📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 আজ কোন অভিযোগ নেই

📄 আজ কোন অভিযোগ নেই


এরপর তিনি বললেন, হে কোরায়শরা, তোমাদের ধারণা, আমি তোমাদের সাথে কেমন ব্যবহার করবো? সবাই বললো, ভালো ব্যবহার করবেন, এটাই আমাদের ধারণা। আপনি দয়ালু। দয়ালু ভাইয়ের পুত্র। এরপর তিনি বলেন, তাহলে আমি তোমাদেরকে সেই কথাই বলছি, যে কথা হযরত ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইদের বলেছিলেন, 'লা তাছরিবা আলাইকুমুল ইয়াওমা!' আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কাবাঘরের চাবি ও কাবার ছাদে বেলালের আযান

📄 কাবাঘরের চাবি ও কাবার ছাদে বেলালের আযান


রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর মসজিদে হারামে বসলেন। হযরত আলীর হাতে ছিলো কাবাঘরের চাবি। তিনি বললেন, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাজীদের পানি পান করানোর মর্যাদার পাশাপাশি কাবাঘরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও আমাদের ওপর ন্যস্ত করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনার ওপর রহমত করুন। অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী এই আবেদন হযরত আব্বাস জানিয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ওসমান ইবনে তালহা কোথায়? তাঁকে ডাকা হলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ওসমান এই নাও চাবি। আজকের দিন হচ্ছে আনুগত্যের দিন। তবাকতে ইবনে সা'দ-এর বর্ণনা অনুযায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই চাবি সবসময়ের জন্যে নাও। তোমাদের কাছ থেকে এ চাবি সেই কেড়ে নেবে যে যালেম। হে ওসমান (রা.), আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে তার ঘরের তত্ত্বাধায়ক নিযুক্ত করেছেন। কাজেই বায়তুল্লাহ থেকে যা কিছু পাও, তা ভক্ষণ করবে।
কাবার ছাদে বেলালের আযান
নামাযের সময় হয়ে গিয়েছিলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেলালকে কাবার ছাদে উঠে আযান দেয়ার আদেশ দিলেন। সে সময় আবু সুফিয়ান ইবনে হরব, আত্তাব ইবনে আছিদ এবং হাবেছ ইবনে হেশাম কাবার আঙ্গিনায় বসেছিলো। সেখানে অন্য কেউ ছিলো না। আত্তাব বললো, আল্লাহ তায়ালা আছিদকে এ মর্যাদা দিয়েছেন যে, তাকে এই আযান শুনতে হয়নি। নতুবা তাকে এক অপ্রীতিকর জিনিস শুনতে হতো। একথা শুনে হারেস বললো শোনো, আল্লাহর শপথ, যদি আমি শুনতে পারি যে, তিনি সত্য তবে আমি তার আনুগত্যকারী হয়ে যাব। আবু সুফিয়ান বললেন, দেখো, আমি কিছু বলব না। যদি কিছু বলি আল্লাহর শপথ, তবে এই পাথরের টুকরোগুলোও আমার সম্পর্কে খবর দেবে। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সামনে হাযির হয়ে বললেন, এ মাত্র তোমরা যা বলেছ, আমি সব জানি। এরপর তিনি তাদের কথা তাদের শোনালেন। এ বিস্ময়কর ঘটনায় হারেছ এবং আত্তাব বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিতেছি যে, আপনি আল্লাহর রসূল। আল্লাহর শপথ, আমাদের কথা শোনার মতো কেউ আমাদের সঙ্গে ছিলো না। আমরা বলছি যে, আপনাকে আমাদের কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 বিজয় বা শোকরানার নামায

📄 বিজয় বা শোকরানার নামায


সেদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানি বিনতে আবু তালেবের ঘরে গিয়ে গোসল করলেন। এরপর সেখানে আট রাকাত নামায আদায় করলেন।
তখন ছিলো চাশত-এর সময়। এ কারণে কেউ বললো, এটা চাশত-এর নামায, কেউ বললো, ফতেহ বা বিজয়ের পর শোকরানার নামায। উম্মে হানি তার দু'জন দেবরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, উম্মে হানি, তুমি যাদের আশ্রয় দিয়েছো, তাদের আমিও আশ্রয় দিলাম। একথা বলার কারণ ছিলো এই যে, উম্মে হানির দুই দেবরকে হযরত আলী (রা.) হত্যা করতে চাচ্ছিলেন। উম্মে হানি ছিলেন হযরত আলীর বোন। উম্মে হানি তার দুই দেবরকে লুকিয়ে রেখে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে গেলে উম্মে হানি তাকে দেবরদের সমস্যা সম্পর্কে বললে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 চিহ্নিত কয়েকজন শত্রু

📄 চিহ্নিত কয়েকজন শত্রু


মক্কা বিজয়ের দিন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নয়জন কুখ্যাত চিহ্নিত অপরাধীকে হত্যা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে এদের ব্যাপারে বলা হয় যে, এরা কাবাঘরের পর্দার নীচে আত্মগোপন করলেও যেন হত্যা করা হয়। এরা হলো:
১. আবদুল ওজ্জা ইবনে খাতাল
২. আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আবু ছারাহ।
৩. একরামা ইবনে আবু জেহেল।
৪. হারেছ ইবনে নুফায়েল ইবনে ওয়াহাব
৫. মাকিছ ইবনে ছাবাবা
৬. হাব্বার ইবনে আসওয়াদ
৭. ইবনে খাতালের দুই দাসী, যারা কবিতার মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বদনাম রটাতো
৯. সারাহ সে ছিলো আবদুল মোত্তালেবের সন্তানদের একজনের দাসী। সে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুৎসা রটনা করতো অধিকন্তু তার কাছেই মক্কায় প্রেরিত হাতেবের চিঠি পাওয়া গিয়েছিলো।
আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আবু ছারাহকে হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে গিয়ে তার প্রাণ ভিক্ষার সুপরিশ করলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণভিক্ষা দিয়ে তার ইসলাম গ্রহণ মেনে নিলেন। কিন্তু এর আগে তিনি কিছুক্ষণ নীরব ছিলেন। তিনি চাচ্ছিলেন যে, ইতিমধ্যে কোন একজন সাহাবী আবদুল্লাহকে হত্যা করুক। কেননা এই লোকটি আগেও একবার ইসলাম গ্রহণ করেছিলো এবং হিজরত করে মদীনায় গিয়েছিলো কিন্তু পরে মোরতাদ অর্থাৎ ধর্মান্তরিত হয়ে মক্কায় পালিয়ে এসেছিলো। দ্বিতীয়বার ইসলাম গ্রহণের পর অবশ্য তিনি ইসলামের ওপর অটল অবিচল ছিলেন।
একরামা ইবনে আবু জেহেল ইয়েমেনের পথে পালিয়ে গিয়েছিলো। তার স্ত্রী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চাইলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মঞ্জুর করলেন। এরপর সেই মহিলা স্বামীর পথের অনুসরণ করে তাকে ফিরিয়ে আনলো। একরামা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তার ইসলাম খাঁটি ইসলামই প্রমাণিত হয়েছিলো।
ইবনে খাতাল কাবাঘরের পর্দা ধরে ঝুলছিলো। একজন সাহাবী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে খবর দিলেন। তিনি বললেন, ওকে হত্যা করো। সেই সাহাবী গিয়ে তাকে হত্যা করলেন।
মাকিছ ইবনে ছাবাবাকে হযরত নোমাইলা ইবনে আবদুল্লাহ হত্যা করলেন। মাকিছ প্রথমে মুসলমান হয়েছিলেন। কিন্তু পরে ধর্মান্তরিত হয় এবং একজন আনসার সাহাবীকে হত্যাও করে। এরপর মক্কায় মোশরেকদের কাছে ফিরে যান।
হারেছ মক্কায় রসূলকে নানাভাবে কষ্ট দিতো। হযরত আলী (রা.) তাকে হত্যা করেন।
হাব্বাব ইবনে আসওয়াদ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা হযরত যয়নব (রা.)-কে তাঁর হিজরতের সময়ে এমন জোরে ধাক্কা মেরেছিলেন যে, তিনি হাওদায থেকে শক্ত প্রান্তরে গিয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়। মক্কা বিজয়ের দিন এ লোকটি পালিয়ে যায়। পরে মুসলমান হয়ে ফিরে আসে। পরবর্তীতে তার ইসলামও যথার্থ প্রমাণিত হয়েছিলো।
ইবনে খাতালের দুইজন দাসীর মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয়। অন্যজনের জন্যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রাণভিক্ষা করা হয় এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে। হাতেবের পত্রবাহক সারাহর জন্যেও প্রাণভিক্ষা চাওয়া হয় এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে। বাকি পাঁচজনের প্রাণভিক্ষা দেয়া হয় এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইবনে হাজার লিখেছেন, যাদেরকে হত্যা তালিকায় রাখা হয়েছিলো তাদের প্রসঙ্গে আবু মা'শাব আরো একজনের নাম উল্লেখ করেন। সে হচ্ছে হারেস ইবনে তালাল খাযায়ী। হযরত আলী (রা.) তাকে হত্যা করেন। ইমাম হাকেম এই তালিকায় কা'ব ইবনে যুহাইর-এর নামও উল্লেখ করেন। কা'ব এর ঘটনা বিখ্যাত। তিনি পরে এসে ইসলাম গ্রহণ করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় কবিতা রচনা করেন। এই তালিকায় ওয়াহশী ইবনে হারব এবং আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হেন্দ বিনতে ওতবার নামও ছিলো। তারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেন।
ইবনে খাতালের দাসী আরনবকে হত্যা করা হয়। উম্মে সা'দকেও হত্যা করা হয়। ইবনে ইসহাক এরূপ উল্লেখ করেছেন। এই হিসাবে পুরুষদের সংখ্যা আট এবং মহিলাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়। এমনও হতে পারে যে, আরনব এবং উম্মে সা'দ একই দাসীর নাম। লকব এবং কুনিয়তের ক্ষেত্রেই শুধু পার্থক্য রয়েছে।
সফওয়ান ইবনে উমাইয়াকে যদিও হত্যা তালিকায় রাখা হয় নাই কিন্তু বিশিষ্ট কোরায়শ নেতা হিসাবে তার মনে নিজের জীবনের আশঙ্কা ছিলো। এ কারণে সে পালিয়ে গিয়েছিলো। ওমায়ের ইবনে ওহাব জুহমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাযির হয়ে তার নিরাপত্তার আবেদন জানান। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিরাপত্তা দেন। নিরাপত্তার নিদর্শন স্বরূপ তিনি ওমায়েরকে নিজের পাগড়ি প্রদান করেন। উল্লেখ্য মক্কায় প্রবেশের সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পাগড়ি মাথায় দিয়েছিলেন। ওমায়ের সফওয়ানের কাছে গেলেন। সে সময় সফওয়ান জেদ্দা থেকে ইয়েমেনে সমুদ্রপথে পালিয়ে যেতে নৌকায় আরোহণ করতে যাচ্ছিলেন। ওমায়ের সেখান থেকে সফওয়ানকে নিয়ে এলেন। রসূলুল্লাহর কাছে এসে সফওয়ান দুই মাসের সময় চাইলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চার মাসের সময় দিলেন। এরপর সফওয়ান ইসলাম গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী আগেই মুসলমান হয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়কে প্রথম বিয়ের ওপর অটুট রাখলেন।
ফোযালা ছিলো একজন অপরাধী। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তওয়াফ করার সময় সে তাঁকে হত্যার কুমতলবে তাঁর কাছে এসে দাঁড়ায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে তার মনের ষড়যন্ত্রের কথা বলে দিলেন। এতে ফোযালার বিস্ময়ের সীমা রইল না। সাথে সাথে সে পাঠ করলো লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00