📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 সালাম ইবনে আবুল হাকিকের হত্যাকান্ড

📄 সালাম ইবনে আবুল হাকিকের হত্যাকান্ড


সালাম ইবনে আবুল হাকিকের কুনিয়ত ছিলো আবু রাফে। এই লোকটি ছিলো ইহুদীদের সেইসব নিকৃষ্ট অপরাধীদের অন্যতম, যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ধন-সম্পদ এবং খাদ্য-সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করেছিলো। এছাড়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও সে কষ্ট দিয়েছিলো। এসব কারণে মুসলমানরা বনু কোরায়যা থেকে মুক্ত হওয়ার পরে খাযরাজ গোত্রের কয়েকজন সাহাবা আবু রাফেকে হত্যার অনুমতি চাইলেন। এর আগে কা'ব ইবনে আশরাফের হত্যাকান্ডে আওস গোত্রের কয়েকজন সাহাবা অংশগ্রহণ করেছিলেন, এ কারণে খাযরাজ গোত্রের সাহাবাদের আগ্রহ ছিলো যে, তারাও ওই ধরনের কোন কৃতিত্বের পরিচয় দেবেন। তাই, তারা আবু রাফেকে হত্যার জন্যে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুমতি চাইলেন।¹

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের অনুমতি দিলেন বটে তবে তাকিদ দিলেন যে, নারী ও শিশুদের হত্যা করো না। এরপর পাঁচজন সাহাবার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল নিজেদের অভিযানে রওয়ানা হলেন। এ সকল সাহাবা খাযরাজ গোত্রের বনু সালমা শাখার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তাদের কমান্ডার নিযুক্ত হলেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আতিক।

এই ক্ষুদ্র দল খয়বর অভিমুখে রওয়ানা হলেন। কেননা আবু রাফের দুর্গসদৃশ বাসভবন সেখানেই ছিলো। সাহাবারা খয়বর গিয়ে যখন পৌছুলেন, তখন সূর্য ডুবে গেছে। সবাই নিজের জিনিসপত্র নিয়ে ঘরে ফিরছে। আবদুল্লাহ ইবনে আতিক তার সঙ্গীদের বললেন, তোমরা এখানেই অপেক্ষা করো, আমি যাচ্ছি। দরজার প্রহরীর সাথে কোন বাহানা করে আমি ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছি। এরপর তিনি গেলেন। দরজার কাছাকাছি গিয়ে মাথায় কাপড় ঢাকা দিয়ে এমনভাবে বসে পড়লেন যে, দেখে মনে হয় কেউ প্রস্রাব করতে বসেছে। প্রহরী আওয়ায দিলো, ওহে আল্লাহর বান্দা, ভেতরে যেতে চাইলে যাও, আমি দরজা বন্ধ করছি।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আতিক বলেন, আমি ভেতরে প্রবেশ করে আত্মগোপন করে রইলাম। সব লোক ভেতরে গেছে মনে করে প্রহরী দরজা বন্ধ করে একটি খুঁটির সাথে চাবি ঝুলিয়ে রাখলো। বেশ কিছুক্ষণ পর চারিদিক নীরব নিঝুম হয়ে এলে আমি উঠে চাবি নিলাম এবং দরজা খুলে দিলাম। আবু রাফে দোতালায় একটি কামরায় থাকতো। সেখানে আমোদ-প্রমোদের মজলিস হতো। মজলিসের লোকেরা চলে গেলে আমি ওপরের দিকে উঠতে লাগলাম। কোন দরজা খুললেই সেটি ভেতর থেকে বন্ধ করে দিতাম। মনে মনে ভাবলাম কেউ যদি আমার আগমন টের পেয়েও যায় তবু তার আসার আগেই আমি আবু রাফেকে হত্যা করবো। এক সময়ে আবু রাফের কাছাকাছি পৌছে গেলাম, কিন্তু ছেলেমেয়েদের নিয়ে সে একটা ঘরে শুয়েছিলো। সে ঘর ছিলো অন্ধকার। আবু রাফে কোন জায়গায় ছিলো সেটা বোঝা যাচ্ছিলো না। আবু রাফেকে আওয়ায দিলাম। সে বললো, কে ডাকে? আমি দ্রুত আওয়ায লক্ষ্য করে অগ্রসর হলাম এবং তরবারি দিয়ে আঘাত করলাম। কিন্তু খুব উত্তেজনার মধ্যে থাকায় কিছু করতে পারিনি। আঘাত লক্ষ্যচ্যুত হলো। এদিকে আবু রাফে চিৎকার করে উঠলো। আমি দ্রুত কামরা থেকে বেরিয়ে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে বললাম, আবু রাফে, কিসের আওয়ায শুনলাম? সে বললো তোমার মা বরবাদ হোক, একজন লোক এখনই আমাকে এক কামরায় তরবারি দিয়ে আঘাত করেছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আতিক বলেন, এবার আমি কাছে গিয়ে আবু রাফেকে পুনরায় আঘাত করলাম। এ আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো না। ফলে আবু রাফে রক্তাক্ত হয়ে গেলো। কিন্তু তখনো তাকে আমি হত্যা করতে পারিনি। এ কারণে তলোয়ারের মাথা তার পেটে ঢুকিয়ে দিলাম। তলোয়ারের ধারালো মাথা তার পেট ভেদ করে পিঠ পর্যন্ত ঢুকে গেলো। মনে মনে ভাবলাম, তাকে হত্যা করতে পেরেছি। এরূপ চিন্তার পর বাইরে বেরোতে শুরু করলাম। একটা দরজা খুলছি আর বেরুচ্ছি। একটা দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে রাখলাম। ভেবেছিলাম যে, নীচে পৌছে গেছি। কিন্তু সেটা ছিলো ভুল। অতর্কিতে নীচে পড়ে গেলাম। জোৎস্না রাত ছিলো। পায়ের গোড়ালি মচকে গেলো। পাগড়ি খুলে ভালোভাবে পা বাঁধলাম। এরপর দরজায় এসে বসে রইলাম। মনে মনে ভাবলাম, আবু রাফেকে প্রকৃতই হত্যা করতে পেরেছি কিনা, এটা না জানা পর্যন্ত এখান থেকে যাবো না।

ভোররাতে মোরগ ডাকার পর একজন লোক বাড়ীর ছাদে উঠে উচ্চস্বরে বলতে লাগলো যে, হেজাযের অধিবাসী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু রাফের মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করছি।

আবদুল্লাহ ইবনে আতিক বলেন, আমি তখন সঙ্গীদের কাছে গিয়ে বললাম, পালাও আল্লাহর ইচ্ছায় আবু রাফে তার কৃতকর্মের ফল লাভের জায়গায় পৌঁছে গেছে। এরপর আমরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌছে আমি সব ঘটনা খুলে বললাম। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পা বাড়িয়ে দাও, আমি পা বাড়িয়ে দিলাম। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের হাত একটুখানি ছুঁয়ে দিলেন। সাথে সাথে মনে হলো যে, আমার পায়ে কোন ব্যথা ছিলোই না।²

এটি সহীহ বোখারীর বর্ণনা। ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, আবু রাফের ঘরে পাঁচজন সাহাবাই প্রবেশ করেছিলেন এবং সবাই হত্যার কাজে অংশ গ্রহণ করেন। যিনি আবু রাফের দেহে আঘাত করেছিলেন তাঁর নাম ছিলো আবদুল্লাহ ইবনে উনাইস। এ বর্ণনায় একথাও উল্লেখ রয়েছে যে, রাত্রিকালে আবু রাফেকে হত্যা করার পর আবদুল্লাহ ইবনে আতিকের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিলো। অন্য সাহাবারা তাঁকে তুলে নিয়ে এসে দুর্গের দেয়াল সংলগ্ন একটি জলাশয়ের কাছে লুকিয়ে রইলেন। এদিকে ইহুদীরা আগুন জ্বালালো এবং চারিদিক থেকে ছুটে এলো। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কাউকে না পেয়ে তারা নিহত লোকটির কাছে ফিরে গেলো। সাহাবায়ে কেরাম ফিরে আসার সময় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আতিককে ধরাধরি করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন।³

পঞ্চম হিজরীর জিলকদ অথবা জিলহজ্জ মাসে এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।⁴

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দক ও কোরায়যার যুদ্ধের পর এবং যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করলেন। সেইসব গোত্র এবং লোকদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলেন, যারা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যতীত শান্তির আশা ছিলো সুদূর পরাহত।

টিকাঃ
১. ফতহুল বারী, সপ্তম খন্ড, পৃ. ৩৪৩
২. সহীহ বোখারী, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৭৭
৩. ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ২৮৪, ২৮৫
৪. রহমতুল লিল আলামীন, ২য় খন্ড, পৃ. ২২৩

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছারিয়‍্যা মোহাম্মদ ইবনে মোসলামা

📄 ছারিয়‍্যা মোহাম্মদ ইবনে মোসলামা


খন্দক ও কোরায়যার যুদ্ধের পর এটি ছিলো প্রথম সামরিক অভিযান। ত্রিশজন সাহাবার সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এই অভিযানে অংশ নেন।

নজদের অভ্যন্তরে বাকরাত এলাকার রিয়ায় এই সেনাদল প্রেরণ করা হয়। হিজরীর ১০ই মহররম এই সেনাদল প্রেরিত হয়। যারিয়া এবং মদীনার মধ্যে সাত রাতের দূরত্ব। লক্ষ্য ছিলো বনু বকর ইবনে কেলাব গোত্রের একটি শাখা। মুসলমানরা ধাওয়া করলে শত্রুরা সকলেই পালিয়ে যায়। মুসলমানরা বকরিসহ বেশ কিছু চতুষ্পদ জন্তু অধিকার করে এবং মহররমের একদিন বাকি থাকতেই মদীনায় এসে পৌছেন। এরা বনু হানিফা গোত্রের সর্দার ছামামা ইবনে আছাল হানাফীকেও গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন। ছামামা ভন্ড নবী মোসায়লামা কাযযাবের নির্দেশে ছদ্মবেশ ধারণ করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে বেরিয়েছিলো।⁵

কিন্তু মুসলমানরা ছামামাকে গ্রেফতার করে মসজিদে নববীর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ছামামা, তোমার কাছে কি আছে? সে বললো, হে মোহাম্মদ, আমার কাছে আছে কল্যাণ। যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন তবে এমন একজন লোককে হত্যা করবেন যার দেহে প্রচুর রক্ত আছে। যদি অনুগ্রহ করেন, তবে এমন একজন লোককেই অনুগ্রহ করবেন যে লোক অকৃতজ্ঞ নয়। যদি ধন-সম্পদ চান, তবে বলুন কি পরিমাণ প্রয়োজন। এসব কথা শোনার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সেই অবস্থাই ফেলে রাখলেন, দ্বিতীয়বার এসে তিনি একই প্রশ্ন করলেন এবং ছামামা একই জবাব দিলো। এরপর তৃতীয়বার এসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই প্রশ্ন করলেন এবং সেই একই জবাব দিলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর নির্দেশ দিলেন যে, ছামামাকে মুক্ত করে দাও। তাকে মুক্ত করে দেয়া হলো। ছামামা তখন মসজিদে নববীর কাছে একটি খেজুর বাগানে গিয়ে গোসল করে পবিত্র হলো এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে ইসলাম গ্রহণ করলো। ইসলাম গ্রহণের পর সে বললো, আল্লাহর শপথ, সমগ্র পৃথিবীতে কোন মানুষের চেহারা আমার দৃষ্টিতে আপনার চেহারার চেয়ে অপ্রিয় ছিলো না। কিন্তু আজ কোন মানুষের চেহারা আপনার চেহারার চেয়ে প্রিয় নয়। আল্লাহর শপথ, বিশ্ব জগতে আপনার দ্বীনের চেয়ে অপ্রিয় দ্বীন আমার কাছে আর ছিলো না কিন্তু বর্তমানে আপনার দ্বীন আমার কাছে অন্য সকল দ্বীনের চেয়ে প্রিয়। আপনার সওয়াররা আমাকে এমতাবস্থায় গ্রেফতার করেছে যে, আমি ওমরাহ পালনের ইচ্ছা করছিলাম। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে সুসংবাদ দিলেন এবং পালনের নির্দেশ দিলেন। কোরায়শদের কাছে পৌঁছার পর তারা বললো, ছামামা, তুমি বেদ্বীন হয়ে গেছো। তিনি বললেন, না আমি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে মুসলমান হয়েছি। শোনো, তোমাদের কাছে ইয়ামামার কোনো গম আসবে না যতক্ষণ না রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি প্রদান করেন। ইয়ামামা হচ্ছে মক্কাবাসীদের কাছে ক্ষেতের মতো। হযরত ছামামা (রা.) দেশে পৌঁছে মক্কায় গম বফতানী বন্ধ করে দিলেন। এতে কোরায়শরা ভীষণ মুশকিলে পড়ে গেলো। তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্কের দোহাই দিয়ে লিখলো যেন তিনি ছামামাকে মক্কায় গম রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার অনুরোধ জানান। দয়াল নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাই করলেন।⁶

টিকাঃ
৫. সীরাতে হালবিয়াহ, ২য় খন্ড, পৃ. ২৯৭
৬. যাদুল মায়াদ, ২য় পৃ. ১১৯. মোখতাছারুস সিয়ার শেখ আবদুল্লাহ, ৭. ২৯২ ২৯৩

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 গোযওয়ায়ে বনু লেহইয়ান

📄 গোযওয়ায়ে বনু লেহইয়ান


বনু লেহইয়ান গোত্রের লোকেরাই রাজিঈ নামক জায়গায় দশজন সাহাবাকে ধোঁকা দিয়ে নিয়ে আটজনকে হত্যা এবং দুইজনকে মক্কাবাসীদের হাতে বিক্রি ছিলো। সেখানে তারা সেই দুইজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু বনু লেহইয়ানদের এলাকা যেহেতু মক্কার কাছাকাছি, অথচ কোরায়শ ও মুসলমানদের সাথে চরম বিরোধ চলছিলো। তাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শত্রুদের অতো কাছাকাছি যাওয়া সমীচীন মনে করছিলেন না। ইতিমধ্যে কোরায়শদের বিভিন্ন দলের মধ্যে ফাটল ধরেছে, মুসলমানদের বিরোধিতার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্কল্পের জোর অনেকটা কমে গেছে এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতও তারা মেনে নিয়েছে। এ কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মনে করলেন যে, বনু লেহইয়ানের কাছ থেকে রাজিঈ-এর শহীদদের হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের সময় এসেছে। ষষ্ঠ হিজরীর রবিউল আউয়াল অথবা জমাদিউল আউয়াল মাসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুইশত সাহাবাসহ বনু লেহইয়ান গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। অন্যদের বলা হলো, তিনি সিরিয়া যাবেন। রসূল প্রথমে উমায এবং উসফান স্থলদ্বয়ের মধ্যখানে অবস্থিত বাতনে গাররান নামক উপত্যকায় পৌঁছন। সাহাবাদের সেখানেই হত্যা করা হয়। রসূল সেখানে সাহাবাদের জন্যে আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। এদিকে বnu লেহইয়ান গোত্রের লোকেরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের খবর শুনে পাহাড়ী এলাকায় পালিয়ে গেলো। তাই তাদের কাউকেই আটক করা সম্ভব হলো না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে দুইদিন অবস্থান করেন। বিভিন্ন এলাকায় খন্ড খন্ড দলে বিভক্ত করে সাহাবাদের প্রেরণ করেন। কিন্তু কারো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উসফান নামক জায়গায় গিয়ে সেখান থেকে দশজন ঘোড় সওয়ার সাহাবাকে কোরাউল গামীম নামক জায়গায় প্রেরণ করেন। কোরায়শদের তাঁর আগমন সংবাদ জানাতেই তাদের প্রেরণ করা হয়। মোট চৌদ্দদিন বাইরে অবস্থানের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ফিরে আসেন।
এ অভিযান থেকে ফিরে এসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যায়ক্রমে কয়েকটি সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন। এখানে সেসব সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছারিয়‍্যা গামর ও ছারিয়‍্যা যুল কেস্সা (১)

📄 ছারিয়‍্যা গামর ও ছারিয়‍্যা যুল কেস্সা (১)


চার) হ্যারিয়্যা গামর ষষ্ঠ হিজরীর রবিউল আউয়াল বা রবিউস সানিতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চল্লিশজন সাহাবাকে গামর নামক জায়গায় এক অভিযানে প্রেরণ করেন। গামার বনু আছাদ গোত্রের একটি জলাশয়ের নাম। হযরত মুহম্মদ বিন মাসলামা (রা.) এর নেতৃত্ব দেন। মুসলমানদের আগমনের খবর পেয়ে শত্রুরা পালিয়ে যায়। মুসলমানরা তাদের দুইশত উট মদীনায় নিয়ে আসে।
পাঁচ) হ্যারিয়া যুল কেস্সা (১) ষষ্ঠ হিজরীর রবিউল আউয়াল বা রবিউস সানিতে মোহাম্মদ ইবনে মোসলমার নেতৃত্বে দশজন সাহাবার একটি সেনাদল যুল কেস্সা নামক স্থান অভিমুখে রওয়ানা হন। এই স্থান বনু ছালাবা গোত্রের বসতি এলাকায় অবস্থিত। শত্রুদের সংখ্যা ছিলো একশত তারা পালিয়ে গিয়ে

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00