📘 আর রাহিকুল মাখতুম 📄 ছারিয়‍্যা খাবাত

📄 ছারিয়‍্যা খাবাত


এগার) ছারিয়‍্যা খাবাত অষ্টম হিজরীর রযব মাসে এটি পরিচালিত হয়। তবে ঘটনা প্রবাহে লক্ষ্য করলে মনে হয় যে, হোদায়বিয়ার সন্ধির আগে তা পরিচালিত হয়েছিলো। হযরত জাবের (রা.) বলেন, হযরত আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহর নেতৃত্বে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনশত সওয়ারীকে প্রেরণ করেন। কোরায়শদের একটি বাণিজ্য কাফেলার সন্ধানই ছিলো এর উদ্দেশ্য। এ অভিযানের সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলাম। এমনকি গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছি। এ কারণে এ অভিযানের নামকরণ হয়েছে খাবাত। গাছ থেকে পেড়ে নেয়া পাতাকে বলা হয় খাবাত। এরপর চরম ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনটি করে পর্যায়ক্রমে নয়টি উট যবাই করা হয়। আবু ওবায়দা (রা.) এরপর আর কোন উট যবাই করতে দেননি। পরে সমুদ্র থেকে আম্বর নামক একটি মাছ নদীর কিনারায় এসে ধরা দেয়। সেই মাছ থেকে আমরা পনের দিন যাবত আহার এবং এর তেল ব্যবহার করেছি।

এতে আমাদের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। হযরত আবু ওবায়দা (রা.) সেই বিশাল মাছের পিঠের একটা কাঁটা তুলে নেন। সৈন্যদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা এবং উটের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু উট একপাশে নেয়া হয়। এরপর লম্বা লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে কাঁটার নিচু দিয়ে যেতে বলা হয়। উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেই লোক অনায়াসে কাঁটার নিচু দিয়ে পেরিয়ে যায়। আমরা সেই মাছের কিছু অংশ রেখে দিয়েছিলাম। মদীনায় পৌঁছার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বললেন, এটি হচ্ছে আল্লাহর রেযেক। এই রেযেক তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেছেন। এই মাছের অংশ যদি তোমাদের কাছে থাকে তবে আমাকেও খাওয়াও। আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাসায় কিছু মাছ পাঠিয়ে দিলাম। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখানেই সমাপ্ত।

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাপ্রবাহে বোঝা যায়, এটি হোদায়বিয়ার সন্ধির আগের ঘটনা। কারণ, এই সন্ধির পরে মুসলমানরা কোরায়শদের কোন বাণিজ্য কাফেলা অধিকারের চেষ্টা করেনি।

টিকাঃ
১০. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬২৫, ৬২৬, সহীহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৪৫, ১৪৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px