📄 হযরত তালহার আন্তরিকতা ও শত্রুদের সর্বশেষ হামলা
পাহাড়ের দিকে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে যাওয়ার সময়ে একটি উঁচু জায়গা দেখা গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরে উঠতে পারছিলেন না, একে তো তাঁর দেহ ভারি হয়ে গিয়েছিলো, যেহেতু তিনি দুটো বর্ম পরিধান করেছিলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন মারাত্মকভাবে আহত। হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) নীচে বসে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাঁধে তুলে ওপরে উঠতে সহায়তা করলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই উঁচু জায়গা অতিক্রম করলেন। এরপর তিনি বললেন, তালহা নিজের জন্যে জান্নাত অবধারিত করে নিয়েছে। ৫১
শত্রুদের সর্বশেষ হামলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটির ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পর শত্রুরা মুসলমানদের পরাস্ত করতে সর্বশেষ চেষ্টা চালালো। ইবনে ইসহাক বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটির ভেতরে চলে যাওয়ার র আবু সুফিয়ান এবং খালেদ ইবনে ওলীদের নেতৃত্বে একদল অমুসলিম ওপরে ওঠার চেষ্টা করলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ তায়ালা, ওরা যেন ওপরে উঠতে না পারে। এরপর হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এবং একদল মোহাজের সাহাবা যুদ্ধ করে ওদের পাহাড়ের নীচে নামিয়ে দিলেন। ৫২ শত্রু সৈন্যদের কয়েকজন ওপরে উঠে এলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সা'দ (রা.)-কে বললেন, ওদের পেছনে ঠেলে দাও।। হযরত সা'দ বললেন, আমি একাকী কিভাবে পারবো? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার কথাটি উচ্চারণ করলেন। পরে
টিকাঃ
৫১. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬
৫২. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬
📄 শহীদদের অঙ্গচ্ছেদন
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে এটা ছিলো শত্রু সৈন্যদের সর্বশেষ হামলা। তারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে তখনো স্পষ্ট কিছু বুঝতে পারেনি। তবে ধরেই নিয়েছিলো যে, তিনি নিহত হয়েছেন। এ কারণে তারা নিজেদের শিবিরে ফিরে গিয়ে মক্কায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলো। এ সময়ে কিছু মোশরেক নারী-পুরুষ শহীদদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাটতে শুরু করলো। শহীদদের লজ্জাস্থান, কান, নাক, প্রভৃতি অঙ্গ কেটে ফেললো। কারো কারো পেট চিরে ফেললো। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হেন্দ বিনতে ওতবা হযরত হামযার (রা.) বুক চিরে কলিজা বের করে চিবোতে লাগলো। গিলে ফেলার চেষ্টা করে না পারায় ফেলে দিলো। এছাড়া কর্তিত নাক ও কান দিয়ে মালা গেঁথে গলা এবং পায়ে মলের মতো পরিধান করলো। ৫৪
টিকাঃ
৫৪. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৯০
📄 সর্বশেষ যুদ্ধের জন্যে মুসলমানদের উদ্যোগ
শেষদিকে এমন দু'টি ঘটনা ঘটলো, যা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, নিবেদিত প্রাণ মুসলমানরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কিরূপ দৃঢ় সংকল্প ছিলেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন বিসর্জন দিতে তাঁদের আগ্রহ যে ছিলো অপরিসীম, এ থেকে তাও বোঝা যায়।
প্রথম ঘটনা, হযরত কা'ব ইবনে মালেক বললেন, আমি ছিলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, মুসলমানদের হাতে শহীদদের অবমাননা হচ্ছে। আমি খানিকটা থেমে সামনে এগিয়ে গেলাম। লক্ষ্য করলাম যে, বর্ম পরিহিত বিশালদেহী একটি লোক শহীদদের লাশ অতিক্রম করছে। আর একজন মুসলমান এই লোকটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি উভয়ের প্রতি তাকালাম। মনে মনে উভয়ের শক্তি পরিমাপ করলাম। আমার মনে হলো যে, কাফের লোকটির অস্ত্রশস্ত্র মুসলমানের অস্ত্রের চেয়ে ভালো। আমি উভয়ের জন্যে অপেক্ষা করছিলাম। এক সময়ে উভয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। সেই মুসলমান ওই কাফেরকে তরবারি দিয়ে এমন আঘাত করলেন যে, কাফের দ্বিখন্ডিত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সেই মুখোশ পরিহিত মুসলমান নিজের মুখোশ খুললেন। এরপর বললেন, ও কা'ব, কেমন হলো কাজটা? আমি হচ্ছি আবু দোজানা। ৫৫
দ্বিতীয় ঘটনা, যুদ্ধ শেষে কিছুসংখ্যক মুসলিম যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে মদীনা পৌঁছুলেন। হযরত আনাস (রা.) বলেন, আমি হযরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.) এবং উম্মে সুলাইম (রা.)-কে
টিকাঃ
৫৫. আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৭
📄 ঘাঁটিতে আশ্রয় গ্রহণ করার পর
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের ঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়ার পর হযরত আলী (রা.) তাঁর ঢালে করে মিহরাস থেকে পানি নিয়ে এলেন। মিহরাস হচ্ছে পাথরের তৈরী এক ধরনের কৃয়া। বলা হয়ে থাকে যে, মেহরাম ওহুদের একটি ঝর্ণা। সেই পানি এনে হযরত আলী (রা.) পান করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দিলেন। কিন্তু কিছুটা গন্ধ অনুভব হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই পানি পান না করে চেহারার ক্ষত ধুয়ে নিলেন এবং কিছু পানি মাথায় ঢাললেন। সেই সময়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছিলেন, সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহর কঠিন গযব, যে ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের চেহারাকে রক্তাক্ত করেছে। ৬০
হযরত সাহল (রা.) বলেন, আমি দেখেছি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার রক্ত কে ধুয়েছেন পানি কে ঢেলেছেন এবং চিকিৎসা কে করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় কন্যা হযরত ফাতেমা (রা.) তাঁর ক্ষত ধুয়ে দিচ্ছিলেন। হযরত আলী (রা.) পানি দিচ্ছিলেন। হযরত ফাতেমা (রা.) লক্ষ্য করলেন যে, পানি ঢেলে দেয়ার পরও রক্ত ঝরছে, কিছুতেই রক্ত বন্ধ হচ্ছে না। তখন তিনি চাটাই-এর একটি টুকরো নিয়ে আগুনে পুড়ে সে ছাই
টিকাঃ
৬০. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৫