📄 ছ্যারিয়্যা উরনাইয়াইন
ষষ্ঠ হিজরীর শওয়াল মাসে হযরত কারজ ইবনে জাবের ফাহরীর (রা) নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর কারণ ছিলো এই যে, আকল এবং উরাইনা গোত্রের কিছুসংখ্যক লোক মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করে এবং মদীনাতেই অবস্থান করতে থাকে। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের জন্যে সহনীয় ছিলো না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে কয়েকটি উটসহ এক চারণ ভূমিতে পাঠিয়ে এ নির্দেশ দেন যে, তোমরা উটের দুধ এবং পেশাব পান করবে। এরা সুস্থ হওয়ার পর আল্লাহর রসূলের প্রেরিত উটের রাখালদের হত্যা করে উটগুলো নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ইসলাম গ্রহণের পর তারা পুনরায় কুফুরী গ্রহণ করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সন্ধানে কারয ইবনে জাবের ফাহরীর নেতৃত্বে বিশজন সাহাবীর একটি দল প্রেরণ করেন। তিনি এসব অকৃতজ্ঞ ও ধর্মান্তরিত্যের জন্যে বদদোয়া করে বলেন, 'হে আল্লাহ তায়ালা, ওদের ওপর পথ অন্ধ করে দাও, এবং কংকনের চেয়ে সংকীর্ণ করে দাও।'
সাহাবারা ধাওয়া করে তাদের পাকড়াও করেন। মুসলমান রাখালদের হত্যা করার শাস্তি হিসাবে অন্যান্য শাস্তিসহ তাদের হাত পা কেটে দেয়া হয়। এরপর তাদের হারলা নামক এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানে তারা মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। বোখারী এবং অন্যান্য গ্রন্থে এই ঘটনা হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে।
সীরাত রচয়িতারা আরো একটি সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করেছেন। সেটি ষষ্ঠ হিজরীর শওয়াল মাসে হযরত সালমা ইবনে আবু সালমার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এর বিবরণ এই যে, হযরত আমর ইবনে উমাইয়া জামরি আবু সুফিয়ানকে হত্যা করতে মক্কা গমন করেন। কেননা আবু সুফিয়ান রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে একজন বেদুইনকে মদীনায় প্রেরণ করেছিলো। কিন্তু উভয়ের কেউই উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হয়নি।
টিকাঃ
২. এই সেই কারয ইবনে জাবের ফাহরি, যিনি বদরের যুদ্ধের আগে সফওয়ানের সামরিক অভিযানে মদীনায় পশুপালের ওপর খেলা করেছে। পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মক্কা বিজয়ের সময় শাহাদাত বরণ করেন।
৩. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১২২
৪. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬০২