📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 বায়তুল্লাহ থেকে মুসলমানদের ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা

📄 বায়তুল্লাহ থেকে মুসলমানদের ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা


এদিকে কোরায়শ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওয়ানা হওয়ার খবর পেয়ে পরামর্শ সভার বৈঠকে বসে এ মর্মে সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, যে কোন মূল্যে মুসলমানদের বায়তুল্লাহ থেকে দূরে রাখতে হবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহাবিশ গোত্র পেরিয়ে সফর অব্যাহত রাখলে বনি কা'ব গোত্রের একজন লোক এসে বললো, কোরায়শরা যী তাওয়া নামক জায়গায় অবস্থান গ্রহণ করেছে। খালেদ ইবনে ওলীদ দু'শো সওয়ারের এক বাহিনী নিয়ে কুরাউল গামিম-এ প্রস্তুত হয়ে রয়েছে। এই স্থান মক্কাভিমুখী প্রধান সড়কে অবস্থিত। খালেদ ইবনে ওলীদ মুসলমানদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলো। সে তার সৈন্যদলকে এমন জায়গায় রাখলো, যে জায়গা থেকে উভয় পক্ষ পরস্পরকে দেখতে পায়।
মুসলমানদের যোহরের নামায আদায়ের সময় খালেদ লক্ষ্য করলেন যে, মুসলমানরা রুকু সেজদা করছে। খালেদ নামায শেষে মন্তব্য করলো যে, নামাযের সময় ওরা গাফেল ছিলো। এ সময়ে যদি আমরা হামলা করতাম, তবে ওদের কাবু করতে পারতাম। এরপর খালেদ সিদ্ধান্ত নিলো যে, আছরের নামাযের সময় মুসলমানরা যখন নামাযে দাঁড়াবে তখন হঠাৎ করে তাদের ওপর হামলা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা সেই সময়ে সালাতুল খাওফ-এর নির্দেশ দেন। খালেদ ইবনে ওলীদ ইচ্ছা থাকা সত্তেও মুসলমানদের ওপর হামলা করতে পারেনি।
রক্তাক্ত সংঘাত এড়িয়ে চলার চেষ্টা এদিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাউল গামিমের প্রধান সড়ক ছেড়ে অন্য এক পথ ধরে অগ্রসর হলেন। পাহাড়ী এলাকা দিয়ে ছিলো সেই পথ। অর্থাৎ ডান দিকে ঘুরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হামশ-এর মাঝখান দিয়ে এমন এক পথে গেলেন, যে পথ সানিয়াতুল মারার নামক জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। ছানিয়াতুল মারার থেকে তাঁরা গেলেন হুদায়বিয়া। এই স্থান ছিলো মক্কার অদূরে। কুরাউল গামিম থেকে অন্য পথে মুসলমানদের যেতে দেখে অর্থাৎ পথ পরিবর্তন করতে দেখে খালেদ কোরায়শদের নয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুত মক্কায় গেলো।
এদিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সফর অব্যাহত রাখলেন। সানিয়াতুল মারার নামক জায়গায় পৌছার পর উটনী বসে গেলো। লোকেরা বললো, হল্ হল্। কিন্তু উটনী বসেই রইল। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই উটনীর তো এভাবে বসে পড়ার অভ্যাস নেই। তিনি একে থামিয়ে রেখেছেন যিনি হাতিকে থামিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, ওরা এমন কিছু দাবী করবে না যাতে আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজের প্রতি শ্রদ্ধার প্রমাণ থাকবে। কিন্তু আমি অবশ্যই তা মেনে নেব। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটনীকে ওঠার জন্যে তাকিদ দিতেই উটনী উঠে দাঁড়ালো। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পথের কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে হোদায়বিয়ায় একটি জলাশয়ের কাছে অবতরণ করলেন। জলাশয়ে পানির পরিমাণ বেশী ছিলো না। অল্প অল্প করে নেয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই পানি শেষ হয়ে গেলো। সাহাবারা আল্লাহর রসূলের কাছে পিপাসার কথা জানালেন। তিনি শরাধার থেকে একটি তীর বের করে সেটি জলাশয়ে নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। সাহাবারা তাই করলেন। জলাশয় থেকে এরপর অবিরল ধারায় পানি উঠতে শুরু করলো এবং সাহাবাদের পানির কষ্ট দূর হয়ে গেলো।
বুদাইল ইবনে ওরাকার আগমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিত মনে অবস্থানের এক পর্যায়ে খাযাআ গোত্রের বুদাইল ইবনে ওরাকা খাজাআ গোত্রের কয়েকজন লোকসহ আল্লাহর রসূলের সাথে সাক্ষাতের জন্যে এলেন। তোহামার অধিবাসীদের মধ্যে এই গোত্রের লোকেরা ছিলো আল্লাহর রসূল ও মুসলমানদের হিতাকাঙ্খী। বুদাইল বললেন, আমি কা'ব ইবনে হুওয়ায়কে দেখে এলাম যে হোদায়বিয়ার পর্যাপ্ত পানির জলাশয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তার সঙ্গে নারী ও শিশুরা রয়েছে। সে আপনার সাথে লড়াই করতে এবং বায়তুল্লাহ থেকে আপনাদের দূরে রাখার জন্যে সংকল্পবদ্ধ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা কারো সাথে লড়াই করতে আসিনি। লড়াই কোরায়শদের ভেঙ্গে ফেলেছে এবং মারাত্মক ক্ষতি করেছে। কাজেই তারা যদি চায় তবে আমি তাদের সাথে একটা সময় নির্ধারণ করে নেব এবং তারা আমার ও আমার লোকদের মাঝখান থেকে সরে যাবে। যদি তারা চায় তবে লোকেরা যে বিষয়ে প্রবেশ করেছে, সে সম্পর্কেও গাফেল হয়ে যাবে, অন্যথায় তারা শান্তি তো লাভ করবে। যদি তারা লড়াই ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থায় রাজি না হয় তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি দ্বীনের ব্যাপারে ততক্ষণ যাবত তাদের সাথে লড়াই করবো, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দেহে প্রাণ থাকে অথবা যতক্ষণ যাবত আল্লাহর ইচ্ছার বাস্তবায়ন না ঘটে।
বুদাইল বললেন, আপনার বক্তব্য আমি কোরায়শদের কাছে পৌঁছে দেব। পরে তিনি কোরায়শদের কাছে গিয়ে বললেন, আমি ওদের কাছ থেকে আসছি। আমি তাদের কাছে একটা কথা শুনেছি, যদি তোমরা শুনতে চাও তবে বলতে পারি। নির্বোধরা বললো, আমাদের শোনার দরকার নেই। আমরা তাদের কোন কথা শুনতে চাই না। বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন কয়েকজন বললো, শোনো তো দেখি, কি বলেছে? বুদাইল সবকথা খুলে বললেন। এরপর কোরায়শরা মোকরেয ইবনে হাফসকে প্রতিনিধি হিসাবে প্রেরণ করলো। তাকে দেখে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই লোকটি বিশ্বাসঘাতক। মোকরেয এসে আল্লাহর রসূলের সাথে আলাপ করার পর তিনি এর আগে বুদাইলকে যেসব কথা বলেছিলেন, সেসব কথাই বললেন, মোকরেয ফিরে গিয়ে কোরায়শদের কাছে সব কথা জানালো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 রক্তাক্ত সংঘাত এড়িয়ে চলার চেষ্টা

📄 রক্তাক্ত সংঘাত এড়িয়ে চলার চেষ্টা


এদিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাউল গামিমের প্রধান সড়ক ছেড়ে অন্য এক পথ ধরে অগ্রসর হলেন। পাহাড়ী এলাকা দিয়ে ছিলো সেই পথ। অর্থাৎ ডান দিকে ঘুরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হামশ-এর মাঝখান দিয়ে এমন এক পথে গেলেন, যে পথ সানিয়াতুল মারার নামক জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। ছানিয়াতুল মারার থেকে তাঁরা গেলেন হুদায়বিয়া। এই স্থান ছিলো মক্কার অদূরে। কুরাউল গামিম থেকে অন্য পথে মুসলমানদের যেতে দেখে অর্থাৎ পথ পরিবর্তন করতে দেখে খালেদ কোরায়শদের নয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুত মক্কায় গেলো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 বুদাইল ইবনে ওয়ারাকার আগমন

📄 বুদাইল ইবনে ওয়ারাকার আগমন


রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চিত মনে অবস্থানের এক পর্যায়ে খাযাআ গোত্রের বুদাইল ইবনে ওরাকা খাজাআ গোত্রের কয়েকজন লোকসহ আল্লাহর রসূলের সাথে সাক্ষাতের জন্যে এলেন। তোহামার অধিবাসীদের মধ্যে এই গোত্রের লোকেরা ছিলো আল্লাহর রসূল ও মুসলমানদের হিতাকাঙ্খী। বুদাইল বললেন, আমি কা'ব ইবনে হুওয়ায়কে দেখে এলাম যে হোদায়বিয়ার পর্যাপ্ত পানির জলাশয় নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তার সঙ্গে নারী ও শিশুরা রয়েছে। সে আপনার সাথে লড়াই করতে এবং বায়তুল্লাহ থেকে আপনাদের দূরে রাখার জন্যে সংকল্পবদ্ধ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা কারো সাথে লড়াই করতে আসিনি। লড়াই কোরায়শদের ভেঙ্গে ফেলেছে এবং মারাত্মক ক্ষতি করেছে। কাজেই তারা যদি চায় তবে আমি তাদের সাথে একটা সময় নির্ধারণ করে নেব এবং তারা আমার ও আমার লোকদের মাঝখান থেকে সরে যাবে। যদি তারা চায় তবে লোকেরা যে বিষয়ে প্রবেশ করেছে, সে সম্পর্কেও গাফেল হয়ে যাবে, অন্যথায় তারা শান্তি তো লাভ করবে। যদি তারা লড়াই ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থায় রাজি না হয় তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি দ্বীনের ব্যাপারে ততক্ষণ যাবত তাদের সাথে লড়াই করবো, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দেহে প্রাণ থাকে অথবা যতক্ষণ যাবত আল্লাহর ইচ্ছার বাস্তবায়ন না ঘটে।
বুদাইল বললেন, আপনার বক্তব্য আমি কোরায়শদের কাছে পৌঁছে দেব। পরে তিনি কোরায়শদের কাছে গিয়ে বললেন, আমি ওদের কাছ থেকে আসছি। আমি তাদের কাছে একটা কথা শুনেছি, যদি তোমরা শুনতে চাও তবে বলতে পারি। নির্বোধরা বললো, আমাদের শোনার দরকার নেই। আমরা তাদের কোন কথা শুনতে চাই না। বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন কয়েকজন বললো, শোনো তো দেখি, কি বলেছে? বুদাইল সবকথা খুলে বললেন। এরপর কোরায়শরা মোকরেয ইবনে হাফসকে প্রতিনিধি হিসাবে প্রেরণ করলো। তাকে দেখে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই লোকটি বিশ্বাসঘাতক। মোকরেয এসে আল্লাহর রসূলের সাথে আলাপ করার পর তিনি এর আগে বুদাইলকে যেসব কথা বলেছিলেন, সেসব কথাই বললেন, মোকরেয ফিরে গিয়ে কোরায়শদের কাছে সব কথা জানালো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কোরায়শদের দ্রুত প্রেরণ

📄 কোরায়শদের দ্রুত প্রেরণ


এরপর বনু কেনানা গোত্রের হালিস ইবনে আলকামা নামক এক ব্যক্তি বললো, আমাকে ওদের কাছে যেতে দাও। কোরায়শরা অনুমতি প্রদান করলো। ওকে দেখে প্রিয় নবী সাহাবাদের বললেন, এই লোকটি অমুক। সে এমন কওমের সাথে সম্পর্কিত যারা হোদীর পশুর সম্মান করে। কাজেই পশুপালকে দাঁড় করাও। সাহাবারা পশুপাল দাঁড় করালেন এবং নিজেরা লাব্বায়েক বলে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। এই লোকটি এ অবস্থা দেখে বললো, সুবহানাল্লাহ, বায়তুল্লাহ থেকে এদের ফিরিয়ে রাখা মোটেই সমীচীন নয়। অন্য কোন কথা না বলে সে সোজা কোরায়শদের কাছে চলে গেলো এবং বললো, আমি হোদীর অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যবাইয়ের জন্যে আনীত পশু দেখেছি। তাদের গলায় বস্ত্রখন্ড বাঁধা রয়েছে এবং বহু পশুর কোহান রক্তাক্ত করে চিহ্ন দেয়া হয়েছে। কাজেই ওদেরকে বায়তুল্লাহ থেকে ফিরিয়ে রাখা আমি সমীচীন মনে করি না। এরপর কোরায়শদের এবং তার মধ্যে এমন কিছু কথা হলো যে, সে ক্ষেপে গেলো।
ওরওয়া ইবনে মাসউদ ছাকাফি এ সময় হস্তক্ষেপ করে বললো, তিনি তোমাদের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব গ্রহণ করো এবং আমাকে তার কাছে যেতে দাও। কোরায়শরা তাকে অনুমতি দিলো। সে এসে আল্লাহর রসূলের সাথে কথা বলতে লাগলো। বুদাইল এবং তার সঙ্গীদের যেসব কথা বলেছিলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেসব কথাই পুনরায় বললেন। সেসব শুনে ওরওয়া বললো, হে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বলুন তো আপনি যদি নিজের কওমকে নির্মূল করে দেন তবে আপনি কি আপনার আগে কোন আরব সম্পর্কে এমন কথা শুনেছেন যে, তিনি নিজের কওমকে নির্মূল নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন? যদি ভিন্নরকম পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তবে খোদার কসম, আমি এমন সব চোহারা এবং এমন সব উদভ্রান্ত লোকদের দেখেছি, যারা আপনাকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মতোই মনে হয়। একথা শোনার পর হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, লাত-এর লজ্জাস্থানের ঝুলন্ত চামড়া চোষো গিয়ে। আমরা আল্লাহর রসূলকে ছেড়ে পালিয়ে যাব? ওরওয়া বললো, এই লোকটি কে? সাহাবারা বললেন, এই ব্যক্তি হচ্ছেন হযরত আবু বকর (রা.)। ওরওয়া তখন হযরত আবু বকর (রা.)-কে সম্বোধন করে বললো, দেখো, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তুমি এক সময় আমাকে অনুগ্রহ করেছিলে। যদি তা না হতো এবং আমার সেই প্রতিদান না দেয়া থাকতো, তবে অবশ্যই আমি ওকথার জবাব দিতাম।
এরপর ওরওয়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বলতে লাগলো। সে কথা বলার সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাড়ি স্পর্শ করছিলো। মুগিরা ইবনে শোবা (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিয়রে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর হাতে ছিলো তলোয়ার। ওরওয়া আল্লাহর রসূলের দাঁড়িতে হাত দেয়া মাত্র হযরত মুগিরা তলোয়ারের বাঁট দিয়ে তার হাত সরিয়ে দিতেন এবং বলতেন, নিজের হাত আল্লাহর রসূলের দাঁড়ি থেকে দূরে রাখো। এক পর্যায়ে ওরওয়া মাথা তুলে হযরত মুগিরার পরিচয় জানতে চাইল। সাহাবারা বললেন, মুগির ইবনে শো'বা (রা.)। ওরওয়া বললো, বিশ্বসঘাতক। আমি কি তোর কাজে ছুটোছুটি করিনি? ঘটনা ছিলো এই যে, হযরত মুগিরা ইবনে শো'বা কিছু লোকের সঙ্গে ছিলেন। এরপর তাদেরকে হত্যা করে তাদের ধন-সম্পদ সঙ্গে নিয়ে মদীনায় এসেছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তোমার মুসলমান হওয়া আমি মেনে নিচ্ছি কিন্তু সে ধন-সম্পদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওরওয়া ছুটোছুটি করেছিলো। এখন সে কথাই বলছে। উল্লেখ্য, হযরত মুগিরা ছিলেন ওরওয়ার ভ্রাতুষ্পুত্র।
এরপর ওরওয়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাহাবাদের বিশেষ সম্পর্ক দেখতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর মক্কায় ফিরে গিয়ে নিজের সঙ্গীদের বললেন, হে কওম, আমি কায়সার কিসরা এবং নাজ্জাশীর মতো সম্রাটদের কাছে গিয়েছি। আল্লাহর শপথ, আমি কোন বাদশাহকে দেখিনি, যিনি তার সঙ্গীদের কাছ থেকে এতো মর্যাদা লাভ করেন। যতোটা সম্মান ও মর্যাদা মোহাম্মদকে লাভ করতে দেখেছি। আল্লাহর শপথ, তিনি যখন থুথু ফেলেন, সেই থুথু কেউ না কেউ হাত বাড়িয়ে নিয়ে নেয় এবং মুখে দেহে মাখিয়ে দেয়। তিনি কোন আদেশ করলে সে আদেশ পালনে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তিনি ওজু করতে শুরু করলে তার পরিত্যক্ত পানি গ্রহণে সঙ্গীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যায়। তিনি কথা বলতে শুরু করলে তার সঙ্গীরা কণ্ঠস্বর নীচু করে ফেলে। শ্রদ্ধার আতিশয্যে সঙ্গীরা তাঁর প্রতি পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় না। এমন একজন ব্যক্তি তোমাদের একটি ভালো প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রস্তাব গ্রহণের জন্যে আমি তোমাদের অনুরোধ করছি।
কোরায়শের যুদ্ধবাজ যুবকরা যখন লক্ষ্য করলো যে, প্রবীণরা আপোস নিষ্পত্তির ফর্মুলা নিয়ে ব্যস্ত, তখন তারা যুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারা করলো। তারা সিদ্ধান্ত করলো যে, রাত্রিকালে চুপিসারে মুসলমানদের শিবিরে গিয়ে এমন হাঙ্গামা শুরু করবে যাতে উভয় পক্ষে যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যে এরপর তারা অগ্রসর হয়। রাতের অন্ধকারে ৭০ অথবা ৮০ জন যুবক তানঈম পাহাড় থেকে নেমে চুপিসারে মুসলমানদের শিবিরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু মুসলিম সৈন্য কমান্ডার মোহাম্মদ ইবনে মোসলমা (রা.) ওদের সবাইকে গ্রেফতার করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির করেন। দয়াল নবী সন্ধির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যে তাদের সবাইকে ক্ষমা ও মুক্ত করে দেন। এই সম্পর্কে আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন, 'তিনি মক্কা উপত্যকায় ওদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত ওদের হতে নিবারিত করেছেন, ওদের ওপর তোমাদের বিজয়ী করার পর।' (সূরা ফাতেহ, আয়াত, ২৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00