📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 প্রতিনিধি দলের আগমন

📄 প্রতিনিধি দলের আগমন


ঐতিহাসিকগণ ৭০টির বেশী প্রতিনিধিদলের কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব নয়। এ কারণে আমরা শুধু ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদল সম্পর্কে আলোকপাত করছি। পাঠকদের এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, মক্কা বিজয়ের পরই যদিও বিভিন্ন প্রতিনিধিদল নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরবারে আসতে শুরু করেছিলো কিন্তু কিছু কিছু গোত্রের প্রতিনিধিদল মক্কা বিজয়ের আগেও মদীনায় নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কছে হাযির হয়েছিলেন। নীচে আমরা সেসব গোত্রের পরিচয় ও আগমনের ঘটনা উল্লেখ করছি।

(১) আবদুল কায়েসের প্রতিনিধিদল, এ গোত্রের প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাজির হয়েছিলো, প্রথমবার পঞ্চম হিজরীতে এবং দ্বিতীয়বার নবম হিজরীতে। প্রথমবার উক্ত গোত্রের মুনকেজ ইবনে হাব্বান নামক এক ব্যক্তি বাণিজ্যিক সরঞ্জাম নিয়ে মদীনায় এসেছিলেন। এরপরও তিনি কয়েকবার মদীনায় যাওয়া আসা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় হিজরতের পর তিনি মদীনায় আসেন এবং ইসলাম সম্পর্কে অবহিত হন এবং ইসলামের দীক্ষা গ্রহণ করেন ইসলাম গ্রহণের পর নবী করিমের (রা.) তরফ থেকে একখানি চিঠি নিয়ে তিনি নিজ গোত্রের লোকদের কাছে যান। ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার গোত্রের লোকেরাও ইসলাম গ্রহণ করেন।

এরপর উক্ত গোত্রের তেরো-চৌদ্দজনের একটি প্রতিনিধিদল নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেদমতে হাযির হন। এই প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ঈমান এবং পানীয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এই প্রতিনিধিদলের নেতা ছিলেন আল আশাজ্জ্ব আল আসরি।² এই ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মন্তব্য করেছিলেন, তোমার মধ্যে দু'টি এমন গুণ রয়েছে যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। একটি হচ্ছে দূরদর্শিতা ও আন্যটি সহিষ্ণুতা।

দ্বিতীয়বার এই গোত্রের প্রতিনিধিদল নবম হিজরীতে মদীনায় এসেছিলেন। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন চল্লিশজন। এদের মধ্যে আলা ইবনে জারুদ আবদী নামে একজন খৃষ্টানও এসেছিলেন। তিনি মদীনায় এসে মুসলমান হন এবং পরে ইসলামের বিশেষ খেদমত করেন।³

(২) দাওস প্রতিনিধিদল, সপ্তম হিজরীর শুরুতে এই প্রতিনিধিদল মদীনায় আসে। সেই সময় নবী (সাঃ) খয়বরে ছিলেন। ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তোফায়েল ইবনে আমর দাওসী (রা.) মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি নিজ কওমের প্রতি গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দেন। কিন্তু তাঁর কওম টালবাহানা করতে থাকে। হতাশ হয়ে তিনি নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরবারে এসে আবেদন করেন যে, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার কওমের জন্যে বদদোয়া করুন। নবী সঃ) বদদোয়া না করে বললেন, হে আল্লাহ তায়ালা দাওস কওমকে হেদায়াত দান করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই দোয়ার পরই দাওস কওমের সকলে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতপর হযরত তোফায়েল (রা.) তাঁর কওমের সত্তর অথবা আশিটি পরিবারের লোকদের নিয়ে সপ্তম হিজরীর শুরুতে মদীনায় হিজরত করেন। সেই সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খয়বরে ছিলেন। হযরত তোফায়েল (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খয়বরে সাক্ষাৎ করেন।

(৩) ফারওয়াহ ইবনে আমর জোযামির পয়গাম প্রেরণ, ফারওয়াহ রোমক সৈন্যদের মধ্যে একজন আরব কমান্ডার ছিলেন। রোমক সম্রাট তাকে অধিকৃত আরব এলাকায় গবর্নর নিযুক্ত করেন। তাঁর রাজ্যের রাজধানী ছিলো জর্দানের দক্ষিণাঞ্চলে মাআন নামক জায়গায়। অষ্টম হিজরীতে সংঘটিত মৃতার যুদ্ধে মুসলমানদের অসাধারণ বীরত্ব দেখে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। একজন দূত পাঠিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের ইসলাম গ্রহণের খবর জানান এবং সেই সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে একটি সাদা খচ্চর উপহার হিসাবে প্রেরণ করেন। রোমক সম্রাটের উর্ধতনকর্তারা তাদের নিযুক্ত গর্বনরের ইসলাম গ্রহণের খবরে ক্রুব্ধ হয়। তারা হযরত ফারাওয়াহকে গ্রেফতার করে পরে ইসলাম ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। হযরত ফারওয়াহ ইসলাম ত্যাগ করার চেয়ে শহীদ হওয়া সমীচীন মনে করেন। অতপর ফিলিস্তিনের আফরা নামক জায়গায় একটি ঝর্ণার তীরে শূলীকাষ্ঠে তাঁর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।⁴

(৪) ছাদা প্রতিনিধি দল, অষ্টম হিজরীতে এই প্রতিনিধিদল জেরানা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফিরে আসার পর তাঁর কাছে হাযির হন। তাঁর আসার কারণ ছিলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চারশত মুসলমানের একটি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তারা যেন ইয়েমেনের সেই এলাকায় গিয়ে অভিযান চালায় যেখানে ছাদা গোত্র বসবাস করে। মুসলিম বাহিনী কানাত প্রান্তরে পৌঁছে তাঁবু স্থাপন করেছিলো, সেই সময় হযরত যিয়াদ ইবনে হারেছ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছুটে এসে বললেন, আমার পেছনে যারা আসছে আমি তাদের নেতা হিসাবে হাযির হয়েছি কাজেই আপনি মুসলিম বাহিনীকে ফিরিয়ে আনুন। আমার কওমের লোকদের জন্যে আমি যামিন হচ্ছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম বাহিনীকে মদীনায় ফিরিয়ে আনলেন। এরপর হযরত যিয়াদ (রা.) তাঁর কওমের কাছে হাযির হয়ে বললেন, আপনারা কয়েকজন আমার সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে চলুন। অতপর সব কথা তাদের খুলে বললেন। হযরত যিয়াদের (রা.) কথা শোনার পর তাঁর কওমের পনের জন লোকের একটি প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাযির হলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর তারা নিজ কওমের কাছে ফিরে গিয়ে দ্বীনের তাবলীগ করলেন এবং ইসলাম প্রচার করলেন। বিদায় হজ্জের সময় এই কওমের একশত জন মুসলমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাযির হন।

(পাঁচ) কা'ব ইবনে যুহাইর ইবনে আবি সালমার আগমন, কা'ব ছিলো কবি পরিবারের সন্তান এবং আরবের বিশিষ্ট কবি। সে ছিলো কাফের। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুৎসা রটনা করতো। ইমাম হাকেম-এর বর্ণনা মতে কা'ব সেইসব অপরাধীদের তালিকাভুক্ত ছিলো, যাদের সম্পর্কে মক্কা বিজয়ের সময় নির্দেশ ছিলো যে, যদি তারা কাবাঘরের 'পর্দা আঁকড়ে ধরা অবস্থায়ও থাকে তবু তাদের হত্যা করতে হবে। কিন্তু কা'ব পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তায়েফের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর কা'ব এর ভাই বুজাইর ইবনে যুহাইর এক চিঠি লিখলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কুৎসা রটনাকারী কয়েক ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। কোরায়শ বংশের স্বল্পসংখ্যক কবি এদিকে সেদিক পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছে। যদি জীবনের জন্যে তোমার মায়া থাকে, তবে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দরবারে আসো, কেননা তিনি তওবাকারীদের হত্যা করেন না। যদি আমার এই প্রস্তাব তোমার পছন্দ না হয়, তবে যেখানে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে মনে করো সেখানে পালিয়ে যাও। এ চিঠির পর উভয় ভাইয়ের মধ্যে একাধিক পত্র বিনিময় হয়েছে। মোটকথা কা'ব নিজের জীবনাশঙ্কা উপলব্ধি করে মদীনায় এসে পৌছুলেন এবং জুহাইনা নামক এক ব্যক্তির মেহমান হলেন। পরদিন সকালে সেই ব্যক্তির সাথে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে জুহাইনা কা'বকে ইশারায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে চিনিয়ে দিলেন কা'ব তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বসে তাঁর হাতে নিজের হাত রাখলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা'বকে চিনেতেন না। কা'ব বললেন, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা'ব ইবনে যুহাইর যদি তওবা করে মুসলমান হয়, নিরাপত্তার আবেদন জানায় এবং আমি যদি তাকে আপনার কাছে হাযির করি তবে কি আপনি তাকে গ্রহণ করবেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হাঁ। কা'ব বললেন, আমিই কা'ব ইবনে যুহাইর। একথা শুনে একজন আনসারী ছুটে এসে কা'বকে ঝাপটে ধরে তাকে হত্যা করতে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই সাহাবীকে বললেন, ওকে ছেড়ে দাও। সে তওবা করেছে এবং অতীতের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত হয়েছে।

এরপর সে জায়গাতেই কা'ব ইবনে যুহাইর তাঁর বিখ্যাত কাসীদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাঠ করে শোনান। সেই কাসীদায় কা'ব নিজের অতীতের কৃতকর্মের জন্যে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করেন। কবিতার অর্থ নিম্নরূপ।

'ছোয়াদ দূর হয়ে গেছে, কাজেই এখন আমার মনে অস্থিরতা বিদ্যমান। মনের পেছনে শিকল বাঁধা। এর ফিদিয়া দেয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে হুমকি দিয়েছেন। অথচ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে ক্ষমার প্রত্যাশা রয়েছে। আপনি স্থির থাকুন, চোগলখোরদের কথা কানে তুলবেন না। সেই সত্তা আপনাকে পথ প্রদর্শন করুন, যিনি আপনাকে উপদেশপূর্ণ এবং বিস্তারিত বিবরণসম্বলিত কোরআন দিয়েছেন। যদিও আমার সম্পর্কে অনেক কথাই বলা হয়েছে, কিন্তু আমি অপরাধ করিনি। আমি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি এবং এমন সব কথা শুনতে পাচ্ছি এবং এমন অবস্থা দেখছি যে, যদি আমার জায়গায় একটা হাতী দাঁড়ানো থাকতো তবে সেই হাতী থমকে দাঁড়াতো। অবশ্য যদি আল্লাহর অনুগ্রহে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুমতি হতো সেটা ছিলো ভিন্ন কথা। আমি নিজের হাত অকপটে সেই সম্মানিত ব্যক্তিত্বের হাতে রেখেছি যাঁর প্রতিশোধ গ্রহণের পূর্ণ শক্তি রয়েছে এবং যাঁর কথাই সবার ওপরে। অথচ আমাকে বলা হয়েছে তোমার নামে এরূপ এরূপ নালিশ রয়েছে এবং তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। নিশ্চয়ই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন একটি নূর, যে নূর থেকে আলো পাওয়া যায়। তিনি আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্যে একটি তলোয়ার।'

এরপর কা'ব ইবনে যুহাইর কোরায়শ মোহাজেরদের প্রশংসা করেন। কেননা কা'ব-এর আসার পর কোন মোহাজের তাঁকে বিরক্ত করেননি। মোহাজেরদের প্রশংসা করার সময় কা'ব আনসারদের প্রতি শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেন। কেননা একজন আনসার কা'বকে হত্যা করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কা'ব তাঁর কবিতায় বললেন, কোরায়শরা সৌন্দর্যমন্ডিত উটের মতো চলাচল করেন এবং ধারালো তলোয়ার তাদেরকে সেই সময় রক্ষা করে, যখন বেটে-খাটো কালো কুৎসিত লোক পথ ছেড়ে পালায়।

কা'ব মুসলমান হওয়ার পর একটি কবিতায় আনসারদের প্রশংসাও করেছিলেন। তিনি সেই কবিতায় লিখলেন, 'যে ব্যক্তি সম্মানজনক জীবন পছন্দ করে, সে যেন সব সময় আনসারদের কোন বাহিনীর মধ্যে থাকে। আনসাররা উত্তরাধিকার সূত্রে সৌন্দর্য লাভ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তারাই ভালো লোক, যারা ভালো লোকের সন্তান।'

(৬) আজরা প্রতিনিধিদল, নবম হিজরীতে এই প্রতিনিধিদল মদীনায় আসেন। তারা ১২ জন ছিলেন। এদের মধ্যে হামযা ইবনে নোমানও ছিলেন। পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বললেন, আমরা বনু আজরা, কুসাইদের সাথে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা কুসাইদের সাহায্য করেছি এবং খাযাআ বনু বকরকে মক্কা থেকে বের করেছিলাম। এখানে আমাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। এই পরিচয় জানার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাগত জানান এবং সিরিয়া বিজিত হওয়ার সুসংবাদ প্রদান করেন। তাদেরকে জ্যোতিষী মহিলাদের কাছ থেকে কোন তথ্য জানতে নিষেধ করেন। এছাড়া শেরেক করার সময়ে ওরা যে সকল পশু যবাই করে খেতো সেই সব পশু যবাই করতে নিষেধ করেন। এই প্রতিনিধিদল ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কয়েকদিন মদীনায় অবস্থানের পর মক্কায় ফিরে যান।

(৭) বিলি প্রতিনিধিদল, নবম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে এই প্রতিনিধিদল মদীনায় আসে এবং ইসলাম গ্রহণের পর তিনদিন অবস্থান করে। এই সময়ে প্রতিনিধিদলের নেতা আবু জাবির জিজ্ঞাসা করেন যে, যেয়াফতের মধ্যে কি সওয়াব রয়েছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হাঁ। কোন বিত্তবান বা গরীবের সাথে ভালো ব্যবহার করা হলে সেই ব্যবহার সদকা হিসাবে গণ্য করা হবে। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন যে, যেয়াফতের মেয়াদ কতোদিনের হতে হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনদিন। তিনি বললেন, কোন লোক যদি নিরুদ্দেশ কোন বকরি পায় তখন সেই বকরির ব্যাপারে কি নির্দেশ রয়েছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেই বকরি তোমার, তোমার ভাইদের বা নেকড়ের জন্যে। এরপর সেই লোক হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সেই উটের সাথে তোমার কি সম্পর্ক? ওকে ছেড়ে দাও, মালিক তাকে পেয়ে যাবে।

(৮) সাকীফ প্রতিনিধি দল, নবম হিজরীর রমযান মাসে এই প্রতিনিধিদল তবুক থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রত্যাবর্তনের পর হাযির হন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অষ্টম হিজরীতে যিলকদ মাসে তায়েফ যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার সময়ে তাঁর মদীনায় পৌছার আগেই এই প্রতিনিধিদলের সর্দার ওরওয়া ইবনে মাসউদ নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে দেখা করে ইসলাম গ্রহণ করেন এরপর তারা নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে লোকদের ইসলামের দাওয়াত দেন। গোত্রের লোকেরা তাকে গভীরভাবে ভালোবাসতো। শোনা যায় তারা নিজ সন্তান এবং পরিবার-পরিজনের চেয়ে ওরওয়াকে বেশী পছন্দ করতো। ওরওয়া ধারণা করেছিলেন যে, তার দেয়া ইসলামের দাওয়াত সবাই গ্রহণ করবে এবং তার কথা মেনে নেবে। কিন্তু তার এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। ইসলামের দাওয়াত দেয়ার পরই তার গোত্রের লোকেরা চারিদিক থেকে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করলো এবং মারাত্মকভাবে যখম করার পর তাকে হত্যা করলো। কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর গোত্রের লোকেরা উপলব্ধি করলো যে, চারিদিকে মুসলমানদের প্রভাব যেভাবে বাড়ছে এতে তাদের নিরাপদ থাকা সম্ভব হবে না। মুসলমানদের মোকাবেলা করাও তাদের সম্ভব নয়। তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলো যে, নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে একজন লোক পাঠাবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবদে ইয়ালিল ইবনে আমরকে মদীনায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়া হলো কিন্তু ওরওয়ার পরিণাম প্রত্যক্ষ করায় আবদে ইয়ালিল মদীনায় যাওয়ার জন্যে শর্ত আরোপ করলেন। তিনি বললেন, আমার সাথে আরো কয়েকজনকে দিতে হবে, আমি একা যেতে রাযি নই। গোত্রের লোকেরা প্রস্তাব অনুযায়ী পাঁচজনকে সঙ্গে দিলেন। অবশেষে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মদীনায় রওয়ানা হলেন। এদের মধ্যে ওসমান ইবনে আবুল আস সাকাফী ছিলেন সবচেয়ে বয়োকনিষ্ঠ। এই প্রতিনিধিদল মদীনায় পৌছার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীর এক কোণে তাদের থাকতে দিলেন যাতে করে তারা সাহাবাদের কোরআন পাঠ শুনতে পারে এবং নামায আদায় দেখতে পারে। মসজিদে অবস্থানের সময় তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যাওয়া আসা শুরু করলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। একদিন তাদের নেতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আপনি সাকীফ এবং আপনার মধ্যে এ মর্মে একটি চুক্তিপত্র লিখে দিন যাতে ব্যভিচার, মদপান, সুদ খাওয়া, তাদের মাবুদ লাতকে পূজার অধিকার, নামায থেকে মুক্তি এবং তাদের মূর্তিকে তাদের হাতে না ভাঙ্গার কথা উল্লেখ থাকবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উল্লিখিত শর্তাবলীর একটিও গ্রহণ করলেন না। প্রতিনিধিদল এরপর নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা মেনে নেয়া ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিলো না। তারা তাই করলো এবং ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিলো। তবে পুনরায় শর্তরোপ করলো যে, তাদের মূর্তি লাতকে তারা নিজের হাতে ভাঙ্গতে পারবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই শর্ত মেনে নিলেন এবং এ মর্মে লিখে দিলেন। তিনি ওসমান ইবনে আবুল আস সাকাফীকে প্রতিনিধি দলের নেতা নিযুক্ত করলেন। কেননা ইসলামের প্রতি তার আগ্রহই ছিলো সবার চাইতে বেশী। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রতিদিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে যেতো কিন্তু ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে যেতো না। দুপুরে অন্যরা যখন বিশ্রাম করতো সেই সময় হযরত ওসমান (রা.) নবী করিমের দরবারে যেতেন এবং ইসলাম সম্পর্কে খুঁটিনাটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘুমে যদি দেখতেন তখন হযরত ওসমান (রা.) দ্বীন সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন হযরত আবুবকর (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করতেন। হযরত ওসমানের (রা.) গবর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন ছিলো খুব বকরতপূর্ণ। হযরত আবু বকরের (রা.) খেলাফতের সময় কিছু লোক ধর্মান্তরিত হয়ে যায়, সেই সময় ছকিফ গোত্রের লোকেরাও ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। হযরত ওসমান ইবনে আবুল আস (রা.) সেই নাযুক সময়ে তাদের সম্বোধন করে বললেন, ছাকিফ গোত্রের লোকেরা শোনো, তোমরা সকলের শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছ কাজেই সবার আগে মুরতাদ হয়ো না। একথা শুনে ছকিফ গোত্রের লোকেরা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করা থেকে বিরত থাকে এবং ইসলামের ওপর অবিচল থাকে।

মোটকথা প্রতিনিধিদল নিজ কওমের কাছে ফিরে এসে প্রকৃত সত্য গোপন করে রাখে। তারা দুঃখ ভারাক্রান্তভাবে বলে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের প্রতি দাবী করেছেন তারা যেন ইসলাম গ্রহণ করে এবং ব্যাভিচার করা, মদ পান করা, সুদ খাওয়া ছেড়ে দেয়। যদি তা না করে তবে তাদের সাথে যুদ্ধ করা হবে। ছকিফ গোত্রের লোক একথা শুনে যুদ্ধ করার কথা দুতিন দিন যাবত চিন্তা ভাবনা করলো। পরে আল্লাহ তায়ালা তাদের অন্তর পরিবর্তন করে দিলেন, তারা ইসলাম গ্রহণের জন্যে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। প্রতিনিধিদলকে তারা বললো যে, তোমরা মদীনায় ফিরে যাও এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলো যে, আমরা তাঁর শর্তাবলী মেনে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করতে রাজি আছি। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা তখন নিজেদের ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন এবং গোত্রের লোকদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিলেন। ছকিফ গোত্রের লোকেরা তখনই ইসলাম গ্রহণ করলো।

এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'লাত' মূর্তি ভাঙ্গার জন্যে হযরত খালেদ ইবনে ওলীদের (রা.) নেতৃত্বে কয়েকজন সাহাবীকে সাকীফ গোত্রে প্রেরণ করলেন। হযরত মুগিরা ইবনে শোবা (রা.) মূর্তি ভাঙ্গার জন্যে লৌহ নির্মিত গদা তুলে সঙ্গীদের বললেন, আমি একটু রসিকতা করে আপনাদের হাসাবো। একথা বলে মূর্তিকে আঘাত করেই তিনি হাঁটু ধরে বসে পড়লেন। কৃত্রিম এ দৃশ্য দেখে তায়েফের সাকীফ গোত্রের লোকেরা প্রভাবিত হলো। তারা বললো, আল্লাহ তায়ালা মুগিরাকে ধ্বংস করুন, 'লাত' দেবী তাকে মেরে ফেলেছে। হযরত মুগিরা (রা.) গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অমঙ্গল করুন, ওই মূর্তিতো পাথর আর মাটি দিয়ে তৈরী। এরপর হযরত মুগিরা (রা.) দরজায় আঘাত করলেন এবং মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন। হযরত মুগিরা (রা.) এরপর উঁচু দেয়ালে আরোহণ করলেন। কয়েকজন সাহাবীও উঁচু দেয়ালে আরোহণ করলেন। মূর্তি ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দিলেন এরপর মাটি খুঁড়ে মূর্তিকে দেয়া অলঙ্কার এবং পোশাক বের করলেন। এ দৃশ্য দেখে সাকীফ গোত্রের লোকেরা বিস্মিত এবং বিচলিত হলো। হযরত খালেদ (রা.) মূর্তির অলঙ্কার ও পোশাক মদীনায় নিয়ে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামনে হাযির করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবকিছু সেইদিনই বন্টন করে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।⁵

(৯) সাকীফ ইয়েমেনের বাদশাহদের চিঠি, তবুক থেকে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসার পর ইয়েমেনের বাদশাহরা চিঠি লিখলেন। হারেস ইবনে আবদে কালাল, নঈম ইবনে আবদে কালাল, রাঈন এবং হামদান ও মাআফেরএর শাসনকর্তা নোমান ইবনে কাইলের চিঠি এলো। সকলের পক্ষ থেকে মালেক ইবনে মারয়া পত্র প্রেরণ করেন। এ সকল বাদশাহ ইসলাম গ্রহণ এবং শেরেক ও কুফুরী পরিত্যাগের কথা উল্লেখ করে পত্র প্রেরণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি জবাব পাঠিয়ে ইয়েমেনবাসীদের অধিকার এবং তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য উল্লেখ করেন। যারা ইসলাম গ্রহণ করবে আল্লাহ তায়ালা এবং তার রসূল তাদের যিম্মাদার হবেন বলেও তিনি পত্রে উল্লেখ করেন। তবে শর্ত এই যে, তাদেরকে জিজিয়া পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়া'য ইবনে জাবালের (রা.) নেতৃত্বে কয়েকজন সাহাবাকে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন।

(১০) হামদান প্রতিনিধিদল, এই প্রতিনিধিদল তবুক থেকে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে আসার পর তাঁর খেদমতে হাযির হন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি দলের কওমের জন্যে একটি নির্দেশ সম্বলিত পত্র লিখে তারা যা কিছু চেয়েছিলো তা প্রদান করেন। মালেক ইবনে নামতকে আমীর নিযুক্ত করা হয় এবং তাকে তার কওমের ইসলাম গ্রহণকারীদের গবর্নর নিযুক্ত করা হয়। অন্য লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌছানোর জন্যে হযরত খালেদ ইবনে ওলীদকে (রা.) প্রেরণ করেন। তিনি ছয়মাস হামদানে অবস্থান করে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। কিন্তু কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর হযরত আলীকে (রা.) হামদানে প্রেরণ করেন এবং হযরত খালেদকে (রা.) ফেরত পাঠাতে বলে দেন। হযরত আলী (রা.) হামদান গোত্রের লোকদের কাছে গিয়ে রসূলসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিঠি পড়ে শোনান এবং ইসলামের দাওয়াত দেন। এতে সবাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। হযরত আলী (রা.) রসূল (রা.)-এর দরবারে এই খবর পাঠিয়ে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই সুসংবাদ সম্বলিত চিঠি পড়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়েন এবং বলেন হামদানের উপর সালাম, হামদানের উপর সালাম।

(১১) বনি ফাজারা প্রতিনিধিদল, নবম হিজরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তবুক থেকে ফেরার পর এই প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করে। এই প্রতিনিধিদলে দশজন অন্তর্ভুক্ত ছিলো। তারা তাদের এলাকায় দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে অভিযোগ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে উঠে উভয় হাত উপরে তুলে মোনাজাত করেন যে, হে আল্লাহ তায়ালা নিজের সৃষ্ট যমিন এবং চতুষ্পদ প্রাণীদের পরিতৃপ্ত করো। তোমার রহমত প্রসারিত করো। তোমার মৃত শহরকে জীবিত করো। হে আল্লাহ তায়ালা, আমাদের ওপর এমন বৃষ্টি বর্ষণ করো, যে বৃষ্টি আমাদের কাম্য। সেই বৃষ্টি দ্বারা আমাদের শান্তি দান করো আরাম দান করো। প্রসারিত কালোমেঘ যেন তাড়াতাড়ি আসে-দেরী না করে। সেই বৃষ্টি যেন কল্যাণকর হয়, ক্ষতিকর না হয়। হে আল্লাহ তায়ালা, রহমতের বৃষ্টি- যেন আযাবের বৃষ্টি না হয়। ধ্বংসকর যেন না হয়। হে আল্লাহ তায়ালা, আমাদেরকে বৃষ্টি দ্বারা পরিতৃপ্ত করো এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করো।⁶

(১২) নাজরান প্রতিনিধিদল, মক্কা থেকে ইয়েমেনে যাওয়ার পথে এই এলাকার অধিবাসীরা বসবাস করে। ৭৩টি জনপদ অর্থাৎ বসতি নিয়ে এই নাজরান সম্প্রদায়। একজন দ্রুতগামী ঘোড়া সওয়ার পুরো একদিন সময়ে সমগ্র জনপদ প্রদক্ষিণ করতে পারে।⁷ এই এলাকায় একলাখ যোদ্ধা পুরুষ ছিলো। এরা সবাই ছিলো খৃষ্টান ধর্মের অনুসারী।

নাজরান প্রতিনিধিদলও নবম হিজরীতে আসে। এতে ষাট ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এদের মধ্যে চব্বিশজন ছিলেন অভিজাত শ্রেণীর। তিনজন ছিলেন নাজরানবাসীদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা। আবদুল মসীহ নামে এক ব্যক্তি সরকার প্রধান, শারহাবিল নামে এক ব্যক্তি রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আবু হারেসা ইবনে আলকামা নামে এক ব্যক্তি ধর্মীয় বিষয়ের নেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন।

প্রতিনিধিদল মদীনায় পৌছে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাক্ষাৎ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। তারাও নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। এরপর নবী সঃ) তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন এবং কোরআন পাঠ করে শোনান। কিন্তু তারা ইসলাম গ্রহণ করেনি।

তারা জিজ্ঞাসা করলো, আপনি মসীহ (আ.) সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করেন? তার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেদিন এই প্রশ্নের জবাব দিলেন না। আল্লাহ রব্বুল আলামীন ওহী নাযিল করলেন।

'অর্থাৎ আল্লাহর কাছে ঈসা (আ.)-এর দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছিলেন অত:পর তাকে বলেছিলেন হও, ফলে সে হয়ে গেলো। এই সত্য তোমার প্রতিপালকের কাছে হতে সুতরাং সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। তোমার কাছে জ্ঞান আসবার পর যে কেউ এ বিষয়ে তোমার সাথে তর্ক করে তাকে বল, এসো আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজেদের এবং তোমাদের নিজদের। অতপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহর লানত।' (সূরা আলে এমরান, আয়াত ৫৯-৬০,৬১)।

সকাল বেলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লিখিত আয়াতে কারিমার আলোকে আগন্তুকদের হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে অবহিত করলেন। অতপর এ ব্যাপারে সারাদিন চিন্তা-ভাবনা করতে বললেন। কিন্তু তারা হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বক্তব্য মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালো। তারা তাদের এ অস্বীকৃতির ওপর অটল থাকলো। পরদিন সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওদেরকে মোবাহালার অর্থাৎ দুই পক্ষের পরস্পরের জন্যে বদদোয়ার প্রস্তাব জানালেন। এই আহ্বান জানানোর পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হাসান হোসেন (রা.) সহ একটি চাদর গায়ে জড়িয়ে আগমন করলেন। হযরত ফাতেমা (রা.) তাদের পেছনে ছিলেন। প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মোবাহালার জন্যে প্রস্তুত দেখে নিভৃতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলো। নিজেদের মধ্যে পরামর্শের একপর্যায়ে এক পক্ষ বললো, মোবাহালার ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। আল্লাহর শপথ এই হচ্ছেন নবী। যদি আমরা তাঁর সাথে মোবাহালা করি তবে আমরা এবং আমাদের সন্তানরা কিছুতেই সফল হতে পারবে না। আমরা সবংশে নির্মূল হয়ে যাব। পরামর্শক্রমে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের ব্যাপারে সালিস মানলো।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে গিয়ে তারা বললো, আপনার দাবী মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এ প্রস্তাবের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করতে রাযি হলেন। দু'হাজার জোড়া কাপড়ের ওপর সমঝোতা হলো। এক হাজার জোড়া রজব মাসে এবং অন্য এক হাজার সফর মাসে তারা দিতে রাযি হলো। এছাড়া প্রতি জোড়া কাপড়ের সাথে এক উকিয়া অর্থাৎ ১৫২ গ্রাম রূপা দিতেও সম্মত হলো। এর বিনিময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে আল্লাহতায়ালা এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যিম্মায় গ্রহণ করলেন। ধর্মীয় ব্যাপারে তারা ছিলো স্বাধীন। উল্লিখিত বিষয়ে তাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি চুক্তি সম্পাদন করলেন। প্রতিনিধিদল দাবী করলো যে, তাদের সাথে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে যেন প্রেরণ করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুক্তি অনুযায়ী মালামাল সংগ্রহের জন্যে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহকে প্রেরণ করলেন।

অতপর নাজরান গোত্রে ইসলামের বিস্তার ঘটতে থাকে। সীরাত রচয়িতারা লিখেছেন প্রতিনিধিদলের নেতা এবং তার অনুসারীরা নাজরান যাওয়ার পর ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করলো। অতপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদাকাত এবং জিযিয়া গ্রহণ করতে হযরত আলীকে (রা.) প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য যে, সাদাকা মুসলমানদের থেকেই উসুল করা হয়।⁸

(১৩) বনি হানিফা প্রতিনিধিদল, এই প্রতিনিধিদলে নবম হিজরীতে মদীনায় আগমন করে। এতে মোসায়লামা কাযযাবসহ সতের ব্যক্তি ছিলেন।⁹ মোসায়লামার বংশধারা এরূপর মোসায়লামা ইবনে হামামা ইবনে কারিব ইবনে হাবিব ইবনে হারেস।

এ প্রতিনিধিদল একজন আনসার সাহাবীর বাসভবনে গিয়ে ওঠেন। অতপর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন। তবে মোসায়লামা কাযযাব সম্পর্কে ভিন্ন কথা জানা যায়। সকল বর্ণনার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় মোসায়লামা হঠকারিতা ও অহংকার এবং ক্ষমতা পাওয়ার লোভ প্রকাশ করে। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের সাথে সে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাযির হয়নি। পরে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে শান্ত মধুর স্বরে ইসলামের দাওয়াত দেন। কিন্তু লক্ষ্য করলেন যে, তার মধুর ব্যবহারে কোন শুভ প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বুঝতে পারলেন যে, এ লোকটির কোন কল্যাণ হবে না। তার মনের ভেতর পঙ্কিলতা ও কালিমা রয়েছে।

এর আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাতে স্বপ্নে দেখেন যে, সমগ্র বিশ্বের ধনভান্ডার তার দরবারে এনে রাখা হয়েছে। হঠাৎ সে ধন ভান্ডার থেকে দুটি সোনার কাঁকন তার হাতে উড়ে এসে পড়লো। কাঁকন দু'খানি ছিলো বেশ ভারি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিব্রত বোধ করছিলেন। এসময় হযরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে ওহী এলো যে, কাঁকন দুখানিতে ফুঁ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফুঁ দিলেন। সাথে সাথে কাঁকন দু'খানি উড়ে চলে গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন যে, তার পরে দুজন লোক নবুয়তের মিথ্যা দাবীদার হবে। মোসায়লামা কাযযাবের দুর্বিনীত ব্যবহার দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিরক্ত হলেন। সে দুর্বৃত্ত বলছিলো, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি শাসন ক্ষমতা তার পরবর্তী সময়ে আমাকে ন্যস্ত করেন তবে আমি তার আনুগত করতে প্রস্তুত রয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মোসায়লামার কাছে গেলেন। সে সময় তার হাতে একটি খেজুর গাছের শাখা ছিলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখপাত্র হযরত ছাবেত ইবনে কয়েস ইবনে শামাস (রা.) তার সাথে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার শিয়রের কাছে গিয়ে হাযির হলেন। মোসায়লামা বললো, যদি আপনি রাজি থাকেন, তবে শাসনক্ষমতার ব্যাপারে আমি আপনাকে ছাড় দিতে রাজি আছি। কিন্তু ক্ষমতার ব্যাপারে আপনার উত্তরাধিকারী আমাকে মনোনীত করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতের খেজুর শাখার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, যদি তুমি আমার কাছে এটি চাও এটিও আমি তোমাকে দেবো না, তোমার ব্যাপারে আল্লাহর যে ফয়সালা রয়েছে তুমি তার বাইরে যেতে পারবে না। যদি তুমি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে যাও তবে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন। আল্লাহর শপথ, আমার মনে হয় তুমিই সেই ব্যক্তি যার ব্যাপারে আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। ছাবেত ইবনে কয়েস এখানে রইলো সে তোমাকে আমার পক্ষ থেকে জবাব দেবে। একথা বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে এলেন।¹⁰

অবশেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথাই সত্য প্রমাণিত হলো। মোসায়লামা কাযযাব ইয়ামামা ফিরে গিয়ে প্রথমে কয়েকদিন নিজের সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করলো। তারপর হঠাৎ দাবী করলো যে, নবুয়তের ক্ষেত্রে মোহাম্মদের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে তাকেও অংশীদার করা হয়েছে। অতপর সে প্রকাশ্যে নবুয়তের দাবী প্রচার করতে লাগলো। স্বজাতির লোকদের জন্যে সে ব্যভিচার এবং মদ্যপান বৈধ বলে প্রচার করলো।

মোসায়লামা কাযযাব দশম হিজরীতে নবুয়ত দাবী করেছিলো। দ্বাদশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে হযরত আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) খেলাফতের সময়ে ইয়ামামায় সে নিহত হয়। হযরত হামযার (রা.) হত্যাকারী হযরত ওয়াহশী (রা.) মোসায়লামা কাযযাবকে হত্যা করেন।

নবুয়তের একজন দাবীদারের পরিণাম জানা গেলো। অন্য একজন দাবীদার আসওয়াদ আনাসী ইয়েমেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রেখেছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের একরাত একদিন আগে হযরত ফিরোজ (রা.) এই ভন্ড নবীকে হত্যা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহীর মাধ্যমে এ হত্যাকান্ডের খবর জেনে সাহাবাদের তা জানিয়ে দেন। এরপর ইয়েমেন থেকে হযরত আবু বকরের (রা.) কাছে যথারীতি খবর এসে পৌঁছায়।¹³

(১৪) বনি আমের ইবনে সা'সাআ প্রতিনিধিদল, এই প্রতিনিধিদলে আল্লাহর দুশমন আমের ইবনে তোফায়েল হযরত লাবিদের বৈমাত্রেয় ভাই আরবাদ ইবনে কয়েস, খালেদ ইবনে জাফর এবং জব্বার ইবনে আসলাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এরা নিজ নিজ গোত্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং শয়তান স্বভাব সম্পন্ন ছিলো। আমের ইবনে তোফায়েল নামক এক ব্যক্তি বে'র মাউনায় সত্তরজন সাহাবীকে শহীদ করিয়েছিলো। এই প্রতিনিধিদল মদীনা আসার ইচ্ছা করার সময়ে আমের ইবনে তোফায়েল এবং আরবাদ ষড়যন্ত্র করেছিলো যে, তারা ধোঁকা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আকস্মিকভাবে হত্যা করবে।

এ প্রতিনিধিদল মীনায় পৌছার পর আমের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আলাপ করছিলো। এ সময়ে আরবাদ ঘুরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে গেলো এবং তলোয়ার বের করতে লাগলো। কিন্তু তলোয়ার এক বিঘতের বেশী বের করতে সক্ষম হলো না, আল্লাহ তায়ালা তার হাত অসাড় করে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীকে হেফাযত করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয় দুর্বৃত্তের জন্যে বদদোয়া করলেন। ফলে ফেরার পথে আরবাদের উপর বজ্রপাত হলো। সাথে সাথে উটসহ এই কাফের মৃত্যুবরণ করলো এদিকে আমের একজন সেলুলিয়া মহিলার ঘরে আশ্রয় নিলো। সেখানে তার ঘাড়ে গলগন্ড রোগ দেখা দিলো। এ রোগেই সেখানে তার মৃত্যু হলো। মৃত্যুর সময় আমের বলছিলো হায় উটের ঘাড়ের মতো গলগন্ড রোগ আর সেলুলিয়া মহিলার ঘরে মৃত্যুবরণ?

অতপর সে এক মহিলার ঘরে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হলো। সে সময় গভীর হতাশায় দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে সে বললো, হায় উটের উঁচু ঘাড়ের মতো গলগন্ড রোগ। তাও অমুক গোত্রের মহিলার ঘরে? তারপর বললো, আমার কাছে আমার ঘোড়া নিয়ে এসো। ঘোড়া নিয়ে আসা হলো। ঘোড়ার পিঠে অতপর আল্লাহর এ দুশমন মৃত্যুবরণ করলো।

(১৫) তাজিব প্রতিনিধিদল, এই প্রতিনিধিদল নিজেদের গোত্রের গরীব লোকদের মধ্যে বন্টনের পর অবশিষ্ট সাদাকা নিয়ে মদীনায় হাযির হলো। এ প্রতিনিধিদলে মোট তেরো ব্যক্তি ছিলেন। এরা কোরআন সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং শিক্ষা করতেন। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেসব কথা তাদের লিখে দিলেন। এরা বেশীদিন মদীনায় অবস্থান করেনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কিছু জিনিস উপঢৌকন হিসাবে প্রদান করেন। যাওয়ার পর ওরা পেছনে পড়ে থাকা একজন সঙ্গী যুবককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রেরণ করলো। যুবক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে বললো, হুজুর আল্লাহর শপথ, আমি নিজের এলাকা থেকে অন্য কোন উদ্দেশ্যে আসিনি, শুধু এ উদ্দেশ্যে এসেছি যে, আপনি আমার জন্যে সর্বশক্তিমান পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি যেন আমাকে রহমত এবং তাঁর দ্বীনের উপর অবিচল থাকার শক্তি দান করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুবকের জন্যে দোয়া করলেন। পরবর্তীকালে বহু নও মুসলিম ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলেও এ যুবক ইসলামের ওপর ছিলো অটল অবিচল। নিজ কওমের লোকদের কাছে সে ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে ওয়ায নসিহত করলো। ফলে তার কওমের লোকেরাও ইসলামের ওপর অবিচল থাকলো। দশম হিজরীতে বিদায় হজ্জের সময় এই প্রতিনিধিদল পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করলো।

(১৬) তাঈ প্রতিনিধিদল, এই প্রতিনিধিদলে আরবের বিখ্যাত বীর যায়েদ আল-খায়েলও ছিলেন। এরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আলোচনায় মিলিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করে খুব ভালো মুসলমান হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়েদ আল খায়েল এর প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন, আরববের যে কোন লোকের প্রশংসাই আমার কাছে করা হয়েছে, তারা আমার সামনে আসার পর বাস্তবে আমি তাদের খ্যাতির চেয়ে কমই পরিচয় পেয়েছি। কিন্তু যায়েদ তার ব্যতিক্রম। তার গুণ বৈশিষ্ট্য তার খ্যাতির চেয়ে অধিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নামকরণ করলেন যায়েদ আল খায়ের।

একই নিয়মে নবম এবং দশম হিজরীতে বহুসংখ্য প্রতিনিধিদল মদীনায় আগমন করে সীরাত রচয়িতারা ইয়ামান, আযাদ, কোযাআর বনু সা'দ, হে যাইম বনু আমের ইবনে কয়েস, বনু আসাদ, বাহরা, খাওলান, মাহারেব, বনু হারেস ইবনে কা'ব, গামেদ, বনু মোনতাফেক, সালমান, বনি আবাস, মাজিনা, মোরাদ, জোবায়েদ, কুন্দাহ, জি-মাররাহ, গাস্সান, বু আয়েশ এবং নাখ প্রতিনিধিদলের কথা উল্লেখ করেছেন: নাখ-এর প্রতিনিধিদল এসেছিলো সর্বশেষে। একাদশ হিজরীর মহররম মাসে এ প্রতিনিধিদল মদীনায় আসে।

এতে দু'শো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন অন্য প্রায় সকল প্রতিনিধিদল নবম এবং দশম 'হজরীতে আগমন করেন অল্প কয়েকটি প্রতিনিধি দল একাদশ হিজরীতে আগমন করে।

টিকাঃ
৮. ফতহুল বারী, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা, ৯৪-৯৫। যাদুল মায়াদ, তৃতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৮ থেকে ৪১। নাজরান প্রতিনিধিদলের বিস্তারিত বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, নাজরান প্রতিনিধিদল এ দ্বিতীয়বার মদীনায় গমন করেন কেউ কেউ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেননি।
৯. ফতহুল বারী, অষ্টম খন্ড, পৃষ্টা ৮৭
১০. সহীহ বোখারী, বনি হানিফা এবং আসওাদ আনাসির কিসসা বিষয়ক অধ্যায়। দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬২৭, ৬২৮ এবং ফতহুল বারী অষ্টম খন্ড পৃষ্ঠা ৮৭ থেকে ৯৩
১৩. ফতহুল বারী, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৩

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 রসূলের দাওয়াতের বিরাট সফলতা

📄 রসূলের দাওয়াতের বিরাট সফলতা


এবার আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবনের শেষ দিক সম্পর্কে আলোচনা করবো। কিন্তু সেদিকে অগ্রসর হওয়ার আগে নবী জীবনের অনন্য সাধারণ কার্যাবলীর প্রতি একটুখানি আলোকপাত করা দরকার। মূলত সেটাই হচ্ছে নবী জীবনের সারকথা। সেই বৈশিষ্টের কারণেই তিনি সকল নবী-পয়গাম্বরের মধ্যে স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁকে সর্বপ্রথম এবং সর্বশেষ এর অনন্য মর্যাদার মুকুট দান করেছেন। নবীকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'হে বস্ত্রাবৃত, রাত্রি জাগরণ কর, কিছু অংশ ব্যতীত'। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, 'হে বস্ত্রাচ্ছাদিত, উঠ, সতর্ক বাণী প্রচার কর।'
এরপর কি হয়েছে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠলেন, নিজ কাঁধে বিশ্বজগতের সবচেয়ে বড় আমানতের বোঝা তুলে নিলেন এবং একাধারে দাঁড়িয়ে রইলেন। সমগ্র মানবতার বোঝা সকল আকিদার বোঝা এবং বিভিন্ন ময়দানে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার বোঝা।
তিনি মানুষের বিবেকের ময়দানে জেহাদের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এসব বিবেক ছিলো অজ্ঞতার যুগের কল্পনা এবং নানাবিধ উদ্ভট ধারণায় নিমজ্জিত।
মানুষের বিবেক সে সময় পৃথিবীর নানা আকর্ষণীয় বস্তুর কারণে আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছিলো। মানুষের বিবেক খাহেশাতে নফসানীর শেকল ও ফাঁদে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কতিপয় নিবেদিত প্রাণ সাহাবার সহযোগিতায় জাহেলিয়াত এবং বিশ্বজগতের আকর্ষণ থেকে মানুষের বিবেককে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করার পর অন্য একটি সংগ্রাম শুরু করলেন। বরং একটির পর আরকেটি সংগ্রাম শুরু হলো। অর্থাৎ দাওয়াতে এলাহীর সেসব শত্রু যারা দাওয়াত এবং তার প্রতি বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে প্রচন্ড আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, দাওয়াতের পবিত্র চারাগাছকে মাটির নিচে শেকড় বিস্তারের আগে শূন্যে শাখা প্রশাখা বিস্তারের এবং ফলে ফুলে সুশোভিত হবার আগেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছিলো। দাওয়াতের এ সকল শত্রুর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংগ্রাম শুরু করলেন। জাযিরাতুল আরবের বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রোমক সাম্রাজ্য এ নয়া জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে সীমান্তে প্রস্তুতি শুরু করে।
অবশেষে সকল সংগ্রাম শেষ হলো কিন্তু বিবেকের সংগ্রাম সংঘাত শেষ হয়নি। কারণ এটি হচ্ছে চিরস্থায়ী সংঘাতের বিষয়। এতে শয়তানের সাথে মোকাবেলা করতে হয়। শয়তান মানব মনের গভীরে প্রবেশ করে তার তৎপরতা অব্যাহত রাখে এবং মুহূর্তের জন্যেও তা বন্ধ করে না। মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত থেকে বিভিন্ন ময়দানে যথোচিত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুনিয়া তাঁর চরণে এসে লুটিয়ে পড়েছিলো কিন্তু তিনি দুঃখকষ্ট এবং দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিলেন। ঈমানদাররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারিপাশে শান্তি ও নিরাপত্তার ছায়া বিস্তার করে রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি দুঃখ দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনের পথে সাধনা অব্যাহত রাখেন। যে কোন অবস্থায় দুঃখকষ্টের মধ্যে তিনি অভূতপূর্ব ধৈর্যধারণ করছিলেন। রাত্রিকালে তিনি নামাযে দাঁড়াতেন। প্রিয় প্রতিপালকের এবাদাত এবং পবিত্র কোরআন ধীরে ধীরে তেলাওয়াত করতেন। সমগ্র বিশ্ব থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর প্রতি তিনি মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। অবশ্য তাঁকে এ রকম করতে নির্দেশও প্রদান করা হয়েছিলো।
এমনিভাবে সুদীর্ঘ বিশ বছরের বেশী সময় যাবত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংগ্রাম চালিয়ে যান। এই সময়ের মধ্যে একটি কাজে আত্মনিয়োগ করে অন্য কাজ তিনি ভুলে থাকেননি। পরিশেষে ইসলামী দাওয়াত এমন ব্যাপক সাফল্য লাভ করলো যে, সবাইকে অবাক হতে হলো। সমগ্র জাযিরাতুল আরব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত হলো। আরবের দিগন্ত থেকে জাহেলিয়াতের মেঘ কেটে গেলো। অসুস্থ বিবেকসমূহ সুস্থ হয়ে গেলো। এমনকি মূর্তিসমূহকে তারা ছেড়ে দিল বরং ভেঙ্গে ফেলল। তওহীদের আওয়াযে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠলো। ঈমানের তেজে নতুন জীবনীশক্তি লাভ করে মরু বিয়াবান আযানের সুমধুর ধ্বনিতে প্রকম্পিত হলো। দিক দিগন্তে আল্লাহু আকবর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো। কোরআনের ক্বারীরা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর হুকুম আহকাম কায়েম করতে উত্তর দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়লেন।
বিচ্ছিন্ন গোত্রসমূহ একত্রিত হলো, মানুষ মানুষের দাসত্ব ছেড়ে আল্লাহর দাসত্বে আত্মনিয়োগ করলো। এখন আর কেউ শোষক নয়, কেউ শোষিত নয়, কারো রক্তচক্ষু কাউকে এখন আর ভীতসন্ত্রস্ত করে না, কেউ যালেম নয়, কেউ মযলুম নয়, কেউ মালিক নয়, কেউ গোলাম নয়, কেউ শাসক নয়, কেউ শাসিত নয় বরং সকল মানুষ আল্লাহর বান্দা এবং পরস্পর ভাই ভাই। তারা একে অন্যকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করে। আল্লাহ তায়ালা তাদের মধ্য থেকে জাহেলিয়াতের সময়ের গর্ব অহঙ্কার এবং পিতা পিতামহের নামে আত্মম্ভরিতার অবসান ঘটালেন। এখন আর অনারবদের ওপর আরবদের এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শ্বেতাঙ্গদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। এখানে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হচ্ছে তাকওয়া। অন্যথায় সকল মানুষ আদমের সন্তান। আর আদম হচ্ছে মাটির তৈরী।
মোটকথা এই দাওয়াতের ফলে আরব ঐক্য মানবীয় ঐক্য সম্মিলিত ন্যায়নীতি ও সুবিচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। মানব জাতি দুনিয়ার বিভিন্ন সমস্যা এবং আখেরাতের বিভিন্ন কাজে সৌভাগ্যের পথের সন্ধান পেলো। অন্য কথায় ইতিহাসের ধারাই পাল্টে গেলো।
এই দাওয়াতের আগে পৃথিবীতে জাহেলিয়াতের জয়-জয়াকার চলছিলো। মানুষের বিবেক অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আত্মা দুর্গন্ধময় হয়ে পড়েছিলো। মূল্যবোধে চরম অবক্ষয় ঘটেছিলো। অত্যাচার এবং দাসত্বের প্রবল প্রতাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। উচ্ছৃঙ্খলতাপূর্ণ এবং লজ্জাকর সাচ্ছন্দ্য এবং ধ্বংসাত্মক বঞ্চনার ঢেউ বিশ্বকে অবনতির অতলে পৌঁছে দিয়েছিলো। এর ওপর কুফুরী এবং পথভ্রষ্টতার অন্ধকারে মোটা পর্দা হয়ে পড়ে গিয়েছিলো। অথচ সে সময়ও আসমানী মাযহাব এবং ধর্ম বিশ্বাস বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু মানুষ সেসবকে বিকৃত করে দিয়েছিলো। ফলে ধর্ম বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দূর্বলতা চরমে পৌছে গিয়েছিলো। ধর্মের বন্ধন ছিলো শিথিল। ধর্ম হয়ে পড়েছিলো প্রাণহীন দেহের মতো দূর্বল এবং অল্পকিছু আচার অনুষ্ঠানসর্বস্ব।
উল্লিখিত দাওয়াত যখন মানব জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করলো, তখন মানবাত্মা অলীক ধ্যান-ধারণা, প্রবৃত্তির দাসত্ব নোংরামি, অন্যায়, অত্যাচার, নৈরাজ্য এবং অরাজকতা থেকে মুক্তি লাভ করলো। মানব সমাজকে যুলুম, অত্যাচার, হঠকারিতা, ঔদ্ধত্য, ধ্বংস, শ্রেণী বৈষম্য, শাসকদের অত্যাচার, জ্যোতিষীদের অবমাননাকর ও স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্তি দান করলো। বিশ্ব তখন দয়া, ক্ষমা, বিনয়, নম্রতা, আবিষ্কার, নির্মাণ, স্বাধীনতা, সংস্কার, মারেফাত, ঈমান, ন্যায়পরায়ণতা, সুবিচার এবং আমলের ভিত্তিতে জীবনের উন্নতি ও অগ্রগতি এবং হকদারের অধিকার লাভের নিশ্চয়তার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হলো।
এসকল পরিবর্তনের কারণে জাযিরাতুল আরব এমন একটি বরকতপূর্ণ জনবসতিতে পরিণত হলো যার উদাহরণ মানব ইতিহাসের কোন যুগে অথবা কোন দেশে দেখা যায়নি এবং যাবেও না। জাযিরাতুল আরব তার ইতিহাসে এমন জৌলুসপূর্ণ এবং ঝলমলে হয়ে উঠলো যে, এর আগে কখনোই, কোথাও ওরকম দেখা যায়নি।

টিকাঃ
১. সাইয়েদ কুতুব শহীদ, তাফসীর ফি যিলালিল কোরআন, উনত্রিশতম খন্ড পৃষ্ঠা ১৬৮, ১৬৯
২. সাইয়েদ কুতুব শহীদ, তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ১৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00