📄 যুদ্ধের জন্যে মক্কাবাসীদের প্রস্তুতি
বিপদের খবর শুনে মক্কার বিশিষ্ট লোকেরা চারিদিক থেকে ছুটে আসলো। তারা বলছিলো, মোহাম্মদ বুঝি মনে করেছেন যে, আবু সুফিয়ানের কাফেলাও ইবনে হাদরামির কাফেলার মতো। না মোটেই তা নয়। আমাদের ব্যাপারটা যে অন্যরকম, এটা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। মক্কায় সক্ষম লোকদের মধ্যে প্রত্যেকেই যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। কেউ নিজে প্রস্তুত হলো, কেউ বা নিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রেরণ করলো। মক্কায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আবু লাহাব ব্যতীত অন্য কেউই এ যুদ্ধে যোগদানের প্রস্তুতি থেকে বাদ পড়েনি। আবু লাহাব নিজের পরিবর্তে তার কাছ থেকে ঋণ গ্রহীতা একজন লোককে প্রেরণ করলো। আশেপাশের বিভিন্ন গোত্রের যুবকদেরও কোরায়শরা সেনাদলে ভর্তি করলো। কোরায়শী গোত্রসমূহের মধ্যে একমাত্র বনু আদী ব্যতীত অন্য কোন গোত্র পেছনে থাকেনি। বনু আদী গোত্রের কেউ এ যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
শত্রু বাহিনীর সংখ্যা প্রথমদিকে মক্কায় বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো তেরোশ। এদের কাছে একশত ঘোড়া এবং ছয়শত বর্ম ছিলো। উটের সংখ্যা ছিলো অনেক, সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলো আবু জেহেল ইবনে হিশাম। কোরায়শদের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একদিন নয়টি, অন্যদিন দশটি এভাবে উট যবাই করা হতো।
মক্কায় সেনাদল রওয়ানা হওয়ার সময় হঠাৎ কোরায়শদের মনে পড়লো যে, বনু বকর গোত্রের সাথে তাদের শত্রুতা ও যুদ্ধ চলছে। ওরা তো পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা করতে পারে। এতে তারা তো দুই আগুনের মাঝখানে পড়ে যাবে! এ প্রসঙ্গে আলোচনা পর্যালোচনার ফলে কোরায়শদের সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার উপক্রম হলো। ঠিক সেই সময় অভিশপ্ত ইবলিস বনু কেনানা গোত্রের সর্দার ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জাশাম মাদলাজির চেহারা ধারণ করে আবির্ভূত হয়ে কোরায়শ নেতাদের বললো, আমি তো তোমাদের বন্ধু। বনু কেনানা তোমাদের অনুপস্থিতিতে আপত্তিকর কোন কাজই করবে না, তোমাদের এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
শত্রুদের অগ্রযাত্রা মক্কার সৈন্যবাহিনী অতপর পথে বেরিয়ে পড়লো। কিভাবে বেরোলো? আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকদের নিজেদের শান দেখিয়ে আল্লাহর পথ থেকে বিরত করে করে গর্বভরে এগিয়ে চললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ওরা বেরোলো নিজেদের অস্ত্র শস্ত্র, আল্লাহর প্রতি বিরক্তি এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অসন্তুষ্টি নিয়ে। তারা প্রতিশোধ গ্রহণের ক্রোধে অধীর হয়ে উঠেছিলো। তারা দাঁত কিড়মিড় করে বলছিলো, মোহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবাদের মক্কার বাণিজ্য কাফেলার প্রতি চোখ তুলে তাকানোর সাহস হলো কি করে?
মোটকথা খুবই দ্রুতগতিতে তারা উত্তর দিকে অর্থাৎ বদর প্রান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। উসফান এবং কুদাইদ প্রান্তর অতিক্রম করে তারা যোহফা নামক জায়গায় পৌঁছুলো। সেখানে আবু সুফিয়ানের প্রেরিত নতুন এক খবর পাওয়া গেলো যে, আপনারা কাফেলা এবং নিজেদের সম্পদ রক্ষার জন্যে বেরিয়ে ছিলেন, আল্লাহ যেহেতু সব কিছু হেফাযত করেছেন, কাজেই আপনাদের আর প্রয়োজন নেই, আপনারা এবার ফিরে যান।
বাণিজ্য কাফেলার অন্তর্ধান আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলার আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
📄 শত্রু বাহিনীর সংখ্যা ও অগ্রযাত্রা
বিপদের খবর শুনে মক্কার বিশিষ্ট লোকেরা চারিদিক থেকে ছুটে আসলো। তারা বলছিলো, মোহাম্মদ বুঝি মনে করেছেন যে, আবু সুফিয়ানের কাফেলাও ইবনে হাদরামির কাফেলার মতো। না মোটেই তা নয়। আমাদের ব্যাপারটা যে অন্যরকম, এটা তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। মক্কায় সক্ষম লোকদের মধ্যে প্রত্যেকেই যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। কেউ নিজে প্রস্তুত হলো, কেউ বা নিজের পরিবর্তে অন্য কাউকে প্রেরণ করলো। মক্কায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আবু লাহাব ব্যতীত অন্য কেউই এ যুদ্ধে যোগদানের প্রস্তুতি থেকে বাদ পড়েনি। আবু লাহাব নিজের পরিবর্তে তার কাছ থেকে ঋণ গ্রহীতা একজন লোককে প্রেরণ করলো। আশেপাশের বিভিন্ন গোত্রের যুবকদেরও কোরায়শরা সেনাদলে ভর্তি করলো। কোরায়শী গোত্রসমূহের মধ্যে একমাত্র বনু আদী ব্যতীত অন্য কোন গোত্র পেছনে থাকেনি। বনু আদী গোত্রের কেউ এ যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
শত্রু বাহিনীর সংখ্যা প্রথমদিকে মক্কায় বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো তেরোশ। এদের কাছে একশত ঘোড়া এবং ছয়শত বর্ম ছিলো। উটের সংখ্যা ছিলো অনেক, সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলো আবু জেহেল ইবনে হিশাম। কোরায়শদের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একদিন নয়টি, অন্যদিন দশটি এভাবে উট যবাই করা হতো।
মক্কায় সেনাদল রওয়ানা হওয়ার সময় হঠাৎ কোরায়শদের মনে পড়লো যে, বনু বকর গোত্রের সাথে তাদের শত্রুতা ও যুদ্ধ চলছে। ওরা তো পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা করতে পারে। এতে তারা তো দুই আগুনের মাঝখানে পড়ে যাবে! এ প্রসঙ্গে আলোচনা পর্যালোচনার ফলে কোরায়শদের সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার উপক্রম হলো। ঠিক সেই সময় অভিশপ্ত ইবলিস বনু কেনানা গোত্রের সর্দার ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জাশাম মাদলাজির চেহারা ধারণ করে আবির্ভূত হয়ে কোরায়শ নেতাদের বললো, আমি তো তোমাদের বন্ধু। বনু কেনানা তোমাদের অনুপস্থিতিতে আপত্তিকর কোন কাজই করবে না, তোমাদের এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
শত্রুদের অগ্রযাত্রা মক্কার সৈন্যবাহিনী অতপর পথে বেরিয়ে পড়লো। কিভাবে বেরোলো? আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকদের নিজেদের শান দেখিয়ে আল্লাহর পথ থেকে বিরত করে করে গর্বভরে এগিয়ে চললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ওরা বেরোলো নিজেদের অস্ত্র শস্ত্র, আল্লাহর প্রতি বিরক্তি এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অসন্তুষ্টি নিয়ে। তারা প্রতিশোধ গ্রহণের ক্রোধে অধীর হয়ে উঠেছিলো। তারা দাঁত কিড়মিড় করে বলছিলো, মোহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবাদের মক্কায় বাণিজ্য কাফেলার প্রতি চোখ তুলে তাকানোর সাহস হলো কি করে?
মোটকথা খুবই দ্রুতগতিতে তারা উত্তর দিকে অর্থাৎ বদর প্রান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। উসফান এবং কুদাইদ প্রান্তর অতিক্রম করে তারা যোহফা নামক জায়গায় পৌঁছুলো। সেখানে আবু সুফিয়ানের প্রেরিত নতুন এক খবর পাওয়া গেলো যে, আপনারা কাফেলা এবং নিজেদের সম্পদ রক্ষার জন্যে বেরিয়ে ছিলেন, আল্লাহ যেহেতু সব কিছু হেফাযত করেছেন, কাজেই আপনাদের আর প্রয়োজন নেই, আপনারা এবার ফিরে যান।
বাণিজ্য কাফেলার অন্তর্ধান আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলার আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
প্রথমদিকে মক্কায় বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো তেরোশ। এদের কাছে একশত ঘোড়া এবং ছয়শত বর্ম ছিলো। উটের সংখ্যা ছিলো অনেক, সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।
সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলো আবু জেহেল ইবনে হিশাম। কোরায়শদের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একদিন নয়টি, অন্যদিন দশটি এভাবে উট যবাই করা হতো।
মক্কায় সেনাদল রওয়ানা হওয়ার সময় হঠাৎ কোরায়শদের মনে পড়লো যে, বনু বকর গোত্রের সাথে তাদের শত্রুতা ও যুদ্ধ চলছে। ওরা তো পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা করতে পারে। এতে তারা তো দুই আগুনের মাঝখানে পড়ে যাবে! এ প্রসঙ্গে আলোচনা পর্যালোচনার ফলে কোরায়শদের সামরিক অভিযান স্থগিত হওয়ার উপক্রম হলো। ঠিক সেই সময় অভিশপ্ত ইবলিস বনু কেনানা গোত্রের সর্দার ছোরাকা ইবনে মালেক ইবনে জাশাম মাদলাজির চেহারা ধারণ করে আবির্ভূত হয়ে কোরায়শ নেতাদের বললো, আমি তো তোমাদের বন্ধু। বনু কেনানা তোমাদের অনুপস্থিতিতে আপত্তিকর কোন কাজই করবে না, তোমাদের এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
শত্রুদের অগ্রযাত্রা মক্কার সৈন্যবাহিনী অতপর পথে বেরিয়ে পড়লো। কিভাবে বেরোলো? আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকদের নিজেদের শান দেখিয়ে আল্লাহর পথ থেকে বিরত করে করে গর্বভরে এগিয়ে চললো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ওরা বেরোলো নিজেদের অস্ত্র শস্ত্র, আল্লাহর প্রতি বিরক্তি এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অসন্তুষ্টি নিয়ে। তারা প্রতিশোধ গ্রহণের ক্রোধে অধীর হয়ে উঠেছিলো। তারা দাঁত কিড়মিড় করে বলছিলো, মোহাম্মদ এবং তাঁর সাহাবাদের মক্কায় বাণিজ্য কাফেলার প্রতি চোখ তুলে তাকানোর সাহস হলো কি করে?
মোটকথা খুবই দ্রুতগতিতে তারা উত্তর দিকে অর্থাৎ বদর প্রান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। উসফান এবং কুদাইদ প্রান্তর অতিক্রম করে তারা যোহফা নামক জায়গায় পৌঁছুলো। সেখানে আবু সুফিয়ানের প্রেরিত নতুন এক খবর পাওয়া গেলো যে, আপনারা কাফেলা এবং নিজেদের সম্পদ রক্ষার জন্যে বেরিয়ে ছিলেন, আল্লাহ যেহেতু সব কিছু হেফাযত করেছেন, কাজেই আপনাদের আর প্রয়োজন নেই, আপনারা এবার ফিরে যান।
বাণিজ্য কাফেলার অন্তর্ধান আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলার আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
📄 বাণিজ্য কাফেলার অন্তর্ধান
আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলা আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
📄 শত্রু বাহিনীর অনৈক্য ও মতবিরোধ এবং মুসলিম বাহিনীর নাযুক পরিস্থিতি
আবু সুফিয়ান বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে যাওয়ার সময় খুবই সতর্কতার সাথে পথ চলছিলো। চারিদিকের খোঁজ খবর সংগ্রহ করে পরিস্থিতির ওপর নযর রাখছিলো। বদর প্রান্তরের কাছাকাছি পৌঁছার পর কিছুটা সামনে এগিয়ে মাজদি ইবনে আমরের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং তার কাছ মদীনার বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। মাজদি বললো, তেমন কিছু তো চোখে পড়েনি, তবে দুইজন লোক দেখেছি। তারা পাহাড়ী টিলার কাছে উট বসিয়েছে, এরপর কুয়া থেকে পানি তুলে চলে গেছে। আবু সুফিয়ান এগিয়ে যেয়ে উটের পরিত্যক্ত মল পরীক্ষা করে খেজুরের বীচি পরীক্ষা করে বললো, নিসন্দেহে এই খেজুর ইয়াসরেবের। একথা বলার পরপরই সে নিজের কাফেলার কাছে ছুটে গেলো এবং পশ্চিম দিকে নিয়ে সমুদ্র সৈকত ধরে চলতে শুরু করলো। বদর প্রান্তরে যাওয়ার প্রধান সড়ক বাঁ দিকে পড়ে রইল। এমনি করে আবু সুফিয়ান তার বাণিজ্য কাফেলা মদীনার বাহিনীর কবলে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করলো। নিরাপদ পথে মক্কাভিমুখে যাওয়ার সময়ে আবু সুফিয়ান মক্কা থেকে আগত সৈন্যদের খবর পাঠালো যে, তোমরা ফিরে যাও। বাণিজ্য কাফেলা আক্রান্ত হওয়ার আর কোন আশঙ্কা নেই, আমি নিরাপদে মক্কা ফিরে যাচ্ছি।
শত্রু বাহিনীর অনৈক্য ও মতবিরোধ
এই খবর পেয়ে মক্কার সাধারণ সৈন্যরা ফিরে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলো। কিন্তু আবু জেহেল রুখে দাঁড়ালো। নিতান্ত অহংকারের সাথে সে বললো, খোদার কসম, বদর প্রান্তরে গিয়ে তিনদিন অবস্থান না করে আমরা ফিরে যাবো না। এই সময়ে সেখানে উট যবাই করবো, লোকদের ডেকে এনে আহার করাবো, মদ পান করাবো, দাসীরা আমাদের মনোরঞ্জনের জন্যে গান গাইবে। এর ফলে সমগ্র আরবে আমাদের এই সফরের খবর ছড়িয়ে পড়বে এবং চিরকালের জন্যে সবার মনে আমাদের সফর বিবরণী উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
আখনাস ইবনে শোরাইক নামে একজন বিশিষ্ট নেতা আবু জেহেলকে বললেন, চলো আমরা মক্কায় ফিরে যাই। কিন্তু তার কথায় আবু জেহেল কর্ণপাত করল না। আখনাস ছিলেন বনু যোহরা গোত্রের মিত্র এবং তিনশত সৈন্যের অধিনায়ক। তিনি আবু জেহেলকে প্রত্যাবর্তনে রাযি করাতে না পেরে বনু যোহরা গোত্রের লোকসহ তার অনুসারী তিনশত সৈন্য নিয়ে মক্কায় ফিরে গেলেন। বনু যোহরা গোত্রের কোন লোক বদরের যুদ্ধের অংশ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে বনু যোহরা গোত্র আখনাস ইবনে শোরাইকের বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করলো এবং তার মর্যাদা সেই গোত্রে স্থায়ীভাবে বসে গেলো।
বনু যোহরা গোত্রের লোকেরা ফিরে যাওয়ার পর আবু জেহেলের সঙ্গে এক হাজার লোক থাকলো। তারা বদর প্রান্তর অভিমুখে রওয়ানা হলো। বদর প্রান্তরে পৌঁছে তারা পাহাড়ী টিলার পেছনে তাঁবু স্থাপন করলো। এই টিলা বদরের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
মুসলিম বাহিনীর জন্যে নাযুক পরিস্থিতি
মদীনার দূতের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীরা জাফরান প্রান্তর অতিক্রম করছিলেন। তিনি কোরায়শদের সম্পর্কে বিশদ খবর পাওয়ার পর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে বুঝতে পারলেন যে, কোরায়শদের সাথে একটি রক্তক্ষয়ী সংষর্ঘ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কাজেই এখন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ মক্কার বাহিনীকে যদি বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়া হয়, তবে পরিণামে কোরাযেশদের দাপট বেড়ে যাবে এবং তাদের জয় জয়কার মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হবে। এতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের প্রতিপত্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের আওয়ায দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ইসলাম হয়ে পড়বে প্রাণহীন ও শক্তিহীন। ইসলামের শত্রুরা এবং ইসলাম সম্পর্কে যারা ভালোভাবে জানা ও বোঝার সুযোগ পায়নি, তারা ইসলামের প্রতি ঘৃণার মনোভাব পোষণ করবে এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামের শত্রুতায় নেমে পড়বে।
তাছাড়া মক্কার উন্মত্ত সৈন্যরা মদীনা অভিমুখে যে রওয়ানা হবে না, তারও কোন নিশ্চয়তা ছিলো না। তারা মদীনায় গিয়ে মুসলমানদের ঘরে প্রবেশ করে অত্যাচার নির্যাতন করার সুযোগও হাতছাড়া করতো না। মদীনার বাহিনী যদি কিছুমাত্র শিথিল মনোভাব পোষণ করতো এবং মোকাবেলা না করে শান্তিরক্ষার চিন্তায় মদীনায় ফিরে যেতো, তবে উল্লিখিত সব কিছুই হয়ে উঠতো অবধারিত। তাছাড়া কাফেরদের বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিলে ইসলামের গৌরব ও মর্যাদার ওপর মন্দ প্রভাব পড়তো।