📄 গোপনে সংবাদ সংগ্রহের উদ্যোগ
এখানে অবতরণের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর 'গারে ছুরের' সাথী হযরত আবু বকর (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বেরোলেন। দূর থেকে মক্কার সৈন্যদের তাঁবু পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এমন সময় আরবের একজন বৃদ্ধের দেখা পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোরায়শ এবং মোহাম্মদের সাহাবীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উভয় বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসার কারণ ছিলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু বুড়ো বেঁকে বসলেন। তিনি বললেন, আপনারা নিজেদের পরিচয় দিন, আপনারা কোন দলের অন্তর্ভুক্ত সেকথা বলুন, অন্যথায় আমি কিছু বলব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার কাছে যা জানতে চেয়েছি, আপনি আমাদের বলুন, এরপর আমরা আপনাকে নিজেদের পরিচয় দেবো। বৃদ্ধ বললেন, মোহাম্মদ এবং তাঁর সঙ্গীরা যদি আমাকে সত্য কথা জানিয়ে থাকে, তবে আজ তাদের অমুক জায়গায় থাকার কথা। একথা বলে বৃদ্ধ ঠিক সেই জায়গার কথা উল্লেখ করলো, যেখানে সেই সময় সাহাবারা অবস্থান করছিলেন। বৃদ্ধ আরো বললেন, কোরায়শ অমুক দিন বেরিয়েছে। সংবাদ বাহক যদি আমাকে সত্য কথা জানিয়ে থাকে, তবে কোরায়শদের আজ অমুক জায়গায় থাকার কথা। এ কথ, বলে বৃদ্ধ ঠিক সেই জায়গারই উল্লেখ করলো, যেখানে আবু জেহেল এবং তার সঙ্গীরা অবস্থান করছিলো। বৃদ্ধ কথা শেষ করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীর পরিচয় জানতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা একই পানি থেকে উদ্ভুত। একথা বলেই চলে এলেন। বৃদ্ধ বিড়বিড় করতে লাগলো, 'কোন পানি থেকে? ইরাকের পানি থেকে?'
মক্কার বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সেইদিন শেষ বিকেলে শত্রুদের অবস্থান ও অন্যান্য খবর সংগ্রহের জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল গুপ্তচর প্রেরণ করলেন। এই দলে ছিলেন মোহাজেরদের তিনজন নেতা। এরা হলেন, হযরত আলী (রা.), হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। এই তিনজন বিশিষ্ট সাহাবী অন্য কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে কোরায়শ বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতে বেরোলেন। প্রথমে তারা বদরের জলাশয়ের কাছে গেলেন। সেখানে দুইজন ক্রীতদাস কোরায়শ বাহিনীর জন্যে পানি তুলছিলো। সাহাবীরা তাদেরকে পাকড়াও করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নামায আদায় করছিলেন। সাহাবারা গ্রেফতারকৃত ক্রীতদাসদের কাছে কোরায়শদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললো, আমরা কোরায়শদের লোক। তারা আমাদের পানি তুলে নেয়ার জন্যে পাঠিয়েছে। সাহাবাদের এই জবাব পছন্দ হলো না। তারা ধারণা করেছিলেন যে, এরা আবু সুফিয়ানের লোক হবে। কেননা তাদের মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা ছিলো যে, বাণিজ্য কাফেলা হয়তো অধিকার করা যাবে। সাহাবারা উভয় ক্রীতদাসকে মারাত্মভাবে প্রহার করলেন। প্রহারের চোটে ওরা বাধ্য হয়ে বললো, হাঁ আমরা আবু সুফিয়ানের লোক। একথা শোনার পর প্রহারকারীরা প্রহার বন্ধ করলো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায শেষে সাহাবাদের রুক্ষভাবে বললেন, ওরা যখন সত্য কথা বলেছিলো তখন তোমরা তাদের প্রহার করেছো আর যখন মিথ্যা কথা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। আল্লাহর শপথ, ওরা উভয়েই সত্য কথা বলেছে। ওরা কোরায়শদেরই লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর ক্রীতদাসদের বললেন, আচ্ছা তোমরা এবার আমাকে কোরায়শদের সম্পর্কে কিছু বলো। তারা বললো, প্রান্তরের শেষ সীমায় যে টীলা দেখা যাচ্ছে, কোরায়শরা তার পেছনে রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে চাইলেন লোক কতো? ওরা বললো, আমরা জানি না। দৈনিক কয়টি উট যবাই করে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বললো, একদিন নয়টি এবং একদিন দশটি। একথা শুনে তিনি বললেন, লোকসংখ্যা নয়শত থেকে এক হাজারের মধ্যে হবে। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের মধ্যে কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কারা রয়েছে? তারা বললো, রবিয়ার উভয় ছেলে ওতবা এবং শায়বা আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকেম, ইবনে হাজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলাহ, হারেস ইবনে আমর, তুয়াইমা ইবনে আদী, নযর ইবনে হারেস, জামআ ইবনে আসওয়াদ, আবু জেহেল ইবনে হিশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ। এরা ছাড়াও উভয় ক্রীতদাস আরো কয়েকজনের নাম বললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, মক্কা তাদের বড় বড় টুকরাগুলোকে তোমাদের পাশে এনে ফেলেছে।
📄 মক্কার বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সেইদিন শেষ বিকেলে শত্রুদের অবস্থান ও অন্যান্য খবর সংগ্রহের জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল গুপ্তচর প্রেরণ করলেন। এই দলে ছিলেন মোহাজেরদের তিনজন নেতা। এরা হলেন, হযরত আলী (রা.), হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। এই তিনজন বিশিষ্ট সাহাবী অন্য কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে কোরায়শ বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতে বেরোলেন। প্রথমে তারা বদরের জলাশয়ের কাছে গেলেন। সেখানে দুইজন ক্রীতদাস কোরায়শ বাহিনীর জন্যে পানি তুলছিলো। সাহাবীরা তাদেরকে পাকড়াও করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নামায আদায় করছিলেন। সাহাবারা গ্রেফতারকৃত ক্রীতদাসদের কাছে কোরায়শদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললো, আমরা কোরায়শদের লোক। তারা আমাদের পানি তুলে নেয়ার জন্যে পাঠিয়েছে। সাহাবাদের এই জবাব পছন্দ হলো না। তারা ধারণা করেছিলেন যে, এরা আবু সুফিয়ানের লোক হবে। কেননা তাদের মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা ছিলো যে, বাণিজ্য কাফেলা হয়তো অধিকার করা যাবে। সাহাবারা উভয় ক্রীতদাসকে মারাত্মভাবে প্রহার করলেন। প্রহারের চোটে ওরা বাধ্য হয়ে বললো, হাঁ আমরা আবু সুফিয়ানের লোক। একথা শোনার পর প্রহারকারীরা প্রহার বন্ধ করলো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায শেষে সাহাবাদের রুক্ষভাবে বললেন, ওরা যখন সত্য কথা বলেছিলো তখন তোমরা তাদের প্রহার করেছো আর যখন মিথ্যা কথা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। আল্লাহর শপথ, ওরা উভয়েই সত্য কথা বলেছে। ওরা কোরায়শদেরই লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর ক্রীতদাসদের বললেন, আচ্ছা তোমরা এবার আমাকে কোরায়শদের সম্পর্কে কিছু বলো। তারা বললো, প্রান্তরের শেষ সীমায় যে টীলা দেখা যাচ্ছে, কোরায়শরা তার পেছনে রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে চাইলেন লোক কতো? ওরা বললো, আমরা জানি না। দৈনিক কয়টি উট যবাই করে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বললো, একদিন নয়টি এবং একদিন দশটি। একথা শুনে তিনি বললেন, লোকসংখ্যা নয়শত থেকে এক হাজারের মধ্যে হবে। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের মধ্যে কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কারা রয়েছে? তারা বললো, রবিয়ার উভয় ছেলে ওতবা এবং শায়বা আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকেম, ইবনে হাজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলাহ, হারেস ইবনে আমর, তুয়াইমা ইবনে আদী, নযর ইবনে হারেস, জামআ ইবনে আসওয়াদ, আবু জেহেল ইবনে হিশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ। এরা ছাড়াও উভয় ক্রীতদাস আরো কয়েকজনের নাম বললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, মক্কা তাদের বড় বড় টুকরাগুলোকে তোমাদের পাশে এনে ফেলেছে।
📄 রহমতের বৃষ্টিপাত ও মুসলমানদের অগ্রাভিযান
সেই রাতেই আল্লাহ রব্বুল আলামীন বৃষ্টি বর্ষণ করেন। সেই বৃষ্টি কাফেরদের ওপর মুষলধারে বর্ষিত হয়, এতে তাদের অগ্রাভিযানে বাধার সৃষ্টি হয়। মুসলমানদের জন্যে তা ছিলো রহমতের ঝর্ণাধারা। এতে শয়তান সৃষ্ট নোংরামী থেকে মুসলমানরা পাকছাফ হওয়ার সুযোগ পান, পায়ের নীচের বালুকা শক্ত হয় এবং পা রাখার মতো চমৎকার অবস্থার সৃষ্টি হয়, মন মযবুত হয়ে যায়।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর মুসলিম নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সামনে অগ্রসর হন। মোশরেকদের আগেই বদরের জলাশয়ের কাছে পৌঁছার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সচেষ্ট ছিলেন। এ সময় হযরত হাকাব ইবনু মুনযির (রা.) একজন বিচক্ষণ ও দূরদর্শী সেনা নায়কের মতো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে একটি পরামর্শ দেন। প্রথমে তিনি জানতে চান যে, হে আল্লাহর রসূল, আপনি কি এখানে আল্লাহর এমন আদেশে সমবেত হয়েছেন যে, সামনে পেছনে যাওয়ার কোন অবকাশ নেই? নাকি রণকৌশল হিসাবে আপনি এই জায়গা পছন্দ করেছেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা স্রেফ রণকৌশলগত কারণ। একথা শোনার পর হযরত খাব্বাব (রা.) বললেন, এই জায়গায় অবস্থান আমি সমীচীন মনে করি না। আমাদের আরো এগিয়ে যেতে হবে এবং কোরায়শদের অবস্থানের সবচেয়ে নিকটবর্তী জলাশয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অন্যান্য জলাশয়ের ওপরও আমরা নযর রাখবো। যুদ্ধ শুরু হলে আমরা পানি পান করবো, কিন্তু কোরায়শরা পানির অভাবে ছটফট করবে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি যথার্থ পরামর্শই দিয়েছো। এরপর তিনি সৈন্যদের নিয়ে এগিয়ে চললেন। রাতের মাঝামাঝি সময়ে শত্রুদের কাছাকাছি জলাশয়ের কাছে পৌঁছে তাঁবু ফেললেন। এরপর সাহাবারা হাউজ বানালেন এবং বাকি সব জলাশয় বন্ধ করে দিলেন।
📄 নেতৃত্বের কেন্দ্রস্থল ও যুদ্ধের জন্যে সেনাবিন্যাস
সাহাবারা জলাশয়ের কাছে অবস্থান নেয়ার পর হযরত সা'দ ইবনে মা'য (রা.) একটি প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি বলেন যে, মুসলমানরা নিজেদের নেতার জন্যে একটি অবস্থান কেন্দ্র তৈরী করতে পারে। এর ফলে আল্লাহ না করুন জয়ের বদলে মুসলমানদের পরাজয় অথবা অন্য কোন ধরনের জরুরী পরিস্থিতি দেখা দিলে আমরা আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারব। এরূপ আলোচনার পর হযরত সা'দ (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আপনার জন্যে আমরা একটা বিশেষ খাট তৈরী করতে চাই। আপনি সেখানে অবস্থান করবেন। আপনার পাশেই আমরা আপনার সওয়ারীও রেখে দেবো। এরপর শত্রুদের সাথে সংঘাতে লিপ্ত হবো। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সম্মান দিলে এবং শত্রুদের ওপর বিজয়ী করলে আপনার এরূপ অবস্থানস্থল আমাদের জন্যে পছন্দনীয় হবে। আমরা পরাজিত হলে আপনি সওয়ারীতে আরোহন করে সেইসব লোকের কাছ যেতে পারবেন, যারা পেছনে রয়েছেন। হে আল্লাহর নবী, আপনার পেছনে এমন লোকেরাই রয়েছে, যারা আপনাকে আমাদের চেয়ে বেশী ভালোবাসে। আপনার প্রতি আমাদের ভালোবাসা তাদের মতো বেশী ও গভীর নয়। তারা যদি জানতেন যে, আপনি যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন, তাহলে তারা কিছুতেই পেছনে থাকতেন না। আল্লাহ তায়ালা তাদের মাধ্যমে আপনার হেফাযত করবেন, ওরা আপনার কল্যাণকারী হবেন এবং আপনার সঙ্গে জেহাদ করবেন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে হযরত সা'দ (রা.) এর প্রশংসা করে তাঁর জন্যে দোয়া করলেন। মুসলমানরা যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তর পূর্ব দিকে একটি উঁচু টিলায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে একটি খাট তৈরী করেন। সেখানে বসে পুরো রণাঙ্গন চোখে পড়ে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্যে হযরত সা'দ ইবনে মা'য (রা.)-এর নেতৃত্বে একদল আনসার যুবককে দায়িত্ব দেয়া হয়।
যুদ্ধের জন্যে সেনা বিন্যাস
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর সেনা বিন্যাস করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রওয়ানা হয়ে যান। সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাতের ইশারা করে দেখিয়ে বলছিলেন যে, আগামীকাল ইনশাল্লাহ এই জায়গা হবে অমুকের বধ্যভূমি এবং এই জায়গা হবে অমুকের বধ্যভূমি।
এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে একটি গাছের শেকড়ের কাছে রাত্রিযাপন করেন। সাহাবারাও নিরুদ্বেগ প্রশান্তির সাথে রাত কাটান। তাদের অন্তর ছিলো আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিশ্চিন্ততার সাথে সময় অতিবাহিত করেন। তাদের মনে প্রত্যাশা ছিলো যে, সকালে নিজ চোখে মহান প্রতিপালকের সুসংবাদের প্রমাণ দেখতে পাবেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'স্মরণ কর, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন করেন এবং আকাশ থেকে তোমাদের ওপর বারি বর্ষণ করেন, তা দ্বারা তোমাদের তিনি পবিত্র করবেন, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা অপসারণ করবেন, তোমাদের হৃদয় দৃঢ় করবেন এবং তোমাদের পা স্থির রাখবেন।' (সূরা আনফাল, আয়াত ১১)
এটি ছিলো দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ই রমযানের রাত। এই মাসের ৮ বা ১২ তারিখ তিনি মদীনা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন।
টিকাঃ
১. জামে তিরমিযি, আবওয়াবুল জেহাদ, ১ম খন্ড, পৃ. ২০১
২. মেশকাত ২য় খন্ড, পৃ. ৫৪৩