📄 ওমরাহ এবং মদীনায় প্রত্যাবর্তন
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গনীমতের মাল বন্টন শেষে যেরানা থেকে ওমরাহর জন্যে এহরাম বাঁধেন এবং ওমরাহ আদায় করেন। এরপর আত্তাব ইবনে আছিদকে মক্কার গবর্নর নিযুক্ত করে মদীনায় রওয়ানা হন। অষ্টম হিজরীর ২৪ শে জিলকদ তিনি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করেন।
মোহাম্মদ গাযালী বলেন, এই বিজয়ের সময় যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর মাথায় ফতহে আযিমের মুকুট পরালেন, এই সময়ে এবং আট বছর আগে এই শহরে আসার সময়ের মধ্যে কতো ব্যবধান।
তিনি এই শহরে এমনভাবে এসেছিলেন যে, তিনি ছিলেন নিরাপত্তার প্রত্যাশী। সেই সময় তিনি ছিলেন অচেনা, অপরিচিত, সংশয় ছিলো তাঁর মনে। সে সময় স্থানীয় অধিবাসীরা তাঁকে মর্যাদা দিয়েছিলো আশ্রয় দিয়েছিলো, সাহায্য করেছিলো, তিনি যে নূর সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন তারা সেই নূরের আনুগত্য করেছিলো। শুধু তাই নয় তার জন্যেই তারা অন্যদের সব রকমের শত্রুতা তুচ্ছ মনে করেছিলো। আট বছর আগে এই মদীনায় হিজরত করার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছিলো তারাই আজ তাঁকে পুনরায় সম্বর্ধনা দিচ্ছে। আজ মক্কা তাঁর করতলগত, তাঁর নিয়ন্ত্রণে। মক্কার জনগণ তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও মূর্খতা দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদতলে বিসর্জন দিয়েছে। তিনি তাদের অতীত দিনের সকল অন্যায় ক্ষমা করে দিয়ে তাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে গৌরব ও সাফল্য দান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে হাকিমে বলেন, 'নিশ্চয়ই যে বক্তি সত্যবাদিতা এবং ধৈর্য অবলম্বন করে, তবে আল্লাহ তায়ালা পুন্যশীলদের বিনিময় নষ্ট করেন না।'
টিকাঃ
১৬. ফেকহুস সিরাহ পৃ. ৩০৬, মক্কা বিজয় এবং তায়েফের যুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১৬০-২০১, ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ৩৮৯-৫০১, সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬১২-৬২৩, ফতহুল বারী, ৮ম খন্ড, পৃ. ৩-৮৫