📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছারিয়‍্যা জামুম ও ছারিয়‍্যা গাইছ

📄 ছারিয়‍্যা জামুম ও ছারিয়‍্যা গাইছ


সাত) ছারিয়‍্যা জামুম এই সামরিক অভিযান হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.)-এর নেতৃত্বে ষষ্ঠ হিজরীর রবিউস সানিতে জামুম নামক এলাকায় প্রেরণ করা হয়। জামুম মাররাজ জাহরান বর্তমান ফাতেমা প্রান্তরে বনু ছুলাইম গোত্রের একটি জলাশয়ের নাম। হযরত যায়েদ (রা.) সেখানে পৌঁছার পর মুজাইনা গোত্রের হালিমা নামের এক মহিলাকে গ্রেফতার করেন। সেই মহিলা বনু ছুলাইমের একটি জায়গার নাম মোজাহেদদের জানিয়ে দেন। সেখান থেকে বকরিসহ বহু পশু এবং কয়েদী মুসলমানদের অধিকারে আসে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মেয়েটিকে মুক্ত করে বিয়ে দিয়ে দেন।
আট) ছারিয়‍্যা গাইছ এই অভিযানে সৈন্য সংখ্যা ছিলো ১১৭। এই অভিযানও হযরত যায়েদ ইবনে হারেছার (রা.) নেতৃত্বে ষষ্ঠ হিজরীর জমাদিউল উলায় এই একই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়। এতে কোরায়শদের একটি বাণিজ্য কাফেলার মালামাল মুসলমানদের হাতে আসে। সেই কাফেলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামাতা হযরত আবুল আসের নেতৃত্বে সফর করছিলো। আবুল আস তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত পলায়ন করে মদীনা এসে স্ত্রী হযরত যয়নবের (রা.) কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এরপর নিজ স্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি যেন তাঁর আব্বা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলে অধিকৃত কাফেলার মালামালগুলো ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেন। হযরত যয়নব (রা.) আব্বাকে স্বামীর অনুরোধের কথা জানান। হযরত যয়নব (রা.)-এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের মালামাল ফেরত দেয়ার ইঙ্গিত করেন। কোন চাপ সৃষ্টি করেননি। সাহাবায়ে কেরাম সব ধন-সম্পদ ফেরত দেন। এসব মালামালসহ আবুল আস মক্কায় চলে যান এবং কোরায়শদের সব মালামাল তাদের বুঝিয়ে দিয়ে পুনরায় মদীনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইতিপূর্বেকার বিবাহ অনুযায়ীই হযরত যয়নবকে (রা.) হযরত আবুল আসের হাতে তুলে দেন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কন্যা-জামাতার বিবাহ নবায়ন করাননি যেহেতু তখনও মুসলমান মহিলাদের জন্যে কাফের স্বামীর সাথে বসবাস করা হারাম হওয়ার আয়াত নাযিল হয়নি। তবে একটি হাদীসে আছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যয়নব ও আবুল আস-এর বিবাহ নতুন করে দিয়েছিলেন। এই হাদীসটি অর্থ ও ছনদের দিক থেকে সঠিক নয়। উভয় দিক থেকেই দুর্বল। যারা এই যয়ীফ হাদীসের বরাত দেন, তারা আশ্চর্য রকমের বিপরীতধর্মী কথা বলেন। তারা বলেন যে, আবুল আস অষ্টম হিজরীর শেষদিকে মক্কা বিজয়ের কিছুদিন আগে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা এও উল্লেখ করেন যে, অষ্টম হিজরীর প্রথমদিকে হযরত যয়নব (রা.) ইন্তেকাল করেন। অথচ বিপরীতধর্মী এ দু'টি বক্তব্য মেনে নেয়া যায় না। কারণ, এরূপ অবস্থায় আবুল আস-এর ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত করে মদীনায় পৌঁছার সময় হযরত যয়নব তো (রা.) জীবিতই ছিলেন না। এমতাবস্থায় পূর্বতন বিয়ে বা নতুন বিবাহের মাধ্যমে কিভাবে তাঁকে আবুল আস-এর হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো?
প্রখ্যাত লেখক হযরত মূসা ইবনে ওকবা (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনা সপ্তম হিজরীতে আবুল বাছির এবং তার বন্ধুদের হাতে ঘটেছিলো। কিন্তু এ তথ্য সহীহ বা যঈফ কোন হাদীস অনুযায়ীই নির্ভুল নয়।

টিকাঃ
৭. ছুনানে আবু দাউদ, দ্রষ্টব্য
৮. তোহফাতুল আহওয়াজি, ২য় খন্ড, পৃ. ১৯৫, ১৯৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছারিয়‍্যা তরফ ও ছারিয়‍্যা ওয়াদিউল কোরা

📄 ছারিয়‍্যা তরফ ও ছারিয়‍্যা ওয়াদিউল কোরা


নয়) ছ্যারিয়‍্যা তরফ বা তরক এই অভিযান হযরত যায়েদ ইবনে হারেছার (রা.) নেতৃত্বে জমাদিউস সানিতে তরফ বা তরক এলাকায় পাঠানো হয়। এটি বনু ছালাবা এলাকায় অবস্থিত। হযরত যায়েদ (রা.)-এর সাথে পনের জন সাহাবা ছিলেন। বেদুইনরা খবর পেয়েই পালিয়ে যায়। তারা আশঙ্কা করছিলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসছেন। হযরত যায়েদ (রা.) চারটি উট অধিকার করেন এবং চারদিন পর মদীনায় ফিরে আসেন।
দশ) ছারিয়‍্যা ওয়াদিউল কোরা এ অভিযানে সৈন্যসংখ্যা ছিলো বারো। এরও নেতা ছিলেন হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা (রা.)। ষষ্ঠ হিজরীর রজব মাসে তিনি ওয়াদিউল কোরা অভিমুখে রওয়ানা হন। শত্রুদের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রাখাই ছিলো উদ্দেশ্য। কিন্তু ওয়াদিউল কোরার অধিবাসীরা তাঁদের ওপর হামলা করে। এতে নয়জন সাহাবা শহীদ হন। হযরত যায়েদসহ তিনজন সাহাবা বেঁচে যান।

টিকাঃ
৯. রহমতুল লিল আলামীন, ২য় খন্ড, পৃ. ২২৬, যাদুল মায়াদ ২য় খন্ড, প. ১২০, ১২১, ১২২ এবং তালকিহুল ফুহুমি আললিল ছার-এর হাশিয়া, ২৮, ২৯ দ্রষ্টব্য

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছারিয়‍্যা খাবাত

📄 ছারিয়‍্যা খাবাত


এগার) ছারিয়‍্যা খাবাত অষ্টম হিজরীর রযব মাসে এটি পরিচালিত হয়। তবে ঘটনা প্রবাহে লক্ষ্য করলে মনে হয় যে, হোদায়বিয়ার সন্ধির আগে তা পরিচালিত হয়েছিলো। হযরত জাবের (রা.) বলেন, হযরত আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহর নেতৃত্বে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনশত সওয়ারীকে প্রেরণ করেন। কোরায়শদের একটি বাণিজ্য কাফেলার সন্ধানই ছিলো এর উদ্দেশ্য। এ অভিযানের সময় আমরা ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিলাম। এমনকি গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছি। এ কারণে এ অভিযানের নামকরণ হয়েছে খাবাত। গাছ থেকে পেড়ে নেয়া পাতাকে বলা হয় খাবাত। এরপর চরম ক্ষুধায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনটি করে পর্যায়ক্রমে নয়টি উট যবাই করা হয়। আবু ওবায়দা (রা.) এরপর আর কোন উট যবাই করতে দেননি। পরে সমুদ্র থেকে আম্বর নামক একটি মাছ নদীর কিনারায় এসে ধরা দেয়। সেই মাছ থেকে আমরা পনের দিন যাবত আহার এবং এর তেল ব্যবহার করেছি।

এতে আমাদের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। হযরত আবু ওবায়দা (রা.) সেই বিশাল মাছের পিঠের একটা কাঁটা তুলে নেন। সৈন্যদের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা এবং উটের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু উট একপাশে নেয়া হয়। এরপর লম্বা লোকটিকে উটের পিঠে বসিয়ে কাঁটার নিচু দিয়ে যেতে বলা হয়। উটের পিঠে সওয়ার হয়ে সেই লোক অনায়াসে কাঁটার নিচু দিয়ে পেরিয়ে যায়। আমরা সেই মাছের কিছু অংশ রেখে দিয়েছিলাম। মদীনায় পৌঁছার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বললেন, এটি হচ্ছে আল্লাহর রেযেক। এই রেযেক তিনি তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করেছেন। এই মাছের অংশ যদি তোমাদের কাছে থাকে তবে আমাকেও খাওয়াও। আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাসায় কিছু মাছ পাঠিয়ে দিলাম। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখানেই সমাপ্ত।

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাপ্রবাহে বোঝা যায়, এটি হোদায়বিয়ার সন্ধির আগের ঘটনা। কারণ, এই সন্ধির পরে মুসলমানরা কোরায়শদের কোন বাণিজ্য কাফেলা অধিকারের চেষ্টা করেনি।

টিকাঃ
১০. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৬২৫, ৬২৬, সহীহ মুসলিম, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৪৫, ১৪৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00