ


📘 Biggan zakir naik 📄 নির্দিষ্ট সময় পরে সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে

📄 নির্দিষ্ট সময় পরে সূর্য নিষ্প্রভ হয়ে যাবে


সূর্য ও চন্দ্রের গতিপথ: বিজ্ঞান ও কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি

সূর্যের নির্দিষ্ট লক্ষ্যপথ

সৌরজগতকে নিয়ে সূর্য যে নির্দিষ্ট লক্ষে চলছে, তা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্তৃক সুনিশ্চিতভাবে আবিষ্কৃত সত্য। এটিকে 'সৌর শৃঙ্গ' বলা হয়। আসলে সৌরজগত মহাশূন্যে যে দিকে ধাবিত হয়, সে দিকটির অবস্থান যথার্থ ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। আসলে সৌরজগত হারকিউলিসের কক্ষপথে অবস্থিত একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে যাচ্ছে যার অবস্থান বর্তমানে খুব জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য।


চন্দ্রের আবর্তনকাল

পৃথিবীর চতুর্দিকে ঘুরতে যে সময় লাগে, একই সময়ে চন্দ্র তার নিজস্ব কক্ষপথের চতুর্দিকে একবার চক্রাকারে আবর্তন করে। চন্দ্রের একটি পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে সাড়ে ২৯ দিন সময় লাগে।


সূর্যের বিলুপ্তি ও কুরআনের ঘোষণা

কুরআনের আয়াত সমূহের বৈজ্ঞানিক বিশুদ্ধতায় কেউ বিস্মিত না হয়ে পারেন না। আমাদের কী প্রশ্নটির ব্যাপারে ভাবা উচিত নয় "কুরআনের জ্ঞানের উৎস কী?"

সূর্যের আলো হচ্ছে এর পৃষ্ঠের রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল যা পাঁচ বিলিয়ন বছর ধরে চলবে। কিন্তু ভবিষ্যতে এক সময়ে এর বিলুপ্তি ঘটবে যখন সূর্য ভূপৃষ্ঠের অন্যান্য সকল প্রাণীর অস্তিত্বের বিলুপ্তির মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। সূর্যের অস্তিত্বের অস্থায়িত্ব সম্পর্কে কুরআন বলেঃ

وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَّهَا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ

"সূর্য আবর্তন করে, তার নির্দিষ্ট অবস্থানে। এটা, পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ।”

–সূরা ইয়াসীন: ৩৮

এখানে ব্যবহৃত আরবী শব্দ হচ্ছে, مُسْتَقَرّ (মুস্তাকার), যার অর্থ 'একটি নির্দিষ্ট স্থান' বা 'একটি নির্দিষ্ট সময়'। এভাবে কুরআন বলে যে, সূর্য একটা নির্দিষ্ট স্থানের দিকে আবর্তন করছে যা পূর্বনির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলতে থাকবে এর অর্থ এই যে, এটির বিলুপ্তি ঘটবে অথবা নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।


ফন্ট সাইজ
15px
17px