📄 পথের কতিপয় ঘটনা
এক) সহীহ বোখারী শরীফে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, গারে ছুর থেকে বেরিয়ে আমরা সারারাত ধরে পথ চলেছি, পরদিন দুপুর পর্যন্তও চলেছি। ঠিক দুপুরে রাস্তায় কোন পথচারী ছিলো না। আমরা এ সময় একটা লম্বালম্বি প্রান্তর দেখতে পেলাম। এখানে রোদ নেই। আমরা সেখানে অবতরণ করলাম। নিজের হাতে আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শয়নের জন্যে একটি জায়গা সমতল করলাম, এরপর সেখানে চাদর বিছালাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরপর বললাম, হে আল্লাহর রসূল, আপনি শয়ন করুন, বিশ্রাম নিন, আমি আশপাশে খেয়াল রাখছি। নবীজী শুয়ে পড়লেন। আমি চারিদিকে নযর রাখলাম। হঠাৎ দেখি একজন রাখাল কিছু সংখ্যক বকরি নিয়ে এদিকেই আসছে। সে প্রান্তরের ছায়ায় আসছিলো। আমি তাকে বললাম, তুমি কার লোক? সে মক্কা বা মদীনার একজন লোকের নাম বললো। আমি তাকে বললাম, তোমার বকরির কি কিছু দুধ হবে? সে বললো, হাঁ। আমি বললাম, দোহন করতে পারি? সে বললো, হাঁ। এ কথা বলে সে একটি বকরি ধরে আনলো। আমি বললাম, মাটি খড়কুটো এবং লোম থেকে ওলান একটু পরিষ্কার করে দাও। পরিষ্কার করার পর একটি পেয়ালায় কিছু দুধ দোহন করে দিলো। আমার কাছে ছিলো একটি চামড়ার পাত্র। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযু এবং পানি পান করার জন্যে সেটি রেখেছিলাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে দেখি তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাঁকে জাগানো সমীচীন মনে করলাম না, কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুম থেকে জাগলেন। দুধের সাথে কিছু পানি মেশালাম, এতে পাত্রের নীচের অংশ ঠান্ডা হয়ে গেলো। তাকে বললাম, আপনি এ দুধটুকু পান করুন। তিনি পান করে খুশী হলেন। এরপর বললেন, এখনো কি রওয়ানা হওয়ার সময় আসেনি? আমি বললাম, কেন নয়? এরপর আমরা আবার রওয়ানা হলাম।
দুই) এ সফরের সময় হযরত আবু বকর (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে বসতেন। পথচারীদের দৃষ্টি তার দিকেই প্রথমে যেতো, কারণ তাঁর চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ ছিলো। তাঁর তুলনায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কমবয়সী মনে হচ্ছিলো। পথচারীদের কেউ যখন জিজ্ঞাসা করতো যে, আপনার সামনে উনি কে? হযরত আবু বকর (রা.) জবাব দিতেন যে, উনি আমাকে পথ দেখান। প্রশ্নকারী বুঝতো যে মরুভূমিতে পথ দেখাচ্ছেন, প্রকৃতপক্ষে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নেকী ও কল্যাণের পথের কথাই বোঝাতেন।
তিন) এই সফরের সময় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে মা'বাদ খোযায়ার তাঁবুতে কিছুক্ষণের জন্যে যাত্রা বিরতি করেন। এই মহিলা খুব বুদ্ধিমতী। নিজের বাড়ীতে আঙ্গিনায় তিনি বসেছিলেন। যাতায়াতকারী পথচারীদের সাধ্যমতো পানাহার করাতেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে? মহিলা বললেন, যদি কিছু থাকতো, তবে আপনাদের মেহমানদারিতে ত্রুটি করতাম না। কয়েকটি বকরি আছে, যেগুলো দূরে চারণভূমিতে রয়েছে। এখন দুর্ভিক্ষের সময় চলছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্ষ্য করলেন যে, বাড়ীর এক পাশে একটি বকরি বাঁধা আছে। তিনি বললেন, উম্মে মা'বাদ, এ বকরি এখানে কেন? উম্মে মা'বাদ বললেন, এ বকরি খুব দুর্বল, হাঁটতে পারে না। প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অনুমতি যদি দাও, তবে ওর দুধ দোহন করি? মহিলা বললেন, হাঁ, যদি দুধ দেখতে পান, অবশ্যই দোহন করুন। এ কথার পর প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বকরির ওলানে হাত লাগালেন। আল্লাহর নাম নিলেন এবং দোয়া করলেন। বকরি সাথে সাথে পা প্রসারিত করে দাঁড়ালো। তার ওলানে ভরা দুধ। প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বড় পাত্র নিয়ে সেই পাত্রে দুধ দোহন করলেন। সেই পাত্র ভর্তি দুধ এক দল লোক তৃপ্তির সাথে পান করতে পারতো। দুধ দোহনের পর পাত্রে ফেনা ভরে গেলো। সঙ্গীদের পান করালেন উম্মে মা'বাদ নিজে পান করলেন। এরপর সেই পাত্রে পুনরায় দুধ দোহন করলেন। সেই পাত্র ভর্তি দুধ উম্মে মা'বাদের ঘরে রেখে আল্লাহর রসূল গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হলেন।
কিছুক্ষণ পর মহিলার স্বামী বকরির পাল নিয়ে বাড়ী ফিরলো। সেসব বকরিও দুর্বল, পথ চলতে ক্লান্তিতে হাঁপিয়ে ওঠে। উম্মে মা'বাদের স্বামী আবু মা'বাদ দুধ দেখে তো অবাক! জিজ্ঞাসা করলেন, দুধ পেলে কোথায়? সব দুগ্ধবতী বকরি তো আমি চারণ ভূমিতে নিয়ে গেছি, ঘরে তো দুধ দেয়ার মতো বকরি ছিলো না। উম্মে মা'বাদ বললেন, আমাদের কাছে একজন বরকত সম্পন্ন মানুষ এসেছিলেন। তাঁর কথা ছিলো এমন এবং তাঁর অবস্থা ছিলো এমন। সব শুনে আবু মা'বাদ বললেন, এই তো মনে হয় সেই ব্যক্তি, যাকে কোরায়শরা খুঁজে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা তুমি তার আকৃতি প্রকৃতি একটু বলো। উম্মে মা'বাদ অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় বর্ণনা করলেন। সে বর্ণনা ভঙ্গি শুনে মনে হয় শ্রোতা যেন তাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। গ্রন্থের শেষ দিকে এইসব বিবরণ উল্লেখ করা হবে। আগন্তুকের ভূয়সী প্রশংসা শুনে সে বললো, আল্লাহর শপথ, এই হচ্ছে কোরায়শদের সেই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে লোকেরা নানা কথা বর্ণনা করেছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে তাঁর প্রিয় সঙ্গীদের একজন হবো। যদি কোন পথ পাই, তবে অবশ্যই এটা করবো।
এদিকে মক্কার বাতাসে কবিতার ছন্দে কিছু কথা ভেসে আসছিলো। যিনি কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, তাকে দেখা যাচ্ছিলো না। কবিতার অর্থ নিম্নরূপঃ আল্লাহর পুরস্কার লাভ করুন সেই দু'জন, উম্মে মা'বাদের বাড়ীতে যারা করলেন পদার্পণ। ভালোয় ভালোয় থেমেছিলেন, যাত্রা করলেন, ফের সফলকাম হয়েছেন তিনি সঙ্গী, যিনি মোহাম্মদের। হায় কুসাই তোমাদের থেকে নযিরবিহীন সাফল্য এবং নেতৃত্ব নিলেন আল্লাহ কেড়ে। বনু কা'ব-এর সেই মহিলা, আহা কী যে ভাগ্যবান মোবারক হোক মোমেনীনের জন্যে সেই বাসস্থান। বকরির কথা পাত্রের কথা মহিলার কাছে জানতে চাও সেই বকরিও সাক্ষী দেবে, তোমরা বকরির কাছে যাও।
হযরত আসমা (রা.) বলেন আমাদের জানা ছিলো না যে, আল্লাহর রসূল কোনদিকে গেছেন। হঠাৎ একটি জিন মক্কায় এসে এসব কবিতা শোনালো। উৎসাহী জনতা সেই জিনকে পাচ্ছিলো না। তারা শব্দের পেছনে ছুটে যাচ্ছিলো। শব্দ শুনছিলো। এক সময় সেই শব্দ মক্কার উঁচু এলাকায় মিলিয়ে গেলো। সেই কবিতা শুনে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনদিকে গেছেন। স্পষ্টই বোঝা গেলো যে, তিনি মদীনার পথে রয়েছেন।
চার) পথে ছোরাকা ইবনে মালেক প্রিয় নবী এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে অনুসরণ করেছিলেন ছোরাকার বর্ণিত ঘটনা নিম্নরূপ। আমি আমার কওম বনি মুদলেজের এক মজলিসে বসেছিলাম। এমন সময় একজন লোক এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর বসলো। সেই লোকটি বললো, ওহে ছোরাকা, একটু আগে আমি উপকূলের কাছে কয়েকজন লোক দেখলাম। আমার ধারণা, তিনি মোহাম্মদ এবং তাঁর সাথী। ছোরাকা বললো, আমি বুঝতে পারলাম যে এরাই তারা কিন্তু যে লোকটি খবর দিয়েছিলো, তার কাছে মনোভাব গোপন রাখার জন্যে বললাম, না না, ওরা তারা নয়, তুমি যাদের দেখেছো তাদের তো আমরাও দেখেছি। তারা আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গেছে। এরপর আমি মজলিসে কিছুক্ষণ বসে কাটালাম। তারপর ঘরের ভেতর গিয়ে আমার দাসীকে আমার ঘোড়া বের করতে বললাম। ঘোড়া বের করার পর তাকে বললাম, টিলার পেছনে নিয়ে যাও এবং সেখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি। এরপর আমি তীর নিলাম এবং ঘরের পেছন দিয়ে বাইরে বের হলাম। তীরের এক প্রান্ত ধরে অপর প্রান্ত মাটিতে হেঁচড়ে আমি ঘোড়ার কাছে গেলাম। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলে ঘোড়া আমাকে নিয়ে ছুটতে লাগলো। এক সময় আমি উপকূলীয় এলাকায় তাঁদের কাছে এসে পৌঁছলাম। হঠাৎ ঘোড়া লাফাতে শুরু করলো। আমি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলাম। পুনরায় আমি ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করলাম এবং তৃন্ এর দিকে হাত বাড়ালাম এবং পাশার তীর বের করে জানতে চাইলাম, তাকে বিপদে ফেলতে পারব কিনা। কিন্তু যে তীর বের হলো সেটি আমার অপছন্দনীয়। আমি লক্ষ্য করলাম যে, আল্লাহর রসূল নির্বিকারভাবে একাগ্রচিন্তে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। কোনদিকেই তাঁর খেয়াল নেই। আবু বকর সিদ্দিক পেছন ফিরে আমাকে দেখছিলেন। হঠাৎ আমার ঘোড়ার সামনের পা দু'খানি মাটিতে দেবে গেলো। হাঁটু পর্যন্ত দেবে গেলো এক সময়। আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। ঘোড়াকে শাসন করলাম, ঘোড়া উঠতে চাইলো। অনেক কষ্টে ঘোড়া নিজের পা উপরে তুললো। ঘোড়া পা তুললে তার পায়ের নিশানা থেকে ধোঁয়ার মতো ধুলো উড়ছিলো। আমি তীর দ্বারা ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, এবার ও এমন তীর বের হলো, যা আমি চাইনি। এরপর আমি স্বাভাবিক কণ্ঠে তাদের ডাক দিলাম, তারা থামলেন। ঘোড়ার পিঠে করে আমি তাদের কাছে পৌঁছলাম। যখনই আমি তাদের থামালাম, তখনই হঠাৎ আমার মনে হলো আল্লাহর রসূলই বিজয়ী হবেন। আমি তখন আল্লাহর রসূলকে বললাম, আপনার স্বজাতীয়রা আপনার জীবনের পরিবর্তে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সাথে সাথে মক্কার লোকদের সংকল্প সম্পর্কেও আমি তাঁকে অবহিত করলাম। তাঁকে পথের কিছু সম্বলও দিতে চাইলাম। কিন্তু তিনি কিছুই নিলেন না এবং আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসাও করলেন না। শুধু বললেন, আমাদের ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করো। তাঁকে বললাম, আপনি আমাকে নিরাপত্তার পরোয়ানা লিখে দিন। আল্লাহর রসূল তখনই আমের ইবনে ফোহায়রাকে আদেশ দিলেন। আমের নিরাপত্তার পরোয়ানা স্বরূপ এক টুকরো চামড়ায় কিছু কথা লিখে আমাকে দিলেন। এরপর আল্লাহর রসূল সামনে অগ্রসর হলেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে হযরত আবু বকরের একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রওয়ানা হওয়ার পর কওমের লোকেরা আমাদের তালাশ করছিলো। কিন্তু ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জুশুম ছাড়া কেউ আমাদের দেখতে পায়নি। ছোরাকা ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলো। আমি বললাম, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একটি লোক আমাদের পিছু লেগেছে, সে কাছাকাছি এসে পড়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে বললেন, 'লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মাআনা।' অর্থাৎ ভয় পেয়ো না, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ছোরাকা মক্কায় ফিরে এসে দেখতে পেলো, তখনো অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহর রসূলকে সে যে পথে দেখেছে, সেদিকে কিছু লোককে দেখে ছোরাকা বললো, ওদিকে তোমাদের যে কাজ ছিলো সেটা হয়ে গেছে। দিনের শুরুতে যে লোক ছিলো সন্ধানকারীদের একজন, দিনের শেষে সেই ব্যক্তিই হয়ে গেলো আমানতদার।
পাঁচ) পথে বুরাইদা আসলামির সাথে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ হলো। এই লোক ছিলো তার কওমের সর্দার। কোরায়শদের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে এই লোকও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-এর সন্ধানে বের হয়েছিলো কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলার সাথে সাথে তার মনে ভাবান্তর হলো। তিনি নিজ গোত্রের ৭০ জন লোকসহ সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর পাগড়ি খুলে বর্শায় বেঁধে দোলাতে দোলাতে সুসংবাদ শোনালেন যে, শান্তির বাদশাহ, সমাঝোতার পথিকৃৎ, পৃথিবীকে ন্যায় বিচার ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করার অগ্রপথিক আগমন করছেন।
ছয়) মদীনা যাওয়ার পথে হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়ামের (রা.) সাথে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখা হলো। তিনি মুসলমানদের একটি বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে সিরিয়া থেকে ফিরছিলেন। তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে কিছু জিনিস উপহার দেন।
টিকাঃ
২২. সহীহ বোখারী ১ম খন্ড ৫৫৬
২৩. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৬
২৪. যাদুল মা'য়াদ, ২য় খন্ড পৃ. ৫৩-৫৪ বনু খোজাআ গোত্রের অবস্থানের কথা চিন্তা করলে বোঝা যায় যে, এ ঘটনা প্রিয় নবী (সঃ)-এর মদীনা রওয়ানা হওয়ার দ্বিতীয় দিনে ঘটেছিলো।
২৫. বোখারী ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৪, বনি মুদলেজদের জন্মস্থান ছিলো বাবেগের কাছে। ছোয়াকা যে সময় অনুসরণ করেছিলো, সে সময় প্রিয় নবী (সঃ) কোদায়েদ থেকে ওপরের দিকে উঠছিলেন। যাদুল মা'য়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৩। গারে ছুর থেকে রওয়ানা হওয়ার তৃতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে হয়।
২৬. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫১৬
২৭. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫১৬
২৮. রহমাতুল লিল আলামীন, ১ম খন্ড, পৃ. ১০১
২৯. সহীহ বোখারী ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৪
📄 খয়বরের উপকণ্ঠে ইসলামী বাহিনী
যুদ্ধ শুরুর সকালের আগের রাত মুসলমানরা খয়বরের উপকণ্ঠে যাপন করেন। ইহুদীরা তা জানতো পারেনি। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়ম ছিলো, তিনি যখন রাতের বেলা কোন কওমের কাছে পৌছুতেন, তখন অপেক্ষা করতেন, সকাল হওয়ার আগে তাদের কাছে যেতেন না। সেদিন খুব ভোরে কিছুটা অন্ধকার থাকতে তিনি ফজরের নামায আদায় করেন। এরপর মুসলমানরা সওয়ার হয়ে খয়বরের দিকে অগ্রসর হন। খয়বরের অধিবাসীদের অনেকেই কাঁধে কোদাল নিয়ে খেতে খামারে কাজ করতে বেরিয়েছিলো। হঠাৎ মুসলিম সেনাদের দেখে চিৎকার করে পালাতে লাগলো। চিৎকার করে করে তারা বলছিলো, খোদার কসম, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সসৈন্যে হাজির হয়েছেন।
এই অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহু আকবর, খয়বর বরবাদ হয়েছে, আল্লাহু আকবর, খয়বর বরবাদ হয়েছে। আমরা যখন কোন কওমের ময়দানে নেমে পড়ি, তখন কওমের ভয়ার্ত লোকদের সকাল মন্দ হয়ে যায়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৈন্যদের অবতরণের জন্যে একটি জায়গা নির্ধারণ করলেন। হাব্বাব ইবনে মুনজের এসে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহর আদেশে আপনি এখানে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাকি রণ-কৌশলগত কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? তিনি বললেন, রণকৌশলগত কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একথা শুনে হযরত হাব্বাব (রা.) বললেন, এই স্থান নাজাত দুর্গের খুব কাছে। খয়বরের সকল যোদ্ধা এই দুর্গেই থাকে। ওরা আমাদের অবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে পারবে, অথচ আমরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারব না। ফলে তারা তাদের কৌশল আমাদের ওপর প্রয়োগ করতে পারবে, তাদের নিক্ষিপ্ত তীর আমাদের কাছে পৌছুবে অথচ আমাদের নিক্ষিপ্ত তীর তাদের কাছে পৌঁছুবে না। রাতের বেলা তারা আমাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালাতে পারে, এ আশঙ্কাও পুরোপুরি থেকে যাবে। এছাড়া এ জায়গার চারিদিকে খেজুর বাগান, জায়গাটা নিচু। কাজেই এসব সমস্যা যেখানে নেই, সেই রকম একটা জায়গায় অবস্থানের ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যে অভিমত প্রকাশ করেছ, তা সঠিক। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের নিয়ে অন্য জায়গায় অবস্থান গ্রহণ করলেন।
শহর দেখা যাওয়ার কাছাকাছি এক জায়গায় পৌঁছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের থামতে বললেন। এরপর তিনি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে এ মোনাজাত করলেন যে আল্লাহ তায়ালা, তুমি সাত আসমান এবং যেসব জিনিসের ওপর সেই আকাশসমূহ ছায়া বিস্তার করে রয়েছে, সেসব কিছুর প্রতিপালক। সাত যমিন এবং তার উপরে নিচে যা কিছু রয়েছে, সেসব কিছুর প্রতিপালক, শয়তানসমূহ এবং যাদেরকে তারা পথভ্রষ্ট করেছে তাদের প্রতিপালক, তোমার কাছে আমরা এই জনপদের কল্যাণ এবং জনপদের অধিবাসীদের কল্যাণ এবং এতে যা কিছু রয়েছে সেসব কিছুর কল্যাণের আবেদন জানাচ্ছি। এই জনপদের অকল্যাণ এবং এর অধিবাসীদের অকল্যাণ এবং এতে যা কিছু রয়েছে সেসব কিছুর অকল্যাণ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।' আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর বললেন, আল্লাহর নাম নিয়ে সামনে অগ্রসর হও।
টিকাঃ
৬. মাগাযি, আল ওয়াকেদী, খয়বর যুদ্ধ পৃ. ১১২ সহীহ বোখারী, খয়বরের যুদ্ধ অধ্যায় ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৩, ৬০৪
৬. সহীহ বোখারী, খয়বরের যুদ্ধ অধ্যায়, ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৩, ৬০৪
৭. এই চোখের অসুখের কারণে তিনি পিছিয়ে পড়েন এবং পরে সকলের সাথে মিলিত হন।
📄 যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং খয়বরের দুর্গ
খয়বরের সীমানায় যে রাতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবেশ করেছিলেন, সে রাতে তিনি বললেন, আমি আগামীকাল এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা দেব যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ এবং তার রসূলও তাকে ভালোবাসেন। সকালে সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রসূলের সামনে হাযির হলেন। সবাই পতাকা পাওয়ার জন্যে মনে মনে আকাঙ্খা করছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আলী ইবনে আবু তালেব কোথায়? সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রসূল তার চোখ উঠেছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাকে নিয়ে এসো। হযরত আলী (রা.)-কে নিয়ে আসা হলো।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চোখে সামান্য থু থু লাগিয়ে দোয়া করে দিলেন। হযরত আলী (রা.) এমন সুস্থ হয়ে গেলেন যে, মনে হয় কখনো তাঁর চোখের অসুখ ছিলোই না। এরপর হযরত আলীকে (রা.) পতাকা প্রদান করা হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমি ওদের সাথে ততোক্ষণ পর্যন্ত লড়বো, যতক্ষণ তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চিন্তে যাও, যতোক্ষণ পর্যন্ত তাদের ময়দানে অবতরণ না করো। এরপর ওদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ো। ইসলামে আল্লাহর যে অধিকার ওদের ওপর ওয়াজিব হয়, সে সম্পর্কে ওদের অবহিত করো। যদি তোমার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ওদের একজনকেও হেদায়াত দেন তবে তোমার জন্যে সেটা হবে বহুসংখ্যক লাল উটের চেয়ে উত্তম।
খয়বরের জনবসতি ছিলো দুইভাগে বিভক্ত। এক ভাগে নিচে উল্লেখিত পাঁচটি দুর্গ ছিলো।
• হেছনে নায়েম।
• হেছনে ছা'ব ইবনে মায়া'য।
• হেছনে কিল্লা যোবায়ের।
• হেছনে উবাই। এবং
• হেছনে নাজার।
উল্লিখিত পাঁচটি দুর্গের মধ্যে প্রথম তিনটি দুর্গসম্বলিত এলাকাকে 'নাতাত' বলা হয়। অন্য দু'টি দুর্গসম্বলিত এলাকা 'শেক' নামে পরিচিত।
খয়বরের দ্বিতীয় ভাগের জনবসতি কোতায়রা নামে পরিচিত ছিলো। এর মধ্যে ছিলো তিনটি দুর্গ। এক, হেছনে কামুস। এ দুর্গের অধিবাসীরা বনু নাযির গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলো এবং বনু নাযিরের আবুল হাকিক দুর্গে তারা অবস্থান করতো। দুই, হেছনে অতীহ। তিন, হেছনে সালালেম। উল্লিখিত আটটি দুর্গ ছাড়া খয়বরে অন্যান্য দুর্গ এবং ভবনও ছিলো। কিন্তু সেগুলো ছিলো অপেক্ষাকৃত ছোট। শক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পূর্বোক্ত দুর্গগুলোর মতো সুরক্ষিত ছিলো না।
টিকাঃ
৯. সহীহ বোখারী, খয়বর যুদ্ধ অধ্যায়, পৃ. ৬০৫, ৬০৬, কোন কোন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, খয়বরের একটি দুর্গ বিজয়ে একাধিকবারের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এরপর হযরত আলীর হাতে পতাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু সেটা সত্য
📄 সংঘাতের সূচনা এবং নায়েম দুর্গ বিজয়
প্রথম ভাগের দুর্গগুলোতেই যুদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দুর্গের তিনটি দুর্গ যোদ্ধা থাকা সত্তেও যুদ্ধ ছাড়াই মুসলমানদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো।
সংঘাতের সূচনা এবং নায়েম দুর্গ বিজয়
উল্লিখিত আটটি দুর্গের মধ্যে প্রথমে নায়েম দুর্গের ওপর হামলা করা হয়। এ সকল দুর্গ অবস্থান এবং কৌশলগত দিক থেকে ইহুদীদের প্রথম লাইনের প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে বিবেচিত হতো। এ দুর্গের মালিক ছিলো মারহাব নামে এক দুর্ধর্ষ ইহুদী তাকে এক হাজার পুরুষের শক্তি- সামর্থসম্পন্ন বীর মনে করা হতো।
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব (রা.) মুসলমান সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে এ দুর্গের সামনে গিয়ে ইহুদীদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন। তারা ইসলামের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলো। নিজেদের বাদশাহ মারহাবের নেতৃত্বে তারা মুসলমানদের মোকাবেলায় এসে দাঁড়ালো।
রণাঙ্গনে এসে মারহাব নামের এক বীর এককভাবে মুখোমুখি যুদ্ধের আহ্বান জানালো। সালমা ইবনে আকওয়ার বর্ণনায় এভাবে উল্লেখ রয়েছে, আমরা খয়বরে পৌঁছার পর খয়বরের অধিবাসীদের বাদশাহ মারহাব তলোয়ার নিয়ে অহংকার প্রকাশ করতে করতে এগিয়ে এলো। তার কণ্ঠে ছিলো স্পর্ধিত আবৃত্তিসম্বলিত এ কবিতা, 'খয়বর জানে মারহাব আমি অস্ত্র সাজে সজ্জিত অনন্য আমি বীর রণকৌশলে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাই যুদ্ধের আগুন উঠলে জ্বলে।' তা মোকাবেলায় আমার চাচা হযরত আমের (রা.) এগিয়ে গেলেন। তিনি আবৃত্তি করলেন, 'খয়বর জানে আমার নাম আমের অস্ত্র সাজে সজ্জিত বীর সেনানী যুদ্ধের।'
মুখোমুখি হওয়ার পর একজন অন্যজনের ওপর আঘাত হানলো। মারহাবের শাণিত তলোয়ার আমার চাচা আমেরের ঢালের ওপর আঘাত করলো। ইহুদী মারহাবকেও আমার চাচা নীচের দিকে আঘাত করতে চাইলেন কিন্তু তার তলোয়ার ছিলো ছোট। তিনি মারহাবের উরুতে আঘাত করতে চাইলে তলোয়ার ধাক্কা খেয়ে তাঁর নিজের হাঁটুতে লাগলো। অবশেষে এই আঘাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দু'টি পবিত্র আঙ্গুল তুলে বললেন, ওর জন্যে রয়েছে দুই রকমের পুরস্কার। হযরত আমের (রা.) ছিলেন অনন্য রণকুশল মোজাহিদ। তার মতো আরব বীর পৃথিবীতে কমই এসেছেন।
হযরত আমের (রা.) আহত হওয়ার পর মারহাবের মোকাবেলায় এগিয়ে গেলেন হযরত আলী (রা.)। তিনি আবৃত্তি করছিলেন এ কবিতা, 'জানো আমি কে, আমার নাম আমার মা রেখেছেন হায়দর বনের বাঘের মতোই আমি ভয়ঙ্কর হানবো আমি আঘাত পূর্ণতর।'
এরপর হযরত আলী (রা.) মারহাবের ঘাড় লক্ষ্য করে এমন আঘাত করলেন যে, কমিনা ইহুদী সেখানেই শেষ হলো। হযরত আলীর (রা.) হাতেই বিজয় অর্জিত হলো।
যুদ্ধের সময় হযরত আলী (রা.) ইহুদীদের একটি দুর্গের কাছে গেলে একজন ইহুদী দুর্গের ওপর থেকে জিজ্ঞাসা করলো যে, তুমি কে? হযরত আলী (রা.) বললেন, আমি আলী ইবনে আবু তালেব। ইহুদী বললো, হযরত মূসার ওপর অবতীর্ণ কেতাবের শপথ, তোমরা বুলন্দ হয়েছ। এরপর মারহাবের ভাই ইয়াসের এগিয়ে এসে বললো, কে আছো যে আমার মোকাবেলা করবে? এ চ্যালেঞ্জে সাড়া দিলেন হযরত যোবায়ের (রা.)।
এ দৃশ্য দেখে হযরত যোবায়েরের (রা.) মা হযরত ছফিয়া (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমার পুত্র কি নিহত হবে? আল্লাহর রসূল বললেন, না বরং তোমার পুত্র তাকে হত্যা করবে। অবশেষে হযরত যোবায়ের (রা.) ইয়াসেরকে হত্যা করলেন।
এরপর হেছনে নায়েমের কাছে তুমুল যুদ্ধ হলো। অন্য ইহুদীরা মুসলমানদের মোকাবেলায় সাহসী হলো না। কোন কোন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, এ যুদ্ধ কয়েকদিনব্যাপী চলেছিলো এবং মুসলমানদের যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়েছিলো। তবুও ইহুদীরা মুসলমানদের পরাস্ত করতে ব্যর্থ হলো। ফলে চুপিসারে তারা দুর্গ ছেড়ে ছা'ব দুর্গে পালিয়ে গেলো। মুসলমানরা তখন সহজেই নায়েম দুর্গ অধিকার করলেন।
টিকাঃ
১০. সহীহ মুসলিম, খয়বর যুদ্ধ অধ্যায়, ২য় খন্ড, পৃ. ১২২- গাজওয়া জিকারদ, ২য় কন্ড, পৃ. ১১৫, সহীহ বোখারী, খয়বর যুদ্ধ অধ্যায় ২য় খন্ড, ৬০৩
১১. মারহাবের হত্যাকারী সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। সে কত তারিখে নিহত হয়েছিলো এবং সে দুর্গ কত তারিখে জয় হয়েছিলো সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। বোখারী ও মুসলিম শরীফের বর্ণনার প্রক্রিয়ায় পার্থক্য বিদ্যমান। উপরোল্লিখিত বিবরণ সহীহ বোখারী অনুযায়ী উল্লেখ করা হয়েছে।