📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) প্রসঙ্গ

📄 গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) প্রসঙ্গ


যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দিন বদর প্রান্তরে অবস্থান করলেন। মদীনার পথে রওয়ানা হওয়ার আগেই গনীমতের মাল প্রসঙ্গে মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলো। এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, যার কাছে যা কিছু আছে, সবই যেন তাঁর সামনে নিয়ে আসা হয়। সাহাবারা তাই করলেন। এরপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহীর মাধ্যমে এই সমস্যার মীমাংসা করে দিলেন।
হযরত ওবাদা ইবনে সামেত (রা.) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মদীনা থেকে বেরিয়ে বদরে পৌছুলাম। লোকদের সাথে যুদ্ধ হলো এবং আল্লাহ তায়ালা শত্রুদের পরাজিত করলেন। এরপর একদল লোক কাফেরদের ধাওয়া করতে লাগলেন, কাউকে গ্রেফতার এবং কাউকে হত্যা করছিলেন। একদল লোক গনীমতের মাল জমা করতে শুরু করলেন, আর একদল লোক সর্বক্ষণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ঘেরাও দিয়ে রাখছিলেন। তাঁরা ভাবছিলেন, শত্রুরা ধোকা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে পারে। রাত্রিকালে গনীমতের মাল সংগ্রাহকরা বলাবলি করতে লাগলেন যে, আমি এই পরিমাণ সংগ্রহ করেছি, এগুলো সব আমার, আমি এর ভাগ অন্য কাউকে দেবো না। শত্রুদের ধাওয়াকারীরা বললেন, আমরা এই সব মালামাল থেকে শত্রুদের তাড়িয়ে দিয়েছি; কাজেই এসব আমাদের। যে সকল সাহাবী প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা বললেন, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, শত্রুরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অমনোযোগী মনে করে কষ্ট না দেয়। এ কারণে আমরা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এ ধরনের মতবিরোধ দেখা দেয়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'লোকে আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে।' বলুন, 'যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ তায়ালা এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করো, যদি তোমরা মোমেন হও।' (সূরা আনফাল, আয়াত ১)
আল্লাহর রসূল এরপর সেই যুদ্ধলব্ধ সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেন।

টিকাঃ
১২. মোসনাদে আহমদ, ৫ম খন্ড, পৃ. ৩২৩, ৩২৪, হাকেম ২য় খন্ড, পৃ. ৩২৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনার পথে মুসলিম বাহিনী

📄 মদীনার পথে মুসলিম বাহিনী


রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনদিন বদর প্রান্তরে কাটানোর পর চতুর্থ দিন মদীনার পথে যাত্রা করেন। তাঁদের সঙ্গে মক্কার কোরায়শ বন্দীরাও ছিলো গনীমতের মালও ছিলো। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কা'বকে এসবের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ছাফরা প্রান্তর অতিক্রমের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দারবে এবং নাজিয়ার মাঝামাঝি জায়গায় একটি টিলায় অবস্থান করেন। সেখানেই যুদ্ধলব্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ পৃথক করে রেখে বাকি সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে সমভাবে বন্টন করে দেয়া হয়। ছাফরা প্রান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নযর ইবনে হারেসকে হত্যার নির্দেশ দেন। বদরের যুদ্ধে এই লোকটি কোরায়শদের পতাকা বহন করছিলো এবং সে অপরাধীদের অন্যতম। ইসলামের শত্রুতায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের অন্যতম ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে হযরত আলী (রা.) নযর ইবনে হারেসকে হত্যা করেন।

এরপর তাঁরা উবকুজ জাবিয়া পৌঁছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে ওকবা ইবনে আবু মুঈতের হত্যার নির্দেশ দেন। সে ইসলামের শত্রুতায় অগ্রণী ছিলো, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিতো। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে। এই লোকটিই আল্লাহর রসূলের নামায আদায়রত অবস্থায় তাঁর কাঁধে উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিয়েছিলো এবং গলায় চাদর জড়িয়ে আল্লাহর রসূলকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) হঠাৎ উপস্থিত হয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দুর্বৃত্তের কবল থেকে উদ্ধার করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুর্বৃত্তকে হত্যার নির্দেশ দিলে সে বললো, ওহে মোহাম্মদ, সন্তানদের জন্যে কে আছে? তিনি বললেন, আগুন। পরে হযরত আসেম ইবনে ছাবেত আনসারী (রা.) অথবা হযরত আলী (রা.) ওকবার শিরশ্ছেদ করেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 অভ্যর্থনাকারী প্রতিনিধিদল ও যুদ্ধবন্দী প্রসঙ্গ

📄 অভ্যর্থনাকারী প্রতিনিধিদল ও যুদ্ধবন্দী প্রসঙ্গ


রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওয়াহা নামক জায়গায় পৌঁছুলে অভ্যর্থনার উদ্দেশ্যে আসা মুসলমানদের সাথে তার সাক্ষাৎ হলো। এরা দূতদের মুখে মুসলমানদের বিজয় সংবাদ শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভিনন্দন এবং অভ্যর্থনা জানাতে মদীনা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। তাঁরা মোবারকবাদ জানালে হযরত সালমা ইবনে সালমা (রা.) বলেন, আপনারা আমাদের কিসের মোবারকবাদ জানাতে এসেছেন, আমাদের তো মোকাবেলা হয়েছে মাথা নুয়ে পড়া বৃদ্ধদের সাথে যারা ছিলো উটের মতো। একথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হেসে বললেন, ভাতিজা, এসব লোকইতো ছিলো কওমের নেতা।

এরপর উসায়েদ ইবনে খোযায়ের (রা.) আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল, সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আপনাকে কামিয়াবী দান করেছেন এবং আপনার চক্ষু শীতল করেছেন। আল্লাহর শপথ, আমি জানতাম না যে, শত্রুদের সাথে আপনার মোকাবেলা হবে, আমি তো মনে করেছিলাম, আপনি একটি কাফেলার সন্ধানে বেরিয়েছেন। যদি জানতাম যে, শত্রুদের সাথে মোকাবেলা হবে, তবে কিছুতেই পেছনে থাকতাম না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি সত্য বলেছো।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করলেন। শহরের আশে পাশের সকল শত্রুরা প্রভাবিত হয়ে পড়লো। মুসলমানদের জয়লাভের প্রেক্ষিতে মদীনায় বহু লোক ইসলাম গ্রহণ করলো। সেই সময়ই আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং তার সঙ্গীরাও লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করলো।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার একদিন পর যুদ্ধবন্দীরা এসে পৌছুলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে সাহাবাদেরকে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দিলেন। এই উপদেশের ফলে সাহাবায়ে কেরাম নিজেরা খেজুর খেয়ে থাকতেন, কিন্তু কয়েদীদের রুটি খেতে দিতেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মদীনায় খেজুরের চেয়ে রুটির মূল্য ও গুরুত্ব ছিলো অধিক।

যুদ্ধবন্দী প্রসঙ্গ
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় পৌঁছার পর সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে অবশিষ্ট যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে পরামর্শ করলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রসূল, ওরাতো চাচাতো ভাই এবং আমাদের আত্মীয়স্বজন। আমার মতে আপনি ওদের কাছ থেকে ফিদিয়া অর্থাৎ মুক্তিপণ নিয়ে ওদের ছেড়ে দিন। এতে করে যা কিছু নেয়া হবে, সেসব কাফেরদের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি হিসাবে কাজে আসবে। এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের হেদায়াত দেবেন এবং তারা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওমর ইবনে খাত্তাবের মতামত জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আমি হযরত আবু বকরের মতের ভিন্ন মত পোষণ করি। আমি মনে করি যে, আপনি আমার আত্মীয় অমুককে আমার হাতে তুলে দিন, আমি তার শিরশ্ছেদ করবো। একইভাবে আকীল ইবনে আবু তালেবকে হযরত আলীর হাতে তুলে দিন, আলী তার শিরশ্ছেদ করবেন। একইভাবে হামযার ভাই অমুককে হামযার হাতে তুলে দিন, হামযা তার শিরশ্ছেদ করবেন। এতে আল্লাহ তায়ালা বুঝতে পারবেন যে, কাফেরদের জন্যে আমাদের মনে সমবেদনা নেই। এ সকল যুদ্ধবন্দী হচ্ছে কাফেরদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

হযরত ওমর (রা.) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়ের কথা শোনার পর হযরত আবু বকরের পরামর্শ গ্রহণ করেন, আমার পরামর্শ গ্রহণ করেননি। ফলে কয়েদীদের কাছ থেকে ফিদিয়া গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো। পরদিন খুব সকালে আমি আল্লাহর রসূলের কাছে গিয়ে দেখি, তিনি এবং হযরত আবু বকর উভয়ে কাঁদছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল, আপনারা কেন কাঁদছেন, আমাকে বলুন। যদি কান্নার কারণ ঘটে থাকে, তবে আমিও কাঁদবো। যদি কারণ না ঘটে, তবে আপনাদের কান্নার কারণে আমিও কাঁদবো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ফিদিয়া দেয়ার শর্ত গ্রহণ করার কারণে তোমার সঙ্গীদের ওপর যে জিনিস পেশ করা হয়েছে, সেই কারণে কাঁদছি। একথা বলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকটবর্তী একটি গাছের প্রতি ইশারা করে বললেন, আমার কাছে ওদের আযাব এই গাছের চেয়ে নিকটতর করে পেশ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেছেন, দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবীর জন্যে সঙ্গত নয়। 'তোমরা কামনা কর পার্থিব সম্পদ এবং আল্লাহ তায়ালা চান পরকালের কল্যাণ। আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছো, সে জন্যে তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হতো।' (সূরা আনফাল, আয়াত ৭৬-৬৮)

আল্লাহ তায়ালা উপরোক্ত আয়াতে পূর্ব বিধানের যে উল্লেখ করেছেন, সেটা হচ্ছে সূরা মোহাম্মদের চতুর্থ আয়াতের একটি নির্দেশ। তাতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'অতপর হয় অনুকম্পা না হয় মুক্তিপণ।'

এই আয়াতে যুদ্ধবন্দীদের কাছ থেকে ফিদিয়া নেয়ার অনুমতি থাকায় বন্দীদের ব্যাপারে ফিদিয়ার সিদ্ধান্ত দেয়ায় সাহাবায়ে কেরামকে আযাব দেয়া হয়নি, বরং ধমক দেয়া হয়েছে। ধমকও আবার এ কারণে দেয়া হয়েছে যে, তারা কাফেরদের ভালোভাবে নিশ্চিহ্ন না করেই বন্দী করেছে। এ কারণেও ধমক দেয়া হয়েছে যে তারা এমন সব কাফের থেকে ফিদিয়া বা মুক্তিপণ নেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, যারা শুধু যুদ্ধবন্দীই ছিলো না বরং গুরুতর অপরাধীও ছিলো। আধুনিক আইনও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে ছাড়ে না। এ ধরনের অপরাধীদের ব্যাপারে দায়েরকৃত মামলার শাস্তি হয়তো মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

হযরত আবু বকর (রা.)-এর মতামত অনুযায়ী যেহেতু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে, এ কারণে মোশরেকদের কাছ থেকে ফিদিয়া নেয়া হয়েছে। ফিদিয়ার পরিমাণ ছিলো এক হাজার দিরহাম তিন হাজার এবং চার হাজার দিরহাম পর্যন্ত। মক্কাবাসীরা লেখাপড়া জানতো। পক্ষান্তরে মদীনাবাসীরা পড়ালেখার সাথে তেমনি পরিচিত ছিলো না। এ কারণে এরূপ সিদ্ধান্তও রাখা হয়েছিলো যে, যাদের মুক্তিপণ প্রদানের সামর্থ নেই, তারা মদীনায় দশটি করে শিশুকে লেখাপড়া শেখাবে। শিশুরা ভালোভাবে লেখাপড়া শিক্ষা করলে শিক্ষক কয়েদীদের জন্যে সেটাই হবে মুক্তিপণ।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকজন বন্দীকে বিশেষ দয়া করায় তাদের কাছ থেকে ফিদিয়া গ্রহণ করা হয়নি, এমনিতেই মুক্তি দেয়া হয়। এরা ছিলো মোত্তালেব ইবনে হানতাব, সাঈফি ইবনে আবু রেফায়া এবং আবু আযযা জুমাহী। শেষোক্ত ব্যক্তিকে ওহুদের যুদ্ধে পূনরায় কয়েদ এবং পরে হত্যা করা হয়। এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পরে আছে।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জামাতা আবুল আসকে এই শর্তের উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি নবী নন্দিনী হযরত যয়নব (রা.)-এর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না। এর কারণ ছিলো যে, হযরত যয়নব আবুল আস এর ফিদিয়া হিসাবে কিছু সম্পদ পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি হারও ছিলো। হারটির মালিকানা ছিলো প্রকৃতপক্ষে হযরত খাদিজা (রা.)-এর। হযরত যয়নব (রা.)-কে আবুল আস-এর ঘরে পাঠানোর বিদায়কালীন সময়ে তিনি আপন কন্যাকে উপহার স্বরূপ সেটি দিয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা দেখামাত্র তাঁর দুইচোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে, আবেগে কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসে। তিনি আবুল আসকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সাহাবাদের মতামত চান। সাহাবারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই প্রস্তাব সশ্রদ্ধভাবে অনুমোদন করেন। অতপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জামাতা আবুল আসকে এই শর্তে ছেড়ে দেন যে, আস হযরত যয়নব (রা.)-কে মুক্তি দেবেন। মুক্তি পেয়ে যয়নব (রা.) হিজরত করে মদীনায় চলে আসেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা এবং অন্য একজন আনসারী সাহাবীকে মক্কায় প্রেরণ করেন। তাদের বলা হয় যে, তোমরা মক্কার উপকণ্ঠ অথবা জায নামক জায়গায় থাকবে। হযরত যয়নব (রা.) তোমাদের কাছে দিয়ে যখন যেতে থাকবেন, তখন তাকে সঙ্গে নিয়ে আসবে। এই দুইজন সাহাবী মক্কায় গিয়ে হযরত যয়নব (রা.)-কে মদীনায় নিয়ে আসেন। হযরত যয়নব (রা.)-এর হিজরতের ঘটনা অনেক দীর্ঘ এবং মর্মস্পর্শী।

যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে সোহায়েল ইবনে আমরও ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান বক্তা। হযরত ওমর (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রসূল, সোহায়েল ইবনে আমরের সামনের দু'টি দাঁত ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা করুন, এতে তার কথা মুখে জড়িয়ে যাবে। এতে সে সুবক্তা হিসাবে আপনার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে সুবিধা করতে পারবে না। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন। কেননা মানুষের অঙ্গহানি করা ইসলামী পরিভাষায় 'মোছলা' করার শামিল। কেয়ামতের কঠিন দিনে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। হযরত সা'দ ইবনে নো'মান (রা.) ওমরাহ পালনের জন্যে বেরিয়েছিলেন। এ সময় আবু সুফিয়ান তাকে গ্রেফতার করে। আবু সুফিয়ানের পুত্র আমর যুদ্ধবন্দী ছিলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরকে আবু সুফিয়ানের হাতে ন্যস্ত করায় বিনিময়ে তিনি হযরত সা'দকে মুক্তি দিলেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 পবিত্র কোরআনের পর্যালোচনা

📄 পবিত্র কোরআনের পর্যালোচনা


আল্লাহ তায়ালা বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আনফাল নাযিল করেন। প্রকৃতপক্ষে, এটি হচ্ছে বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে আল্লাহর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন। দুনিয়ার অন্যান্য বাদশাহ, সেনানায়ক বা অন্য যে কারো মূল্যায়নের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা। আল্লাহর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাচ্ছে।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন সর্বপ্রথম মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা এবং চারিত্রিক দুর্বলতার প্রতি আলোকপাত করেন। এই সংকীর্ণতা ও দুর্বলতা তাদের মধ্যে ছিলো, যা যুদ্ধশেষে অনেকটা প্রকাশ হয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে আলোকপাত করেন এজন্যে যে, মুসলমানদের তা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এতে করে তারা ঈমানের পূর্ণতা লাভে সক্ষম হবে।

অতপর এই যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য এবং গায়েবী সাহায্য সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, মুসলমানরা যেন নিজেদের বীরত্ব ও বাহাদুরির ধোকায় না পড়ে। কেননা এর ফলে তাদের মনে অহংকার দেখা দেবে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চান যে, মুসলমানদের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভরতা এবং রসূলের প্রতি আনুগত্যের গুণই যেন দেখা দেয়।

রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সামনে নিয়ে এ ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অভিযানের পথে পা রেখেছিলেন, এরপর সে বিষয়ে অপরিহার্য চারিত্রিক গুণাবলী ও বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতপর মোশরেক, মোনাফেক, ইহুদী ও যুদ্ধবন্দীদের উদ্দেশ্যে এমন উচ্চাঙ্গের উপদেশ দেয়া হয়েছে যাতে করে, তারা সত্যের সামনে মাথা নত করে সত্যের অনুসারীতেই পরিণত হয়।

এরপর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে মৌলিক নীতিমালা ব্যাখ্যা করা হয়।

যুদ্ধ ও সন্ধির বিধানও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়। ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর অপরিহার্যতা ও প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই ব্যাখ্যা ও নীতিমালা এ কারণেই দেয়া হয়েছে যাতে, মুসলমানরা ইসলাম পূর্ব যুদ্ধ এবং ইসলাম পরবর্তীকালের যুদ্ধের পার্থক্য করতে পারে। এছাড়া নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে যেন তারা উচ্চতর মর্যাদা লাভেও সক্ষম হয়। বিশ্ববাসী যেন এর মাধ্যমে জানতে পারে যে, ইসলাম শুধু একটি আদর্শ মাত্র নয়, বরং ইসলাম যে নীতিমালা ও বিধি বিধানের দাওয়াত দেয়, সেই অনুযায়ী অনুসারীদের বাস্তব প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে।

এরপর ইসলামী রাষ্ট্রের নীতিমালা সম্পর্কে কয়েকটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ মুসলমান এবং এর বাইরের সীমারেখার মুসলমানদের মধ্যকার পার্থক্য বোঝা যায়।

আল্লাহ তায়ালা বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে সূরা আনফাল নাযিল করেন। প্রকৃতপক্ষে, এটি হচ্ছে বদরের যুদ্ধ সম্পর্কে আল্লাহর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন। দুনিয়ার অন্যান্য বাদশাহ, সেনানায়ক বা অন্য যে কারো মূল্যায়নের চাইতে সম্পূর্ণ আলাদা। আল্লাহর পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা যাচ্ছে।
আল্লাহ রব্বুল আলামীন সর্বপ্রথম মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা এবং চারিত্রিক দুর্বলতার প্রতি আলোকপাত করেন। এই সংকীর্ণতা ও দুর্বলতা তাদের মধ্যে ছিলো, যা যুদ্ধশেষে অনেকটা প্রকাশ হয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে আলোকপাত করেন এজন্যে যে, মুসলমানদের তা থেকে মুক্ত করতে চেয়েছিলেন। এতে করে তারা ঈমানের পূর্ণতা লাভে সক্ষম হবে।
অতপর এই যুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য এবং গায়েবী সাহায্য সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, মুসলমানরা যেন নিজেদের বীরত্ব ও বাহাদুরির ধোকায় না পড়ে। কেননা এর ফলে তাদের মনে অহংকার দেখা দেবে কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চান যে, মুসলমানদের মধ্যে আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভরতা এবং রসূলের প্রতি আনুগত্যের গুণই যেন দেখা দেয়।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে মহান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সামনে নিয়ে এ ভয়াবহ ও রক্তাক্ত অভিযানের পথে পা রেখেছিলেন, এরপর সে বিষয়ে অপরিহার্য চারিত্রিক গুণাবলী ও বৈশিষ্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতপর মোশরেক, মোনাফেক, ইহুদী ও যুদ্ধবন্দীদের উদ্দেশ্যে এমন উচ্চাঙ্গের উপদেশ দেয়া হয়েছে যাতে করে, তারা সত্যের সামনে মাথা নত করে সত্যের অনুসারীতেই পরিণত হয়।
এরপর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে মৌলিক নীতিমালা ব্যাখ্যা করা হয়।
যুদ্ধ ও সন্ধির বিধানও এখানে ব্যাখ্যা করা হয়। ইসলামী দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর অপরিহার্যতা ও প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই ব্যাখ্যা ও নীতিমালা এ কারণেই দেয়া হয়েছে যাতে, মুসলমানরা ইসলাম পূর্ব যুদ্ধ এবং ইসলাম পরবর্তীকালের যুদ্ধের পার্থক্য করতে পারে। এছাড়া নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে যেন তারা উচ্চতর মর্যাদা লাভেও সক্ষম হয়। বিশ্ববাসী যেন এর মাধ্যমে জানতে পারে যে, ইসলাম শুধু একটি আদর্শ মাত্র নয়, বরং ইসলাম যে নীতিমালা ও বিধি বিধানের দাওয়াত দেয়, সেই অনুযায়ী অনুসারীদের বাস্তব প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে।
এরপর ইসলামী রাষ্ট্রের নীতিমালা সম্পর্কে কয়েকটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ মুসলমান এবং এর বাইরের সীমারেখার মুসলমানদের মধ্যকার পার্থক্য বোঝা যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00