📄 নবীর পাশে সাহাবাদের সমবেত হওয়া
উল্লিখিত দুর্ঘটনা আকস্মিকভাবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটে গিয়েছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্বাচিত সাহাবারা, যাঁরা যুদ্ধের শুরু থেকেই প্রথম কাতারে গিয়ে যুদ্ধ করছিলেন তাঁরা পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আহ্বান শোনার অল্পক্ষণের মধ্যেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছুটে এসেছিলেন। তাঁরা চেষ্টা করছিলেন যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। কিন্তু এসব সাহাবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে পৌছার আগেই তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। ততক্ষণে ছয়জন আনসার সাহাবা শহীদ হয়ে গেছেন, সপ্তম আনসার সাহাবা আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হয়ে ঢলে পড়েছেন। হযরত সা'দ (রা.) এবং হযরত তালহা (রা.) প্রাণপণ প্রচেষ্টায় কাফেরদের হামলা থেকে প্রিয় নবীকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্ষার জন্যে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাহাবারা এসেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে কাফেরদের সর্বাত্মক হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিচ্ছিলেন। তাঁরা সেই সময় অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সেই সময় প্রথমে ছুটে এসেছিলেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)।
ইবনে হাব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, ওহুদের দিনে সকল সাহাবা নবী সঃ)-এর কাছ থেকে চলে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাঁর দেহরক্ষীরা ছাড়া অন্য সবাই যুদ্ধ করতে সামনের কাতারে চলে গিয়েছিলেন। কাফেরদের ঘেরাও-এর দুর্ঘটনার পর সর্বপ্রথম আমিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ছুটে গিয়েছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে দেখি একজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রক্ষার জন্যে লড়াই করছেন। আমি মনে মনে বললাম, আপনার নাম তো তালহা (রা.)। আপনার ওপর আমার মা বাবা কোরবান হোক। এমন সময় হযরত আবু ওবায়দা ইবনে জাররাহ (রা.) দ্রুত ছুটে আমার কাছে এসে পৌঁছুলেন। আমরা উভয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে গেলাম। আমরা লক্ষ্য করলাম, হযরত তালহা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে পড়ে আছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের ভাইকে তোলো। সে নিজের জন্যে জান্নাত ওয়াজেব করে নিয়েছে। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমরা পৌছে আরো দেখলাম, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তীক্ষ্ণ কড়া তাঁর চোখের নীচে চেহারায় গেঁথে গেছে। আমি সেগুলো বের করতে চাইলাম। আবু ওবায়দা (রা.) বললেন, আল্লাহর নামে শপথ নিচ্ছি ওগুলো আমাকে বের করতে দিন। এরপর তিনি দাঁত দিয়ে একটি কড়া কামড়ে ধরে ধীরে ধীরে বের করতে লাগলেন যাতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যথা কম পান। শেষ পর্যন্ত একটি কড়া বের করলেন। এতে হযরত আবু ওবায়দার নীচের মাড়ির একটি দাঁত পড়ে গেলো। দ্বিতীয় কড়াটি আমি বের করতে চাইলাম। কিন্তু আবু ওবায়দা (রা.) বললেন, আবু বকর (রা.) আপনাকে আল্লাহর শপথ দিচ্ছি, আমাকে বের করতে দিন। এরপর তিনি দ্বিতীয় কড়াটিও বের করলেন। এতে তাঁর নীচের মাড়ির আরেকটি দাঁত ভেঙ্গে গেলো। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের ভাই তালহাকে সামলাও। সে নিজের জন্যে জান্নাত ওয়াজেব করে নিয়েছে। হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, এরপর আমরা হযরত তালহা (রা.)-এর প্রতি মনোনিবেশ করলাম। তার দেহে আশিটির বেশী আঘাত লেগেছিলো।
হযরত তালহা (রা.) সেদিন কি রূপ বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার সাথে লড়াই করেছিলেন তা এতেই বোঝা যায়।
সেই সঙ্কটময় মুহূর্তে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিবেদিত প্রাণ সাহাবাদের একটি দল এসে পৌছুলেন। তাঁদের নাম হচ্ছে, হযরত আবু দোজানা, হযরত মসআব ইবনে ওমায়ের, হযরত আলী ইবনে আবু তালেব, হযরত সহল ইবনে হুনাইফ, হযরত মালেক ইবনে সানান (হযরত আবু সাঈদ খুদরী (র.)-এর পিতা) হযরত উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কা'ব মাজেনা, হযরত কাতাদা ইবনে নো'মান, হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব, হযরত হাতেব ইবনে আবু বলতাআ এবং হযরত আবু তালহা (রা.)।
📄 মুসলমানদের ওপর শত্রুদের প্রচন্ড আঘাত
এদিকে শত্রুদের সংখ্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছিলো। ফলে তাদের হামলাও বাড়ছিলো। এক পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি গর্তের ভেতর পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পেলেন। আবু আমের ফাসেক শয়তানী প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে মুসলমানদের ক্ষতি করতে এ ধরনের কয়েকটি গর্ত খনন করেছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গর্তে পড়ে যাওয়ার পর হযরত আলী (রা.) প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত ধরলেন এবং হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জড়িয়ে ধরে উপরে উঠিয়ে নিলেন।
নাফে ইবনে জাবির বলেন, আমি একজন মোহাজের সাহাবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, ওহুদের যুদ্ধে আমি হাযির ছিলাম। আমি লক্ষ্য করলাম, চারদিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তীর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে। তিনি তীরের মাঝখানে রয়েছেন। কিন্তু নিক্ষিপ্ত সেই সব তীর সাহাবারা গ্রহণ করছিলেন। আমি আরো লক্ষ্য করলাম যে, আবদুল্লাহ ইবনে শেহাব যুহরী বলছিলো, বলো, মোহাম্মদ কোথায়? এবার আমি থাকবো অথবা তিনি থাকবেন। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পাশেই ছিলেন। তাঁর কাছে সে সময় অন্য কেউ ছিলো না। ইবনে শেহাব এক সময় সামনে এগিয়ে গেলো। এতে সফওয়ান তাকে ধমক দিলো। জবাবে ইবনে শেহাব বললো, আল্লাহর শপথ, আমি তাকে দেখতে পাইনি। আমাদের দৃষ্টি থেকে তাকে হেফাযত করা হয়েছে। এরপর আমরা চারজন প্রতিজ্ঞা করে বেরুলাম যে, মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করবো (নাউযুবিল্লাহ)। কিন্তু তাঁর ধারে কাছেও পৌছুতে পারলাম না।
📄 অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা
সেই সময় মুসলমানরা এমন অসাধারণ বীরত্ব ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছিলেন যার উদাহরণ ইতিহাসে আর পাওয়া যায় না। হযরত আবু তালহা (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বুক টান করে দাঁড়ালেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর থেকে রক্ষা করতে হযরত আবু তালহা কিছুটা উঁচুতে দাঁড়ালেন। হযরত আনাস (রা.) বলেন, ওহুদের দিনে সাধারণ মুসলমানরা পরাজিত হয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে না এসে এদিক ওদিক ছুটে পালাচ্ছিলো। হযরত আবু তালহা (রা.) একটি ঢাল নিয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে প্রতিরোধ ব্যূহ হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি ছিলেন দক্ষ তীরন্দাজ। নিপুণ হাতে তীর নিক্ষেপ করতেন। সেদিন তিনি দু'টি না যেন তিনটি ধনুক ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে কেউ ধনুক নিয়ে যাওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, এটি আবু তালহা (রা.)-কে দাও। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের প্রতি মাথা উঁচু করে তাকালে হযরত আবু তালহা (রা.) বলেন, আমার মা-বাবা আপনার উপর কোরবান হোন, আপনি মাথা উঁচু করে তাকাবেন না। খোদা না করুন, আপনার পবিত্র দেহে তীর বিদ্ধ হতে পারে। আমার বুক আপনার বুকের সামনে রয়েছে।
হযরত আনাস (রা.) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু তালহা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিক থেকে একটি ঢাল দিয়ে প্রতিরোধ ব্যূহ রচনা করেন। হযরত আবু তালহা (রা.) ছিলেন দক্ষ তীরন্দাজ। তিনি তীর নিক্ষেপের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাথা উঁচু করে দেখতেন যে, তীর কোথায় গিয়ে বিদ্ধ হলো।
হযরত আবু দোজানা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে এসে তাঁর দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং নিজের পিঠকে ঢাল স্বরূপ পেতে দিলেন, তাঁর পিঠে এসে শত্রুদের নিক্ষিপ্ত তীর বিধছিলো, কিন্তু তিনি একটুও নড়াচড়া করছিলেন না।
হযরত হাতেব ইবনে আবু বলতাআ (রা.) ওতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাসের পিছু নিলেন। ওতবা প্রচন্ড শক্তিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেহে তরবারি দিয়ে আঘাত করছিলো। হযরত হাতেব (রা.) ওতবার তরবারি এবং ঘোড়া কেড়ে নিয়ে তাকে হত্যা করলেন। হযরত সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.) নিজের ভাই ওতবাকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হযরত হাতেব (রা.) অর্জন করলেন।
হযরত সহল বিনে হুনাইফও (রা.) বিশিষ্ট তীরন্দাজ ছিলেন। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে মরণের জন্যে বাইয়াত করেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে বীর বিক্রমে লড়াই করেছিলেন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও তীর নিক্ষেপ করছিলেন। হযরত কাতাদা ইবনে নো'মান (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ধনুক থেকে বহু তীর নিক্ষেপ করেছিলেন। এতে ধনুকের একটি কোন্ ভেঙ্গে গিয়েছিলো। সেই ধনুক পরে হযরত কাতাদা ইবনে নো'মান নিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছেই ছিলো। সেদিন হযরত কাতাদা (রা.)-এর চোখে এমন আঘাত লেগেছিলো যে, চোখ চেহারার ওপর বেরিয়ে পড়েছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পবিত্র হাতে সেই চোখ ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিলেন। পরবর্তী সময়ে দু'টি চোখের মধ্যে সেই চোখটিই বেশী সুন্দর দেখাতো। সেই চোখের দৃষ্টি ছিলো অধিক প্রখর।
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) লড়াই করতে করতে মুখে প্রচন্ড আঘাত পেলেন। এতে তাঁর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে গেলো। তিনি বিশ বাইশটি আঘাত পেয়েছিলেন। পায়েও আঘাত লেগেছিলো। এতে তিনি খোঁড়া হয়ে গিয়েছিলেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, মালেক ইবনে মানানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার রক্ত চুষে পরিষ্কার করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, থু থু ফেলে দাও। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ আমি থু থু ফেলব না। এরপর মুখ ফিরিয়ে তিনি লড়াই করতে লাগলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, কেউ যদি কোন জান্নাতী মানুষকে দেখতে চায় তবে সে যেন মালেক ইবনে মানানাকে (রা.) দেখে। এরপর তিনি লড়াই করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন।
ওহুদ যুদ্ধে মুসলমান মহিলাদের ভূমিকাও ছিলো অনন্য। মহিলা সাহাবী হযরত উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কা'ব (রা.) অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি কয়েকজন মুসলমানের সাথে লড়াই করতে করতে ইবনে কোম্মার সামনে গিয়ে পৌঁছেন। ইবনে কোম্মা তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলে তাঁর কাঁধে যখম হয়। তিনিও নিজের তলোয়ার দিয়ে ইবনে কোম্মাকে কয়েকবার আঘাত করেন। কিন্তু ইবনে কোম্মা বর্ম পরিহিত থাকার কারণে কোন আঘাত তার দেহে লাগেনি। হযরত উম্মে আম্মারা লড়াই করতে করতে বারোটি আঘাত পান।
হযরত মসআব ইবনে ওমায়ের (রা.) অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় দেন। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ইবনে কোম্মা ও অন্যদের আঘাত প্রতিরোধ করেন। তাঁর হাতেই ছিলো ইসলামের পতাকা। শত্রু সৈন্যরা তাঁর ডান হাতে এমন আঘাত করে যে, তাঁর হাত কেটে যায়। তিনি তখন তিনি বাম হাতে ইসলামের পতাকা তুলে ধরেন। কিন্তু শত্রুদের হামলায় বাম হাতও কেটে যায়। তিনি তখন বাহু দিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে পতাকা উর্ধ্বে তুলে ধরেন। সেই অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেণ। তাঁর হত্যাকারী ছিলো আবদুল্লাহ ইবনে কোম্মা। এই দুর্বৃত্ত হযরত মসআব (রা.)-কে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মনে করেছিলো। হযরত মসআবের (রা.) চেহারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারার সাথে কিছুটা মিল ছিলো। হযরত মসআবকে (রা.) হত্যা করার পর ইবনে কোম্মা কাফেরদের কাছে গিয়ে চিৎকার করে বলছিলো, মোহাম্মদকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হত্যা করা হয়েছে।
📄 নবীর শাহাদতের খবর ও প্রতিক্রিয়া
ইবনে কোম্মা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে দিলে, মুহূর্তের মধ্যে তা মুসলমান এবং কাফেরদের কাছে পৌঁছে গেলো। এটা ছিলো খুবই নাযুক মূহূর্ত। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে দূরে যুদ্ধরত সাহাবাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়লো। অনেকেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। সাহাবারা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লেন। চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিলো। তবে একটা লাভ এই হলো যে, কাফেরদের হামলা সাময়িকভাবে থেমে গেলো। কেননা তারা ভাবছিলো তাদের আসল উদ্দেশ্য পুরো হয়ে গেছে। বহুসংখ্যক মোশরেক মুসলমানদের ওপর হামলা বন্ধ করে দিয়ে শোহাদায়ে কেরামের লাশের ওপর মনের পৈশাচিক ঝাল মেটাচ্ছিলো। তারা শহীদদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলছিলো।