📄 খয়বরের পথে যাত্রা ও ইসলামী সৈন্যদের সংখ্যা
ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হোদায়বিয়া থেকে ফিরে এসে জিলহজ্জ মাস পুরো এবং মহররম মাসে কয়েকদিন মদীনায় অবস্থান করেন। এরপর মহররম মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে খয়বরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
তাফসীরকাররা লিখেছেন, খয়বর বিজয় ছিলো আল্লাহর ওয়াদা। তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুদ্ধেলব্ধ বিপুল সম্পদের, যার অধিকারী হবে তোমরা। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করেছিলেন।' (সূরা ফাতহ, আয়াত ২০)
তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করেছেন বলে হোদায়বিয়ার সন্ধির কথা বোঝানো হয়েছে। আর যুদ্ধলভ্য বিপুল সম্পদ বলতে খয়বরের কথা বোঝানো হয়েছে।
ইসলামী সৈন্যদের সংখ্যা মোনাফেক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী লোকেরা হোদায়বিয়ার সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে না গিয়ে নিজেদের ঘরে বসে থাকে। এ কারণে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর রসূলকে সে সম্পর্কে আদেশ দিয়ে বলেন, 'তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের জন্যে যাবে, তখন যারা ঘরে রয়ে গিয়েছিলো, তারা বলবে, আমাদেরকে তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। ওরা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পরিবর্তন করতে চায়। বল, তোমরা কিছুতেই আমাদের সঙ্গী হতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা পূর্বেই এরূপ ঘোষণা করেছেন। ওরা বলবে, তোমরা তো আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছো। বস্তুত ওদের বোধশক্তি সামান্য।' (সূরা ফাতহ, আয়াত ১৫)
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খয়বর অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার সময় ঘোষণা করলেন যে, তাঁর সাথে শুধু ওসকল লোকই যেতে পারবে, যাদের প্রকৃতই জেহাদের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। এ ঘোষণার ফলে শুধুমাত্র যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো, যারা হোদায়বিয়ার গাছের নীচে বাইয়াতে রেযোয়ানে অংশ নিয়েছিলো। এদের সংখ্যা ছিলো চৌদ্দশত।
এ অভিযানের সময় মদীনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছাবা ইবনে আরফাতা গেফারীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিলো। অন্যদিকে ইবনে ইসহাক বলেছেন, নুমাইলা ইবনে আবদুল্লাহ লায়ছীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিলো। কিন্তু গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে প্রথমোক্ত কথাই অধিক নির্ভরযোগ্য।
এ সময়ে হযরত আবু হোরায়রা (রা.)-ও মদীনায় আগমন করেছিলেন। হযরত ছাবা ইবনে আরাফাতা (রা.) ফযরের নামায পড়ছিলেন। নামায শেষে আবু হোরায়রা (রা.) তার কাছে যান। তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করে দিলেন। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) প্রিয় নবীর কাছে যাওয়ার জন্যে খয়বর রওয়ানা হলেন। সেখানে গিয়ে শুনতে পেলেন যে, খয়বর মুসলমানদের অধিকারে এসেছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের সাথে আলোচনা করে আবু হোরায়রা এবং তাঁর সঙ্গীদেরও গনীমতের অংশ দিলেন।
ইহুদীদের জন্যে মোনাফেকদের তৎপরতা এ সময়ে ইহুদীদের সাহায্যার্থে মোনাফেকরা যথেষ্ট ছোটাছুটি করেছে। মোনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই আগেই খয়বরে খবর পাঠিয়েছিলো যে, মোহাম্মদ তোমাদের ওদিকে যাচ্ছেন, সতর্ক হয়ে যাও। প্রস্তুত হও, ভয় পেয়ো না যেন। তোমাদের সংখ্যা এবং অস্ত্র শস্ত্র তো অনেক। মোহাম্মদের সঙ্গীদের সংখ্যা বেশী নয়, তাও তারা নিঃস্ব, তাদের কাছে যেসব অস্ত্র রয়েছে, তাও খুব সামান্য। খয়বরের অধিবাসীরা এ খবর পাওয়ার পর বনু গাতফান গোত্রের কাছে কেনানা ইবনে আবুল হাকিক এবং হাওজা ইবনে কয়েসকে সাহায্য লাভের জন্যে প্রেরণ করলো। বনু গাতফান গোত্র ছিলো খয়বরের ইহুদীদের মিত্র এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিত্রদের মদদগার। ইহুদীরা বনু গাতফানকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো যে, মুসলমানদের ওপর জয়লাভে সক্ষম হলে খয়বরের মোট উৎপাদনের অর্ধেক বনু গাতফানকে দেয়া হবে।
পথের অবস্থার বিবরণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খয়বর যাওয়ার পথে 'এছর' পাহাড় অতিক্রম করলেন। এটি 'আছার' পাহাড় নামেও পরিচিত। এরপর ছাবহা প্রান্তর অতিক্রম করে রাজিঈ প্রান্তের উপনীত হলেন। কিন্তু এই রাজিঈ সেই রাজিঈ, নয় যেখানে আদল ও কারাহর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বনু লেহইয়ানের হাতে আটজন সাহাবা শাহাদাত বরণ করেন।
রাজিঈ থেকে বনু গাতফান গোত্রের বসতি এলাকা একদিনও এক রাতের পথের দূরত্বে অবস্থিত। বনু গাতফান ইহুদীদের ডাকে সাড়া দিয়ে খয়বরের পথে রওয়ানাও হয়েছিলো। তারা চলে আসার পর পেছনের দিকে শোরগোল শোনা গেলো। তারা ভেবেছিলো যে, মুসলমানরা তাদের পরিবার-পরিজন এবং পশুপালের ওপর হামলা করেছে। এ কারণে তারা ফিরে যায় এবং খয়বরকে মুসলমানদের জন্যে খালি রেখে দেয়।
পথ-নির্দেশক দুইজন সাহাবীকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসতে বললেন। এদের একজনের নাম হুছাইল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের কাছে এমন সমীচীন পথের সন্ধান জানতে চাইলেন, যে পথ ধরে খয়বরে মদীনার পরিবর্তে সিরিয়ার দিক থেকে প্রবেশ করা যায়। এতে করে ইহুদীদের সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হবে। অন্যদিকে বনু গাতফানের কাছ থেকে সম্ভাব্য সাহায্যও এদিক দিয়েই আসবে। এরূপ অবস্থায় বনু গাতফান এবং ইহুদীদের মাঝখানে মুসলমানরা থাকবেন এবং বনু গাতফানের সাহায্য এলেও তা ইহুদীদের কাছে পৌছুতে পারবে না।
একজন পথপ্রদর্শক বললো, হে আল্লাহর রসূল, আপনাকে আমি আপনার ঈপ্সিত পথেই নিয়ে যাব। সেই পথ প্রদর্শক আগে আগে যেতে লাগলেন। এক চৌরাস্তায় গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, এ চারটি পথের প্রত্যেকটিই খয়বরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। যে কোন পথ ধরেই আপনি সেখানে পৌছুতে পারেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথগুলোর নাম জানতে চাইলেন। হুছাইল বললেন, একটি পথের নাম হাজন, দ্বিতীয়টির নাম শাশ, তৃতীয়টির নাম হাতাব এবং চতুর্থটি হলো মারহাব। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নাম অর্থাৎ মারহাব পছন্দ করলেন। অন্য তিনটি পথের নামের অর্থের প্রতি লক্ষ্য করে সেসব পথ বাদ দিলেন। অবশেষে মারহাব পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
টিকাঃ
১. ফতহুল বারী, সপ্তম খন্ড, পৃ. ৪৬৫, যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১৩৩
📄 ইহুদীদের জন্যে মোনাফেকদের তৎপরতা
এ সময়ে ইহুদীদের সাহায্যার্থে মোনাফেকরা যথেষ্ট ছোটাছুটি করেছে। মোনাফেক নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই আগেই খয়বরে খবর পাঠিয়েছিলো যে, মোহাম্মদ তোমাদের ওদিকে যাচ্ছেন, সতর্ক হয়ে যাও। প্রস্তুত হও, ভয় পেয়ো না যেন। তোমাদের সংখ্যা এবং অস্ত্র শস্ত্র তো অনেক। মোহাম্মদের সঙ্গীদের সংখ্যা বেশী নয়, তাও তারা নিঃস্ব, তাদের কাছে যেসব অস্ত্র রয়েছে, তাও খুব সামান্য। খয়বরের অধিবাসীরা এ খবর পাওয়ার পর বনু গাতফান গোত্রের কাছে কেনানা ইবনে আবুল হাকিক এবং হাওজা ইবনে কয়েসকে সাহায্য লাভের জন্যে প্রেরণ করলো। বনু গাতফান গোত্র ছিলো খয়বরের ইহুদীদের মিত্র এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিত্রদের মদদগার। ইহুদীরা বনু গাতফানকে এ ধরনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলো যে, মুসলমানদের ওপর জয়লাভে সক্ষম হলে খয়বরের মোট উৎপাদনের অর্ধেক বনু গাতফানকে দেয়া হবে।
📄 পথের অবস্থার বিবরণ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খয়বর যাওয়ার পথে 'এছর' পাহাড় অতিক্রম করলেন। এটি 'আছার' পাহাড় নামেও পরিচিত। এরপর ছাবহা প্রান্তর অতিক্রম করে রাজিঈ প্রান্তের উপনীত হলেন। কিন্তু এই রাজিঈ সেই রাজিঈ, নয় যেখানে আদল ও কারাহর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে বনু লেহইয়ানের হাতে আটজন সাহাবা শাহাদাত বরণ করেন।
রাজিঈ থেকে বনু গাতফান গোত্রের বসতি এলাকা একদিনও এক রাতের পথের দূরত্বে অবস্থিত। বনু গাতফান ইহুদীদের ডাকে সাড়া দিয়ে খয়বরের পথে রওয়ানাও হয়েছিলো। তারা চলে আসার পর পেছনের দিকে শোরগোল শোনা গেলো। তারা ভেবেছিলো যে, মুসলমানরা তাদের পরিবার-পরিজন এবং পশুপালের ওপর হামলা করেছে। এ কারণে তারা ফিরে যায় এবং খয়বরকে মুসলমানদের জন্যে খালি রেখে দেয়।
পথ-নির্দেশক দুইজন সাহাবীকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসতে বললেন। এদের একজনের নাম হুছাইল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এদের কাছে এমন সমীচীন পথের সন্ধান জানতে চাইলেন, যে পথ ধরে খয়বরে মদীনার পরিবর্তে সিরিয়ার দিক থেকে প্রবেশ করা যায়। এতে করে ইহুদীদের সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ হবে। অন্যদিকে বনু গাতফানের কাছ থেকে সম্ভাব্য সাহায্যও এদিক দিয়েই আসবে। এরূপ অবস্থায় বনু গাতফান এবং ইহুদীদের মাঝখানে মুসলমানরা থাকবেন এবং বনু গাতফানের সাহায্য এলেও তা ইহুদীদের কাছে পৌছুতে পারবে না।
একজন পথপ্রদর্শক বললো, হে আল্লাহর রসূল, আপনাকে আমি আপনার ঈপ্সিত পথেই নিয়ে যাব। সেই পথ প্রদর্শক আগে আগে যেতে লাগলেন। এক চৌরাস্তায় গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, এ চারটি পথের প্রত্যেকটিই খয়বরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। যে কোন পথ ধরেই আপনি সেখানে পৌছুতে পারেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথগুলোর নাম জানতে চাইলেন। হুছাইল বললেন, একটি পথের নাম হাজন, দ্বিতীয়টির নাম শাশ, তৃতীয়টির নাম হাতাব এবং চতুর্থটি হলো মারহাব। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ নাম অর্থাৎ মারহাব পছন্দ করলেন। অন্য তিনটি পথের নামের অর্থের প্রতি লক্ষ্য করে সেসব পথ বাদ দিলেন। অবশেষে মারহাব পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
পথের কতিপয় ঘটনা এক) হযরত সালমা ইবনে আকওয়া (রা.) বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খয়বর রওয়ানা হয়েছি। রাত্রিকালে সফরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একজন লোক এসে আমেরকে বললেন, আমের, কিছু শোনাও তো। আমের ছিলেন কবি। তিনি সওয়ারী থেকে নীচে নেমে এসে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন। 'তুমি যদি না থাকিতে ওগো আল্লাহ আমরাতো কেউ পেতাম না হেদায়াত নামায আদায় করতাম না, দিতাম না যাকাত। তোমার জন্যে এ জীবন কোরবান ক্ষমা করে দাও তুমি আমাদের অটল চরণ রাখবে মোকাবেলায় শত্রুদের। তুমি আমাদের শান্তি দাও ওহে আল্লাহ তায়ালা রণ হুঙ্কার দিলে দুশমন কাঁপে না তো মন এ বিষয়ে আস্থা আমরা করেছি অর্জন।'
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কবিতা শুনে কবির পরিচয় জানতে চাইলেন। তাঁকে জানানো হলো যে, তিনি আমের ইবনে আকওয়া। আল্লাহর রসূল বললেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে রহমত করুন। একজন সাহাবা মন্তব্য করলেন, এবার তো আমেরের শাহাদাত অনিবার্য। কিন্তু আমরা তো আরো বেশীদিন তার সাহচর্য লাভের জন্যে আগ্রহী। সাহাবায়ে কেরাম জানতেন যে, যুদ্ধের সময়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন সাহাবার জন্যে বিশেষভাবে মাগফেরাতের দোয়া করলে তিনি শহীদ হয়ে যান। খয়বরের যুদ্ধে হযরত আমেরের (রা.) ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। এ কারণেই সাহাবারা বলেছেন, তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্যে দোয়া করলেই তো আমরা আরো বেশীদিন আমাদের মধ্যে পেতাম।
টিকাঃ
৬. মাগাযি, আল ওয়াকেদী, খয়বর যুদ্ধ পৃ. ১১২ সহীহ বোখারী, খয়বরের যুদ্ধ অধ্যায় ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৩, ৬০৪
৬. সহীহ বোখারী, খয়বরের যুদ্ধ অধ্যায়, ২য় খন্ড, পৃ. ৬০৩, ৬০৪
২. সহীহ বোখারী, বাবে গাজওয়ায়ে খয়বর ২য় খন্ড ৬০৩, সহীহ মুসলিম বাবে গোযওয়ায়ে যি কারদ, ২য় খন্ড পৃ. ১১৫
৩. সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড, পৃ. ১১৫
৪. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, ৬০৩
📄 পথের কতিপয় ঘটনা
এক) সহীহ বোখারী শরীফে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, গারে ছুর থেকে বেরিয়ে আমরা সারারাত ধরে পথ চলেছি, পরদিন দুপুর পর্যন্তও চলেছি। ঠিক দুপুরে রাস্তায় কোন পথচারী ছিলো না। আমরা এ সময় একটা লম্বালম্বি প্রান্তর দেখতে পেলাম। এখানে রোদ নেই। আমরা সেখানে অবতরণ করলাম। নিজের হাতে আমি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শয়নের জন্যে একটি জায়গা সমতল করলাম, এরপর সেখানে চাদর বিছালাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এরপর বললাম, হে আল্লাহর রসূল, আপনি শয়ন করুন, বিশ্রাম নিন, আমি আশপাশে খেয়াল রাখছি। নবীজী শুয়ে পড়লেন। আমি চারিদিকে নযর রাখলাম। হঠাৎ দেখি একজন রাখাল কিছু সংখ্যক বকরি নিয়ে এদিকেই আসছে। সে প্রান্তরের ছায়ায় আসছিলো। আমি তাকে বললাম, তুমি কার লোক? সে মক্কা বা মদীনার একজন লোকের নাম বললো। আমি তাকে বললাম, তোমার বকরির কি কিছু দুধ হবে? সে বললো, হাঁ। আমি বললাম, দোহন করতে পারি? সে বললো, হাঁ। এ কথা বলে সে একটি বকরি ধরে আনলো। আমি বললাম, মাটি খড়কুটো এবং লোম থেকে ওলান একটু পরিষ্কার করে দাও। পরিষ্কার করার পর একটি পেয়ালায় কিছু দুধ দোহন করে দিলো। আমার কাছে ছিলো একটি চামড়ার পাত্র। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযু এবং পানি পান করার জন্যে সেটি রেখেছিলাম। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে দেখি তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাঁকে জাগানো সমীচীন মনে করলাম না, কিছুক্ষণ পর তিনি ঘুম থেকে জাগলেন। দুধের সাথে কিছু পানি মেশালাম, এতে পাত্রের নীচের অংশ ঠান্ডা হয়ে গেলো। তাকে বললাম, আপনি এ দুধটুকু পান করুন। তিনি পান করে খুশী হলেন। এরপর বললেন, এখনো কি রওয়ানা হওয়ার সময় আসেনি? আমি বললাম, কেন নয়? এরপর আমরা আবার রওয়ানা হলাম।
দুই) এ সফরের সময় হযরত আবু বকর (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে বসতেন। পথচারীদের দৃষ্টি তার দিকেই প্রথমে যেতো, কারণ তাঁর চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ ছিলো। তাঁর তুলনায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কমবয়সী মনে হচ্ছিলো। পথচারীদের কেউ যখন জিজ্ঞাসা করতো যে, আপনার সামনে উনি কে? হযরত আবু বকর (রা.) জবাব দিতেন যে, উনি আমাকে পথ দেখান। প্রশ্নকারী বুঝতো যে মরুভূমিতে পথ দেখাচ্ছেন, প্রকৃতপক্ষে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নেকী ও কল্যাণের পথের কথাই বোঝাতেন।
তিন) এই সফরের সময় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে মা'বাদ খোযায়ার তাঁবুতে কিছুক্ষণের জন্যে যাত্রা বিরতি করেন। এই মহিলা খুব বুদ্ধিমতী। নিজের বাড়ীতে আঙ্গিনায় তিনি বসেছিলেন। যাতায়াতকারী পথচারীদের সাধ্যমতো পানাহার করাতেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে? মহিলা বললেন, যদি কিছু থাকতো, তবে আপনাদের মেহমানদারিতে ত্রুটি করতাম না। কয়েকটি বকরি আছে, যেগুলো দূরে চারণভূমিতে রয়েছে। এখন দুর্ভিক্ষের সময় চলছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্ষ্য করলেন যে, বাড়ীর এক পাশে একটি বকরি বাঁধা আছে। তিনি বললেন, উম্মে মা'বাদ, এ বকরি এখানে কেন? উম্মে মা'বাদ বললেন, এ বকরি খুব দুর্বল, হাঁটতে পারে না। প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অনুমতি যদি দাও, তবে ওর দুধ দোহন করি? মহিলা বললেন, হাঁ, যদি দুধ দেখতে পান, অবশ্যই দোহন করুন। এ কথার পর প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বকরির ওলানে হাত লাগালেন। আল্লাহর নাম নিলেন এবং দোয়া করলেন। বকরি সাথে সাথে পা প্রসারিত করে দাঁড়ালো। তার ওলানে ভরা দুধ। প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি বড় পাত্র নিয়ে সেই পাত্রে দুধ দোহন করলেন। সেই পাত্র ভর্তি দুধ এক দল লোক তৃপ্তির সাথে পান করতে পারতো। দুধ দোহনের পর পাত্রে ফেনা ভরে গেলো। সঙ্গীদের পান করালেন উম্মে মা'বাদ নিজে পান করলেন। এরপর সেই পাত্রে পুনরায় দুধ দোহন করলেন। সেই পাত্র ভর্তি দুধ উম্মে মা'বাদের ঘরে রেখে আল্লাহর রসূল গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হলেন।
কিছুক্ষণ পর মহিলার স্বামী বকরির পাল নিয়ে বাড়ী ফিরলো। সেসব বকরিও দুর্বল, পথ চলতে ক্লান্তিতে হাঁপিয়ে ওঠে। উম্মে মা'বাদের স্বামী আবু মা'বাদ দুধ দেখে তো অবাক! জিজ্ঞাসা করলেন, দুধ পেলে কোথায়? সব দুগ্ধবতী বকরি তো আমি চারণ ভূমিতে নিয়ে গেছি, ঘরে তো দুধ দেয়ার মতো বকরি ছিলো না। উম্মে মা'বাদ বললেন, আমাদের কাছে একজন বরকত সম্পন্ন মানুষ এসেছিলেন। তাঁর কথা ছিলো এমন এবং তাঁর অবস্থা ছিলো এমন। সব শুনে আবু মা'বাদ বললেন, এই তো মনে হয় সেই ব্যক্তি, যাকে কোরায়শরা খুঁজে বেড়াচ্ছে। আচ্ছা তুমি তার আকৃতি প্রকৃতি একটু বলো। উম্মে মা'বাদ অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিচয় বর্ণনা করলেন। সে বর্ণনা ভঙ্গি শুনে মনে হয় শ্রোতা যেন তাকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। গ্রন্থের শেষ দিকে এইসব বিবরণ উল্লেখ করা হবে। আগন্তুকের ভূয়সী প্রশংসা শুনে সে বললো, আল্লাহর শপথ, এই হচ্ছে কোরায়শদের সেই ব্যক্তি, যার সম্পর্কে লোকেরা নানা কথা বর্ণনা করেছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে তাঁর প্রিয় সঙ্গীদের একজন হবো। যদি কোন পথ পাই, তবে অবশ্যই এটা করবো।
এদিকে মক্কার বাতাসে কবিতার ছন্দে কিছু কথা ভেসে আসছিলো। যিনি কবিতা আবৃত্তি করছিলেন, তাকে দেখা যাচ্ছিলো না। কবিতার অর্থ নিম্নরূপঃ আল্লাহর পুরস্কার লাভ করুন সেই দু'জন, উম্মে মা'বাদের বাড়ীতে যারা করলেন পদার্পণ। ভালোয় ভালোয় থেমেছিলেন, যাত্রা করলেন, ফের সফলকাম হয়েছেন তিনি সঙ্গী, যিনি মোহাম্মদের। হায় কুসাই তোমাদের থেকে নযিরবিহীন সাফল্য এবং নেতৃত্ব নিলেন আল্লাহ কেড়ে। বনু কা'ব-এর সেই মহিলা, আহা কী যে ভাগ্যবান মোবারক হোক মোমেনীনের জন্যে সেই বাসস্থান। বকরির কথা পাত্রের কথা মহিলার কাছে জানতে চাও সেই বকরিও সাক্ষী দেবে, তোমরা বকরির কাছে যাও।
হযরত আসমা (রা.) বলেন আমাদের জানা ছিলো না যে, আল্লাহর রসূল কোনদিকে গেছেন। হঠাৎ একটি জিন মক্কায় এসে এসব কবিতা শোনালো। উৎসাহী জনতা সেই জিনকে পাচ্ছিলো না। তারা শব্দের পেছনে ছুটে যাচ্ছিলো। শব্দ শুনছিলো। এক সময় সেই শব্দ মক্কার উঁচু এলাকায় মিলিয়ে গেলো। সেই কবিতা শুনে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে, প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনদিকে গেছেন। স্পষ্টই বোঝা গেলো যে, তিনি মদীনার পথে রয়েছেন।
চার) পথে ছোরাকা ইবনে মালেক প্রিয় নবী এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে অনুসরণ করেছিলেন ছোরাকার বর্ণিত ঘটনা নিম্নরূপ। আমি আমার কওম বনি মুদলেজের এক মজলিসে বসেছিলাম। এমন সময় একজন লোক এসে আমাদের কাছে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর বসলো। সেই লোকটি বললো, ওহে ছোরাকা, একটু আগে আমি উপকূলের কাছে কয়েকজন লোক দেখলাম। আমার ধারণা, তিনি মোহাম্মদ এবং তাঁর সাথী। ছোরাকা বললো, আমি বুঝতে পারলাম যে এরাই তারা কিন্তু যে লোকটি খবর দিয়েছিলো, তার কাছে মনোভাব গোপন রাখার জন্যে বললাম, না না, ওরা তারা নয়, তুমি যাদের দেখেছো তাদের তো আমরাও দেখেছি। তারা আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গেছে। এরপর আমি মজলিসে কিছুক্ষণ বসে কাটালাম। তারপর ঘরের ভেতর গিয়ে আমার দাসীকে আমার ঘোড়া বের করতে বললাম। ঘোড়া বের করার পর তাকে বললাম, টিলার পেছনে নিয়ে যাও এবং সেখানে অপেক্ষা করো, আমি আসছি। এরপর আমি তীর নিলাম এবং ঘরের পেছন দিয়ে বাইরে বের হলাম। তীরের এক প্রান্ত ধরে অপর প্রান্ত মাটিতে হেঁচড়ে আমি ঘোড়ার কাছে গেলাম। ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলে ঘোড়া আমাকে নিয়ে ছুটতে লাগলো। এক সময় আমি উপকূলীয় এলাকায় তাঁদের কাছে এসে পৌঁছলাম। হঠাৎ ঘোড়া লাফাতে শুরু করলো। আমি ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গেলাম। পুনরায় আমি ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করলাম এবং তৃন্ এর দিকে হাত বাড়ালাম এবং পাশার তীর বের করে জানতে চাইলাম, তাকে বিপদে ফেলতে পারব কিনা। কিন্তু যে তীর বের হলো সেটি আমার অপছন্দনীয়। আমি লক্ষ্য করলাম যে, আল্লাহর রসূল নির্বিকারভাবে একাগ্রচিন্তে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। কোনদিকেই তাঁর খেয়াল নেই। আবু বকর সিদ্দিক পেছন ফিরে আমাকে দেখছিলেন। হঠাৎ আমার ঘোড়ার সামনের পা দু'খানি মাটিতে দেবে গেলো। হাঁটু পর্যন্ত দেবে গেলো এক সময়। আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। ঘোড়াকে শাসন করলাম, ঘোড়া উঠতে চাইলো। অনেক কষ্টে ঘোড়া নিজের পা উপরে তুললো। ঘোড়া পা তুললে তার পায়ের নিশানা থেকে ধোঁয়ার মতো ধুলো উড়ছিলো। আমি তীর দ্বারা ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, এবার ও এমন তীর বের হলো, যা আমি চাইনি। এরপর আমি স্বাভাবিক কণ্ঠে তাদের ডাক দিলাম, তারা থামলেন। ঘোড়ার পিঠে করে আমি তাদের কাছে পৌঁছলাম। যখনই আমি তাদের থামালাম, তখনই হঠাৎ আমার মনে হলো আল্লাহর রসূলই বিজয়ী হবেন। আমি তখন আল্লাহর রসূলকে বললাম, আপনার স্বজাতীয়রা আপনার জীবনের পরিবর্তে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। সাথে সাথে মক্কার লোকদের সংকল্প সম্পর্কেও আমি তাঁকে অবহিত করলাম। তাঁকে পথের কিছু সম্বলও দিতে চাইলাম। কিন্তু তিনি কিছুই নিলেন না এবং আমাকে কোন কথা জিজ্ঞাসাও করলেন না। শুধু বললেন, আমাদের ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করো। তাঁকে বললাম, আপনি আমাকে নিরাপত্তার পরোয়ানা লিখে দিন। আল্লাহর রসূল তখনই আমের ইবনে ফোহায়রাকে আদেশ দিলেন। আমের নিরাপত্তার পরোয়ানা স্বরূপ এক টুকরো চামড়ায় কিছু কথা লিখে আমাকে দিলেন। এরপর আল্লাহর রসূল সামনে অগ্রসর হলেন।
এ ঘটনা সম্পর্কে হযরত আবু বকরের একটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রওয়ানা হওয়ার পর কওমের লোকেরা আমাদের তালাশ করছিলো। কিন্তু ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জুশুম ছাড়া কেউ আমাদের দেখতে পায়নি। ছোরাকা ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলো। আমি বললাম, হে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একটি লোক আমাদের পিছু লেগেছে, সে কাছাকাছি এসে পড়েছে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথে সাথে বললেন, 'লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মাআনা।' অর্থাৎ ভয় পেয়ো না, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। ছোরাকা মক্কায় ফিরে এসে দেখতে পেলো, তখনো অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহর রসূলকে সে যে পথে দেখেছে, সেদিকে কিছু লোককে দেখে ছোরাকা বললো, ওদিকে তোমাদের যে কাজ ছিলো সেটা হয়ে গেছে। দিনের শুরুতে যে লোক ছিলো সন্ধানকারীদের একজন, দিনের শেষে সেই ব্যক্তিই হয়ে গেলো আমানতদার।
পাঁচ) পথে বুরাইদা আসলামির সাথে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ হলো। এই লোক ছিলো তার কওমের সর্দার। কোরায়শদের ঘোষিত পুরস্কারের লোভে এই লোকও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-এর সন্ধানে বের হয়েছিলো কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কথা বলার সাথে সাথে তার মনে ভাবান্তর হলো। তিনি নিজ গোত্রের ৭০ জন লোকসহ সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর পাগড়ি খুলে বর্শায় বেঁধে দোলাতে দোলাতে সুসংবাদ শোনালেন যে, শান্তির বাদশাহ, সমাঝোতার পথিকৃৎ, পৃথিবীকে ন্যায় বিচার ও ইনসাফে পরিপূর্ণ করার অগ্রপথিক আগমন করছেন।
ছয়) মদীনা যাওয়ার পথে হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়ামের (রা.) সাথে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখা হলো। তিনি মুসলমানদের একটি বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে সিরিয়া থেকে ফিরছিলেন। তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে কিছু জিনিস উপহার দেন।
টিকাঃ
২২. সহীহ বোখারী ১ম খন্ড ৫৫৬
২৩. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৬
২৪. যাদুল মা'য়াদ, ২য় খন্ড পৃ. ৫৩-৫৪ বনু খোজাআ গোত্রের অবস্থানের কথা চিন্তা করলে বোঝা যায় যে, এ ঘটনা প্রিয় নবী (সঃ)-এর মদীনা রওয়ানা হওয়ার দ্বিতীয় দিনে ঘটেছিলো।
২৫. বোখারী ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৪, বনি মুদলেজদের জন্মস্থান ছিলো বাবেগের কাছে। ছোয়াকা যে সময় অনুসরণ করেছিলো, সে সময় প্রিয় নবী (সঃ) কোদায়েদ থেকে ওপরের দিকে উঠছিলেন। যাদুল মা'য়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৩। গারে ছুর থেকে রওয়ানা হওয়ার তৃতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটেছে বলেই মনে হয়।
২৬. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫১৬
২৭. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫১৬
২৮. রহমাতুল লিল আলামীন, ১ম খন্ড, পৃ. ১০১
২৯. সহীহ বোখারী ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৪