📄 শহীদদের অঙ্গচ্ছেদন
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে এটা ছিলো শত্রু সৈন্যদের সর্বশেষ হামলা। তারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে তখনো স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারেনি। তবে ধরেই নিয়েছিলো যে, তিনি নিহত হয়েছেন। এ কারণে তারা নিজেদের শিবিরে ফিরে গিয়ে মক্কায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলো। এ সময়ে কিছু মোশরেক নারী-পুরুষ শহীদদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাটতে শুরু করলো। শহীদদের লজ্জাস্থান, কান, নাক, প্রভৃতি অঙ্গ কেটে ফেললো। কারো কারো পেট চিরে ফেললো। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হেন্দ বিনতে ওতবা হযরত হামযার (রা.) বুক চিরে কলিজা বের করে চিবোতে লাগলো। গিলে ফেলার চেষ্টা করে না পারায় ফেলে দিলো। এছাড়া কর্তিত নাক ও কান দিয়ে মালা গেঁথে গলা এবং পায়ে মলের মতো পরিধান করলো। ৫৪
টিকাঃ
৫৪. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৯০
📄 সর্বশেষ যুদ্ধের জন্যে মুসলমানদের উদ্যোগ
শেষদিকে এমন দু'টি ঘটনা ঘটলো, যা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, নিবেদিত প্রাণ মুসলমানরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কিরূপ দৃঢ় সংকল্প ছিলেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন বিসর্জন দিতে তাঁদের আগ্রহ যে ছিলো অপরিসীম, এ থেকে তাও বোঝা যায়।
প্রথম ঘটনা, হযরত কা'ব ইবনে মালেক বললেন, আমি ছিলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, মুসলমানদের হাতে শহীদদের অবমাননা হচ্ছে। আমি খানিকটা থেমে সামনে এগিয়ে গেলাম। লক্ষ্য করলাম যে, বর্ম পরিহিত বিশালদেহী একটি লোক শহীদদের লাশ অতিক্রম করছে। আর একজন মুসলমান এই লোকটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি উভয়ের প্রতি তাকালাম। মনে মনে উভয়ের শক্তি পরিমাপ করলাম। আমার মনে হলো যে, কাফের লোকটির অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানের অস্ত্রের চেয়ে ভালো। আমি উভয়ের জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। এক সময়ে উভয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। সেই মুসলমান ওই কাফেরকে তরবারি দিয়ে এমন আঘাত করলেন যে, কাফের দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সেই মুখোশ পরিহিত মুসলমান নিজের মুখোশ খুললেন। এরপর বললেন, ও কা'ব, কেমন হলো কাজটা? আমি হচ্ছি আবু দোজানা। ৫৫
দ্বিতীয় ঘটনা, যুদ্ধ শেষে কিছুসংখ্যক মুসলিম যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে মদীনা পৌঁছুলেন। হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমি হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) এবং উম্মে সুলাইম (রা.)-কে
টিকাঃ
৫৫. আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৭
📄 ঘাঁটিতে আশ্রয় গ্রহণ করার পর
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়ার পর হযরত আলী (রা.) তাঁর ঢালে করে মিহরাস থেকে পানি নিয়ে এলেন। মিহরাস হচ্ছে পাথরের তৈরী এক ধরনের কৃয়া। বলা হয়ে থাকে যে, মেহরাম ওহুদের একটি ঝর্ণা। সেই পানি এনে হযরত আলী (রা.) পান করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলেন। কিন্তু কিছুটা গন্ধ অনুভব হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই পানি পান না করে চেহারার ক্ষত ধুয়ে নিলেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢাললেন। সেই সময়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছিলেন, সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহর কঠিন গযব, যে ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের চেহারাকে রক্তাক্ত করেছে। ৬০
হযরত সাহল (রা.) বলেন, আমি দেখেছি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার রক্ত কে ধুয়েছেন পানি কে ঢেলেছেন এবং চিকিৎসা কে করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) তাঁর ক্ষত ধুয়ে দিচ্ছিলেন। হযরত আলী (রা.) পানি দিচ্ছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা.) লক্ষ্য করলেন যে, পানি ঢেলে দেয়ার পরও রক্ত ঝরছে, কিছুতেই রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি চাটাই-এর একটি টুকরো নিয়ে আগুনে পুড়ে সে ছাই
টিকাঃ
৬০. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৫
📄 আবু সুফিয়ানের দম্ভ
মক্কার বিধর্মী পৌত্তলিকরা ফিরে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আবু সুফিয়ান তখন ওহুদ পাহাড়ের উপর উঠে জিজ্ঞাসা করলো, তোমাদের মধ্যে কি মোহাম্মদ আছেন? কেউ কোন জবাব দিলেন না। সে আবার বললো, তোমাদের মধ্যে কি আবু কোহাফার পুত্র আছেন? কেউ কোন জবাব দিলেন না। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, তোমাদের মধ্যে কি ওমর ইবনে খাত্তাব আছেন? কেউ এবারও কোন জবাব দিলেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিতে নিষেধ করেছিলেন। আবু সুফিয়ান উল্লিখিত তিনজন ছাড়া অন্য কারো কথা জিজ্ঞাসা করলো না। কারণ, সে ভালো করেই জানতো যে, এই তিনজনের মাধ্যমেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটছে। কোন জবাব না পেয়ে আবু সুফিয়ান স্বগতোক্তি করলো, যাক এই তিনজন থেকেই রেহাই পাওয়া গেলো। একথা শুনে হযরত ওমর (রা.) আত্মসম্বরণ করতে পারলেন না, তিনি বললেন, ওরে, আল্লাহর দুশমন, তুমি যাদের নাম উচ্চারণ করেছো, তারা সবাই জীবিত আছেন। আল্লাহ তায়ালা তোমার অবমাননার আরো বীভৎস উপকরণ রেখেছেন। একথা শুনে আবু সুফিয়ান বললো, তোমাদের নিহত লোকদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বীভৎস করা হয়েছে। আমি এসব করতে বলিনি। তবে এতে আমি নাখোশও নই। এরপর সে ধ্বনি দিলো, হোবালের জয় হোক!
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা জবাব দিচ্ছো না কেন? সাহাবয়ে কেরাম বললেন, কি জবাব দেব? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলো, আল্লাহ তায়ালা মহান এবং সর্ব শক্তিমান।
আবু সুফিয়ান উচ্চস্বরে বললো, আমাদের জন্যে ওযযা আছে, তোমাদের ওযযা নেই।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা জবাব দিচ্ছো না কেন? সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, কি জবাব দেবো? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বলো 'আল্লাহু মওলানা ওয়া-লা মওলা লাকুম।' অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রভু, তোমাদের কোন প্রভু নেই।
এরপর আবু সুফিয়ান বললো, কি চমৎকার কৃতিত্ব। আজ বদরের যুদ্ধের প্রতিশোধ গ্রহণের দিন। যুদ্ধ হচ্ছে একটা বালতি। ৬৪
হযরত ওমর (রা.) জবাবে বললেন, সমান নয়। আমাদের যারা নিহত হয়েছেন, তারা জান্নাতে রয়েছেন, আর তোমাদের যারা নিহত হয়েছে, তারা জাহান্নামে রয়েছে।
টিকাঃ
৬৪. কখনো এক পক্ষ জয় লাভ করে কখনো অন্য পক্ষ। যেমন বালতি দিয়ে কখনো একজন টেনে পানি তোলে, কখনো অন্যজন তোলে।