📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মক্কায় পরাজয়ের খবর

📄 মক্কায় পরাজয়ের খবর


পরাজয়ের পর মক্কার মোশরেকরা বিশৃঙ্খল অবস্থায় ভীতবিহ্বল হয়ে মক্কার পথে পালালো। লজ্জায় তারা এমন অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে যে, বুঝতে পারছিলো না, কিভাবে মক্কায় প্রবেশ করবে।

ইবনে ইসহাক বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কোরায়শদের পরাজয়ের খবর নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করে, তার নাম ছিলো হায়ছুমান ইবনে আবদুল্লাহ খোযাঈ। লোকজন তাকে পেছনের খবর জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন, ওতবা ইবনে রবিয়া, শায়বা ইবনে রবিয়া, আবুল হাকাম ইবনে হিশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ এবং আরো অমুক অমুক সর্দার নিহত হয়েছে। নিহতদের তালিকায় নেতৃস্থানীয় কোরায়শদের নাম শুনে কাবার হাতীমে উপবিষ্ট সফওয়ান ইবনে উমাইয়া বললেন, খোদার কসম, এই লোকটির যদি হুশ থেকে থাকে, তবে ওকে আমার কথা জিজ্ঞাসা করো। উপস্থিত লোকেরা হায়ছুমানকে বললো, সফওয়ান ইবনে উমাইয়ার কি সংবাদ? তিনি বললেন, ঐ দেখো, তিনি কাবার হাতীমে বসে আছেন। খোদার কসম, তার বাপ এবং তার ভাইকে নিহত হতে আমি নিজে দেখেছি।

রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্রীতদাস আবু রাফে বর্ণনা করেন যে, সেই সময় আমি হযরত আব্বাসের ক্রীতদাস ছিলাম। আমাদের পরিবারে ইসলাম প্রবেশ করেছিলো। হযরত আব্বাস (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আমিও মুসলমান হয়েছিলাম। হযরত আব্বাস (রা.) তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা গোপন রেখেছিলেন। আবু লাহাব বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের জয়ের খবর শুনে আবু লাহাব মুষড়ে পড়লো। আমরা নবতর শক্তি ও সম্মান অনুভব করলাম। আমি ছিলাম দুর্বল প্রকৃতির লোক। আমি তীর তৈরী করতাম। যমযম এর হুজরায় বসে তীরের ফলা সরু করতাম। সেই সময় আমি এক মনে তীর তৈরী করছিলাম। উম্মুল ফযল আমার কাছে বসেছিলেন। যুদ্ধজয়ের খবর পেয়ে আমরা বেশ আনন্দিত ছিলাম। এমন সময় আবু লাহাব পা টেনে টেনে অনেকটা খোঁড়ানোর ভঙ্গিতে এসে হুজরার কাছে বসলো। তার পিঠ ছিলো আমার পিঠের দিকে। এমন সময় আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ইবনে আবদুল মোত্তালেব এসে পৌছুলো। আবু লাহাব তাকে বললো, আমার কাছে এসো, আমার জীবনের শপথ, তোমার কাছে খবর আছে। আবু সুফিয়ান আবু লাহাবের সামনে বসলো। বেশ কিছু লোক দাঁড়িয়ে রইলো। আবু লাহাব বললো, বলো ভাতিজা, লোকদের কি খবর? আবু সুফিয়ান বললো, কিছুই না। লোকদের সাথে আমাদের মোকাবেলা হলো, আমরা নিজেদের কাঁধ তাদের হাতে ছেড়ে দিলাম। তারা যেভাবে ইচ্ছা আমাদের হত্যা করছিলো, যেভাবে ইচ্ছা আমাদের বন্দী করছিলো। খোদার কসম, এসব সত্তেও আমি আমাদের লোকদের দোষ দেই না। প্রকৃতপক্ষে এমন সব লোকদের সাথে আমাদের মোকাবেলা হয়েছিলো, যারা আকাশ যমিনের মাঝামাঝি চিত্রল ঘোড়ায় সওয়ার ছিলো। খোদার কসম, তারা কোন কিছু ছাড়ছিলো না এবং কোন জিনিস তাদের মোকাবেলায় টিকতেও পারছিলো না।

আবু রাফে বলেন, আমি নিজ হাতে তাঁবুর কিনারা তুললাম। এরপর বললাম, খোদার কসম, তারা ছিলেন ফেরেশতা। একথা শুনে আবু লাহাব আমার মুখে সজোরে চড় দিলো। আমি তার সাথে লেগে গেলাম। সে আমাকে তুলে আছাড় দিলো। এরপর আমাকে প্রহার করতে লাগলো। আমি ছিলাম দুর্বল। ইতিমধ্যে উম্মুল ফযল উঠে তাঁবুর একট কঞ্চি দিয়ে আবু লাহাবকে প্রহার করতে লাগলেন। আবু লাহাব আঘাত পেলো। উম্মুল ফযল তাকে প্রহার করতে করতে বলছিলেন, ওর কোন মালিক নেই, এজন্যে ওকে দুর্বল মনে করছো? আবু লাহাব অপমানিত হয়ে উঠে চলে গেলো। এই ঘটনার মাত্র সাতদিন পর আবু লাহাব প্লেগে আক্রান্ত হয়ে সে রোগেই প্রাণ ত্যাগ করলো। প্লেগের গুটিকে আরবে খুব অপয়া মনে করা হতো। মৃত্যুর পর তিনদিন পর্যন্ত আবু লাহাবের লাশ পড়ে রইলো। তার সন্তানরাও কাছে গেলো না। কেউ তার দাফনের ব্যবস্থা করেনি। তার সন্তানরা তিনদিন পর ভেবে দেখলো যে, এভাবে লাশ ফেলে রাখলে অন্য লোকেরা তাদের নিন্দা সমালোচনা করবে। তখন তারা একটি গর্ত খুঁড়ে সেই গর্তে কাঠের মাধ্যমে ধাক্কা দিয়ে লাশ ফেলে দিলো। তারপর দূর থেকে পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিলো।

মক্কায় বদর যুদ্ধের পরাজয়ের খবর পৌছার পরে কোরায়শদের মেজায খারাপ হয়ে গেলো। মৃতদের স্মরণে তারা কোন শোক প্রকাশমূলক কোনো অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেনি। তারা ভেবেছিলো যে, এতে করে মুসলমানরা সমালোচনা করবে। আর মুসলমানদের কোন প্রকার সমালোচনার সুযোগ দিতে তারা রাযি নয়।

একটি মজার ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে। বদরের যুদ্ধে আসওয়াদ ইবনে আবদুল মোত্তালেবের তিন পুত্র নিহত হয়েছিলো। এ কারণে পুত্রদের স্মরণে সে কান্নাকাটি করতে চাচ্ছিলো। আসওয়াদ ছিলো অন্ধ। একরাতে সে একজন বিলাপকারিনী মহিলার কান্নার আওয়ায শুনলো। এই আওয়ায শুনে আসওয়াদ দ্রুত নিজের ক্রীতদাসকে সেই মহিলার কাছে খবর আনতে পাঠালো যে, শোক প্রকাশের অনুমতি পাওয়া গেছে কিনা জেনে এসো। কোরায়শরা কি তাদের নিহতদের স্মরণে কান্নাকাটি করছে? তাহলে আমি আমার তিন পুত্রের মধ্যে অন্তত আবু হাকিমার জন্যে একটু কাঁদতাম। কেননা আমার বুক জ্বলে যাচ্ছে। ক্রীতদাস ফিরে এসে বললো, সে তার হারিয়ে যাওয়া উটের শোকে বিলাপ করছে। আসওয়াদ একথা শুনে আত্মসম্বরণ করতে পারলো না। নীচে উল্লিখিত কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলো।

সে মহিলা কাঁদছে হায় উট হারালো তাই, উটের শোকে তার বুঝি চোখে ঘুম নাই। উটের জন্যে কাঁদিসনে যদিও তা হারিয়েছে, বদরের কথা ভেবে কাঁদ, ওরে কপাল পুড়েছে। হাসীস, মাখযুম আর আবু ওলিদ ছিলো গোত্রের প্রাণ, আকীলের জন্যে হারেসের জন্যে ফেলো চোখের নীর। ওরা ছিলো ব্যাঘ্রের ব্যাঘ্র ওরা ছিলো বীর। সবার নাম নিওনা তবু কাঁদো ওদের তরে, কেউ হাকিমা হায় আমি বোঝাই কেমন করে আবু হাকিমার শোক কোনভাবেই সমকক্ষ তার, অজ্ঞাত লোক বদরের কারণে আজ হলো সর্দার।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনায় বিজয়ের সুসংবাদ

📄 মদীনায় বিজয়ের সুসংবাদ


মুসলমানদের বিজয় পরিপূর্ণ হওয়ার পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনাবাসীদের তাড়াতাড়ি সুসংবাদ দেয়ার জন্যে দূত পাঠালেন। মদীনা দু'টি এলাকায় খবর দেয়ার জন্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা এবং হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)-কে প্রেরণ করা হলো।

এর আগে ইহুদী এবং মোনোফেকরা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মদীনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে রেখেছিলো। এমনকি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিহত হওয়ার খবর পর্যন্ত প্রচার করা হয়েছিলো। হযরত যায়েদ ইবনে হারেসাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাসাওয়া নামক উটনীর পিঠে সওয়ার হয়ে আসতে দেখে একজন মোনাফেক বলেই ফেলল যে, সত্যি সত্যি মোহাম্মদ নিহত হয়েছেন। ওই দেখো তার উটনী। আমরা এ উটনী চিনি। ওই দেখো যায়েদ ইবনে হারেস। যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে এসেছে। এমন হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছে যে, কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। উভয় দূত পৌছার পর মুসলমানরা তাদের ঘিরে ধরে এবং বিস্তারিত বিবরণ শুনতে লাগলেন। সব শোনার পর বিজয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে মুসলমানরা আনন্দে অধীর হয়ে উঠলেন। 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর' ধ্বনিতে মদীনার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠলো। যে সকল মুসলমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর প্রান্তরে যাননি তারা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যে বদরের পথে বেরিয়ে পড়লেন।

হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) বলেন, হযরত ওসমান (রা.)-এর সহধর্মিনী নবী নন্দিনী হযরত রোকাইয়া (রা.)-কে দাফন করে যখন আমরা কবরের উপরের মাটি সমান করে দিচ্ছিলাম, সেই সময় আমাদের কাছে বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয়ের খবর এসে পৌছুলো। হযরত রোকাইয়া (রা.) অসুস্থ ছিলেন। তাঁর দেখাশোনার জন্যে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওসমান (রা.)-এর সঙ্গে আমাকেও মদীনায় রেখে গিয়েছিলেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) প্রসঙ্গ

📄 গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) প্রসঙ্গ


যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন দিন বদর প্রান্তরে অবস্থান করলেন। মদীনার পথে রওয়ানা হওয়ার আগেই গনীমতের মাল প্রসঙ্গে মুসলমানদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলো। এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিলেন যে, যার কাছে যা কিছু আছে, সবই যেন তাঁর সামনে নিয়ে আসা হয়। সাহাবারা তাই করলেন। এরপর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহীর মাধ্যমে এই সমস্যার মীমাংসা করে দিলেন।
হযরত ওবাদা ইবনে সামেত (রা.) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মদীনা থেকে বেরিয়ে বদরে পৌছুলাম। লোকদের সাথে যুদ্ধ হলো এবং আল্লাহ তায়ালা শত্রুদের পরাজিত করলেন। এরপর একদল লোক কাফেরদের ধাওয়া করতে লাগলেন, কাউকে গ্রেফতার এবং কাউকে হত্যা করছিলেন। একদল লোক গনীমতের মাল জমা করতে শুরু করলেন, আর একদল লোক সর্বক্ষণ প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ঘেরাও দিয়ে রাখছিলেন। তাঁরা ভাবছিলেন, শত্রুরা ধোকা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কোন প্রকার কষ্ট দিতে পারে। রাত্রিকালে গনীমতের মাল সংগ্রাহকরা বলাবলি করতে লাগলেন যে, আমি এই পরিমাণ সংগ্রহ করেছি, এগুলো সব আমার, আমি এর ভাগ অন্য কাউকে দেবো না। শত্রুদের ধাওয়াকারীরা বললেন, আমরা এই সব মালামাল থেকে শত্রুদের তাড়িয়ে দিয়েছি; কাজেই এসব আমাদের। যে সকল সাহাবী প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা বললেন, আমরা আশঙ্কা করছিলাম যে, শত্রুরা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অমনোযোগী মনে করে কষ্ট না দেয়। এ কারণে আমরা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। এ ধরনের মতবিরোধ দেখা দেয়ার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'লোকে আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে।' বলুন, 'যুদ্ধলব্ধ সম্পদ আল্লাহ তায়ালা এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করো, যদি তোমরা মোমেন হও।' (সূরা আনফাল, আয়াত ১)
আল্লাহর রসূল এরপর সেই যুদ্ধলব্ধ সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করে দেন।

টিকাঃ
১২. মোসনাদে আহমদ, ৫ম খন্ড, পৃ. ৩২৩, ৩২৪, হাকেম ২য় খন্ড, পৃ. ৩২৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনার পথে মুসলিম বাহিনী

📄 মদীনার পথে মুসলিম বাহিনী


রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনদিন বদর প্রান্তরে কাটানোর পর চতুর্থ দিন মদীনার পথে যাত্রা করেন। তাঁদের সঙ্গে মক্কার কোরায়শ বন্দীরাও ছিলো গনীমতের মালও ছিলো। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে কা'বকে এসবের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ছাফরা প্রান্তর অতিক্রমের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দারবে এবং নাজিয়ার মাঝামাঝি জায়গায় একটি টিলায় অবস্থান করেন। সেখানেই যুদ্ধলব্ধ সামগ্রীর এক পঞ্চমাংশ পৃথক করে রেখে বাকি সম্পদ মুসলমানদের মধ্যে সমভাবে বন্টন করে দেয়া হয়। ছাফরা প্রান্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নযর ইবনে হারেসকে হত্যার নির্দেশ দেন। বদরের যুদ্ধে এই লোকটি কোরায়শদের পতাকা বহন করছিলো এবং সে অপরাধীদের অন্যতম। ইসলামের শত্রুতায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারীদের অন্যতম ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে হযরত আলী (রা.) নযর ইবনে হারেসকে হত্যা করেন।

এরপর তাঁরা উবকুজ জাবিয়া পৌঁছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে ওকবা ইবনে আবু মুঈতের হত্যার নির্দেশ দেন। সে ইসলামের শত্রুতায় অগ্রণী ছিলো, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দিতো। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে। এই লোকটিই আল্লাহর রসূলের নামায আদায়রত অবস্থায় তাঁর কাঁধে উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিয়েছিলো এবং গলায় চাদর জড়িয়ে আল্লাহর রসূলকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) হঠাৎ উপস্থিত হয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দুর্বৃত্তের কবল থেকে উদ্ধার করেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুর্বৃত্তকে হত্যার নির্দেশ দিলে সে বললো, ওহে মোহাম্মদ, সন্তানদের জন্যে কে আছে? তিনি বললেন, আগুন। পরে হযরত আসেম ইবনে ছাবেত আনসারী (রা.) অথবা হযরত আলী (রা.) ওকবার শিরশ্ছেদ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00