📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 তবুকে ইসলামী বাহিনী

📄 তবুকে ইসলামী বাহিনী


ইসলামী বাহিনী তবুকে অবতরণের পশ তাঁবু স্থাপন করলেন। তারা রোমক সৈন্যদের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত ছিলেন। নবী আল আমিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তেজস্বিনী ভাষায় সাহাবাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। সে ভাষণে তিনি দুনিয়া ও আখরাতের কল্যাণের জন্যে সাহাবাদের অনুপ্রাণিত করলেন, সুসংবাদ দিলেন। এই ভাষণে সৈন্যদের মনোবল বেড়ে গেলো। কোন কিছুর অভাবই তাদের মুখ্য মনে হলো না। অন্যদিকে রোম এবং তাদের বাহিনীর অবস্থা এমন হলো যে, তারা বিশাল মুসলিম বাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে ভীত হয়ে পড়লো, সামনে এগিয়ে মোকাবেলা করার সাহস করতে পারল না। তারা নিজেদের শহরে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লো। বিধর্মীদের এ পিছুটান মুসলমানদের জন্যে কল্যাণকর প্রমাণিত হলো। আরব এবং আরবের বাইরে মুসলমানদের সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বের আলোচনা হতে লাগলো। এ অভিযানে মুসলমানরা যে রাজনৈতিক সাফল্য লাভ করে রোমকদের সাথে যুদ্ধ করলে সেই সাফল্য অর্জন সম্ভব হতো না।
বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আয়েলার শাসনকর্তা ইয়াহনা ইবনে রওবা নবী আল আমিনের কাছে এসে জিজিয়া আদায়ের শর্ত মেনে নিয়ে সন্ধি চুক্তি করলেন। জাররা এবং আজরুহ-এর অধিবাসীরাও হাযির হয়ে জিযিয়া দেয়ার শর্ত মেনে নিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে একটি চুক্তিপত্র লিখে দিলেন, তারা সেটি কাছে রাখলো। আয়েলার শাসনকর্তাকে লিখে দেয়া চুক্তি বা সন্ধিপত্র ছিলো নিম্নরূপ, 'পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। এ শান্তি পরওয়ানা আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে ইয়াহনা ইবনে রওবা এবং আয়েলার অধিবাসীদের জন্যে লেখা হচ্ছে। জলেস্থলে তাদের কিশতি এবং কাফেলার জন্যে আল্লাহর জিম্মা এবং নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিম্মা এবং এই জিম্মা সেইসব সিরীয় ও সমুদ্রের বাসিন্দাদের জন্যে যারা ইয়াহনার সাথে থাকবে। তবে হাঁ, এদের মধ্যে যদি কেউ গোলমাল পাকায়, তবে তার অর্থ-সম্পদ তার জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে মোহাম্মদ পারবে না। এ ধরনের ব্যক্তির ধন-সম্পদ যে কেউ গ্রহণ করবে, সেটা গৃহীতার জন্যে বৈধ হবে। ওদের কোন কূপে অবতরণ এবং জলেস্থলে কোন পথে চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধ করা যাবে না।'
এছাড়াও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত খালেদ ইবনে ওলীদকে ৪২০ জন সৈন্যের একটি দল দিয়ে দওমাতুল জন্দলের শাসনকর্তা আকিদের-এর কাছে পাঠালেন। খালেদকে বলে দেয়া হলো যে, তুমি দেখবে যে, সে নীল গাভী শিকার করছে। হযরত খালেদ গেলেন। শাসনকর্তার দুর্গ যখন দেখা যাচ্ছিলো হঠাৎ একটি নীল গাভী বের হলো এবং দুর্গের দরজায় গুঁতো মারতে লাগলো। আকিদের সেই গাভী শিকারে বের হলেন। হযরত খালেদ (রা.) তাঁর সৈন্যসহ আকিদেরকে গ্রেফতার করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে নিয়ে এলেন। তিনি আকিদের প্রাণ ভিক্ষা দিলেন এবং দুই হাজার উট, আটশত ক্রীতদাস, চারশত বর্ম এবং চারশত বশা পাওয়ার শর্তে চুক্তি করলেন।
আকিদের জিজিয়া দেয়ার কথাও স্বীকার করলেন। নবী আকিদের-এর সাথে ইয়াহনাসহ দওমা, তবুক, আয়লা এবং তায়মার শর্তে সন্ধি স্থাপন করলেন।
এ অবস্থা দেখে রোমকদের ক্রীড়নক গোত্রসমূহ বুঝতে পারলো যে, রোমকদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। এবার প্রভু বদল হয়ে গেছে। রোমকদের আনুগত্যের প্রয়োজন নেই, তাদের কর্তৃত্বের দিন শেষ। এ কারণে তারাও মুসলমানদের মিত্র হয়ে গেলো। এমনি করে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা বিস্তৃত হয়ে রোমক সীমান্তের সাথে মিলিত হলো এবং রোমকদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য বহুলাংশে লোপ পেয়ে গেলো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনায় প্রত্যাবর্তন

📄 মদীনায় প্রত্যাবর্তন


এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার পথে রওয়ানা হন। ফেরার সময়ে এক প্রান্তরের কাছে পৌছে সাহাবারা উচ্চস্বরে তকবির ধ্বনি দেন। তারা বলেন, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অতো জোরে বলার দরকার নেই। তোমরা কোন বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না, বরং এমন এক সত্তাকে ডাকছো, যিনি শোনেন এবং কাছেই রয়েছেন। ফেরার পথে সারারাত সফর শেষে শেষরাতে একস্থানে বিশ্রাম নেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত বেলালকে বলেছিলেন, তুমি জেগে থাকবে এবং ফজরের নামাযের সময় আমাদের জাগিয়ে দেবে। হযরত বেলাল (রা.) পূর্বদিকে মুখ করে তাঁর সওয়ারীর সাথে হেলান দিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু পথশ্রমের ক্লান্তিতে এক সময় তিনিও ঘুমিয়ে পড়েন। কেউই নামাযের সময়ে জাগতে পারেননি। সর্বপ্রথম আল্লাহর রসুলের ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি সাহাবাদের জাগিয়ে সেই স্থান থেকে কিছু সামনে এগিয়ে যান। এরপর সাহাবাদের নিয়ে ফজরের নামায আদায় করেন। বলা হয়ে থাকে যে, এ ঘটনা দ্বিতীয় সফরের সময় ঘটেছিলো। খয়বরের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহর রসূল সপ্তম হিজরীর সফর মাসের শেষ দিকে রবিউল আউয়াল মাসে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।

টিকাঃ
৩৩. ইবনে হিশাম, ২য় কন্ড, পৃ. ৩৪০

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 বিরোধীদের বিবরণ

📄 বিরোধীদের বিবরণ


তবুকের যুদ্ধ ছিলো বিশেষ অবস্থার কারণে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে কঠিন পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ঈমানদার এবং অন্য লোকদের পার্থক্য প্রমাণিত হয়েছিলো। এ ধরনের কঠিন সময়ে আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের পরীক্ষা করেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা সূরা আল ইমরানে বলেন, 'অসৎকে সৎ থেকে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছো আল্লাহ তায়ালা মোমেনদের সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অবহিত করার নন। তবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন।'
এই যুদ্ধে সকল মোনেনীন সাদেকীন অংশগ্রহণ করেন এবং যুদ্ধে অনুপস্থিতি নেফাকের নিদর্শনরূপে বিবেচিত হয়। কেউ পেছনে থেকে গেলে তার সম্পর্কে নবী আল আমিনের কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন, ওর কথা ছাড়ো। যদি তার মধ্যে কল্যাণ থাকে তবে আল্লাহ শীঘ্র তাকে তোমাদের কাছে পৌঁছে দেবেন আর যদি না থাকে তবে, অচিরেই তার থেকে তোমাদের নাজাত দেবেন। মোটকথা এই যুদ্ধ থেকে দুই শ্রেণীর লোক দূরে ছিলো। এক শ্রেণীর লোক মা'যুর বা অক্ষম, অন্য শ্রেণী মোনাফেক। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ঈমান আনার দাবীতে ছিলো মিথ্যা, তারাই ছিলো মোনাফেক, তারা মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার জন্যে ওযর খাড়া করেছিলো। এদের কেউ কেউ যুদ্ধে না যাওয়ার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুমতিও নেয়নি। তবে এদের মধ্যে তিনজন ছিলেন পাক্কা মোমেন এবং ঈমানদার। তারা যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ ছাড়াই যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাদের তওবা কবুল করেন।
এ ঘটনার বিবরণ এই যে, যুদ্ধ থেকে নবী মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অভ্যাস মোতাবেক প্রথমে মসজিদে নববীতে গিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। এরপর তিনি সেখানে বসলেন। মোনাফেকদের সংখ্যা ছিলো ৮০ বা এর চেয়ে কিছু বেশী। তারা মসজিদে নববীতে এসে যুদ্ধে যেতে না পারার নানা ওযর বর্ণনা এবং কসমের পর কসম করছিলো।
নবী মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের বাইরের অভিব্যক্তি গ্রহণ করে বাইয়াত গ্রহণ করলেন, তাদের জন্যে মাগফেরাতের দোয়া করেন এবং তাদের ভেতরের অবস্থা আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিলেন।
তিনজন মোমেনীন সাদেকীনের প্রসঙ্গ বাকি থাকলো। এরা হচ্ছেন কা'ব ইবনে মালেক মারারা ইবনে রবি এবং হেলাল ইবনে উমাইয়া। তারা সত্যতার সাথে বললেন, আমাদের যুদ্ধে না যাওয়ার মতো কোন কারণ ছিলো না। এ কথা শুনে নবী মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের বললেন, তারা যেন ওদের সাথে বাক্যালাপ না করেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বয়কট করা হলো। চেনা মানুষ অচেনা হয়ে গেলেন, যমিন ভয়ানক হয়ে উঠলো, পৃথিবী তার প্রশস্ততা সত্তেও সংকীর্ণ হয়ে গেলো। তাদের জীবন মারাত্মক সঙ্কটের সম্মুখীন হলো। কঠোরতা এমন বেড়ে গেলো যে, ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর নির্দেশ দেয়া হলো তারা যেন তাদের স্ত্রীদের থেকেও আলাদা থাকে। ৫০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা তাদের তওবা কবুল করলেন। সূরা তাওবার এই আয়াত নাযিল হলো 'এবং তিনি ক্ষমা করলেন, অপর তিনজনকেও তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিলো, যে পর্যন্ত না পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্তেও যাদের জন্যে সঙ্কুচিত হয়েছিলো এবং তারা উপলব্ধি করেছিলো যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই। পরে তিনি ওদের প্রতি অনুগ্রহ পরায়ণ হলেন, যাতে ওরা তওবা করে। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'
আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ঘোষণায় সাধারণভাবে সকল মুসলমান এবং বিশেষভাবে উক্ত তিনজন সাহাবা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। সাহাবারা ছুটোছুটি করে পরস্পরকে এ খবর দিতে লাগলেন। একে অন্যকে মিষ্টি খাওয়াতে লাগলেন, দান খয়রাত করতে লাগলেন। প্রকৃতপক্ষে এই আয়াত নাযিলের দিন ছিলো তাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দ এবং সৌভাগের দিন।
যেসব লোক অক্ষমতা ও অপারগতাহেতু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যারা দুর্বল যারা পীড়িত তাদের কোন অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাদের অবিমিশ্র আনুগত্য থাকে। যারা সৎ কর্মপরায়ণ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন কারণ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'
এদের সম্পর্কে নবী মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার কাছে পৌঁছে বলেছিলেন, 'মদীনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা যেখানেই সফর করেছো এবং যেখানেই গিয়েছো তারা তোমাদের সঙ্গে ছিলো। অপরাগতার কারণ অর্থাৎ সঙ্গত ওযরের কারণে তারা যুদ্ধে যেতে পারেনি।' সাহাবারা বললেন, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তারা মদীনায় থেকে বুঝি আমাদের সঙ্গে ছিলেন? নবী মুরসালিন বললেন, 'হাঁ, মদীনায় থেকেও তারা তোমাদের সঙ্গে ছিলেন।'

টিকাঃ
১০. ওয়াকেদী লিখেছেন, এই সংখ্যা মদীনার মোনাফেকদের। এছাড়া বনু গেফার এবং অন্যান্য গোত্রের মোনাফেকদের সংখ্যা ছিল ৮২। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার অনুসারীদের হিসাব এর মধ্যে ধরা হয়নি। তাদের সংখ্যাও ছিল অনেক। দেখুন ফতহুল বারী, ৮ম খন্ড, পৃ. ১১৯

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 এ যুদ্ধের প্রভাব ও এ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত

📄 এ যুদ্ধের প্রভাব ও এ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত


তবুক যুদ্ধ জাযিরাতুল আরবের ওপর মুসলমানদের প্রভাব বিস্তার এবং শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো। জনসাধারণ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলো যে, এখন থেকে জাযিরাতুল আরবে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন শক্তির অস্তিত্ব থাকবে না। পৌত্তলিক এবং মোনাফেকরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্র চালিয়ে নিজেদের প্রত্যাশিত যে সুযোগের স্বপ্ন দেখছিলো সে স্বপ্নও ভেঙ্গে খান খান হয়ে গিয়েছিলো। কেননা তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূল কেন্দ্র ছিলো রোমক শক্তি। এ যুদ্ধের ফলে সে আশাও ধূলিসাৎ হয়ে গেলো। এতে কাফের ও মোনাফেকদের মনোবল ভেঙ্গে যায়। তারা সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছিলো যে, ইসলাম থেকে পলায়ন বা নিষ্কৃতি পাওয়ার কোন উপায় নেই।
এমতাবস্থায় মোনাফেকদের সাথে নরম ব্যবহার করার কোন প্রয়োজনীয়তা মুসলমানদের ছিলো না। মোনাফেকদের সাথে কঠোর ব্যবহার করতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিলেন। এমনকি তাদের দেয়া দান-খয়রাত গ্রহণ, তাদের জানাযার নামায আদায়, তাদের জন্যে মাগফেরাতের দোয়া এবং তাদের কবর যেয়ারত করতেও নিষেধ করা হলো। মসজিদের নামে তারা ষড়যন্ত্রের যে আখড়া তৈরী করেছিলো, সেটিও ধ্বংস করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। মোনাফেকদের সম্পর্কে এমন আয়াত নাযিল হলো যে, এতে তারা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়লো। তাদের চিনতে আর কোন অসুবিধাই রইল না। কোরআনের আয়াতের দ্বারা মোনাফেকদের যেন অঙ্গুলি নির্দেশ করে চিনিয়ে দেয়া হলো।
তবুকের যুদ্ধের প্রভাব এ থেকেও বোঝা যায় যে, মক্কা বিজয়ের পর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল মদীনায় আসতে শুরু করলেও এ যুদ্ধের পর সে সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে গেলো।
এই সম্পর্কে কোরআনের আয়াত
এই যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা তাওবায় বহুসংখ্যক আয়াত নাযিল হয়েছিলো। কিছু হয়েছে যুদ্ধে রওয়ানা হওয়ার আগে এবং কিছু কিছু মদীনায় ফিরে আসার পরে। এসব আয়াতে যুদ্ধের অবস্থা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছিলো। মোনাফেকদের পর্দা উন্মোচন করে দেয়া হয়েছিলো। সরলপ্রাণ মোজাহেদদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে তাদের প্রশংসা করা হয়েছিলো। মোমেনীন এবং সাদেকীন যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং যারা করেননি, তাদের তওবা কবুল করার কথা বলা হয়েছে।

টিকাঃ
১১. এ যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ যেসব গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে সেগুলোর নাম, ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ৫১৫-৫৩৭, যাদুল মায়াদ ৩য় খন্ড, পৃ. ২-১৩, সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৩১৩-৩৩৭, ফতহুল বারী, ৮ম খন্ড, পৃ. ১১০-১২৬ ও তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন, সূরা তাওবা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00