📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 নবীর শাহাদতের খবর ও প্রতিক্রিয়া

📄 নবীর শাহাদতের খবর ও প্রতিক্রিয়া


ইবনে কোম্মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে দিলে, মুহূর্তের মধ্যে তা মুসলমান এবং কাফেরদের কাছে পৌঁছে গেলো। এটা ছিলো খুবই নাযুক মূহূর্ত। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে দূরে যুদ্ধরত সাহাবাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়লো। অনেকেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। সাহাবারা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লেন। চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলো। তবে একটা লাভ এই হলো যে, কাফেরদের হামলা সাময়িকভাবে থেমে গেলো। কেননা তারা ভাবছিলো তাদের আসল উদ্দেশ্য পুরো হয়ে গেছে। বহুসংখ্যক মোশরেক মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধ করে দিয়ে শোহাদায়ে কেরামের লাশের ওপর মনের পৈশাচিক ঝাল মেটাচ্ছিলো। তারা শহীদদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলছিলো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

📄 মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ


হযরত মসআব ইবনে ওমায়ের (রা.)-এর শাহাদাতের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পতাকা হযরত আলী (রা.)-এর হাতে তুলে দিলেন। হযরত আলী (রা.) বীরত্বের সাথে লড়াই করলেন। সেখানে উপস্থিত অন্য কয়েকজন সাহাবাও তুলনাবিহীন বীরত্ব ও সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধ এবং পাল্টা আক্রমণাত্মক যুদ্ধ করলেন। বেশ কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর এ ধরনের সম্ভাবনা দেখা দিলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে অবস্থানরত সাহাবাদের কাছে যাওয়ার জন্যে পথ তৈরী করে নেবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। এ সময়ে প্রথমে হযরত কা'ব ইবনে মালেক (রা.) তাঁকে চিনে ফেললেন। আনন্দে চিৎকার করে তিনি বললেন, ওহে মুসলমানরা, তোমাদের জন্যে সুসংবাদ, তিনি হলেন আল্লাহর রসূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চুপ করার ইঙ্গিত দিলেন, যাতে শত্রুরা তাকে চিনতে না পারে। কিন্তু মুসলমানরা সেই আওয়ায শুনে ফেলেছিলেন, ফলে অল্পক্ষণের মধ্যে সাহাবাগণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে আসতে শুরু করলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে ত্রিশজন সাহাবা হাযির হলেন।

এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের ঘাঁটিতে অর্থাৎ মুসলমানদের শিবিরের দিকে যেতে শুরু করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিবিরে গিয়ে পৌঁছুলে কাফেরদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে, এ কারণে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গতিপথ রুদ্ধ করতে প্রাণান্তকর প্রয়াস চালালো। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সাহাবার বেষ্টনীর মধ্যে এগিয়ে চললেন। এ সময়ে ওসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুগিরা নামের এক দুর্বৃত্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অগ্রসর হতে হতে বললো, হয়তো আমি থাকবো অথবা তিনি থাকবেন। কিন্তু বেশীদূর অগ্রসর হতে পারল না। কেননা আবু আমের ফাসেকের খনন করা একটা গর্তের মধ্যে তার ঘোড়া পড়ে গেল। ইত্যবসরে হযরত হারেস (রা.) হুঙ্কার দিয়ে তার সামনে গিয়ে পায়ে তলোয়ারের প্রচন্ড আঘাত করে তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তার অস্ত্র খুলে নিয়ে হযরত হারেস (রা.) রসূলে করিমের কাছে এসে পৌছুলেন। এরই মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে জাবের নামের এক শত্রু সৈন্য হযরত হারেস (রা.)-এর কাঁধে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলো। কিন্তু মুসলমানরা তাঁকে ধরে ফেললেন। পরক্ষণে মাথায় লাল পট্টি পরিহিত হযরত আবু দোজানা (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে জাবেরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তলোয়ারের আঘাতে তার শিরশ্ছেদ করলেন।

কুদরতের কারিশমা দেখুন, এই ধরনের জীবন-মরণ যুদ্ধের মধ্যেও মুসলমানদের চোখে ঘুম পাচ্ছিলো। পবিত্র কোরআনের বাণী অনুযায়ী এটা ছিলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রশান্তির নিদর্শন। হযরত আবু তালহা (রা.) বলেন, ওহুদের বিভীষিকাময় যুদ্ধের সময় যাদের ঘুম পাচ্ছিলো আমিও ছিলাম তাদের একজন। ঘুমের ঝোঁকে কয়েকবার আমার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গিয়েছিলো। অবস্থা এমন হয়েছিলো যে, তরবারি পড়ে যাচ্ছিলো, আর আমি তা তুলে নিচ্ছিলাম। একাধিকবার এরকম হয়েছিলো।

মোটকথা প্রাণপণ প্রচেষ্টায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সীমিতসংখ্যক সাহাবা পাহাড়ের ঘাঁটিতে অবস্থিত মুসলমানদের শিবিরে গিয়ে পৌঁছুলেন। এরা অন্য মুসলমানদের জন্যেও পথ করে দিলেন। ফলে অন্য সাহাবারাও সেখানে এসে পৌঁছুলেন। এতে খালেদ ইবনে ওলীদের রণকৌশল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রণকৌশলের সামনে ম্লান হয়ে গেলো।

হযরত মসআব ইবনে ওমায়ের (রা.)-এর শাহাদাতের পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পতাকা হযরত আলী (রা.)-এর হাতে তুলে দিলেন। হযরত আলী (রা.) বীরত্বের সাথে লড়াই করলেন। সেখানে উপস্থিত অন্য কয়েকজন সাহাবাও তুলনাবিহীন বীরত্ব ও সাহসিকতার সাথে প্রতিরোধ যুদ্ধ এবং পাল্টা আক্রমণাত্মক যুদ্ধ করলেন। বেশ কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর এ ধরনের সম্ভাবনা দেখা দিলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে অবস্থানরত সাহাবাদের কাছে যাওয়ার জন্যে পথ তৈরী করে নেবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। এ সময়ে প্রথমে হযরত কা'ব ইবনে মালেক (রা.) তাঁকে চিনে ফেললেন। আনন্দে চিৎকার করে তিনি বললেন, ওহে মুসলমানরা, তোমাদের জন্যে সুসংবাদ, তিনি হলেন আল্লাহর রসূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চুপ করার ইঙ্গিত দিলেন, যাতে শত্রুরা তাকে চিনতে না পারে। কিন্তু মুসলমানরা সেই আওয়ায শুনে ফেলেছিলেন, ফলে অল্পক্ষণের মধ্যে সাহাবাগণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছে আসতে শুরু করলেন। অল্পক্ষণের মধ্যে ত্রিশজন সাহাবা হাযির হলেন।
এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাহাড়ের ঘাঁটিতে অর্থাৎ মুসলমানদের শিবিরের দিকে যেতে শুরু করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিবিরে গিয়ে পৌঁছুলে কাফেরদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে, এ কারণে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গতিপথ রুদ্ধ করতে প্রাণান্তকর প্রয়াস চালালো। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ সাহাবার বেষ্টনীর মধ্যে এগিয়ে চললেন। এ সময়ে ওসমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুগিরা নামের এক দুর্বৃত্ত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অগ্রসর হতে হতে বললো, হয়তো আমি থাকবো অথবা তিনি থাকবেন। কিন্তু বেশীদূর অগ্রসর হতে পারল না। কেননা আবু আমের ফাসেকের খনন করা একটা গর্তের মধ্যে তার ঘোড়া পড়ে গেল। ইত্যবসরে হযরত হারেস (রা.) হুঙ্কার দিয়ে তার সামনে গিয়ে পায়ে তলোয়ারের প্রচন্ড আঘাত করে তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন। এরপর তার অস্ত্র খুলে নিয়ে হযরত হারেস (রা.) রসূলে করিমের কাছে এসে পৌছুলেন। এরই মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে জাবের নামের এক শত্রু সৈন্য হযরত হারেস (রা.)-এর কাঁধে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলো। কিন্তু মুসলমানরা তাঁকে ধরে ফেললেন। পরক্ষণে মাথায় লাল পট্টি পরিহিত হযরত আবু দোজানা (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে জাবেরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তলোয়ারের আঘাতে তার শিরশ্ছেদ করলেন।
কুদরতের কারিশমা দেখুন, এই ধরনের জীবন-মরণ যুদ্ধের মধ্যেও মুসলমানদের চোখে ঘুম পাচ্ছিলো। পবিত্র কোরআনের বাণী অনুযায়ী এটা ছিলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রশান্তির নিদর্শন। হযরত আবু তালহা (রা.) বলেন, ওহুদের বিভীষিকাময় যুদ্ধের সময় যাদের ঘুম পাচ্ছিলো আমিও ছিলাম তাদের একজন। ঘুমের ঝোঁকে কয়েকবার আমার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গিয়েছিলো। অবস্থা এমন হয়েছিলো যে, তরবারি পড়ে যাচ্ছিলো, আর আমি তা তুলে নিচ্ছিলাম। একাধিকবার এরকম হয়েছিলো।
মোটকথা প্রাণপণ প্রচেষ্টায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সীমিতসংখ্যক সাহাবা পাহাড়ের ঘাঁটিতে অবস্থিত মুসলমানদের শিবিরে গিয়ে পৌঁছুলেন। এরা অন্য মুসলমানদের জন্যেও পথ করে দিলেন। ফলে অন্য সাহাবারাও সেখানে এসে পৌঁছুলেন। এতে খালেদ ইবনে ওলীদের রণকৌশল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রণকৌশলের সামনে ম্লান হয়ে গেলো।

টিকাঃ
৪৭. সহীহ বোখারী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা, ৫৮২

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 উবাই ইবনে খালফের হত্যাকান্ড

📄 উবাই ইবনে খালফের হত্যাকান্ড


ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটিতে পৌঁছার পর উবাই ইবনে খালফ একথা বলে সামনে অগ্রসর হলো যে, মুহাম্মদ কোথায়? হয়তো আমি থাকবো অথবা তিনি থাকবেন। সাহাবারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমরা কি তার ওপর হামলা করবো? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ওকে আসতে দাও। এই দুর্বৃত্ত কাছে এলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হারেস (রা.)-এর কাছ থেকে ছোট একটি বর্শা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন। এটা ছিলো ঠিক তেমনি, যেমন গায়ে মাছি বসলে উট একটুখানি ঝাঁকুনি দেয় এতে মাছি উড়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর উবাই-এর মুখোমুখি গেলেন। ইবনে উবাইয়ের শিরস্ত্রাণ এবং বর্মের মাঝামাঝি জায়গায় একটুখানি জায়গা গলার কাছে খালি ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই স্থান লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলেন। এতে উবাই ঘোড়া থেকে পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিয়ে স্বগোত্রীয়দের কাছে ফিরে গেলো।

তার গলার কাছে সামান্য ছিড়ে গিয়েছিলো। আঘাতও তেমন ছিলো না। রক্তও বেরোয়নি। তবুও সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, আল্লাহর শপথ, মোহাম্মদ আমাকে হত্যা করেছেন। লোকেরা তাকে বললো, কি বাজে বকছো, তোমার আঘাত তো তেমন নয়। সামান্য আঁচড় লাগার মতো দেখা যাচ্ছে। উবাই বললো তিনি মক্কায় আমাকে বলেছিলেন, আমি তোমাকে হত্যা করবো। কাজেই আল্লাহর শপথ, আমার প্রাণ চলে যাবে। পরিশেষে আল্লাহর এই চিহ্নিত দুশমন মক্কায় ফেরার পথে ছারফ নামক জায়গায় মারা গেলো। আবুল আসওয়াদ হযরত ওরওয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাই গাভীর মতো চিৎকার করতো আর বলতো, সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি যে যন্ত্রণা অনুভব করছি, সেই কষ্ট ও যন্ত্রণা যদি যিল মাযাযের অধিবাসীরা অনুভব করতো, তাহলে তারা সবাই মরে যেতো।

ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটিতে পৌঁছার পর উবাই ইবনে খালফ একথা বলে সামনে অগ্রসর হলো যে, মুহাম্মদ কোথায়? হয়তো আমি থাকবো অথবা তিনি থাকবেন। সাহাবারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমরা কি তার ওপর হামলা করবো? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ওকে আসতে দাও। এই দুর্বৃত্ত কাছে এলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত হারেস (রা.)-এর কাছ থেকে ছোট একটি বর্শা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলেন। এটা ছিলো ঠিক তেমনি, যেমন গায়ে মাছি বসলে উট একটুখানি ঝাঁকুনি দেয় এতে মাছি উড়ে যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর উবাই-এর মুখোমুখি গেলেন। ইবনে উবাইয়ের শিরস্ত্রাণ এবং বর্মের মাঝামাঝি জায়গায় একটুখানি জায়গা গলার কাছে খালি ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই স্থান লক্ষ্য করে বর্শা নিক্ষেপ করলেন। এতে উবাই ঘোড়া থেকে পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিয়ে স্বগোত্রীয়দের কাছে ফিরে গেলো।
তার গলার কাছে সামান্য ছিড়ে গিয়েছিলো। আঘাতও তেমন ছিলো না। রক্তও বেরোয়নি। তবুও সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, আল্লাহর শপথ, মোহাম্মদ আমাকে হত্যা করেছেন। ৪৮ কাজেই আল্লাহর শপথ, আমার প্রাণ চলে যাবে। পরিশেষে আল্লাহর এই চিহ্নিত দুশমন মক্কায় ফেরার পথে ছারফ নামক জায়গায় মারা গেলো। ৪৯ আবুল আসওয়াদ হযরত ওরওয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাই গাভীর মতো চিৎকার করতো আর বলতো, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি যে যন্ত্রণা অনুভব করছি, সেই কষ্ট ও যন্ত্রণা যদি যিল মাযাযের অধিবাসীরা অনুভব করতো, তাহলে তারা সবাই মরে যেতো। ৫০

টিকাঃ
৪৮. ঘটনা ছিলো এই যে, মক্কায় রসূলে করিমের (স.) দেখা হলে উবাই গর্বভরে বলতো, হে মোহাম্মদ, আমার কাছে আওদ নামের একটি ঘোড়া রয়েছে। ওকে আমি প্রতিদিন তিন সাআ অর্থাৎ সাড়ে সাত কিলো খাবার খাওয়াচ্ছি, সেই ঘোড়ার পিঠে বসে আমি একদিন আপনাকে হত্যা করবো। জবাবে রসূলে করিম (স.) বলতেন, বরং উল্টোও হতে পারে। ইনশাল্লাহ আমিই তোমাকে হত্যা করবো
৪৯. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা, ৮৪। যাদুল-মায়াদ দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭
৫০ মুখতাসার সীরাতুর রসূল। শেখ আবদুল্লাহ পৃষ্ঠা ২৫০

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 হযরত তালহার আন্তরিকতা ও শত্রুদের সর্বশেষ হামলা

📄 হযরত তালহার আন্তরিকতা ও শত্রুদের সর্বশেষ হামলা


পাহাড়ের দিকে নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিরে যাওয়ার সময়ে একটি উঁচু জায়গা দেখা গেলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরে উঠতে পারছিলেন না, একে তো তাঁর দেহ ভারি হয়ে গিয়েছিলো, যেহেতু তিনি দুটো বর্ম পরিধান করেছিলেন। তাছাড়া তিনি ছিলেন মারাত্মকভাবে আহত। হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) নীচে বসে গেলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাঁধে তুলে ওপরে উঠতে সহায়তা করলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই উঁচু জায়গা অতিক্রম করলেন। এরপর তিনি বললেন, তালহা নিজের জন্যে জান্নাত অবধারিত করে নিয়েছে। ৫১

শত্রুদের সর্বশেষ হামলা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটির ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পর শত্রুরা মুসলমানদের পরাস্ত করতে সর্বশেষ চেষ্টা চালালো। ইবনে ইসহাক বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘাঁটির ভেতরে চলে যাওয়ার র আবু সুফিয়ান এবং খালেদ ইবনে ওলীদের নেতৃত্বে একদল অমুসলিম ওপরে ওঠার চেষ্টা করলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ তায়ালা, ওরা যেন ওপরে উঠতে না পারে। এরপর হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) এবং একদল মোহাজের সাহাবা যুদ্ধ করে ওদের পাহাড়ের নীচে নামিয়ে দিলেন। ৫২ শত্রু সৈন্যদের কয়েকজন ওপরে উঠে এলে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সা'দ (রা.)-কে বললেন, ওদের পেছনে ঠেলে দাও।। হযরত সা'দ বললেন, আমি একাকী কিভাবে পারবো? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার কথাটি উচ্চারণ করলেন। পরে

টিকাঃ
৫১. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬
৫২. ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00