📄 দওমাতুল জন্দলের যুদ্ধ
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর থেকে ফিরে এসেছেন। চারিদিকে শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ। সমগ্র এলাকায় ইসলামের জয় জয়কার, প্রশান্তিময় ও স্নিগ্ধ সুরভিত অবস্থা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবের শেষ সীমান্ত পর্যন্ত নযর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন। এটার প্রয়োজনও ছিলো। কেননা এর ফলে পরিস্থিতির ওপর মুসলমানদের সুদৃঢ় নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং শত্রুমিত্র সকলেই সেকথা বুঝতে পারবে এবং স্বীকার করবে।
বদরের ছোট যুদ্ধের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছয় মাস যাবত শান্তি ও স্বস্তির সাথে মদীনায় অতিবাহিত করেন। এরপর তাঁকে জানানো হলো যে, সিরিয়ার নিকটবর্তী দওমাতুল জন্দল এর আশে পাশে গোত্রসমূহ পথ চলতি কাফেলাগুলোর ওপর ডাকাতি ও লুটপাট করছে। মদীনায় হামলা করতে তারা এক বিরাট দলও প্রস্তুত করেছে। এসকল খবরের প্রেক্ষিতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাবা ইবনে আরফাতা গেফারীকে মদীনায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করে এক হাজার মুসলমানসহ রওয়ানা হলেন। পঞ্চম হিজরীর ২৫শে রবিউল আউয়াল এ ঘটনা ঘটে। পথ চিনিয়ে দেয়ার জন্যে বনু আযরা গোত্রের মাযকুর নামের একজন লোককে সঙ্গে নেয়া হয়।
এই অভিযানের সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত ছিলো এ রকম যে, তিনি রাতে সফর করতেন এবং দিনে লুকিয়ে থাকতেন। শত্রুদের ওপর আকস্মিক হামলা করার জন্যেই এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়। দওমাতুল জন্দলে পৌঁছে জানা গেলো যে, তারা অন্যত্র সরে পড়েছে। তাদের পশুপাল এবং রাখালদের ওপর কবযা করা হলো। কিছুসংখ্যক পালিয়েও গেলো।
দওমাতুল জন্দলের অধিবাসীরাও যে যেদিকে পারলো পালিয়ে গেলো। মুসলমানরা দওমাতুল জন্দল ময়দানে পৌঁছার পর স্থানীয় অধিবাসীদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করেন। আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে সেনাদল প্রেরণ করা হয় কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় ফিরে আসেন। এই অভিযানের সময় উয়াইনা ইবনে হাচনের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়। দওমাতুল জন্দল সিরিয়া সীমান্তের একটি শহর। এখান থেকে দামেশকের দূরত্ব পাঁচ এবং মদীনার দূরত্ব পনের রাত।
এ ধরনের সুচিন্তিত পদক্ষেপ এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ পরিকল্পনার ফলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের গৌরব শক্তি ও শান্তির আদর্শ দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। সময়ের গতি মুসলমানদের দিকে আসে এবং আভ্যন্তরীণ ও বাইরের সমস্যা ও সঙ্কট কমে আসে। অথচ কিছুকাল উভয় ধরনের সমস্যা মুসলমানদের ঘিরে রেখেছিলো। এসকল সফল অভিযানের ফলে মোনাফেকরা নিশ্চুপ হয়ে যায়। ইহুদীদের একটি গোত্রকে বহিষ্কার করা হয়, অন্য গোত্র সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের প্রতিশ্রুতি দেয়। কোরায়শদের শক্তিও হ্রাস পায়। মুসলমানরা ইসলামের সুমহান শিক্ষার প্রচার এবং আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দ্বীনের পয়গাম তাবলীগ করার সুযোগ লাভ করেন।
টিকাঃ
১১. ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ২০৯, যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ১১২
📄 খন্দকের যুদ্ধ
এক বছরে বেশী সময় যাবত মুসলমানদের সামরিক তৎপরতা চালানোর ফলে জাজিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। চারিদিকে মুসলমানদের প্রভাব প্রতিপত্তির বিস্তার ঘটে। এই সময়ে ইহুদীরা তাদের ঘৃণ্য আচরণ, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নানা ধরনের অবমাননা ও অসম্মানের সম্মুখীন করে। কিন্তু তবু তাদের আক্কেল হয়নি, তারা কোন শিক্ষাও গ্রহণ করেনি। খয়বরে নির্বাসনের পর ইহুদীরা অপেক্ষায় থাকে যে, মুসলমান এবং মূর্তিপূজকদের মধ্যে যে সংঘাত চলছে, তার পরিণাম কোথায় গিয়ে পৌছে, দেখা যাক। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই মুসলমানদের অনুকূলে যাচ্ছিলো, দূর দূরান্তে ইসলামের জয় জয়কার ছড়িয়ে পড়ছিলো। এসব দেখে ইহুদীরা হিংসায় জ্বলে-পুড়ে ছারখার হতে লাগলো। তারা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করলো। মুসলমানদের ওপর সর্বশেষ আঘাত হানার জন্যে তারা প্রস্তুতি নিতে লাগলো। তারা মুসলমানদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাচ্ছিলো। কিন্তু সরাসরি সংঘাতের সংঘর্ষের সাহস তাদের ছিলো না, এ কারণে উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্যে তারা এক ভয়ানক পরিকল্পনা গ্রহণ করলো।
ঘটনার বিবরণ এই, বনু নাযির গোত্রের ২০ জন সর্দার ও নেতা মক্কায় কোরায়শদের কাছে হাযির হলো। তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে কোরায়শদের উদ্বুদ্ধ করে বললো যে, তারাও সর্বাত্মক সাহায্য করবে। কোরায়শরা রাজি হয়ে গেলো। ওহুদের যুদ্ধের সময় কোরায়শরা পরের বছর বদরের প্রান্তরে যুদ্ধ করবে বলেও করতে পারেনি। একারণে তারা ভাবলো যে, নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে কোরায়শদের সুনাম সুখ্যাতিও বহাল রাখা যাবে, আর ইতিপূর্বে কৃত অঙ্গীকারও পূরণ করা যাবে।
ইহুদৗ প্রতিনিধিদল এরপর বনু গাতফানের কাছে গিয়ে তাদেরকেও কোরায়শদের মতোই যুদ্ধে অনুপ্রাণিত করলো। তারাও প্রস্তুত হয়ে গেলো। এরপর ইহুদীদের এই প্রতিনিধিরা আরবের বিভিন্ন গোত্রের কাছে ঘুরে ঘুরে তাদেরকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপাতে লাগলো এবং একটি যুদ্ধের জন্যে আহ্বান জানালো। এতে বহু লোক যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হলো। মোটকথা, ইহুদী রাজনীতিকরা সফলতার সাথে কাফেরদের সাথে গাঁটছড়া বাঁধলো এবং বহু লোককে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর দাওয়াত এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করলো।
এরপর পরিকল্পিত কর্মসূচী অনুযায়ী দক্ষিণ দিক থেকে কোরায়শ, কেনানা এবং তোহামায় বসবাসকারী অন্যান্য মিত্র গোত্র মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হলো। এদের অধিনায়ক ছিলো কাফের নেতা আবু সুফিয়ান। সম্মিলিত সৈন্যসংখ্যা ছিলো ৪ হাজার। এরা মাররাজ জাহরাহন পৌঁছালে বনু সালিম গোত্রের লোকেরাও তাদের সাথে শামিল হলো। এদিকে এই সময়ে পূর্ব দিক থেকে সাতফান গোত্র, ফাজরাহ, মাররা এবং আশজাআ রওয়ানা হলো।
ফাজরাহ গোত্রের সেনানায়ক ছিলো উয়াইনা ইবনে হাসান। বনু মাররা গোত্রের সেনাপতি ছিলো হারেস ইবনে আওফ-এবং বনু আশজা- এর সেনাপতি ছিলো মাছারাহ ইবনে রাখিল। এদের সাথে বনু আছাদ এবং অন্যান্য গোত্রের বহু লোকও জোটবদ্ধ হলো।
📄 বনু কোরায়যার যুদ্ধ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দক থেকে ফিরে আসার পর যোহরের নামাযের সময় হযরত উম্মে সালমার গৃহে এক পর্যায়ে অবস্থান করছিলেন। সেই সময় হযরত জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন, অথচ ফেরেশতারা এখনো অস্ত্র রাখেনি। কওমের অনুসরণ করে আমিও আপনার কাছে এসেছি। উঠুন, আপনার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে বনু কোরায়যার কাছে চলুন। আমি আগে আগে যাচ্ছি। ওদের দুর্গে কাঁপন এবং মনে ভয় ও আতঙ্ক ধরিয়ে দেব। একথা বলে হযরত জিবরাইল (আ.) ফেরেশতাদের সাথে রওয়ানা হয়ে গেলেন।
এদিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন সাহাবীকে দিয়ে ঘোষণা করালেন যে, যারা শুনতে পাচ্ছে এবং আনুগত্য করার মন যাদের রয়েছে তারা যেন আছরের নামায বনু কোরায়যায় গিয়ে আদায় করে। পরে মদীনার দেখাশোনার দায়িত্ব হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-এর ওপর ন্যস্ত করে হযরত আলী (রা.)-এর হাতে পতাকা দিয়ে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু কোরায়যার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। হযরত আলী (রা.) বনু কোরায়যার দুর্গের কাছে পৌছার পর সেই গোত্রের ইহুদীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গালাগাল দিতে শুরু করলো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছুক্ষণ পরই মোহাজের ও আনসার সাহাবাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে হাযির হলেন। প্রথমে তিনি আনা নামক একটি জলাশয়ের কাছে থামলেন। মুসলমানরাও যুদ্ধের ঘোষণা শুনে বনু কোরায়যা গোত্র অভিমুখে রওয়ানা হলেন। পথে আছরের নামাযের সময় হলো। কেউ কেউ বললেন, আমাদেরকে বনু কোরায়যায় গিয়ে আছরের নামায আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমরা সেখানে গিয়েই নামায আদায় করবো। এরা আছরের নামায এশার নামাযের পর আদায় করলেন। অন্য কয়েকজন সাহাবা পথে আছরের নামাযের সময় হওয়ায় সেখানেই নামায আদায় করলেন। তাঁরা বললেন যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের তাড়াতাড়ি পৌঁছার উপর গুরুত্ব দেয়ার জন্যেই বনু কোরায়যায় গিয়ে আছরের নামায আদায় করতে বলেছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এই প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে তিনি উভয় দলের কাউকেই সমালোচনা করেননি।
মোটকথা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সাহাবায়ে কেরাম বনু কোরায়যায় পৌঁছে এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিলিত হলেন। এরপর তাঁরা বনু কোরায়যার দুর্গসমূহ অবরোধ করলেন। সাহাবাদের সংখ্যা ছিলো তিন হাজার। তাঁদের সঙ্গে ত্রিশটি ঘোড়া ছিলো। অবরোধ কঠোররূপ ধারণ করলে ইহুদীদের সর্দার কা'ব ইবনে আছাদ সকল ইহুদীর সামনে তিনটি প্রস্তাব পেশ করলো।
এক) ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে দ্বীনে মোহাম্মদীতে প্রবেশ এবং এর মাধ্যমে নিজেদের জানমাল ও পরিবার পরিজন রক্ষা করা। আল্লাহর শপথ, তোমাদের কাছে এটাতো স্পষ্ট হয়েছে যে, মোহাম্মদ প্রকৃতই নবী ও রসূল এবং এই তিনি হলেন সেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার কথা তোমাদের কেতাবে উল্লেখ রয়েছে।
দুই) নিজ পরিবার পরিজনকে আপন হাতে হত্যা করা এবং তলোয়ার নিয়ে সর্বশক্তিতে মুসলমানদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। এরপর হয় তো জয় অথবা পরাজিত হতে হবে। এমনও হতে পারে যে, যুদ্ধে সবাইকে নিহতও হতে হবে।
তিন) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবাদের ধোঁকা দিয়ে শনিবার দিন তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। কারণ তাঁরা নিশ্চিত থাকবেন যে, আজকের দিনে কোন লড়াই হবে না।
কিছু ইহুদীরা উল্লিখিত তিনটি প্রস্তাবের একটিও গ্রহণ করলো না। এতে বিরক্ত হয়ে কা'ব ইবনে আছাদ বললেন, মাতৃগর্ভ থেকে জন্মলাভের পর তোমাদের মধ্যে কেউ বুদ্ধি-বিবেচনার সাথে একটি রাতও কাটাওনি।
তিনটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করার পর বনু কোরায়যার সামনে একটি মাত্র পথই খোলা থাকে, সেটি হচ্ছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে অস্ত্র সমর্পণ এবং নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেয়া। কিন্তু অস্ত্র সমর্পণের আগে ইহুদীরা তাদের কিছুসংখ্যক মুসলমান মিত্রের সাথে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। তারা ভাবছিলো যে, এই আলোচনার মাধ্যমে মুসলমানদের কাছ থেকে অস্ত্র সমর্পণের পরিণতি সম্পর্কে হয়তো আভাস পাওয়া যাবে।
এরূপ চিন্তা করে ইহুদীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে প্রস্তাব পাঠালো যে, দয়া করে আবু লোবাবাকে আমাদের কাছে প্রেরণ করুন। আমরা তাঁর সাথে কিছু পরামর্শ করতে চাই। আবু লোবাবা ছিলেন ইহুদীদের মিত্র। তাঁর বাগান এবং পরিবার পরিজনও ছিলো ইহুদীদের এলাকায়। হযরত আবু লোবাবা (রা.) সেখানে পৌঁছার পর ইহুদী নারী ও শিশুরা তাঁর কাছে ছুটে এলো এবং হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো। এ অবস্থা দেখে তাঁর দুই চোখও অশ্রুসজল হয়ে উঠলো। ইহুদীরা তাঁকে বললো, আবু লোবাবা আপনি কি চান যে, আমরা মোহাম্মদের ফয়সালা সাপেক্ষে অস্ত্র সমর্পণ করি? তিনি বললেন, হাঁ চাই। পরক্ষণে নিজের গলার প্রতি ইশারা করলেন। এই ইশারার অর্থ হচ্ছে যে, অস্ত্র সমর্পণ করতে পারো তবে অস্ত্র সমর্পণের পর তোমাদের যবাই করে দেয়া হবে। এইরূপ ইশারা করার সাথে সাথে হযরত আবু লোবাবার মনে পড়লো যে, তিনি আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খেয়ানত করেছেন। একথা মনে হওয়ার সাথে সাথে তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ফিরে আসার পরিবর্তে সোজা মসজিদে নববীতে গিয়ে হাযির হলেন। এরপর নিজেকে মসজিদে নববীর একটি খুঁটির সাথে বেঁধে কসম করলেন যে, অন্য কেউ নয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই নিজের পবিত্র হাতে আমার এ বাঁধন খুলবেন। এছাড়া তিনি এ মর্মেও প্রতিজ্ঞা করলেন যে, ভবিষ্যতে কখনো বনু কোরায়যার ভূখন্ডে প্রবেশ করবেন না। এদিকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত দূত আবু লোবাবার দেরী দেখে নানা কথা ভাবছিলেন। পরে সবকিছু শোনার পর তিনি বললেন, সে যদি আমার কাছে ফিরে আসতো, তবে তার মাগফেরাতের জন্যে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম। কিন্তু সে যখন এমন কাজই করেছে, এখন তো আমি তার বাঁধন ততক্ষণ খুলতে পারবো না, যতক্ষণ আল্লাহ তায়ালা তার তওবা কবুল না করেন।
এদিকে আবু লোবাবার ইশারা সত্তেও ইহুদীরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত করলো। তারা ভাবলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তারা সেটাই মেনে নেবে। অথচ বনু কোরায়যা ইচ্ছা করলে দীর্ঘকাল যাবত অবরোধের শাস্তি ভোগ করতে পারতো। তাদের ছিলো পর্যাপ্ত খাদ্য-সামগ্রী, পানির কূপ এবং মযবুত দুর্গ। পক্ষান্তরে মুসলমানরা খোলা ময়দানে রক্ত জমে বরফ হওয়া শীত এবং ক্ষুধায় কাতর ছিলেন। খন্দকেরও আগে থেকে একাধিক যুদ্ধের কারণে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে ছিলেন খুবই ক্লান্ত। কিন্তু বনু কোরায়যার যুদ্ধ ছিলো প্রকৃতপক্ষে একটি স্নায়বিক যুদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা ইহুদীদের মনে মুসলমানদের প্রভাব প্রবল করে দিয়েছিলেন। তাদের মনোবল নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। এদিকে হযরত আলী (রা.)-এর এক ঘোষণায় তারা একেবারে ভেঙ্গে পড়লো। হযরত আলী (রা.) এবং হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম বনু কোরায়যা গোত্রের বসতি এলাকার দিকে এগিয়ে গেলেন। এরপর হযরত আলী (রা.) বীর বিক্রমে ঘোষণা করলেন, ঈমানদার মোহাজেররা শোনো, তোমরা শোনো, আর দেরী নয়, আল্লাহর শপথ, এবার আমিও তাই পান করবো, হযরত হামযা (রা.) যা পান করেছিলেন অথবা এই দুর্গ জয় করবো।
হযরত আলী (রা.)-এর বীরত্বব্যঞ্জক এই প্রতিজ্ঞার কথা শুনে বনু কোরায়যা আর দেরী করলো না। তারা নিজেদেরকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে সমর্পণ করে বললো, আপনি যা ভালো মনে হয় তাই করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পুরুষদের বেঁধে ফেলো। মোহাম্মদ ইবনে মোসলমা আনসারীর তত্ত্বাবধানে সকল পুরুষের হাত বেঁধে ফেলা হলো। নারী ও শিশুদের পৃথক করা হলো। আওস গোত্রের লোকেরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুনয় বিনয় শুরু করলো যে, বনু কায়নুকার সাথে আপনি যে ব্যবহার করেছেন, সেটাতো আপনার মনে আছে। বনু কায়নুকা ছিলো আমাদের ভাই খাযরাজের মিত্র। এরাও আমাদের মিত্র। কাজেই আপনি এদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনাদেরই একজন লোক আপনাদের ব্যাপারে ফয়সালা দেবে এতে কি আপনারা খুশী হবেন? তারা বললো, হাঁ, হাঁ, অবশ্যই। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সা'দ ইবনে মায়া'য এ ব্যাপারে ফয়সালা দেবেন। আওস গোত্রের লোকেরা বললো, আমরা এতে সন্তুষ্ট।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর হযরত সা'দ ইবনে মায়া'যকে ডেকে পাঠালেন। তিনি ছিলেন মদীনায়। মুসলিম মোহাজেরদের সাথে তিনি আসতে পারেননি। খন্দকের যুদ্ধের সময় এক শত্রু সৈন্যের তীর নিক্ষেপের ফলে তাঁর হাতের রগ কেটে গিয়েছিলো। একটি গাধার পিঠে করে তাঁকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির করা হলো। বনু কোরায়যা এলাকায় তাঁর প্রবেশের সাথে সাথে ইহুদীরা তাকে ঘিরে ধরলো এবং বলতে লাগলো যে, হে সা'দ আপনার মিত্রদের প্রতি দয়া করুন, তাদের জন্যে কল্যাণকর ফয়সালা দিন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনাকেই বিচারক মনোনীত করেছেন। হযরত সা'দ চুপ করে রইলেন, কোন জবাব দিলেন না। চারিদিক থেকে আবেদন-নিবেদনে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে তিনি বললেন, এখন সময় এসেছে যে, সা'দ আল্লাহর ব্যাপারে কোন শক্তিধরের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না। একথা শুনে কিছু লোক তখনই মদীনায় ছুটে গেলো এবং বন্দীদের মৃত্যুর ঘোষণা প্রচার করলো।
হযরত সা'দ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছাকাছি পৌছুলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদীদের বললেন, তোমাদের সর্দারের দিকে অগ্রসর হও। হযরত সা'দ (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির হলে তিনি বললেন, হে সা'দ, ওরা তোমার ফয়সালা মেনে নিতে রাজি হয়েছে। হযরত সা'দ (রা.) বললেন আমার ফয়সালা তাদের ওপর প্রয়োজ্য হবে? সবাই বললো হাঁ, তিনি বললেন, মুসলমানদের ওপরও প্রযোজ্য হবে? তারা বললো, হাঁ। তিনি বললেন, যিনি এখানে উপস্থিত রয়েছেন তাঁর ওপরও প্রযোজ্য হবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি একথা বলেছিলেন। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জৌলুসপূর্ণ চেহারার দিকে সরাসরি তাকাতে তাঁর সাহস হচ্ছিলো না। তিনি অন্যদিকে তাকিয়ে একথা বলেছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন, জ্বী হাঁ। আমার ওপরও প্রযোজ্য হবে। হযরত সা'দ (রা.) বললেন, তবে বলছি, ওদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা এই যে, পুরুষদের হত্যা করা হবে, মহিলা ও শিশুদের বন্দী করা হবে। তাদের ধন-সম্পদ বন্টন করে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি ওদের ব্যাপারে সেই ফয়সালাই দিয়েছ, যে ফয়সালা আল্লাহ তায়ালা সাত আসমানের উপর করে রেখেছিলেন।
হযরত সা'দ ইবনে মায়া'য (রা.) এর এই ফয়সালা ছিলো অত্যন্ত সুষ্ঠু ও ন্যায়ানুগ। কেননা বনু কোরায়যা মুসলমানদের জীবন মৃত্যুর ক্লান্তিলগ্নে যে ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলো, সেটা তো ছিলোই, এছাড়া মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারুক বা না পারুক তারা ছিলো তাতে বদ্ধপরিকর। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে তারা দেড় হাজার তলোয়ার দুই হাজার বর্শা তিনশত বর্ম এবং পাঁচশত ঢাল মজুদ করেছিলো। বিজয়ের পর মুসলমানরা সেসব অস্ত্র উদ্ধার করেন।
এ ফয়সালার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে বনু কোরায়যাকে মদীনায় হাযির করে বনু নাজ্জার গোত্রের হারেযের কন্যার বাড়ীতে তাদের আটক করে রাখা হয়। সেই মহিলা ছিলো বনু নাজ্জার গোত্রের হারেস নামক এক ব্যক্তির কন্যা। এরপর মদীনার বাজারে পরিখা খনন করা হয়। গভীর গর্ত বা পরিখা খননের পর হাত বাঁধা ইহুদীদের দলে দলে নিয়ে আসা হয় এবং শিরশ্ছেদ করে সেই গর্তে ফেলে দেয়া হয়। পাইকারী হত্যাকান্ড শুরু হওয়ার পর কয়েকজন ইহুদী তাদের সর্দার কা'ব ইবনে আছাদকে বললো, আমাদের সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে, এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? তিনি রূঢ়ভাবে বললেন, তোমরা কি কিছুই বোঝো না? দেখতে পাচ্ছো না যে যাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে আর ফিরে আসছে না। নতুন করে ডেকে নেয়াও বন্ধ হচ্ছে না। হত্যা করা হচ্ছে, স্রেফ ডেকে নিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। মোদ্দাকথা সকল হাত বাঁধা ইহুদীকে মদীনায় হত্যা করা হয়। তাদের সংখ্যা ছিলো ছয় থেকে সাত শযের মাঝামাঝি।
এ তৎপরতার ফলে বিশ্বাসঘাতকতার এই বিষাক্ত সাপগুলোকে নিশ্চিহ্ন করা হয় এর মুসলমানদের সাথে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিলো মুসলমানদের নির্মূল করতে তারা নায়ক। সময়ে শত্রুদের সাথে সহযোগিতা করে মারাত্মক যুদ্ধাপরাধ করেছিলো। মৃত্যুদন্ডই ছিলো এ গুরুতর অপরাধের একমাত্র সাজা। তাদের প্রতি কোনই অবিচার করা হয়নি।
বনু কোরায়যার এই ধ্বংসের সাথে সাথে বনু নাযিরের শয়তান এবং খন্দকের যুদ্ধের বড় অপরাধী হুয়াই ইবনে আখতাবও নিজের কর্মফলের চূড়ান্তে পৌঁছে যায়। এই লোকটি ছিলো উম্মুল মোমেনীন হযরত সাফিয়্যার (রা.) পিতা। কোরায়শ ও বনু গাতফানের ফিরে যাওয়ার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও মুসলমানরা বনু কোরায়যাকে অবরোধ করেন। তারা অবরুদ্ধ হওয়ার পর হুয়াই ইবনে আখতাবও অবরুদ্ধ হয়। কেননা খন্দকের যুদ্ধের সময় এই লোকটি কা'ব ইবনে আছাদকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতায় উদ্বুদ্ধ করার সময়ে কথা দিয়েছিলো যে, তাদের বিপদকালে তাদের সঙ্গেই থাকবে। এখন সে কথা রক্ষা করছিলো। তাকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির করা হলে দেখা গেলো যে, তার পরিধানের পোশাক সবদিকে এক আঙ্গুল করে ছেঁড়া। সে এভাবে একারণেই ছিড়েছিলো যাতে, তার পোশাক গনীমতের মালের মধ্যে রাখা না যায়। মুসলমানরা তার দুই হাত ঘাঁড়ের পেছনে নিয়ে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির হয়ে সে বললো, শুনুন আপনার বিরুদ্ধে শত্রুতা করার কারণে আমি অনুতপ্ত নই। তবে কথা হলো যে, আল্লাহর সাথে যারা লড়াই করে, তারা পরাজিত হয়। এরপর সবাইকে সম্বোধন করে বললো, হে লোক সকল, আল্লাহর ফয়সালায় কোন আক্ষেপ নেই। এটা তো তকদিরের লিখন এবং বড় ধরনের হত্যাকান্ড, যা কিনা আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইলের জন্যে লিখে দিয়েছেন। এরপর সেও বসলো এবং তার শিরশ্ছেদ করা হলো।
এই ঘটনায় বনু কোরায়যার একজন মহিলাকেও হত্যা করা হয়। এই মহিলা খাল্লাদ ইবনে ছুয়াইদের ওপর গম পেশাইর চাক্কি ছুঁড়ে তাকে হত্যা করেছিলেন। সেই হত্যাকান্ডের বদলে তাকে হত্যা করা হয়।
রসূল আদেশ দিয়েছিলেন যে, যার নাভির নিচে চুল গজিয়েছে তাকেই যেন হত্যা করা হয়। আতিয়া কারাযির নাভির নীচে তখনো চুল গজায়নি, এ কারণে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। পরে তিনি ইসলামের ছায়াতলে এসে জীবন ধন্য করেছিলেন।
হযরত ছাবেত ইবনে কয়েস আবেদন করলেন যে, যোবায়ের ইবনে বাতা এবং তার পরিবার-পরিজনকে তার হাতে হেবা করে দেয়া হোক। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আবেদন মনজুর করেন। এরপর ছাবেত ইবনে কয়েস যোবায়েরকে বললেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে এবং তোমার পরিবার-পরিজনকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি তোমাদের আযাদ করে দিচ্ছি। এখন থেকে তোমরা মুক্ত। যোবায়ের ইবনে বাতা যখন খবর পেলো যে, তার স্বজাতীয়দের হত্যা করা হয়েছে, সে তখন হযরত ছাবেত ইবনে কয়েসকে বললো, ছাবেত তোমার প্রতি এক সময় আমি যে অনুগ্রহ করেছিলাম, তার দোহাই দিয়ে বলছি, আমাকেও আমার বন্ধুদের কাছে পৌঁছে দাও। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। যোবায়ের ইবনে বাতার পুত্র আবদুর রহমানকে হত্যা করা হয়নি, আবদুর রহমান পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। বনু নাজ্জার গোত্রের উম্মুল মানযার সালমা বিনতে কয়েস রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবেদন জানালেন যে, সামোয়াল কারযির পুত্র রেফায়াকে যেন তার জন্যে হেবা করে দেয়া হয়। এই আবেদনও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গ্রহণ করেন এবং রেফায়াকে তার হাতে তুলে দেন। উম্মুল মানযার রেফায়াকে জীবিত রাখেন। পরবর্তী সময়ে বেফায়া ইসলাম গ্রহণ করেন।
সেই রাতে অস্ত্র সমর্পণের ঘটনার পূর্বে কয়েকজন লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, এতে তাদের জানমাল এবং পরিবার-পরিজনকে নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। সেই রাতে আমর নামে একজন লোক বেরিয়ে আসে। এই লোকটি বনু কোরায়যার বিশ্বাসঘাতকতায় যোগদান করেনি। প্রহরীদের কমান্ডার হযরত মোহাম্মদ ইবনে মোসলমা (রা.) তাকে চিনতে পারেন এবং চেনার পর ছেড়ে দেন। পরে এই লোকটি নিরুদ্দেশ হয়ে যায়, তার আর কোন খবর পাওয়া যায়নি।
বনু কোরায়যার ধন-সম্পদ থেকে এক পঞ্চমাংশ বের করে রেখে বাকি সব কিছু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেন। ঘোড় সওয়ারদের তিন অংশ প্রদান করেন, এক অংশ তার নিজের জন্যে আর বাকি দুই অংশ ঘোড়ার জন্যে। পদব্রজে আগমনকারীদের এক অংশ প্রদান করা হয়। কয়েদী এবং শিশুদের হযরত সা'দ ইবনে যায়েদ আনসারীর নেতৃত্বে নজদে পাঠিয়ে তাদের বিনিময়ে অস্ত্র এবং ঘোড়া ক্রয় করা হয়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু কোরায়যার মহিলাদের মধ্যে রায়হানা বিনতে আমর ইবনে খানাফাকে তাঁর নিজের জন্যে পছন্দ করেন। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মোতাবেক এই মহিলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাত পর্যন্ত তাঁর কাছে ছিলো।
টিকাঃ
১. ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃ. ২৪৫