📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 শত্রু বাহিনীর অনৈক্য ও মতবিরোধ এবং মুসলিম বাহিনীর নাযুক পরিস্থিতি

📄 শত্রু বাহিনীর অনৈক্য ও মতবিরোধ এবং মুসলিম বাহিনীর নাযুক পরিস্থিতি


আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলা আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
শত্রু বাহিনীর অনৈক্য ও মতবিরোধ
এই খবর পেয়ে মক্কার সাধারণ সৈন্যরা ফিরে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো। কিন্তু আবু জেহেল রুখে দাঁড়ালো। নিতান্ত অহংকারের সাথে সে বললো, খোদার কসম, বদর প্রান্তরে গিয়ে তিনদিন অবস্থান না করে আমরা ফিরে যাবো না। এই সময়ে সেখানে উট যবাই করবো, লোকদের ডেকে এনে আহার করাবো, মদ পান করাবো, দাসীরা আমাদের মনোরঞ্জনের জন্যে গান গাইবে। এর ফলে সমগ্র আরবে আমাদের এই সফরের খবর ছড়িয়ে পড়বে এবং চিরকালের জন্যে সবার মনে আমাদের সফর বিবরণী উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
আখনাস ইবনে শোরাইক নামে একজন বিশিষ্ট নেতা আবু জেহেলকে বললেন, চলো আমরা মক্কায় ফিরে যাই। কিন্তু তার কথায় আবু জেহেল কর্ণপাত করল না। আখনাস ছিলেন বনু যোহরা গোত্রের মিত্র এবং তিনশত সৈন্যের অধিনায়ক। তিনি আবু জেহেলকে প্রত্যাবর্তনে রাযি করাতে না পেরে বনু যোহরা গোত্রের লোকসহ তার অনুসারী তিনশত সৈন্য নিয়ে মক্কায় ফিরে গেলেন। বনু যোহরা গোত্রের কোন লোক বদরের যুদ্ধের অংশ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে বনু যোহরা গোত্র আখনাস ইবনে শোরাইকের বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করলো এবং তার মর্যাদা সেই গোত্রে স্থায়ীভাবে বসে গেলো।
বনু যোহরা গোত্রের লোকেরা ফিরে যাওয়ার পর আবু জেহেলের সঙ্গে এক হাজার লোক থাকলো। তারা বদর প্রান্তর অভিমুখে রওয়ানা হলো। বদর প্রান্তরে পৌঁছে তারা পাহাড়ী টিলার পেছনে তাঁবু স্থাপন করলো। এই টিলা বদরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
মুসলিম বাহিনীর জন্যে নাযুক পরিস্থিতি
মদীনার দূতের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীরা জাফরান প্রান্তর অতিক্রম করছিলেন। তিনি কোরায়শদের সম্পর্কে বিশদ খবর পাওয়ার পর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে বুঝতে পারলেন যে, কোরায়শদের সাথে একটি রক্তক্ষয়ী সংষর্ঘ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কাজেই এখন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ মক্কার বাহিনীকে যদি বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হয়, তবে পরিণামে কোরাযেশদের দাপট বেড়ে যাবে এবং তাদের জয় জয়কার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হবে। এতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপত্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের আওয়ায দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইসলাম হয়ে পড়বে প্রাণহীন ও শক্তিহীন। ইসলামের শত্রুরা এবং ইসলাম সম্পর্কে যারা ভালোভাবে জানা ও বোঝার সুযোগ পায়নি, তারা ইসলামের প্রতি ঘৃণার মনোভাব পোষণ করবে এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামের শত্রুতায় নেমে পড়বে।
তাছাড়া মক্কার উন্মত্ত সৈন্যরা মদীনা অভিমুখে যে রওয়ানা হবে না, তারও কোন নিশ্চয়তা ছিলো না। তারা মদীনায় গিয়ে মুসলমানদের ঘরে প্রবেশ করে অত্যাচার নির্যাতন করার সুযোগও হাতছাড়া করতো না। মদীনার বাহিনী যদি কিছুমাত্র শিথিল মনোভাব পোষণ করতো এবং মোকাবেলা না করে শান্তিরক্ষার চিন্তায় মদীনায় ফিরে যেতো, তবে উল্লিখিত সব কিছুই হয়ে উঠতো অবধারিত। তাছাড়া কাফেরদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিলে ইসলামের গৌরব ও মর্যাদার ওপর মন্দ প্রভাব পড়তো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মজলিসে শুরার বৈঠক

📄 মজলিসে শুরার বৈঠক


পরিস্থিতির আলোকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মজলিশে শূরার বৈঠক আহ্বান করলেন। বৈঠকে সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সেনা অধিনায়ক এবং সাধারণ সৈন্যদের মতামত নেয়া হয়। কিছুসংখ্যক মুসলমান রক্তাক্ত সংঘর্ষের কথা শুনে কাঁপতে শুরু করে। এদের সম্পর্কেই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, 'এটি এরূপ যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে ন্যায়ভাবে তোমার গৃহ থেকে বের করেছিলেন অথচ বিশ্বাসীদের একদল তা পছন্দ করেনি। সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা তোমার সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হয়। মনে হচ্ছিলো তারা যেন মৃত্যুর দিকে চালিত হচ্ছে, আর তারা যেন তা প্রত্যক্ষ করছে।' (সূরা আনফাল, আয়াত ৫-৬)
নেতাদের মতামত চাওয়া হলো। হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.) চমৎকার মনোভাব প্রকাশ করলেন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি নিবেদিত চিত্ততার পরিচয় তাঁদের কথার মাধ্যমে ফুটে উঠলো। এরপর উঠে দাঁড়ালেন হযরত মেকদাদ ইবনে আমর (রা.)। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যে পথ দেখিয়েছেন, তার ওপর আপনি অবিচল থাকুন। আমরা আপনার সঙ্গে রয়েছি। আল্লাহর শপথ, বনী ইসরাঈল হযরত মূসা (আ.)-কে যে ধরনের কথা বলেছিলো, আমরা আপনাকে ওরকম কথা বলব না। উল্লেখ্য বনী ইসরাঈল হযরত মূসা (আ.)-কে বলেছিলো, 'হে 'মূসা, তারা যতোদিন সেখানে থাকবে, ততোদিন আমরা সেখানে প্রবেশই করবো না। সুতরাং তুমি আর তোমার প্রতিপালক যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা এখানে বসে থাকবো।' (সূরা মায়েদা, আয়াত ২৪)
বরং আমরা বলবো 'আপনি এবং আপনার পরওয়ারদেগার লড়াই করুন, আমরাও আপনার সাথে লড়বো। সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদের বারকে গেমাদ পর্যন্তও নিয়ে যান, তবুও আমরা সারা পথ লড়াই করতে করতে আপনার সাথে সেখানে পৌছুবো।'
হযরত মেকদাদ (রা.)-এর কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রশংসা করে তার জন্যে দোয়া করলেন।
মোহাজেরদের মতামত নেয়ার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের মতামত নেয়া প্রয়োজন মনে করলেন। কারণ আনসাররাই ছিলো সংখ্যায় বেশী। যুদ্ধের দায়দায়িত্ব তাদের ওপরই বেশী ন্যস্ত হবে। অথচ বাইয়াতে আকাবার আলোকে মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার জন্যে তারা বাধ্য ছিলো না। হযরত আবু বকর, হযরত ওমর এবং হযরত মেকদাদ (রা.)-এর মতামত শোনার পর প্রিয় নবী আনসারদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও। আনসারদের অধিনায়ক হযরত সা'দ ইবনে মায়া'য (রা.) বললেন, 'হে আল্লাহর রসূল, আপনি আমাদের মতামত জানতে চেয়েছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হাঁ। হযরত সা'দ ইবনে মায়া'য বললেন, আমরা আপনার ওপর ঈমান এনেছি, আপনাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি। আমরা সাক্ষ্য দিয়েছি যে, আপনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন, সবই সত্য। আমরা আপনার আনুগত্যের জন্যে আপনার সাথে অঙ্গীকার করেছি। কাজেই আপনি যা ভালো মনে করেন, সেদিকে অগ্রসর হউন। সেই আল্লাহর শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদের সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান, তবে আমরাও ঝাঁপিয়ে পড়বো। আমাদের একজন লোকও পেছনে পড়ে থাকবে না। আগামীকাল আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করলেও আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমাদের মনে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমরা রণনিপুণ। এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের মাধ্যমে এমন বীরত্বের প্রকাশ ঘটাবেন, যা দেখে আপনার চক্ষু শীতল হয়ে যাবে। আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে চলুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের যাত্রা পথে বরকত দিন।
এক বর্ণনায় এরূপ উল্লেখ রয়েছে যে, হযরত সা'দ ইবনে মায়া'য (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আপনি সম্ভবত ভাবছেন যে, আনসাররা নিজেদের এলাকায় আপনাকে সাহায্য করবে এবং এটাকেই দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করে। এ কারণেই আমি আনসারদের পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছি এবং বলছি। বস্তুত আপনি যেখানে চান চলুন, যার সাথে ইচ্ছা সম্পর্ক স্থাপন করুন। আমাদের অর্থ-সম্পদের যতোটা ইচ্ছা গ্রহণ করুন। যতোটুকু গ্রহণ করবেন, সেটা আমাদের কাছে পরিত্যক্ত অংশের চেয়ে অধিকতর পছন্দনীয় হবে। এ ব্যাপারে আপনার ফয়সালা আমরা চূড়ান্ত বলে মেনে নেবো। আল্লাহর শপথ, আপনি যদি সামনে অগ্রসর হয়ে বার্কে গেমাদ পর্যন্ত যান, তবুও আমরা আপনার সঙ্গে যাব। আর যদি আপনি আমাদের সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তাহলেও আমরা আপনার সাথে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়বো।'
হযরত সা'দ ইবনে মা'য (রা.)-এর একথা শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব খুশী হলেন। তিনি বললেন, চলো এবং আনন্দের সাথে চলো। আল্লাহ তায়ালা আমার সাথে দুইটি দলের মধ্যে একটির ওয়াদা করেছেন। আল্লাহর শপথ, আমি যেন বধ্যভূমি দেখতে পাচ্ছি।
এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাফরান থেকে সামনে অগ্রসর হলেন। কয়েকটি পাহাড়ী মোড় অতিক্রম করে তিনি আসফের নামক জায়গায় পৌঁছুলেন। হেমান নামক পাহাড় ডানদিকে রেখে পরে তিনি বদর প্রান্তরের কাছাকাছি এসে তাঁবু স্থাপন করলেন।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 গোপনে সংবাদ সংগ্রহের উদ্যোগ

📄 গোপনে সংবাদ সংগ্রহের উদ্যোগ


এখানে অবতরণের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর 'গারে ছুরের' সাথী হযরত আবু বকর (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বেরোলেন। দূর থেকে মক্কার সৈন্যদের তাঁবু পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এমন সময় আরবের একজন বৃদ্ধের দেখা পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোরায়শ এবং মোহাম্মদের সাহাবীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উভয় বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসার কারণ ছিলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু বুড়ো বেঁকে বসলেন। তিনি বললেন, আপনারা নিজেদের পরিচয় দিন, আপনারা কোন দলের অন্তর্ভুক্ত সেকথা বলুন, অন্যথায় আমি কিছু বলব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনার কাছে যা জানতে চেয়েছি, আপনি আমাদের বলুন, এরপর আমরা আপনাকে নিজেদের পরিচয় দেবো। বৃদ্ধ বললেন, মোহাম্মদ এবং তাঁর সঙ্গীরা যদি আমাকে সত্য কথা জানিয়ে থাকে, তবে আজ তাদের অমুক জায়গায় থাকার কথা। একথা বলে বৃদ্ধ ঠিক সেই জায়গার কথা উল্লেখ করলো, যেখানে সেই সময় সাহাবারা অবস্থান করছিলেন। বৃদ্ধ আরো বললেন, কোরায়শ অমুক দিন বেরিয়েছে। সংবাদ বাহক যদি আমাকে সত্য কথা জানিয়ে থাকে, তবে কোরায়শদের আজ অমুক জায়গায় থাকার কথা। এ কথ, বলে বৃদ্ধ ঠিক সেই জায়গারই উল্লেখ করলো, যেখানে আবু জেহেল এবং তার সঙ্গীরা অবস্থান করছিলো। বৃদ্ধ কথা শেষ করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীর পরিচয় জানতে চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা একই পানি থেকে উদ্ভুত। একথা বলেই চলে এলেন। বৃদ্ধ বিড়বিড় করতে লাগলো, 'কোন পানি থেকে? ইরাকের পানি থেকে?'
মক্কার বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
সেইদিন শেষ বিকেলে শত্রুদের অবস্থান ও অন্যান্য খবর সংগ্রহের জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল গুপ্তচর প্রেরণ করলেন। এই দলে ছিলেন মোহাজেরদের তিনজন নেতা। এরা হলেন, হযরত আলী (রা.), হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। এই তিনজন বিশিষ্ট সাহাবী অন্য কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে কোরায়শ বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতে বেরোলেন। প্রথমে তারা বদরের জলাশয়ের কাছে গেলেন। সেখানে দুইজন ক্রীতদাস কোরায়শ বাহিনীর জন্যে পানি তুলছিলো। সাহাবীরা তাদেরকে পাকড়াও করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নামায আদায় করছিলেন। সাহাবারা গ্রেফতারকৃত ক্রীতদাসদের কাছে কোরায়শদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললো, আমরা কোরায়শদের লোক। তারা আমাদের পানি তুলে নেয়ার জন্যে পাঠিয়েছে। সাহাবাদের এই জবাব পছন্দ হলো না। তারা ধারণা করেছিলেন যে, এরা আবু সুফিয়ানের লোক হবে। কেননা তাদের মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা ছিলো যে, বাণিজ্য কাফেলা হয়তো অধিকার করা যাবে। সাহাবারা উভয় ক্রীতদাসকে মারাত্মভাবে প্রহার করলেন। প্রহারের চোটে ওরা বাধ্য হয়ে বললো, হাঁ আমরা আবু সুফিয়ানের লোক। একথা শোনার পর প্রহারকারীরা প্রহার বন্ধ করলো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায শেষে সাহাবাদের রুক্ষভাবে বললেন, ওরা যখন সত্য কথা বলেছিলো তখন তোমরা তাদের প্রহার করেছো আর যখন মিথ্যা কথা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। আল্লাহর শপথ, ওরা উভয়েই সত্য কথা বলেছে। ওরা কোরায়শদেরই লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর ক্রীতদাসদের বললেন, আচ্ছা তোমরা এবার আমাকে কোরায়শদের সম্পর্কে কিছু বলো। তারা বললো, প্রান্তরের শেষ সীমায় যে টীলা দেখা যাচ্ছে, কোরায়শরা তার পেছনে রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে চাইলেন লোক কতো? ওরা বললো, আমরা জানি না। দৈনিক কয়টি উট যবাই করে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বললো, একদিন নয়টি এবং একদিন দশটি। একথা শুনে তিনি বললেন, লোকসংখ্যা নয়শত থেকে এক হাজারের মধ্যে হবে। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের মধ্যে কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কারা রয়েছে? তারা বললো, রবিয়ার উভয় ছেলে ওতবা এবং শায়বা আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকেম, ইবনে হাজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলাহ, হারেস ইবনে আমর, তুয়াইমা ইবনে আদী, নযর ইবনে হারেস, জামআ ইবনে আসওয়াদ, আবু জেহেল ইবনে হিশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ। এরা ছাড়াও উভয় ক্রীতদাস আরো কয়েকজনের নাম বললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, মক্কা তাদের বড় বড় টুকরাগুলোকে তোমাদের পাশে এনে ফেলেছে।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মক্কার বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

📄 মক্কার বাহিনী সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য


সেইদিন শেষ বিকেলে শত্রুদের অবস্থান ও অন্যান্য খবর সংগ্রহের জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল গুপ্তচর প্রেরণ করলেন। এই দলে ছিলেন মোহাজেরদের তিনজন নেতা। এরা হলেন, হযরত আলী (রা.), হযরত যোবায়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)। এই তিনজন বিশিষ্ট সাহাবী অন্য কয়েকজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে কোরায়শ বাহিনীর খবর সংগ্রহ করতে বেরোলেন। প্রথমে তারা বদরের জলাশয়ের কাছে গেলেন। সেখানে দুইজন ক্রীতদাস কোরায়শ বাহিনীর জন্যে পানি তুলছিলো। সাহাবীরা তাদেরকে পাকড়াও করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন নামায আদায় করছিলেন। সাহাবারা গ্রেফতারকৃত ক্রীতদাসদের কাছে কোরায়শদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বললো, আমরা কোরায়শদের লোক। তারা আমাদের পানি তুলে নেয়ার জন্যে পাঠিয়েছে। সাহাবাদের এই জবাব পছন্দ হলো না। তারা ধারণা করেছিলেন যে, এরা আবু সুফিয়ানের লোক হবে। কেননা তাদের মনে এখনো একটা ক্ষীণ আশা ছিলো যে, বাণিজ্য কাফেলা হয়তো অধিকার করা যাবে। সাহাবারা উভয় ক্রীতদাসকে মারাত্মভাবে প্রহার করলেন। প্রহারের চোটে ওরা বাধ্য হয়ে বললো, হাঁ আমরা আবু সুফিয়ানের লোক। একথা শোনার পর প্রহারকারীরা প্রহার বন্ধ করলো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায শেষে সাহাবাদের রুক্ষভাবে বললেন, ওরা যখন সত্য কথা বলেছিলো তখন তোমরা তাদের প্রহার করেছো আর যখন মিথ্যা কথা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। আল্লাহর শপথ, ওরা উভয়েই সত্য কথা বলেছে। ওরা কোরায়শদেরই লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর ক্রীতদাসদের বললেন, আচ্ছা তোমরা এবার আমাকে কোরায়শদের সম্পর্কে কিছু বলো। তারা বললো, প্রান্তরের শেষ সীমায় যে টীলা দেখা যাচ্ছে, কোরায়শরা তার পেছনে রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতে চাইলেন লোক কতো? ওরা বললো, আমরা জানি না। দৈনিক কয়টি উট যবাই করে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন। ওরা বললো, একদিন নয়টি এবং একদিন দশটি। একথা শুনে তিনি বললেন, লোকসংখ্যা নয়শত থেকে এক হাজারের মধ্যে হবে। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের মধ্যে কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কারা রয়েছে? তারা বললো, রবিয়ার উভয় ছেলে ওতবা এবং শায়বা আবুল বাখতারি ইবনে হিশাম, হাকেম, ইবনে হাজাম, নওফেল ইবনে খুয়াইলাহ, হারেস ইবনে আমর, তুয়াইমা ইবনে আদী, নযর ইবনে হারেস, জামআ ইবনে আসওয়াদ, আবু জেহেল ইবনে হিশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ। এরা ছাড়াও উভয় ক্রীতদাস আরো কয়েকজনের নাম বললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, মক্কা তাদের বড় বড় টুকরাগুলোকে তোমাদের পাশে এনে ফেলেছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00