📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনায় আল্লাহর রসূল ও মদীনায় জরুরী অবস্থা

📄 মদীনায় আল্লাহর রসূল ও মদীনায় জরুরী অবস্থা


তৃতীয় হিজরীর ৭ই শাওয়াল রোবিবার বিকেলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় পৌছুলেন। ঘরে গিয়ে তাঁর তলোয়ার হযরত ফাতেমা (রা.)-কে দিয়ে বললেন, এই তলোয়ারে লেগে থাকা রক্ত ধুয়ে দাও। আল্লাহর শপথ, এই তরবারি আজ আমার জন্যে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। হযরত আলীও (রা.) তাঁর তরবারি হযরত ফাতেমা (রা.)-কে দিয়ে রক্ত ধুয়ে দিতে বললেন। আরো বললেন, আল্লাহর শপথ, এই তরবারি আমার জন্যে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়েছো তবে মনে রেখো, সুহায়েল ইবনে হুনাইফ এবং আবু দোজানা (রা.) বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে।⁸³

ওহুদের যুদ্ধে ৭০ জন মুসলমান শহীদ হয়েছেন। বর্ণনাকারীদের অধিকাংশই এই সংখ্যার ব্যাপারে একমত। শহীদদের মধ্যে ৬৫ জন ছিলেন আনসার। এদের মধ্যে ৪১ জন খাযরাজ গোত্র এবং ২৪ জন আওস গোত্র থেকে শহীদ হন। একজন ইহুদীও নিহত হয়েছিলো। আর মোহাজের শহীদ ছিলেন মাত্র চারজন। কোরায়শ কাফেরদের মধ্যে কতজন নিহত হয়েছিলো? ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের মতে তাদের ২২ জন নিহত হয়েছিলো। কিন্তু যুদ্ধবিশারদ, সীরাত রচয়িতারা ওহুদ যুদ্ধের যে বিব্রণ উল্লেখ করেছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নিহত হওয়ার যে বিবরণ দিয়েছেন তার আলোকে দেখা যায় যে, ২২ ব্যক্তি নয় বরং ৩৭ জন নিহত হয়েছিলো। আল্লাহ তায়ালাই এ সম্পর্কে ভালো জানেন।⁸⁴

মদীনায় জরুরী অবস্থা
ওহুদ থেকে ফিরে আসার পর তৃতীয় হিজরীর ৮ই সওয়াল রাতে মুসলমানরা জরুরী পরিস্থিতি অতিবাহিত করেন। তাঁরা সকলেই রণক্লান্ত হওয়া সত্তেও সারারাত মদীনার পথে পথে এবং মদীনার প্রবেশপথসমূহে কাটিয়ে দেন। হযরত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ হেফাযতের ব্যবস্থাতেও তাঁরা নিয়োজিত ছিলেন। কেননা নানাদিক থেকে তাঁরা আশঙ্কা বোধ করছিলেন।

টিকাঃ
৮৩. ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা, ১০০
৮৪. ইবনে হিশাম ২য় খন্ড পৃঃ ১২২ 'গোযযওয়ায়ে ওহুদ' পৃঃ ২৮০

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ

📄 হামরাউল আসাদের যুদ্ধ


রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা রাত যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা করেন।

তিনি এরূপ আশঙ্কা করছিলেন যে, যদি শত্রুরা এরূপ ভেবে থাকে যে, যুদ্ধের ময়দানে সংখ্যায় বেশী হয়েও আমরা কোন ফায়দা অর্জন করতে পারিনি, তবে নিশ্চয়ই তারা লজ্জিত হবে। এর ফলে তারা মক্কার পথ থেকে ফিরে এসে মদীনায় হামলা করতে পারে। এ কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিদ্ধান্ত নিলেন যে, মক্কার সৈন্যদের অনুসরণ করতে হবে।

সীরাত রচয়িতারা লিখেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহুদ যুদ্ধের পরদিন অর্থাৎ তৃতীয় হিজরীর ৮ই শাওয়াল সকালে ঘোষণা করলেন যে, শত্রুদের মোকাবেলার জন্যে রওয়ানা হতে হবে, ওহুদের যুদ্ধে যারা শরিক হয়েছিলো তারাই শুধু আমাদের সাথে যেতে পারবে। মোনাফেক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অনুমতি চাইল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমতি দিলেন না। শারীরিকভাবে আহত, স্বজন হারানোর শোকে কাতর, আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন মুসলমানরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহ্বানের সামনে মাথা নত করে দিলেন। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) ওহুদের যুদ্ধে হাযির হতে পারেননি। তিনি অনুমতি চাইলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমি সকল যুদ্ধে আপনার সঙ্গে থাকতে আগ্রহী। ওহুদের যুদ্ধে আমার কন্যাদের দেখাশোনার জন্যে আমার পিতা আমাকে রেখে গিয়েছিলেন, এ কারণে আমি যুদ্ধে যেতে পারিনি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমতি প্রদান করলেন। কর্মসূচী অনুযায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে রওয়ানা হলেন এবং মদীনা থেকে আট মাইল দূরে 'হামরাউল আছাদ' নামক স্থানে পৌঁছে শিবির স্থাপন করলেন।

এ সময়ে মা'বাদ ইবনে আবু মা'বাদ খাজায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। এর আগে তিনি শেরেকের ওপর অটল ছিলেন। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কল্যাণ কামনা করতেন। খাযাআ এবং বনু হাশেম গোত্রের মধ্যে মৈত্রী চুক্তি বিদ্যমান ছিলো। এই চুক্তির কারণেই তিনি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিতকামী ছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তিনি বললেন, আপনি এবং আপনার সঙ্গীরা যুদ্ধের ময়দানে যেরূপ কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন, এতে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। আমি মনে প্রাণে কামনা করেছিলাম, আপনি যেন ভালো থাকেন। এ ধরনের সমবেদনা প্রকাশের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মা'বাদ (রা.)-কে বললেন, আবু সুফিয়ানের কাছে যাও এবং তার উদ্যম নষ্ট করে তাকে নিরুৎসাহিত করো।

মোশরেকরা পুনরায় মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হতে পারে বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আশঙ্কা করেছিলেন, সেটাই সত্য হলো। মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরবর্তী রওহা নামক জায়গায় পৌছে মোশরেকরা একে অন্যকে দোষারোপ করতে লাগলো। তারা একদল অন্য দলকে বলছিলো, তোমরা কিছুই করোনি। ওদের শক্তিহীন করার পরও ছেড়ে দিয়েছ। ওদের এতো বেশী মাথা এখনো বিদ্যমান রয়েছে, যা কিনা পুনরায় তোমাদের মাথা ব্যথার কারণ হবে। চলো ফিরে যাই, ওদেরকে সমূলে উৎপাটন করি।

যারা এ প্রস্তাব দিয়েছিলো, মনে হয় তারা উভয় পক্ষের শক্তি সম্পর্কে সঠিক অবহিত ছিলো না। এ কারণে দায়িত্বশীল একজন সফওয়ান ইবনে উমাইয়া এই অভিমতের বিরোধিতা করে বললো, তোমরা অমন করো না। আমি আশঙ্কা করছি যে, যেসকল মুসলমান ওহুদের যুদ্ধে অংশ নেয়নি, এবার তারাও আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। কাজেই জয়লাভ আমরাই করেছি এরূপ আত্মপ্রসাদ নিয়ে মক্কায় ফিরে চলো। অন্যথায় মদীনার ওপর হামলা করলে বিপদে জড়িয়ে পড়বে। কিন্তু অধিকাংশ কাফের এ মতামত গ্রহণ করলো না এবং তারা মদীনার ওপর হামলা করার সিদ্ধান্তে অটল থাকলো। তারা মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হওয়ার আগেই মা'বাদ ইবনে মা'বাদ খাযায়ী সেখানে পৌঁছুলেন। আবু সুফিয়ান তখনো জানত না যে, মা'বাদ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন। সে জিজ্ঞাসা করলো, মা'বাদ, পেছনের খবর কি? মা'বাদ কৌশলের মাধ্যমে বললেন, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে তোমাদের অনুসরণে বেরিয়ে পড়েছেন। তারা সংখ্যায় এতো বেশী যে, এতো বড় সৈন্যদল এর আগে আমি কখনো দেখিনি। সবাই তোমাদের বিরুদ্ধে ক্রোধে জ্বলছেন। ওহুদের যুদ্ধে যারা যোগদান করেনি, এবার তারাও যোগদান করেছেন। তারা যুদ্ধে যা কিছু হারিয়েছেন, সে জন্যে লজ্জিত। বর্তমানে তোমাদের বিরুদ্ধে এমন ক্রুদ্ধ হয়ে উঠেছেন যে, আমি এ রকম ক্রোধের উদাহরণ ইতিপূর্বে দেখিনি। আবু সুফিয়ান বললো, আরে ভাই, তুমি এসব কি বলছো?

মা'বাদ বললেন, হ্যাঁ, সত্যি বলছি। আমার ধারণা তোমরা এখান থেকে চলে যাওয়ার আগেই ঘোড়ার দলটি দেখতে পাবে। সৈন্যদের অগ্রবর্তী দল এই টিলার পেছনে থেকে বেরিয়ে আসবে। আবু সুফিয়ান বললো, আল্লাহর শপথ, আমরা শপথ নিয়েছি, ওদের ওপর পাল্টা হামলা করে তাদের নির্মূল করে দেবো।

মা'বাদ বললেন, অমন করো না। আমি তোমাদের ভালোর জন্যে বলছি। এসব কথা শুনে কাফেরদের মনোবল ভেঙ্গে গেলো। তারা মক্কায় ফিরে যাওয়াই কল্যাণকর মনে করলো। তবে আবু সুফিয়ান মুসলিম বাহিনীকে নিরুৎসাহিত করতে এবং তাদের সাথে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্যে একটা কৌশল অবলম্বন করলো। মদীনার পথে চলমান বনু আবদে কায়সের একটি কাফেলার লোকদের ডেকে আবু সুফিয়ান বললো, আপনারা কি মোহাম্মদের কাছে আমার একটি পয়গাম পৌছে দিতে পারবেন? যদি পৌঁছে দেন, তবে আমি কথা দিচ্ছি যে, আপনারা মক্কায় এলে ওকাযের বাজারে আপনাদের এতো বেশী কিসমিস দেবো, যতোটা এই উটনী বহন করতে পারে।

বনু আবদে কায়েসের লোকেরা আবু সুফিয়ানের অনুরোধ রক্ষা করতে রাজি হলো। আবু সুফিয়ান বললো, আপনারা মোহাম্মদকে বলবেন যে, আমরা তাকে এবং তার সঙ্গীদের নির্মূল করার উদ্দেশ্যে পাল্টা হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

এরপর এই কাফেলা 'হামরাউল আছাদ' নামক জায়গা অতিক্রম করার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলমানদের কাছে আবু সুফিয়ানের এই বার্তা পৌছালো। সাথে সাথে বললো এও যে, ওরা আপনাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, কাজেই ওদেরকে ভয় করুন। কাফেলার লোকদের কাছে এই খবর পেয়ে মুসলমানদের ঈমান আরো চাঙ্গা হয়ে উঠলো। তারা বললো, আল্লাহ তায়ালাই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্ম সম্পাদনকারী।

ঈমানের এই শক্তির কারণে মুসলমানরা আল্লাহর নেয়ামত এবং ফযলের সাথে মদীনার পথে রওয়ানা হলেন। কোন প্রকার অকল্যাণ তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। তারা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের রেযামন্দির অনুসরণ করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অপরিসীম রহস্যের অধিকারী। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোববার দিন, হামরাউল আছাদে গমন করেন। সোম, মঙ্গল ও বুধ অর্থাৎ তৃতীয় হিজরীর ৯, ১০ ও ১১ই শাওয়াল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি মদীনায় ফিরে আসেন। মদীনায় ফিরে আসার আগেই আবু আযযা জুমাই তাঁর নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। এই লোকটি বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে বন্দী হয়েছিলো। কিন্তু দারিদ্র্য এবং কন্যা সন্তানের সংখ্যাধিক্য থাকায় তাকে মুক্তিপণ ছাড়াই মুক্তি দেয়া হয়েছিলো। তবে সে অঙ্গীকার করেছিলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবে না। কিন্তু তার সে কথা রাখেনি। কবিতার মাধ্যমে সে আল্লাহ, রসূল এবং সাহাবায়ে কেরামদের বিরুদ্ধে সাধারণ লোকদের উদ্দীপিত করতে থাকে। ইতিপূর্বে এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। এরপর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ওহুদের যুদ্ধে অংশও নিয়েছে। এই লোকটিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে হাযির করা হলো। সে বললো মোহাম্মদ, আমার ভুল ক্ষমা করে দাও। আমার ওপর দয়া করো। আমার কন্যা সন্তানদের কথা ভেবে আমাকে ছেড়ে দাও। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবো না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এখন আর এটা হতে পারে না যে, তুমি মক্কায় গিয়ে মুখমন্ডলে হাত বুলাতে বুলাতে বলবে, মোহাম্মদকে আমি দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিয়েছি। মোমেন এক গর্ত থেকে দু'বার দংশিত হয় না। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যোবায়ের, মতান্তরে হযরত আসেম ইবনে ছাবেতকে নির্দেশ দিলেন এবং তারা সেই বেঈমানের মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললেন।

এমনি করে মক্কার অন্য একজন গুপ্তচরও নিহত হয়। তার নাম ছিলো মাবিয়া ইবনে মুগিরা ইবনে আবুল আস। সে ছিলো আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নানা। ওহুদের দিনে মক্কার মোশরেকরা মক্কা ছেড়ে যাওয়ার পর এই লোকটি মদীনায় তার চাচাতো ভাই হযরত ওসমানের (রা.) মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তার নিরাপত্তার আবেদন জানায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই শর্তে তাকে নিরাপত্তা দেন যে, সে সর্বোচ্চ তিনদিন মদীনায় থাকতে পারবে। এরপরও যদি তাকে মদীনায় দেখা যায়, তবে হত্যা করা হবে। মুসলিম মোহাজেররা ওহুদের যুদ্ধে যাওয়ার পর মাবিয়া ইবনে মুগিরা কোরায়শদের গুপ্তচর বৃত্তির জন্যে মদীনায় তিনদিনের পরও থেকে যায়। মুসলিম মোহাজেররা ফিরে আসার পর সে পলায়নের চেষ্টা করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা এবং হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসেরকে নির্দেশ দেন। উভয় সাহাবী মাবিয়াকে তাড়া করে পাকড়াও করে হত্যা করেন।⁸⁵

টিকাঃ
৮৫. ওহুদের যুদ্ধ এবং হামরাউল আছাদের বিস্তারিত বিবরণ যেসব গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, ইবনে হিশাম, ২য় খন্ড, ৬০-১২৯, যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৯১-১০৯, ফতহুল বারী সপ্তম খন্ড, ৩৪৫-৩৭৭, মুখতাছারুস সিরাত ২৪২-২৫৭।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ওহুদের যুদ্ধে জয়-পরাজয় সম্পর্কিত পর্যালোচনা

📄 ওহুদের যুদ্ধে জয়-পরাজয় সম্পর্কিত পর্যালোচনা


ওহুদের যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণের পর উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যা কিছু আলোচিত হয়েছে, তার আলোকে জয় পরাজয় কিভাবে নির্ধারিত হবে? এ যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহের আলোকে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা যাবে কি যে, মুসলমানরা জয়লাভ করেছে অথবা পরাজিত হয়েছে? বাস্তবতাকে অস্বীকার না করলে বলতেই হবে যে, এই যুদ্ধের দ্বিতীয় রাতে কাফেররা প্রাধান্য লাভ করেছিলো এবং যুদ্ধের ময়দান তাদের হাতেই একরকম ছিলো। প্রাণহানিও মুসলমানদের পক্ষেই বেশী হয়েছে এবং ভয়াবহভাবেই তা হয়েছে। মুসলমানদের একটি অংশ নিশ্চিতভাবে পরাজিত হয়ে পলায়ন করেছেন। সেই সময় যুদ্ধের গতি কাফেরদের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু এতো কিছু সত্তেও এমন কিছু ব্যাপার রয়েছে, যার কারণে ওহুদের যুদ্ধে কাফেরদের জয় হয়েছে এমন কথা কিছুতেই বলা যায় না। মক্কায় সৈন্যরা মুসলমানদের শিবির দখল করে নিতে পারেনি, এটা স্পষ্টতই জানা যায়। মদীনার সৈন্যদের এক বিরাট অংশ ভয়াবহ উথাল-পাথাল অবস্থা ও বিশৃঙ্খলা সত্তেও পলায়ন করেনি। তারা সীমাহীন সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে সিপাহসালারে আযম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে সমবেত হয়েছিলেন। মুসলমানদের সংখ্যা এতো কমেনি যে, মক্কায় সৈন্যরা তাদের ধাওয়া করতে সক্ষম হবে। তাছাড়া একজন মুসলমানও কাফেরদের হাতে বন্দী হননি। কাফেররা কোন গনীমতের মালও হস্তগত করতে পারেনি। উপরন্তু কাফেররা মুসলমানদের সাথে তৃতীয় দফা লড়াই করতে প্রস্তুত হয়নি। অথচ মুসলিম বাহিনী তখনো তাদের শিবিরেই অবস্থান করছিলেন। কাফেররা যুদ্ধক্ষেত্রে এক দিন ও অবস্থান করেনি। অথচ সেকালে বিজয়ীরা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের শিবিরে কমপক্ষে তিন দিন অবস্থান করতো। এটাকে যুদ্ধ জয়ের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিদর্শন মনে করা হতো। বিজয় সংহত করার প্রমাণ দেয়াই ছিলো এর উদ্দেশ্য। কিন্তু কাফেররা চটপট যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পতিতাড়ি গুটিয়েছিলো। মদীনায় প্রবেশ, অর্থ-সম্পদ লুন্ঠন বা নাগরিকেদের গ্রেফতার করার মতো সাহসও তাদের হয়নি। অথচ ওহুদ প্রান্তর থেকে অল্প দূরেই ছিলো মদীনা নগরী। মদীনায় তখন নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তেমন ছিলো না।
মুসলমান যোদ্ধারা সবাই ছিলেন রণক্ষেত্রে। মদীনায় প্রবেশের পথে কাফেররা কোন প্রকার বাধার সম্মুখীনও হতো না।
এসকল কথার সারমর্ম হলো, মক্কার কোরায়শ সৈন্যরা একটি সাময়িক সুযোগ পেয়ে মুসলমানদের হতচকিত করে দিতে পেরেছিলো বটে, কিন্তু মুসলিম বাহিনীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর সবাইকে হত্যা বা বন্দী করে লাভবান হওয়ার অত্যাবশ্যকীয় সামরিক কৌশল তারা প্রয়োগ করতে পারেনি। পক্ষান্তরে মুসলিম সৈন্যরা সাময়িক ক্ষয়ক্ষতির সকল ধকল কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। বিজয়ীদেরকে এ ধরনের সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে এরকম উদাহরণ অনেক রয়েছে। কাজেই মুসলমানদের সাময়িক কষ্টকর অবস্থার কারণে ওহুদের যুদ্ধে কাফেরদের কিছুতেই বিজয়ী মনে করা যায় না।
যুদ্ধের তৃতীয় দফা শুরু না করে আবু সুফিয়ানের মক্কায় পথে দ্রুত পলায়ন দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, সে আশঙ্কা করছিলো যে, পুনরায় যুদ্ধ শুরু হলে তার সৈন্যদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অবধারিত। হামরাউল আছাদ যুদ্ধে আবু সুফিয়ানের ভূমিকায় এরই প্রমাণ পাওয়া যায়।
এমতাবস্থায় ওহুদের যুদ্ধে কোন পক্ষের জয় পরাজয় হয়েছে, এ কথা না বলে একে একটি অমীমাংসিত যুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করতে পারি। উভয় পক্ষই নিজ নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে লাভবান ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন না করে এবং নিজেদের শিবির শত্রুদের নিয়ন্ত্রণের জন্যে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে না রেখে যুদ্ধ বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের যুদ্ধকেই বলা হয় অমীমাংসিত যুদ্ধ। এদিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন বলেন, 'শত্রু সম্প্রদায়ের সন্ধানে তোমরা হতোদ্যম হয়ো না। যদি তোমরা যন্ত্রণা পাও, তবে তারাও তোমাদের মতো যন্ত্রণা পায় এবং আল্লাহর কাছে তোমরা যা আশা করো তারা তা করে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।' (সূরা নেসা, আয়াত ১০৪)
এই আয়াতে আল্লাহ রব্বুল আলামীন কষ্ট দেয়া এবং তা অনুভব করার ক্ষেত্রে এক বাহিনীকে অন্য বাহিনীর সাথে তুলনা করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে, উভয় দলই সমান সমান অবস্থায় ছিলো এবং কেউ কারো ওপর জয়লাভ করেনি।
এ যুদ্ধ সম্পর্কে কোরআনের মূল্যায়ন
পরবর্তী সময়ে কোরআনে এই যুদ্ধের প্রতিটি দিকের ওপর আলোকপাত করা হয়। পর্যালোচনা করে এমন সব কারণ চিহ্নিত করা হয়, যেসব কারণে মুসলমানদের এতোবড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, এই অভিযানে ঈমানদার এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতদের কি কি দুর্বলতা ছিলো। এই উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার স্বতন্ত্র মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এই উম্মতের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যেকার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়া পবিত্র কোরআন মোনাফেকদের ভূমিকা উল্লেখ করে তাদের অবস্থা খোলাখুলি প্রকাশ করেছে। তাদের অন্তকরণে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লুকিয়ে থাকা শত্রুতার প্রকাশ করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে। সহজ সরল মুসলমানদের মধ্যে মোনাফেক এবং তাদের সাথী ইহুদীরা যেসব প্ররোচনা চালিয়েছে তাও তুলে ধরা হয়েছে। এরপর এই যুদ্ধের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এই যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের ৫০টি আয়াত নাযিল হয়েছে। সর্বাগ্রে যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'স্মরণ করো যখন তুমি তোমার পরিজনবর্গের কাছ হতে প্রত্যুষে বের হয়ে যুদ্ধের জন্যে মোমেনদের ঘাঁটি স্থাপন করছিলে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।' (সূরা আলে এমরান, আয়াত ১২১)
পরিশেষে এই অভিযানের ফলাফল ও হেকমত সম্পর্কে সুবিন্যস্তভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন, 'অসৎকে সৎ হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছ, আল্লাহ তায়ালা মোমেনদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদেরকে অবহিত করবার নন, তবে আল্লাহ তাঁর রসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। 'সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের ওপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনলে ও তাকওয়া অবলম্বন করে চললে তোমাদের জন্যে মহাপুরস্কার রয়েছে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৯)
এই যুদ্ধে আল্লাহর সন্নিহিত হেকমত আল্লামা ইবনে কাইয়েম উল্লিখিত বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন। ওলামায়ে কেরাম বলেন, ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের যে সঙ্কট ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো, এর মধ্যে আল্লাহর হেকমত লুকায়িত ছিলো। যেমন, মুসলমানদের তাদের কাজের মন্দ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়া। তীরন্দাজদের নিজেদের অবস্থানস্থলে অবিচল থাকার যে নির্দেশ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছিলেন, তারা তা লংঘন করেছে। এ কারণেই তাদেরকে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। এছাড়া পয়গাম্বরের কাছে সেই সুন্নতের কথা প্রকাশ করাও উদ্দেশ্য যে, প্রথমে তারা পরীক্ষার সম্মুখীন হন, এরপর সফলতা লাভ করেন। যদি মুসলমানরা সব সময় জয়লাভ করতে থাকে, তাহলে ঈমানদারদের মধ্যে এমন লোকও প্রবেশ করবে, যারা প্রকৃত ঈমানদার নয়। এর ফলে সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হবে না। এদিকে যদি সব সময় পরাজয়ের সম্মুখীন তারা হয়, তাহলে আল্লাহর নবীর আবির্ভাবের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ কারণে আল্লাহর হেকমতের কারণেই উভয়রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সত্য মিথ্যার পার্থক্য নিরূপিত হতে পারে। কেননা মোনাফেকদের নেফাক মুসলমানদের মধ্যে লুকায়িত রয়েছে। এই ঘটনা প্রকাশ এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মোনাফেকদের পরিচয় পাওয়ার পর মুসলমানরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাদের ঘরের ভেতরেই শত্রু রয়েছে। এতে মুসলমানরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক হন এবং মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
একটা হেকমত এটাও ছিলো যে, অনেক সময় সাহায্য আসতে দেরী হলে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। মুসলমানরা পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার পর ধৈর্য ধারণ করেন। অথচ মোনাফেকদের মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায় এবং তারা আহাযারি শুরু করে।
একটা হেকমত এটাও ছিলো যে, আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের জন্যে মর্যাদার বাসস্থান জান্নাতে এমন কিছু শ্রেণী রেখেছেন যেসকল শ্রেণীতে স্বাভাবিক আসনের সওয়ারীর মাধ্যমে উন্নীত হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে বিপদ-মুসিবতের কিছু উপকরণ তৈরী করে রাখা হয়েছে যাতে, ঈমানদাররা সেই মর্যাদার শ্রেণীতে উন্নীত হতে পারেন।
এছাড়া একটা হেকমত এটাও ছিলো যে, আউলিয়া অর্থাৎ আল্লাহর বন্ধুদের জন্যে উচ্চতর মর্যাদা যে শাহাদাত, সেই মর্যাদা তাদের দান করা।
একটা হেকমত এটাও ছিলো যে, আল্লাহ রব্বুল আলামীন চান যে, তাঁর দুশমনরা ধ্বংস হোক, এ কারণে তাদের জন্যে ধ্বংসের উপকরণও সৃষ্টি করেছেন। কুফুরী, যুলুম, অত্যাচার এবং আউলিয়ায়ে কেরামকে কষ্ট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা সীমাহীন ঔদ্ধত্য এবং বাড়াবাড়ির পরিচয় দিয়েছে। তাদের এসব আমলের পরিণামে ঈমানদারদের ধৈর্য সহিষ্ণুতায় খুশী হয়ে আল্লাহ পাকে ঈমানদারদের পাকসাফ এবং কাফেরদের ধ্বংস করে দিয়েছেন।

টিকাঃ
৮৬. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৯৯-১০৮ (সাইয়েদ কুতুব শহীদ তার মহান তাফসীর 'ফী যিলালিল কোরআনে'-ওও এ পর্যায়ে এক হৃদয়গ্রাহী আলোচনা পেশ করেছেন। বাংলা অনুবাদের ৪র্থ খন্ড দেখুন)
৮৭. ফতহুল বারী, ৭ম খন্ড, পৃ. ৩৪৭

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 এ যুদ্ধ সম্পর্কে কোরআনের মূল্যায়ন

📄 এ যুদ্ধ সম্পর্কে কোরআনের মূল্যায়ন


পরবর্তী সময়ে কোরআনে এই যুদ্ধের প্রতিটি দিকের ওপর আলোকপাত করা হয়। পর্যালোচনা করে এমন সব কারণ চিহ্নিত করা হয়, যেসব কারণে মুসলমানদের এতোবড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, এই অভিযানে ঈমানদার এবং সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতদের কি কি দুর্বলতা ছিলো। এই উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার স্বতন্ত্র মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এই উম্মতের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যেকার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়া পবিত্র কোরআন মোনাফেকদের ভূমিকা উল্লেখ করে তাদের অবস্থা খোলাখুলি প্রকাশ করেছে। তাদের অন্তকরণে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লুকিয়ে থাকা শত্রুতার প্রকাশ করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে। সহজ সরল মুসলমানদের মধ্যে মোনাফেক এবং তাদের সাথী ইহুদীরা যেসব প্ররোচনা চালিয়েছে তাও তুলে ধরা হয়েছে। এরপর এই যুদ্ধের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এই যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আলে ইমরানের ৫০টি আয়াত নাযিল হয়েছে। সর্বাগ্রে যুদ্ধের প্রাথমিক অবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'স্মরণ করো যখন তুমি তোমার পরিজনবর্গের কাছ হতে প্রত্যুষে বের হয়ে যুদ্ধের জন্যে মোমেনদের ঘাঁটি স্থাপন করছিলে এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ।' (সূরা আলে এমরান, আয়াত ১২১)
পরিশেষে এই অভিযানের ফলাফল ও হেকমত সম্পর্কে সুবিন্যস্তভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন, 'অসৎকে সৎ হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছ, আল্লাহ তায়ালা মোমেনদের সেই অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না। অদৃশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদেরকে অবহিত করবার নন, তবে আল্লাহ তাঁর রসূলদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। 'সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলদের ওপর ঈমান আন। তোমরা ঈমান আনলে ও তাকওয়া অবলম্বন করে চললে তোমাদের জন্যে মহাপুরস্কার রয়েছে।' (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৭৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00