📄 ছারিয়্যা কোদাইদ ও ছারিয়্যা হাছমি
১. ছারিয়্যা কোদাইদ সপ্তম হিজরীর সফর বা রবিউল আউয়াল মাস
গালিব ইবনে আবদুল্লাহ লাইসি (রা.)-এর নেতৃত্বে এই ছারিয়্যা কোদাইদ এলাকায় বনি মালুহ গোত্রের লোকদের কৃতকর্মের শিক্ষা দেয়ার জন্যে প্রেরণ করা হয়। বনি মালুহ বিশর ইবনে ছুয়াইদের বন্ধুদের হত্যা করেছিলো। এই হত্যাকান্ডের প্রতিশোধের জন্যে এ অভিযান প্রেরণ করা হয়। প্রেরিত সাহাবারা রাতের বেলা আকস্মিক অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু লোককে হত্যা করেন। শত্রুরা এক বিরাট দল নিয়ে মুসলমানদের মোকাবেলায় অনুসরণ করেছিলো কিন্তু তারা মুসলমানদের কাছে এলে বৃষ্টি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর পানির সয়লাব দেখা দেয়। এই সয়লাব উভয় দলের মাঝে হওয়ায় শত্রুরা কাছে আসতে পারেনি। ফলে মুসলমানরা নিরাপদে বাকি পথ অতিক্রম করে।
২. ছ্যারিয়া হাছমি সপ্তম হিজরীর জমাদিউস সানি মাস
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের নামে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিঠি শীর্ষক অধ্যায়ে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
📄 ছারিয়্যা তোরবা ও ফেদেক অঞ্চলে ছারিয়্যা
৩. ছারিয়্যা তোরবা সপ্তম হিজরীর শাবান মাস
এ ছারিয়্যা হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.)-এর নেতৃত্বে পরিচালনা করা হয়। তাঁর সাথে ছিলেন তিরিশ জন সাহাবা। তারা রাতের বেলা সফর এবং দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকতেন। বনু হাওয়াযেন গোত্রের লোকেরা এ খবর পাওয়ার পর পালিয়ে যায়। হযরত ওমর (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা তখন মদীনায় ফিরে আসেন।
৪. ফেদেক অঞ্চলে ছারিয়্যা সপ্তম হিজরীর শাবান মাস
হযরত বশীর ইবনে সা'দ আনসারী (রা.)-এর নেতৃত্বে তিরিশজন সাহাবার একটি দল অভিযানে বের হন। বনু মাররা গোত্রের লোকদের শিক্ষা দিতেই এটি প্রেরণ করা হয়।
হযরত বশীর তাঁর এলাকায় পৌঁছে ভেড়া, বকরি এবং অন্য পশুপাল তাড়িয়ে নিয়ে আসেন। রাতে শত্রুরা এসে তাদের ঘিরে ধরে। মুসলমানরা তীর নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে বশীর এবং তার সঙ্গীদের তীর শেষ হয়ে যায়। ফলে নিরস্ত্র মুসলমানদের শত্রুরা একে একে হত্যা করে। একমাত্র বশীর বেঁচেছিলেন। তাঁকে আহত অবস্থায় উঠিয়ে ফেদেকে নিয়ে আসা হয় এবং তিনি ইহুদীদের কাছেই অবস্থান করেন। দুই মাস পর ক্ষত শুকালে তিনি মদীনায় ফিরে আসেন।
📄 ছারিয়্যা মাইফাআ
সপ্তম হিজরীর রমযান মাস
গালিব ইবনে আবদুল্লাহর নেতৃত্বে এই ছারিয়্যা বনু আউয়াল এবং বনু আবদ ইবনে ছালাবা গোত্রকে শিক্ষা দেয়ার জন্যে পাঠানো হয়। অপর এক বর্ণনায় জুহাইনা গোত্রের হারকাত শাখার লোকদের শিক্ষা দেয়ার জন্যে পাঠানো হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। এতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিলো একশত ত্রিশ। এরা শত্রুদের ওপর একযোগে হামলা করেন। যারা মাথা তুলছিলো তাদেরই হত্যা করা হচ্ছিলো। এরপর ভেড়া ও বকরিসহ পশুপাল হাঁকিয়ে নিয়ে আসেন। এই অভিযানেই হযরত উছামা ইবনে যায়েদ (রা.) নুহায়েক ইবনে মারদাস নামক এক ব্যক্তিকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা সত্ত্বেও হত্যা করেছিলেন। এ খবর শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তুমি কেন তার বুক চিরে জেনে নাওনি, সে সত্য ছিলো, নাকি মিথ্যা ছিলো?
📄 ছারিয়্যা খয়বর ও ছারিয়্যা ইয়ামান অজাবান
৬. ছারিয়্যা খয়বর সপ্তম হিজরীর শওয়াল মাস ৩৯৫
ত্রিশ সাহাবার সমন্বয়ে এই ছারিয়্যা প্রেরণ পরিচালনা করা হয়েছিলো। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা (রা.) এ অভিযানের নেতৃত্বে দেন। কারণ ছিলো এই যে, আসীর, মতান্তরে বশীর ইবনে যারাম বনু গাতফান গোত্রের লোকদেরকে মুসলমানদের ওপর হামলা করতে সমবেত করেছিলো। মুসলমানরা আসীরকে আশ্বাস দেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে খয়বরের গবর্নর নিযুক্ত করবেন। এ আশ্বাস দেয়ায় আসীর এবং তার তিরিশ জন সঙ্গী মুসলমানদের সাথে মদীনায় যেতে রাজি হয়। কারকারানিয়ার নামক জায়গায় পৌছে উভয় পক্ষে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এর ফলে আছির এবং তার সঙ্গীদের প্রাণ হারাতে হয়েছিলো।
৭. ছারিয়্যা ইয়ামান অজাবার সপ্তম হিজরীর শওয়াল মাস
জাবার বnu গাতফান, মতান্তরে বনু ফাজায়া এবং বনু আজারার এলাকার নাম। হযরত বশীর ইবনে কা'ব আনসারীকে তিনশত মুসলমানসহ সেখানে প্রেরণ করা হয়। মদীনায় হামলা করতে সমবেত এক বিরাট শত্রু সৈন্যের মোকাবেলার জন্যে এদের প্রেরণ করা হয়। মুসলমানরা রাতে সফর করতেন এবং দিনে আত্মগোপন করে থাকতেন। শত্রুরা হযরত বশীরের (রা.) আগমনের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। হযরত বশীর (রা.) বহু পশু মদীনায় নিয়ে আসেন। এছাড়া দু'জন লোককে বন্দী করে মদীনায় এনেছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে নেয়ার পর তারা ইসলাম গ্রহণ করেন।