📄 গোযওয়া সফওয়ান ও গোযওয়া যিল উশাইরা
পাঁচ) গোয়ায়ওয়া সফওয়ান দ্বিতীয় হিজরীর রবিউল আউয়াল মোতাবেক ৬২৩ সালের সেপ্টেম্বর।
এই অভিযানের কারণ ছিলো এই যে, কারজ ইবনে জাবের ফাহরি নামে একজন পৌত্তলিকের নেতৃত্বে একদল লোক মদীনার চারণভূমিতে হামলা করে কয়েকটি গবাদি পশু অপহরণ করে। রসূল সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallাম সত্তরজন সাহাবীকে সঙ্গে নিয়ে লুটেরাদের ধাওয়া করেন। কিন্তু কারজ এবং তার সঙ্গীদের পাওয়া যায়নি। কোন প্রকার সংঘাত ছাড়াই তাঁরা ফিরে আসেন। এই যুদ্ধকে কেউ কেউ বদরের প্রথম যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। পতাকার রং ছিলো সাদা। হযরত আলী (রা.) তা বহন করছিলেন।
এই অভিযানের সময় মদীনার আমীর হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা (রা.)-কে নিযুক্ত করা হয়েছিলো।
ছয়) গোয়ায়ওয়া যিল উশাইরা দ্বিতীয় হিজরীর জমাদিউল আউয়াল এবং জমাদিউস সানি মোতাবেক ৬২৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর।
এই অভিযানে রসূল সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallামের সাথে দেড়শ’ মোহাজের ছিলেন। এতে অংশগ্রহণের জন্যে কাউকে বাধ্য করা হয়নি। সওয়ারীর জন্যে উটের সংখ্যা ছিলো মাত্র ত্রিশ। পালাক্রমে সবাই সওয়ার হয়েছিলেন। মক্কা থেকে সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হয়ে গৌঁত্তলিকদের এ ধরনের একটি কাফেলাকে ধাওয়া করতে এ অভিযান চালানো হয়। এই কাফেলায় কোরায়শদের প্রচুর মালামাল ছিলো। নবী সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallাম এই কাফেলাকে ধাওয়া করতে যুল উশাইরা নামক জায়গা পর্যন্ত পৌঁছেন। কিন্তু কয়েকদিন আগেই কাফেলা চলে গিয়েছিলো। এই কাফেলাই সিরিয়া থেকে ফেরার পর নবী সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallাম তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চালান। কিন্তু তারা মক্কায় পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার জের হিসেবে পরবর্তীকালে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এই অভিযানেও পতাকার রং ছিলো সাদা। হযরত হামযা (রা.) পতাকা বহন করেন।
ইবনে ইসহাকের মতে এই অভিযানে রসূল সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallাম জমাদিউল আউয়ালের শেষদিকে রওয়ানা হয়ে জমাদিউস সানির ভিতরে আসেন। এ কারণে এই অভিযানের সঠিক সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সীরাত রচয়িতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এই অভিযানে নবী সাallাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাallাম বনু মুদলাজ এবং তাদের মিত্র বনু জামরার সাথে অনাক্রমণ চুক্তি সম্পাদন করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই অভিযানকালে মদীনার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হযরত আবু সালমা ইবনে আবদুল আছাদ মাখযুমী (রা.) আনজাম দেন।
টিকাঃ
১৫. উশাইরা, ইয়ানবুর নিকটবর্তী একটি জায়গার নাম :
📄 ছারিয়্যা নাখলাহ
দ্বিতীয় হিজরীর রজব মোতাবেক ৬২৪ সালের জানুয়ারী
এই অভিযানে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.)-এর নেতৃত্বে বারোজন মোহাজেরের একটি দল প্রেরণ করেন। প্রতি দুইজন সৈন্যের জন্যে একটি উট ছিলো। সেনাপতির হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একখানি চিঠি দেন এবং বলেন যে, দুইদিন সফর শেষে যেন তা পাঠ করা হয়। দুইদিন সফর শেষে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.) চিঠিখানি খুলে পাঠ করেন। তাতে লেখা ছিলো যে, আমার এই চিঠি পাঠ করার পর তোমরা মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী স্থান নাখলাহ-এ অবতরণ করবে এবং সেখানে কোরায়শদের একটি কাফেলার জন্যে ওঁৎ পেতে থাকবে। পাশাপাশি খবরাখবর সম্পর্কে আমাকে অবহিত করবে।
হযরত আবদুল্লাহ (রা.) সঙ্গী সাহাবীদের চিঠির বক্তব্য সম্পর্কে জানিয়ে বলেন যে, কারো ওপর জোর-জবরদস্তি করছি না, শাহাদাত যাদের প্রিয়, তারা থেকে যেতে পারে। আমি যদি একা থেকে যাই তবুও সামনে অগ্রসর হবো।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.)-এর বক্তব্য শোনার পর তাঁরা নাখলাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন। যাওয়ার পথ হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) এবং ওতবা ইবনে গোজওয়ান (রা.)-এর উট উধাও হয়ে যায়। এই উটের পিঠে উভয় সাহাবী পালাক্রমে সফর করছিলেন। উট হারিয়ে যাওয়ার কারণে তারা উভয়ে পেছনে পড়ে যান।
সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ (রা.) নাখলাহ গিয়ে পৌছুলেন। সেখানে গিয়ে শুনলেন যে, সেই পথ দিয়ে কোরায়শদের একটি বাণিজ্য কাফেলা অতিক্রম করেছে। সেই কাফেলায় কিসমিস, চামড়া এবং অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। সেই কাফেলায় আবদুল্লাহু ইবনে মুগীরার দুই পুত্র ওসমান ও নওফেল এবং মুগীরার মুক্ত দাস আমর ইবনে হাযরামী ও হাকীম ইবনে কায়সান রয়েছে। মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করলেন যে, কি করবেন। সেদিন ছিলো রজব মাসের শেষ দিন। যুদ্ধ নিষিদ্ধ অর্থাৎ মাহে হারামের অন্যতম মাস হচ্ছে রজব। যুদ্ধ যদি করা হয়, তবে হারাম মাসের অমর্যাদা করা হয়। এদিকে যদি হামলা না করা হয়, তবে কোরায়শদের এই কাফেলা মদীনার সীমানায় প্রবেশ করে। পরামর্শের পর হামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাহাবীরা কোরায়শদের বাণিজ্য কাফেলা অনুসরণ করেন এবং আমর ইবনে হাদরামিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করেন। এতে আমর ধরাশায়ী হয়ে প্রাণ ত্যাগ করে। অন্যরা ওসমান এবং হাকিমকে গ্রেফতার করেন। নওফে পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। অতপর সাহাবারা উভয় বন্দী এবং জিনিসপত্র নিয়ে মদীনায় হাযির হন। সাহাবারা প্রাপ্ত জিনিসের মধ্যে থেকে এক পঞ্চমাংশ গনিমত হিসাবে বের করে নিয়েছিলেন।
টিকাঃ
১৬. সীরাত রচয়িতারা এরূপ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে, যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ গণিমত হিসাবে গ্রহণ করা সম্বলিত পাক কোরআনের নির্দেশ বদরের যুদ্ধের সময় নাযিল হয়েছিলো। সেই আয়াতের শানে নযুল পাঠে বোঝা যায় যে, সেই নির্দেশের আগে মুসলমানরা গণিমতের নির্দেশ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না।