📄 বিষ মিশ্রিত গোশতের ঘটনা
খয়বর বিজয়ের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিত হলেন। এ সময় সালাম ইবনে মুশকিম এর স্ত্রী যয়নব বিনতে হারেছ তাঁর কাছে বকরির ভুনা গোশত উপঢৌকন হিসেবে পাঠায়। সেই মহিলা আগেই খবর নিয়েছিলো যে, আল্লাহর রসূল বকরির কোন অংশ বেশী পছন্দ করেন। শোনার পর পছন্দনীয় অংশে বেশী করে বিষ মেশায়। অন্যান্য অংশেও বিষ মেশায়। এরপর আল্লাহর রসূলের সামনে এনে সেই বিষ মিশ্রিত গোশত রেখে দেয়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পছন্দনীয় অংশের একটুকরো মুখে দেন। কিন্তু চিবিয়েই তিনি ফেলে দেন। তিনি এরপর বললেন, এই যে হাড় দেখছো এই হাড় আমাকে বলছে যে, আমার মধ্যে বিষ মেশানো রয়েছে। যয়নবকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করা হলো, সে স্বীকার করলো। তিনি বললেন, তুমি কেন একাজ করেছ? মহিলা বললো, আমি ভেবেছিলাম যদি এই ব্যক্তি বাদশাহ হন, তবে আমরা তার শাসন থেকে মুক্তি পাবো, আর যদি এই ব্যক্তি নবী হন, তবে আমার বিষ মেশানোর খবর তাকে জানিয়ে দেয়া হবে। এ নির্জলা স্বীকারোক্তি শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মহিলাকে ক্ষমা করে দিলেন।
এ ঘটনার সময় আল্লার রসূলের সাথে হযরত বাশার ইবনে বারা ইবনে মারুরও ছিলেন। তিনি এক লোকমা খেয়েছিলেন। এতে তিনি বিষক্রিয়ায় ইন্তেকাল করেন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মহিলাকে ক্ষমা না হত্যা করেছিলেন, এ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। একাধিক বর্ণনার সমন্বয় এভাবে করা হয়েছে যে, প্রথমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ক্ষমা করলেও, হযরত বাশার-এর ইন্তেকালের পর কেসাসস্বরূপ তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
টিকাঃ
২৫. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১৩৯, ফতহুল বারী, সপ্তম খন্ড, পৃ. ৪৯৭ ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ৩৩৭
📄 খয়বরের যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিরা
এ অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ১৬জন শহীদ হয়েছিলেন। তন্মধ্যে ৪ জন কোরায়শ, একজন আশজা গোত্রের, একজন আসলাম গোত্রের, একজন খয়বরের অধিবাসী এবং ৯ জন আনসার।
অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী এ অভিযানে মোট ১৮জন শহীদ হন। আল্লামা মনসুরপুরী ১৯ জনের কথা লিখেছেন। অবশ্য, তিনি একথাও উল্লেখ করেছেন যে, সীরাত রচয়িতারা ১৫ জনের কথা লিখেছেন। অনুসন্ধান করে আমি ২৩ জনের নাম পেয়েছি। জানিফ ইবনে ওয়ায়েলার নাম শুধু ওয়াকেদী উল্লেখ করেছেন। আর জানিফ ইবনে হানিফের নাম তিবরি উল্লেখ করেন। বাশার ইবনে বারা ইবনে মারুর এর ইন্তেকাল হয়েছিলো যুদ্ধশেষে বিষ মেশানো গোশত খাওয়ায়। বাশার ইবনে আবদুল মোনযের সম্পর্কে দু'টি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হন, অন্য বর্ণনায় রয়েছে তিনি খয়বর যুদ্ধে শহীদ হন। আমার মতে প্রথমোক্ত বর্ণনাই নির্ভরযোগ্য। আর নিহত ইহুদীদের সংখ্যা ছিলো ৯৩।
টিকাঃ
২৬. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১৩৯, ফতহুল বারী সপ্তম খন্ড, পৃ. ৪৯৭ ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃ. ৩৩৭
📄 ফেদেক ও ওয়াদিউল কোরা
ফেদেক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খয়বর পৌছে মোহাইয়াসা ইবনে মাসউদকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার জন্যে মোহাইয়াসা পাঠান। কিন্তু ফেদেকের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করতে দেরী করে। খয়বর মুসলমানদের অধিকারে আসার পর ফেদেকের অধিবাসীদের মধ্যে এর প্রভাব বিস্তার করে, তারা আল্লাহর রসূলের কাছে প্রতিনিধি পাঠিয়ে খয়বরের মতো উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক প্রদানের শর্তে সমঝোতার প্রস্তাব পেশ করে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা গ্রহণ করেন। এতে করে ফেদেকের জমি বিশেষভাবে আল্লাহর রসূলের জন্যে নির্ধারিত থাকে। কেননা, মুসলমানরা ফেদেক অভিযানের জন্যে যাননি অর্থাৎ তলোয়ারের জোরে ফেদেক জয় করা হয়নি। ২৭
ওয়াদিউল কোরা খয়বর অভিযান শেষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াদিউল কোরা অভিমুখে রওয়ানা হন। সেখানেও ছিলো একদল ইহুদী। তাদের সাথে একদল আরবও যোগ দেয়। মুসলমানরা সেখানে পৌঁছার পর ইহুদীরা তীর দিয়ে অভ্যর্থনা জানায়। তারা আগে থেকেই সারিবদ্ধ অবস্থায় ছিলো। ইহুদীদের তীর নিক্ষেপে আল্লাহর রসূলের একজন ভৃত্য মারা যান। সাহাবারা বললেন, তার জন্যে জান্নাত মোবারক হোক। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কিছুতেই নয়। সেই জাতের শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, সে ভৃত্য খয়বর যুদ্ধের
টিকাঃ
২৭. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৩৩৭
📄 তায়মা ও মদীনায় প্রত্যাবর্তন
তায়মা
তায়মার ইহুদীরা খয়বর ফেদেক ওয়াদিউল কোরা বা কোরা প্রান্তরে ইহুদীদের পরাজয় ও আত্মসমর্পণের খবর পায়। এরপর তারা নিজেরাই প্রতিনিধি পাঠিয়ে সন্ধির প্রস্তাব করে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ৩০ আল্লাহর রসূল এ সম্পর্কে একটি চুক্তিও লেখান। চুক্তির কথা ছিলো এই যে, এই লেখা আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে বনু তায়মার জন্যে। তাদের জন্যে দায়িত্ব রয়েছে। তাদেরকে জিযিয়া কর দিতে হবে। তাদের সাথে বাড়াবাড়ি করা হবে না এবং দেশ থেকে বহিষ্কারও করা হবে না। এ চুক্তি স্থায়ী বলে বিবেচিত হবে। চুক্তিপত্রের কথাগুলো লিখেছিলেন হযরত খালেদ ইবনে সাঈদ (রা.)।
মদীনায় প্রত্যাবর্তন
এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার পথে রওয়ানা হন। ফেরার সময়ে এক প্রান্তরের কাছে পৌছে সাহাবারা উচ্চস্বরে তকবির ধ্বনি দেন। তারা বলেন, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অতো জোরে বলার দরকার নেই। তোমরা কোন বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না, বরং এমন এক সত্তাকে ডাকছো, যিনি শোনেন এবং কাছেই রয়েছেন।
টিকাঃ
২৮. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৭ ২৯ যাদুল মায়াদ ২য় খন্ড, পৃ. ১৪৬-১৪৭ ৩০. একই গ্রন্থ একই পৃষ্ঠা,