📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 রোমক সম্রাট কায়সারের নামে

📄 রোমক সম্রাট কায়সারের নামে


চার) রোমক সম্রাট কায়সারের নামে- সহীহ বোখারীতে একটি দীর্ঘ হাদীসে এ চিঠির বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। রসূল রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে যে চিঠি লিখেছিলেন, সে চিঠির বিবরণ নিম্নরূপ-
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে রোমের মহান হিরাক্লিয়াসের প্রতি।
সালাম সেই ব্যক্তির প্রতি, যিনি হেদায়াতের আনুগত্য করেন। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন তবে শান্তিতে থাকবেন। যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে দুই রকমের পুরস্কার পাবেন। যদি অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনার প্রজাদের পাপও আপনার ওপর বর্তাবে। হে আহলে কিতাব, এমন একটি বিষয়ের প্রতি আসুন, যা আমাদের ও আপনাদের জন্যে একই সমান। সেটি হচ্ছে যে, আমরা আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা আনুগত্য করবো না। আল্লাহ ব্যতীত আমাদের কাউকে শরিক করবো না। আল্লাহ ব্যতীত আমাদের কেউ পরস্পরকে প্রভু হিসাবে গ্রহণ করবো না। যদি লোকেরা অমান্য করে, তবে তাদের বলে দিন যে, তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। ১৪
এই চিঠি পৌঁছানোর জন্যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত দেহিয়া ইবনে খলীফা কালবিকে মনোনীত করেন। তাকে বলা হয়, তিনি যেন এই চিঠি বসরার শাসনকর্তার হাতে দেন। বসরার শাসনকর্তা সেটি সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে পৌছে দেবেন। এরপর যা কিছু হয়েছে, তার বিবরণ সহীহ বোখারীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাকে বলেছেন যে, সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাকে কোরায়শদের একদল লোকের সাথে তাঁর দরবারে আমন্ত্রণ জানান। হোদায়বিয়ার সন্ধির শর্তানুযায়ী এই কাফেলা ব্যবসায়ের মালামাল নিয়ে সিরিয়ার ব্যবসার জন্যে গিয়েছিলো। কাফেলা ইলিয়া অর্থাৎ বায়তুল মাকদেসে সম্রাট হিরাক্লিয়াসের দরবারে হাযির হলেন। ১৫ সম্রাট তাদের কাছে ডাকলেন। সে সময় দরবারে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সম্রাট হিরাক্লিয়াস মক্কার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে সামনে রেখে তার দোভাষীকে তলব করেন। এরপর দোভাষীর মাধ্যমে জিজ্ঞাসা করেন যে, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবী করেন তার সাথে বংশগত সম্পর্কের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে কাছাকাছি? আবু সুফিয়ান বলেন, আমি তখন বাদশাহকে জানালাম যে, আমিই তার কাছাকাছি। হিরাক্লিয়াস তখন বললেন, ওকে আমার কাছাকাছি নিয়ে এসো। আর তার সঙ্গীদের তার পেছনে বসাও। এরপর হিরাক্লিয়াস তার

দোভাষীকে বললেন, এ লোকটিকে আমি সেই নবীর দাবীদার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবো। যদি সে কোন কথার জবাবে মিথ্যা বলে, তবে তার সঙ্গীদের বলে দাও, তারা যেন সাথে সাথে প্রতিবাদ করে। আবু সুফিয়ান বলেন, আল্লাহর শপথ, যদি মিথ্যা বলার দুর্নাম হওয়ার ভয় না থাকতো, তবে আমি তাঁর সম্পর্কে অবশ্যই মিথ্যা বলতাম।
আবু সুফিয়ান বলেন, সামনে এনে বসানোর পর হিরাক্লিয়াস সর্বপ্রথম আমাকে প্রশ্ন করেন যে, তোমাদের মধ্যে সে লোকটির বংশ মর্যাদা কেমন?
আমি : তিনি উচ্চ বংশ মর্যাদার অধিকারী। হিরোক্লিয়াস : তিনি যা বলেন, এ রকম কথা কি তাঁর আগে তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ বলেছিলেন? আমি : না। হিরাক্লিয়াস: তার পিতামহের মধ্যে কেউ কি সম্রাট ছিলেন? আমি : না। হিরাক্লিয়াস: বড়লোকেরা তার আনুগত্য করেছে, না দূর্বল লোকেরা? আমি : দূর্বল লোকেরা। হিরাক্লিয়াস : তাদের সংখ্যা বাড়ছে না কমছে? আমি : বেড়েই চলেছে। হিরাক্লিয়াস : এই ধর্ম বিশ্বাস গ্রহণের পর কেউ কি ধর্মান্তরিত হয়েছে? আমি : না। হিরাক্লিয়াস : তিনি যা বলছেন এসব বলার আগে কেউ কি তাকে মিথ্যা বলার জন্যে কখনো অভিযুক্ত করেছে? আমি : না। হিরাক্লিয়াস: তিনি কি বিশ্বাসঘাতকতা করেন? আমি : জ্বী না। তবে বর্তমানে তার সাথে একটি সন্ধিসূত্রে আমরা আবদ্ধ রয়েছি। এ ব্যাপারে তিনি কি করবেন আমরা জানি না। আবু সুফিয়ান বলেন, এই একটি কথা ছাড়া আমি কোন কথা নিজে থেকে সংযোজনের সুযোগ পাইনি। হিরাক্লিয়াস : তোমরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছো? আমি : হাঁ। হিরাক্লিয়াস : তোমাদের এবং তার যুদ্ধ কেমন ছিলো? আমি : যুদ্ধ আমাদের এবং তার মধ্যে বালতির মতো। কখনো তিনি আমাদের পরাজিত করেন, কখনো আমরা তাকে পরাজিত করি। হিরাক্লিয়াস : তিনি তোমাদের কি কাজের আদেশ দেন? আমি : তিনি বলেন, তোমরা শুধু আল্লাহর এবাদাত করো, তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। তোমাদের পিতা-পিতামহ যা বলতেন সত্যবাদিতা, পরহেযগারি, পাক-পবিত্রতা পরিচ্ছন্নতা এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে ভালো ব্যবহারের আদেশ দিয়ে থাকেন।
এরপর হিরাক্লিয়াস তার দোভাষীকে বললেন, এই লোকটিকে বলো যে, আমি যখন নবুয়তের দাবীদারের বংশ মর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তখন সে বলেছে, তিনি উচ্চ বংশ মর্যাদা সম্পন্ন। নিয়ম হচ্ছে যে, পয়গাম্বর উচ্চ বংশ মর্যাদা সম্পন্ন লোকদের মধ্য থেকেই প্রেরিত হয়ে থাকেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, তাঁর আগে তোমাদের মধ্যে অন্য কেউ এ ধরনের

কথা বলেছিলো কিনা। সে বলেছে যে, বলেনি। যদি অন্য কারো বলা কথারই সে পুনরাবৃত্তি করতো, তবে আমি বলতাম যে এই লোকটি অন্যের বলা কথারই প্রতিধ্বনি করছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছি যে, তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিলো কিনা? তুমি বলেছ না, ছিলো না। যদি তার বাপ-দাদাদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকতো তবে আমি বলতাম যে, এই লোক বাপ-দাদার বাদশাহী দাবী করছে। আমি জিজ্ঞাসা করেছি যে, তিনি যা বলছেন, এর আগে তোমরা তাকে মিথ্যাবাদী হিসাবে অভিযুক্ত করেছিলে কিনা? তুমি বলেছো, না, কাজেই মানুষের ব্যাপারে যিনি মিথ্যা কথা বলেন না, তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মিথ্যা বলবেন এটা হতেই পারে না। আমি একথাও জিজ্ঞাসা করেছি যে, বড়লোকেরা তার আনুগত্য করছে নাকি দূর্বল লোকেরা? তুমি বলেছ দুর্বল লোকেরা। প্রকৃতপক্ষে দূর্বল লোকেরাই পয়গাম্বরের আগে আনুগত্য করে। আমি জিজ্ঞাসা করেছি যে, তার ধর্ম-বিশ্বাস গ্রহণের পর কেউ ধর্মান্তরিত হয়েছে কিনা, তুমি বলেছো, না। প্রকৃতপক্ষে ঈমানের সজীবতা অন্তরে প্রবেশের পর এরকমই হয়ে থকে। আমি জিজ্ঞাসা করেছি যে, তিনি তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন কিনা। তুমি বলেছ, না। প্রকৃতপক্ষে পয়গাম্বর এরকমই হয়ে থাকেন। তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না, বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। আমি জিজ্ঞাসা করেছি যে, তিনি কি কি কাজের আদেশ দিয়ে থাকেন? তুমি বলেছো যে, তিনি তোমাদেরকে আল্লাহর এবাদাতের আদেশ করেন, তার সাথে কাউকে শরিক না করার আদেশ করেন, মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেন এবং নামায, সত্যবাদিতা, পরহেযগারি, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার আদেশ দেন। তুমি যা কিছু বলেছো, যদি এসব সত্য হয়ে থাকে তবে তিনি খুব শীঘ্রই আমার দুই পায়ের নীচের জায়গারও মালিক হয়ে যাবেন। আমি জানতাম যে, এই নবী আসবেন কিন্তু আমার ধারণা ছিলো না যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই আসবেন। আমি যদি তার কাছে পৌঁছার কষ্ট স্বীকার করতে সক্ষম হতাম, তবে তাঁর কাছে থেকে তার দুই চরণ ধুয়ে দিতাম।
এরপর হিরাক্লিয়াস রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিঠি চেয়ে নিয়ে পাঠ করলেন। হিরাক্লিয়াস চিঠি পড়া শেষ করার পরই সেখানে শোরগোল শুরু হলো এবং উচ্চস্বরে কথা শোনা গেলো। হিরাক্লিয়াস আমাদের ব্যাপারে আদেশ দিলেন এবং আমাদেরকে বাইরে বের করে দেয়া হলো। বাইরে এসে সঙ্গীদের আমি বললাম, আবু কাবশার ১৬ পুত্রের ঘটনাতো বেশ সিরিয়াস হয়ে উঠেছে। ওকে তো দেখছি বনু আসফারের ১৭ অর্থাৎ রোমীয়দের বাদশাহও ভয় পায়। এরপর আমি সব সময় এ বিশ্বাস পোষণ করতাম যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীন বিজয়ী হবেই। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এরপর আমার মাঝে ইসলামের আলো জ্বেলে দিয়েছেন।
রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি আল্লাহর রসূলের প্রেরিত চিঠির প্রভাবই ছিলো আবু সুফিয়ানের এই বিবরণী। এ চিঠির একটি প্রভাব এটাও ছিলো যে, সম্রাট হিরাক্লিয়াস রসূল

টিকাঃ
১৪. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৪, ৫ ১৫. সেই সময় সম্রাট হিরাক্লিয়াস হামস থেকে বায়তুল মাকদেস গিয়েছিলেন। পারস্যের সাথে যুদ্ধে জয়লাভ করায় আল্লাহ পাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই সম্রাট বায়তুল মাকদেস গিয়েছিলেন। দেখুন সহীহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃ. ৪-৫। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, খসরু পারভেজের হত্যাকান্ডের পর রোমকরা তাদের হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারের শর্তে পারস্য সম্রাটের সাথে সন্ধি করে। সেই ক্রুশও পারস্য ফেরত দেয় যার সম্পর্কে খৃষ্টানদের বিশ্বাস ছিলো যে, ঐ ক্রুশেই হযরত ঈসাকে (আঃ) ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিলো এই সন্ধির পর ফিরে পাওয়া ক্রুশ যথাস্থানে স্থাপন এবং বিরাট বিজয়ের প্রেক্ষিতে আল্লাহ পাকের শোকরিয়া আদায়ের জন্যই সম্রাট হিরাক্লিয়াস ৬২৯ ঈসায়ী সপ্তম হিজরীতে ইলিয়া অর্থাৎ বায়তুল মাকদেস গমন করেন। ১৬. আবু কাবশার পুত্র বলতে আল্লাহর রসূলকেই বোঝানো হয়েছে। আবু কাবশা তার দাদা বা নানাদের মধ্যে কারো কুনিয়ত ছিলো। এমনও বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর দুধ মা হালিমার স্বামীর কুনিয়ত ছিলো আবু কাবশা। মোটকথা আবু কাবশা নাম তেমন পরিচিত নয়। আরবদের নিয়ম ছিলো যে, তারা কারো সমালোচনা করলে তাকে তার বাপদাদাদের মধ্যেকার অপরিচিত কোন লোকের সাথে সম্পৃক্ত করা হতো। ১৭. বনু আসফার। আসফারের সন্তান। আসফার অর্থ পীত। রোমীয়দের বনু আসফার বলা হতো। রোমের যে লোকের সাথে রোমীয়দের বংশগত সম্পর্ক ছিলো, সে কোন কারণে আসফার অর্থাৎ পীত উপাধিতে পরিচিত হয়েছেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মুনযের ইবনে ছাদির নামে

📄 মুনযের ইবনে ছাদির নামে


রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুনযের ইবনে ছাদির কাছে একখানি চিঠি লিখে তাঁকেও ইসলামের দাওয়াত দেন। মুনযের ছিলেন বাহরাইনের শাসনকর্তা। এ চিঠি হযরত আলা ইবনে হাযরামির হাতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। জবাবে মুনযের আল্লাহর রসূলকে লিখেছিলেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনার চিঠি আমি বাহরাইনের অধিবাসীদের পড়ে শুনিয়েছি। কিছু লোক ইসলামকে পছন্দ করেছেন ও পবিত্রতার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আবার অনেকে পছন্দ করেননি। এখানে ইহুদী এবং অগ্নি উপাসকও রয়েছে। আপনি ওদের ব্যাপারে আমাকে নির্দেশ দিন। এর জবাবে রসূল সঃ) যে চিঠি লিখেছেন, তা নিম্নরূপ।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে মুনযের ইবনে হাদির নামে। আপনার প্রতি সালাম। আমি আপনার কাছে আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত এবাদাত পাওয়ার উপযুক্ত কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মোহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল।
অতপর আমি আপনাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবেন, তিনি নিজের জন্যেই সেসব করবেন। যে ব্যক্তি আমার দূতদের আনুগত্য করবে এবং তাদের আদেশ মান্য করবে, সে ব্যক্তি আমারই আনুগত্য করেছে বলে মনে করা হবে। যারা আমার দূতদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে তারা আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে বলে মনে করা হবে। আমার দূতরা আপনার প্রশংসা করেছেন। আপনার জাতি সম্পর্কে আপনার সুপারিশ আমি গ্রহণ করেছি। কাজেই মুসলমান যে অবস্থায় ঈমান আনে, তাদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিন। আমি দোষীদের ক্ষমা করে দিয়েছি, আপনিও ওদের ক্ষমা করুন। আপনি যতদিন সঠিক পথ অনুসরণ করবেন, ততোদিন আপনাকে আমি বরখাস্ত করবো না। যারা ইহুদী ধর্ম-বিশ্বাসের ওপর রয়েছে এবং যারা অগ্নি উপাসনা করছে, তাদেরকে জিযিয়া দিতে হবে।
ছয়) ইয়ামামার শাসনকর্তার নামে- রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওজা ইবনে আলীর কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হাওজা ইবনে আলীর কাছে চিঠি।
সেই ব্যক্তির ওপর সালাম, যিনি হেদায়েতের অনুসরণ করেন। আপনার জানা থাকা উচিত যে, আমার দ্বীন উট ও ঘোড়ার গন্তব্যস্থল পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনার অধীনে যা কিছু রয়েছে, যে সবকে আপনার জন্যে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
এ চিঠি পৌছানোর জন্যে দূত হিসাবে সালীত ইবনে আমর আমেরিকে মনোনীত করা হয়। হযরত ছালীত সীলমোহর লাগানো এই চিঠি নিয়ে ইয়ামামায় শাসনকর্তা হাওযার দরবারে পৌঁছন। হাওযা তাকে নিজের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে মোবারকবাদ দেন। হযরত ছালিত চিঠিখানি শাসনকর্তাকে পড়ে শোনান। তিনি মাঝামাঝি ধরনের জবাব দেন। এরপর আল্লাহর রসূলের কাছে লিখিত জবাব দেন। জবাব নিম্নরূপ।
'আপনি যে জিনিসের দাওয়াত দিচ্ছেন, তার কল্যাণময়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। আরবদের ওপর আমার প্রভাব রয়েছে। কাজেই আপনি আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিন, আমি আপনার আনুগত্য করবো।'
শাসনকর্তা হাওযা আল্লাহর রসূলের দূতকে কিছু উপঢৌকনও প্রদান করেন। মূল্যবান পোশাকও সেই উপঢৌষণের মধ্যে ছিলো। হযরত ছালীত সেইসব সামগ্রী নিয়ে আল্লাহর রসূলের দরবারে আসেন এবং তাঁকে সব কিছু অবহিত করেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ চিঠি পাঠ শেষে মন্তব্য করেন যে, সে যদি এক টুকরো জমিও আমার কাছে চায়, তবু আমি তাকে দেব না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তার হাতে রয়েছে, সেসবও ধ্বংস হবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর হযরত জিবরাঈল (আ.) তাঁকে খবর দিলেন যে, হাওযা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতপর সাহাবাদের বললেন, শোনো, ইয়ামামায় একজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আমার পরে সে নিহত হবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে কে হত্যা করবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সাথী।
পরবর্তীকালে আল্লাহর রসূলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।

টিকাঃ
১৯. যাদুল মায়াদ, ৩য় খন্ড, পৃ. ৬১-৬২, এ চিঠি নিকট অতীতে আবিষ্কৃত হয়েছে। ডক্টর হামিদুল্লাহ এ চিঠির ফটোকপি প্রকাশ করেছেন। যাদুল মায়াদ এবং ফটোকপির বিবরণের মধ্যে একটি শব্দের রদবদল রয়েছে। ফটোকপিতে রয়েছে 'লা ইলাহা ইল্লা হুয়া' এবং যাদুল মাআদে রয়েছে 'লা ইলাহা গায়রুহু'।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ইয়ামামার শাসনকর্তার নামে

📄 ইয়ামামার শাসনকর্তার নামে


রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়ামামার শাসনকর্তা হাওজা ইবনে আলীর কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হাওজা ইবনে আলীর কাছে চিঠি।
সেই ব্যক্তির ওপর সালাম, যিনি হেদায়েতের অনুসরণ করেন। আপনার জানা থাকা উচিত যে, আমার দ্বীন উট ও ঘোড়ার গন্তব্যস্থল পর্যন্ত প্রসার লাভ করবে। কাজেই ইসলাম গ্রহণ করুন, শান্তিতে থাকবেন। আপনার অধীনে যা কিছু রয়েছে, যে সবকে আপনার জন্যে অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
এ চিঠি পৌছানোর জন্যে দূত হিসাবে সালীত ইবনে আমর আমেরিকে মনোনীত করা হয়। হযরত ছালীত সীলমোহর লাগানো এই চিঠি নিয়ে ইয়ামামায় শাসনকর্তা হাওযার দরবারে পৌঁছন। হাওযা তাকে নিজের মেহমান হিসাবে গ্রহণ করে মোবারকবাদ দেন। হযরত ছালিত চিঠিখানি শাসনকর্তাকে পড়ে শোনান। তিনি মাঝামাঝি ধরনের জবাব দেন। এরপর আল্লাহর রসূলের কাছে লিখিত জবাব দেন। জবাব নিম্নরূপ।
'আপনি যে জিনিসের দাওয়াত দিচ্ছেন, তার কল্যাণময়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রশ্নাতীত। আরবদের ওপর আমার প্রভাব রয়েছে। কাজেই আপনি আমাকে কিছু কাজের দায়িত্ব দিন, আমি আপনার আনুগত্য করবো।'
শাসনকর্তা হাওযা আল্লাহর রসূলের দূতকে কিছু উপঢৌকনও প্রদান করেন। মূল্যবান পোশাকও সেই উপঢৌষণের মধ্যে ছিলো। হযরত ছালীত সেইসব সামগ্রী নিয়ে আল্লাহর রসূলের দরবারে আসেন এবং তাঁকে সব কিছু অবহিত করেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ চিঠি পাঠ শেষে মন্তব্য করেন যে, সে যদি এক টুকরো জমিও আমার কাছে চায়, তবু আমি তাকে দেব না। সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং যা কিছু তার হাতে রয়েছে, সেসবও ধ্বংস হবে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর হযরত জিবরাঈল (আ.) তাঁকে খবর দিলেন যে, হাওযা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতপর সাহাবাদের বললেন, শোনো, ইয়ামামায় একজন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব ঘটবে এবং আমার পরে সে নিহত হবে। একজন সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল, তাকে কে হত্যা করবে? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এবং তোমার সাথী।
পরবর্তীকালে আল্লাহর রসূলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছিলো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 দামেশকের শাসনকর্তা গাসসানির নামে

📄 দামেশকের শাসনকর্তা গাসসানির নামে


রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দামেশকের শাসনকর্তা হারেছ ইবনে আবু শিমার গাসসানির কাছে নিম্নোক্ত চিঠি প্রেরণ করেন।
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আল্লাহর রসূল মোহাম্মদের পক্ষ থেকে হারেছ ইবনে আবু শিমারের নামে।
সেই ব্যক্তির প্রতি সালাম, যিনি হেদায়াতের অনুসরণ করেন, ঈমান আনেন এবং সত্যতা স্বীকার করেন। আপনাকে আমি আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দিচ্ছি, যিনি এক ও অদ্বিতীয় এবং যাঁর কোন শরিক নেই। ইসলামের দাওয়াত কবুল করুন। আপনাদের জন্যে আপনাদের রাজত্ব স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
এই চিঠি আছাদ ইবনে খোজায়মা গোত্রের সাথে সম্পর্কিত সাহাবী হযরত সুজা ইবনে ওয়াহাবের হাতে প্রেরণ করা হয়। হারেছের হাতে এ চিঠি দেয়ার পর তিনি বলেন, আমার বাদশাহী আমার কাছ থেকে কে ছিনিয়ে নিতে পারে? শীঘ্রই আমি তার বিরুদ্ধে হামলা করতে যাচ্ছি। এই বদনসীব ইসলাম গ্রহণ করেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00