📄 ছারিয়্যা উয়াইনা ইবনে হাসান ফাজারি
নবম হিজরীর মহররম মাস
উয়াইনাকে ৫০জন সওয়ারের নেতৃত্ব দিয়ে বনু তামিম গোত্রের কাছে প্রেরণ করা হয়। কারণ হচ্ছে যে, বনু তামিম বিভিন্ন গোত্রকে উস্কানি দিয়ে জিযিয়া আদায় থেকে বিরত রেখেছিলো। এ অভিযানে কোন মোহাজের বা আনসার ছিলেন না।
উয়াইনা ইবনে হানান রাত্রিকালে পথ চলতেন এবং দিনের বেলায় আত্মগোপন করে থাকতেন। এভাবে চলার পর নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে বনু তামিম গোত্রের লোকদের ধাওয়া করলেন। তারা উর্ধশ্বাসে ছুটে পালালো। তবে, ১১জন পুরুষ ২১ জন নারী এবং ৩০টি শিশুকে মুসলমানরা গ্রেফতার করলেন। এদের মদীনায় নিয়ে এনে রামলা বিনতে হারেসের ঘরে আটক রাখা হলো।
পরে বন্দীদের মুক্তির ব্যাপারে আলোচনা করতে বনু তামিম গোত্রের ১০ জন সর্দার এলেন। তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরের দরজায় গিয়ে এভাবে হাঁক দিলেন হে মোহাম্মদ, আমাদের কাছে আসুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইরে এলেন। তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জড়িয়ে ধরে কথা বলতে লাগলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সঙ্গে কাটালেন। ইতিমধ্যে যোহরের নামাযের সময় হলো। তিনি নামায পড়ালেন। নামায শেষে মসজিদের আঙ্গিনায় বসলেন। বনু তামিমের সর্দাররা নিজেদের গর্ব অহংকার প্রকাশক বিতর্কের ইচ্ছা প্রকাশ করে তাদের বক্তা আতা ইবনে হাজেবকে সামনে এগিয়ে দিলেন। তিনি বক্তৃতা করলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মোকাবেলার জন্যে খতীব ইসলাম হযরত ছাবেত ইবনে কয়েস শাম্মাসকে আদেশ দিলেন। তিনি জবাবী বক্তৃতা দিলেন। বনু তামিম সর্দাররা এরপর তাদের গোত্রের কবি জায়কাল ইবনে বদরকে সামনে এগিয়ে দিলেন। তিনি অহংকার প্রকাশক কিছু কবিতা আবৃত্তি করলেন। শায়েরে ইসলাম হযরত হাসান ইবনে ছাবেত তার জবাব দিলেন।
উভয় বক্তা ও কবি বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি শেষ করলে আকরা ইবনে হাবেছ বললেন, ওদের বক্তা আমাদের বক্তার চেয়ে জোরালো বক্তৃতা এবং ওদের কবি আমাদের কবির চেয়ে ভালো কবিতা আবৃত্তি করেছেন। ওদের বক্তা এবং কবির আওয়ায আমাদের বক্তা ও কবির আওয়াযের চেয়ে বুলন্দ। এরপর আগন্তুক বনু তামিম সর্দাররা ইসলাম গ্রহণ করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে দাসী উপহার প্রদান করেন এবং বন্দি নারী ও শিশুদের ফিরিয়ে দেন।
টিকাঃ
১. যুদ্ধ বিষয়ে বিশারদ লেখকরা বর্ণনা করেছেন যে, নবম হিজরীর মহররম মাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে বোঝা যায় যে, আকরা ইবনে হাবেছ সে সময়েই মুসলমান হন। কিন্তু সীরাত রচয়িতারা লিখেছেন, আল্লাহর রসূল বনু হাওয়াযেন গোত্রের বন্দীদের ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। তখন আকরা ইবনে হাবেছ বলেন, আমি এবং বনু তামিম ফিরিয়ে দেব না। এ দ্বারা বোঝা যায় যে, আকরা ইবনে হারেছ নবম হিজরীর মহররম মাসের আগেই মুসলমান হয়েছিলেন।
📄 ছারিয়্যা কুতবাহ ইবনে আমের
২. ছারিয়্যা কুতবাহ ইবনে আমের নবম হিজরীর সফর মাস
এই ছারিয়্যা তোরবার কাছে তাবালা এলাকায় খাশআম গোত্রের একটি শাখার দিকে রওয়ানা হয়েছিলো। কোতবা ২০ জন লোকের সমন্বয়ে যাত্রা করেন। ১০টি ছিলো উট। পর্যায়ক্রমে সেসব উটে এরা সওয়ার হন। মুসলমানরা আকস্মিক হামলা করেন। এতে প্রচন্ড সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়। কোতবা অন্য কয়েকজন সঙ্গীসহ নিহত হন। তবুও মুসলমানরা ভেড়া, বকরি এবং শিশুদের মদীনায় নিয়ে আসেন।
📄 ছারিয়্যা যাহহাক ইবনে সুফিয়ান বেলাবী
নবম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস
এই ছারিয়্যা বনু কেলাব গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্যে রওয়ানা করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে যুদ্ধ শুরু হয়। মুসলমানরা তাদের পরাজিত করে তাদের একজন লোককে হত্যা করেন।
📄 ছারিয়্যা আলকামা ইবনে মুজবের মাদলাযি
নবম হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস। আলকামাকে তিনশত সৈন্যের সেনাপতির দায়িত্ব দিয়ে জেদ্দা উপকূলের দিকে প্রেরণ করা হয়। কারণ ছিলো এই যে, কিছুসংখ্যক হাবশী জেদ্দা উপকূলের কাছে সমবেত হয়েছিলো। তারা মক্কার জনগণের ওপর ডাকাতি রাহাজানি করতে চাচ্ছিলো। আলকামা সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে একটি দ্বীপ পর্যন্ত অগ্রসর হন। হাবশীরা মুসলমানদের আগমন সংবাদ পেয়ে পলায়ন করে।
টিকাঃ
২. ফতহুল বারী, ৮ম খন্ড, পৃ. ৫৯