📄 মুনযের ইবনে ছাদির নামে
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুনযের ইবনে ছাদির কাছে একখানি চিঠি লিখে তাঁকেও ইসলামের দাওয়াত দেন। মুনযের ছিলেন বাহরাইনের শাসনকর্তা। এ চিঠি হযরত আলা ইবনে হাযরামির হাতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। জবাবে মুনযের আল্লাহর রসূলকে লিখেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনার চিঠি আমি বাহরাইনের অধিবাসীদের পড়ে শুনিয়েছি। কিছু লোক ইসলামকে পছন্দ করেছেন ও পবিত্রতার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আবার অনেকে পছন্দ করেননি। এখানে ইহুদী এবং অগ্নি উপাসকও রয়েছে। আপনি ওদের ব্যাপারে আমাকে নির্দেশ দিন। এর জবাবে রসূল সঃ) যে চিঠি লিখেছেন, তা নিম্নরূপ।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে মুনযের ইবনে হাদির নামে। আপনার প্রতি সালাম। আমি আপনার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত এবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।
অতপর আমি আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবেন, তিনি নিজের জন্যেই সেসব করবেন। যে ব্যক্তি আমার দূতদের আনুগত্য করবে এবং তাদের আদেশ মান্য করবে, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করেছে বলে মনে করা হবে। যারা আমার দূতদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে তারা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হবে। আমার দূতরা আপনার প্রশংসা করেছেন। আপনার জাতি সম্পর্কে আপনার সুপারিশ আমি গ্রহণ করেছি। কাজেই মুসলমান যে অবস্থায় ঈমান আনে, তাদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিন। আমি দোষীদের ক্ষমা করে দিয়েছি, আপনিও ওদের ক্ষমা করুন। আপনি যতদিন সঠিক পথ অনুসরণ করবেন, ততোদিন আপনাকে আমি বরখাস্ত করবো না। যারা ইহুদী ধর্ম-বিশ্বাসের ওপর রয়েছে এবং যারা অগ্নি উপাসনা করছে, তাদেরকে জিযিয়া দিতে হবে।
ছয়) ইয়ামামার শাসনকর্তার নামে- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওজা ইবনে আলীর কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হাওজা ইবনে আলীর কাছে চিঠি।
সেই ব্যক্তির ওপর সালাম, যিনি হেদায়েতের অনুসরণ করেন। আপনার জানা থাকা উচিত যে, আমার দ্বীন উট ও ঘোড়ার গন্তব্যস্থল পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনার অধীনে যা কিছু রয়েছে, যে সবকে আপনার জন্যে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
এ চিঠি পৌছানোর জন্যে দূত হিসাবে সালীত ইবনে আমর আমেরিকে মনোনীত করা হয়। হযরত ছালীত সীলমোহর লাগানো এই চিঠি নিয়ে ইয়ামামায় শাসনকর্তা হাওযার দরবারে পৌঁছন। হাওযা তাকে নিজের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে মোবারকবাদ দেন। হযরত ছালিত চিঠিখানি শাসনকর্তাকে পড়ে শোনান। তিনি মাঝামাঝি ধরনের জবাব দেন। এরপর আল্লাহর রসূলের কাছে লিখিত জবাব দেন। জবাব নিম্নরূপ।
'আপনি যে জিনিসের দাওয়াত দিচ্ছেন, তার কল্যাণময়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। আরবদের ওপর আমার প্রভাব রয়েছে। কাজেই আপনি আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিন, আমি আপনার আনুগত্য করবো।'
শাসনকর্তা হাওযা আল্লাহর রসূলের দূতকে কিছু উপঢৌকনও প্রদান করেন। মূল্যবান পোশাকও সেই উপঢৌষণের মধ্যে ছিলো। হযরত ছালীত সেইসব সামগ্রী নিয়ে আল্লাহর রসূলের দরবারে আসেন এবং তাঁকে সব কিছু অবহিত করেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ চিঠি পাঠ শেষে মন্তব্য করেন যে, সে যদি এক টুকরো জমিও আমার কাছে চায়, তবু আমি তাকে দেব না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তার হাতে রয়েছে, সেসবও ধ্বংস হবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর হযরত জিবরাঈল (আ.) তাঁকে খবর দিলেন যে, হাওযা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতপর সাহাবাদের বললেন, শোনো, ইয়ামামায় একজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আমার পরে সে নিহত হবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে কে হত্যা করবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সাথী।
পরবর্তীকালে আল্লাহর রসূলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।
টিকাঃ
১৯. যাদুল মায়াদ, ৩য় খন্ড, পৃ. ৬১-৬২, এ চিঠি নিকট অতীতে আবিষ্কৃত হয়েছে। ডক্টর হামিদুল্লাহ এ চিঠির ফটোকপি প্রকাশ করেছেন। যাদুল মায়াদ এবং ফটোকপির বিবরণের মধ্যে একটি শব্দের রদবদল রয়েছে। ফটোকপিতে রয়েছে 'লা ইলাহা ইল্লা হুয়া' এবং যাদুল মাআদে রয়েছে 'লা ইলাহা গায়রুহু'।
📄 ইয়ামামার শাসনকর্তার নামে
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওজা ইবনে আলীর কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হাওজা ইবনে আলীর কাছে চিঠি।
সেই ব্যক্তির ওপর সালাম, যিনি হেদায়েতের অনুসরণ করেন। আপনার জানা থাকা উচিত যে, আমার দ্বীন উট ও ঘোড়ার গন্তব্যস্থল পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনার অধীনে যা কিছু রয়েছে, যে সবকে আপনার জন্যে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
এ চিঠি পৌছানোর জন্যে দূত হিসাবে সালীত ইবনে আমর আমেরিকে মনোনীত করা হয়। হযরত ছালীত সীলমোহর লাগানো এই চিঠি নিয়ে ইয়ামামায় শাসনকর্তা হাওযার দরবারে পৌঁছন। হাওযা তাকে নিজের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে মোবারকবাদ দেন। হযরত ছালিত চিঠিখানি শাসনকর্তাকে পড়ে শোনান। তিনি মাঝামাঝি ধরনের জবাব দেন। এরপর আল্লাহর রসূলের কাছে লিখিত জবাব দেন। জবাব নিম্নরূপ।
'আপনি যে জিনিসের দাওয়াত দিচ্ছেন, তার কল্যাণময়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। আরবদের ওপর আমার প্রভাব রয়েছে। কাজেই আপনি আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিন, আমি আপনার আনুগত্য করবো।'
শাসনকর্তা হাওযা আল্লাহর রসূলের দূতকে কিছু উপঢৌকনও প্রদান করেন। মূল্যবান পোশাকও সেই উপঢৌষণের মধ্যে ছিলো। হযরত ছালীত সেইসব সামগ্রী নিয়ে আল্লাহর রসূলের দরবারে আসেন এবং তাঁকে সব কিছু অবহিত করেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ চিঠি পাঠ শেষে মন্তব্য করেন যে, সে যদি এক টুকরো জমিও আমার কাছে চায়, তবু আমি তাকে দেব না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তার হাতে রয়েছে, সেসবও ধ্বংস হবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর হযরত জিবরাঈল (আ.) তাঁকে খবর দিলেন যে, হাওযা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতপর সাহাবাদের বললেন, শোনো, ইয়ামামায় একজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আমার পরে সে নিহত হবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে কে হত্যা করবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সাথী।
পরবর্তীকালে আল্লাহর রসূলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।
📄 দামেশকের শাসনকর্তা গাসসানির নামে
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দামেশকের শাসনকর্তা হারেছ ইবনে আবু শিমার গাসসানির কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হারেছ ইবনে আবু শিমারের নামে।
সেই ব্যক্তির প্রতি সালাম, যিনি হেদায়াতের অনুসরণ করেন, ঈমান আনেন এবং সত্যতা স্বীকার করেন। আপনাকে আমি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দিচ্ছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয় এবং যাঁর কোন শরিক নেই। ইসলামের দাওয়াত কবুল করুন। আপনাদের জন্যে আপনাদের রাজত্ব স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
এই চিঠি আছাদ ইবনে খোজায়মা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত সাহাবী হযরত সুজা ইবনে ওয়াহাবের হাতে প্রেরণ করা হয়। হারেছের হাতে এ চিঠি দেয়ার পর তিনি বলেন, আমার বাদশাহী আমার কাছ থেকে কে ছিনিয়ে নিতে পারে? শীঘ্রই আমি তার বিরুদ্ধে হামলা করতে যাচ্ছি। এই বদনসীব ইসলাম গ্রহণ করেনি।
📄 আম্মানের বাদশাহর নামে
আট) আম্মানের বাদশাহের নামে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম আম্মানের বাদশাহ যেফার এবং তার ভাই আবদের নামেও একখানা চিঠি লিখেন। তাদের পিতার নাম ছিলো জলনদি। চিঠির বক্তব্য নিম্নরূপ- 'পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, আবদুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদের পক্ষ থেকে জলনদির দুই পুত্র যেফার ও আবদের নামে। সালাম সেই ব্যক্তির ওপর, যিনি হেদায়াতের অনুসরণ করেন। অতপর আমি আপনাদের উভয়কে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। কেননা আমি সকল মানুষের প্রতি আল্লাহর রসুল। যারা জীবিত আছে, তাদের পরিণামের ভয় দেখানো এবং কাফেরদের জন্যে আল্লাহর কথার সত্যতা প্রমাণের জন্যেই আমি কাজ করছি। আপনারা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলে আপনাদেরকেই শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাখা হবে। যদি অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনার বাদশাহী শেষ হয়ে যাবে। আপনাদের ভূখন্ড ঘোড়ার খুরের নিচে যাবে। আপনাদের বাদশাহীর ওপর আমার নবুয়ত বিজয়ী হবে।'
এ চিঠি পৌছানোর জন্যে হযরত আমর ইবনুল আসকে মনোনীত করা হয়। তিনি বলেন, আমি রওয়ানা হয়ে আম্মান গেলাম এবং আবদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। দুই ভাইয়ের মধ্যে আবদ ছিলেন নরম মেযাজের। তাকে বললাম, আমি আপনার এবং আপনার ভাইয়ের কাছে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে দূত হিসাবে এসেছি। তিনি বললেন, আমার ভাই বয়স এবং বাদশাহী উভয় দিক থেকেই আমার চেয়ে বড় এবং অগ্রগণ্য। কাজেই আমি আপনাকে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছি, তিনি নিজেই আপনার আনীত চিঠি পড়বেন। একথার পর আবদ বললেন, আচ্ছা আপনারা কিসের দাওয়াত দিয়ে থাকেন?
আমি : আমরা আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়ে থাকি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন শরীক নেই। আমরা বলে থাকি যে, আল্লাহ ব্যতীত যার এবাদত করা হয়, তাকে ছেড়ে দিন এবং এ সাক্ষ্য দিন যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রসূল।
আবদ : হে আমর, আপনি আপনার কওমের সর্দারের পুত্র। বলুন, আপনার পিতা কি করেছিলেন? আপনার পিতার কর্মপদ্ধতি আমাদের জন্যে অনুসরণযোগ্য হবে?
আমি : তিনি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের আগেই ইন্তেকাল করেছেন। আমার খুবই আফসোস হচ্ছে, যদি তিনি ইসলাম গ্রহণ এবং আল্লাহর রসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতেন, কি যে ভালো হতো। আমি নিজেও অবিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাকে ইসলামের হেদায়াত দিয়েছেন।
আবদ : আপনি কবে থেকে তাঁর অনুসরণ শুরু করেছেন?
আমি : বেশী দিন হয়নি।
আবদ : আপনি কোথায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন?
আমি : নাজ্জাশীর সামনে। নাজ্জাশীও মুসলমান হয়েছিলেন।
আবদ : তার স্বজাতীয়দের ইসলাম গ্রহণের পর তার বাদশাহীর কি করেছে?
আমি : অক্ষুণ্ণ রেখেছে এবং তার অনুসরণ করেছে।
আবদ : গীর্জার পাদ্রী এবং অন্যরাও অনুসরণ করেছে?
আমি : হাঁ, সবাই করেছে।
আবদ : হে আমর, ভেবে দেখুন, আপনি কি বলছেন। মনে রাখবেন, মিথ্যার চেয়ে বদগুণ একজন মানুষের জন্যে কিন্তু আর কিছুই হতে পারে না।
আমি : আমি মিথ্যা বলছি না। মিথ্যা বলা আমরা বৈধও মনে করি না।
আবদ : আমি মনে করি, সম্রাট হেরাক্লিয়াস নাজ্জাশীর ইসলাম গ্রহণের কথা জানেন না।
আমি : অবশ্যই জানেন।
আবদ : আপনি বুঝলেন কি করে?
আমি : নাজ্জাশী হেরাক্লিয়াসকে আয়কর পরিশোধ করতেন, কিন্তু ইসলামের মাধ্যমে তিনি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যতা মেনে নেয়ার পর বললেন, আল্লাহর শপথ, এখন থেকে হেরাক্লিয়াস যদি আমার কাছে একটি দিরহামও চান তবু আমি তাকে দেব না। এ খবর হেরাক্লিয়াসের দরবারে পৌঁছার পর তার ভাই ইয়ানাক তাকে বলেছিলো, আপনি কি খারাজ দিতে নারাজ আপনার এমন একজন ভৃত্যকে ছেড়ে দেবেন? আপনার ধর্ম বিশ্বাস ত্যাগ করে অন্য একজনের ধর্ম বিশ্বাস গ্রহণ করবে, এটাও কি আপনি মেনে নেবেন? হেরাক্লিয়াস বললেন, এই লোক একটি ধর্ম বিশ্বাস পছন্দ করেছে এবং তা গ্রহণ করেছে, আমি তাকে কি করতে পারি? খোদার কসম, রাজত্বের লোভ না হলে আমি নিজেও তাই করতাম, নাজ্জাশী যা করেছেন।
আবদ : আমর ভেবে দেখুন, আপনি কি বলছেন?
আমি : আল্লাহর শপথ, আমি সত্য কথাই বলছি।
আবদ : আচ্ছা বলুন, তিনি কি কাজের আদেশ দেন আর কি কাজ করতে নিষেধ করেন?
আমি : আল্লাহ তায়ালা-এর আনুগত্যের আদেশ প্রদান করেন এবং তাঁর নাফরমানী করতে নিষেধ করেন। নেকী করার এবং আত্মীয় স্বজনদের সাথে ভালো ব্যবহার করার আদেশ প্রদান করেন। যুলুম, অত্যাচার, বাড়াবাড়ি, ব্যাভিচার, মদ পান, পাথর, মূর্তি এবং ক্রুশ-এর উপাসনা করতে নিষেধ করেন।
আবদ : তিনি যেসব কাজের আদেশ করেন এর সবই তো ভালো কাজ। আমার ভাই যদি আমার অনুসরণ করবেন বলে ভরসা পেতাম, তবে আমরা সওয়ার হয়ে মদীনায় ছুটে যেতাম এবং মোহাম্মদ (সঃ-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতাম।
আমি : কিন্তু আমার ভাই-এর রাজত্বের ওপর প্রবল লোভ, তিনি রাজত্ব হারানোর ভয়ে অন্য কারো আনুগত্য মেনে নেবেন কিনা, সন্দেহ রয়েছে।
আবদ : যদি তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে আল্লাহর রসূল তাকেই তার বাদশাহীতে বহাল রাখবেন। তবে তাকে একটা কাজ করতে হবে যে, ধনীদের কাছ থেকে সদকা আদায় করে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। এটাতো বড় ভালো কথা। আচ্ছা বলুনতো, সদকা কি জিনিস?
আমি : আমি বিভিন্ন দ্রব্যের ওপর আল্লাহর রসূলের নির্ধারণ করা সদকার বিবরণ উল্লেখ করলাম। উটের প্রসঙ্গ এলে তিনি বললেন, হে আমর, আমাদের ওসব পশুপাল থেকেও কি সদকা নেয়া হবে, যারা নিজেরাই চারণ ভূমিতে চরে বেড়ায়?
আবদ : হাঁ।
আমি : আল্লাহর শপথ আমি জানি না, আমাদের দেশের মানুষ দেশের বিশালতা এবং উটের সংখ্যাধিক্যের কথা ভেবে এটা মেনে নেবে কি না। আমর ইবনুল আস বলেন, আমি রাজ দরবারের দেউড়িতে কয়েক দিন কাটালাম। আবদ তাঁর ভাইয়ের কাছে গিয়ে আমার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন। একদিন আমাকে ডাকলেন, আমি ভেতরে প্রবেশ করলাম। প্রহরীরা আমার বাহু আঁকড়ে ধরলো। আবদ বললেন, ছেড়ে দাও, ওরা তখন আমাকে ছেড়ে দিলো। আমি বসতে চাইলে প্রহরীরা আমাকে বসতে দিলো না। আমি বাদশাহর দিকে তাকালে তিনি বললেন, বলুন, কি বলতে চান? আমি মুখবন্ধ খামের চিঠি তার হাতে তুলে দিলাম। তিনি খামের মুখ ছিঁড়ে চিঠিখানা পড়লেন। সব পড়ার পর তাঁর ভাইয়ের হাতে দিলেন। আমি লক্ষ্য করলাম যে, বাদশাহর চেয়ে তার ভাই আবদ অপেক্ষাকৃত নরম মেজাজের মানুষ।
বাদশাহ : বাদশাহ জিজ্ঞাসা করলেন, কোরায়শ কি ধরনের ব্যবহার করেছিলো, বলুন।
আমি : সবাই তাঁর আনুগত্য মেনে নিয়েছে। কেউ দ্বীনের প্রতি ভালোবাসার কারণে, আবার দু'একজন তলোয়ারের ভয়ে।
বাদশাহ : তাঁর সাথে কি ধরনের লোক রয়েছে?
আমি : সব ধরনের লোকই রয়েছে। তারা ইসলামকে আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছে। ইসলামকে অন্য সকল ধর্ম বিশ্বাসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। আল্লাহর হেদায়াত এবং বিবেকের পথ-নির্দেশনায় তারা বুঝতে পেরেছে যে, এ যাবত তারা ছিলো পথভ্রষ্ট। আমার জানামতে এই এলাকায় আপনিই শুধু এখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ না করেন এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ না করেন, তবে ঘোড়া ও উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আসা লোকেরা আপনাকে তছনছ করে দেবে। আপনার সজীবতা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকেই আপনার কওমের শাসনকর্তা হিসাবে বহাল রাখবেন। আপনার এলাকায় কোন হামলাকারী প্রবেশ করবেন না।
বাদশাহ বললেন, আপনি, আগামীকাল আমার সাথে দেখা করুন। এরপর আমি বাদশাহর ভাইয়ের কাছে ফিরে এলাম।