📄 ইহুদীদের সাথে চুক্তি সম্পাদন
হিজরতের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে চিন্তা-বিশ্বাস, রাজনীতি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে একটি নতুন সমাজের ভিত্তি স্থাপন করলেন। এরপর তিনি অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাচ্ছিলেন যে, সকল মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করুক, মদীনা এবং আশপাশের এলাকার মানুষ একটি সুস্থ প্রশাসনের আওতাভুক্ত হোক। তিনি উদারতা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে এমন আইন প্রণয়ন করলেন, বর্তমান সংঘাত বিক্ষুব্ধ বিশ্বে যার কোন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মদীনার নিকটবর্তী লোকেরা ছিলো ইহুদী। গোপনে এরা মুসলমানদের সাথে শত্রুতা করলেও প্রকাশ্যে তার পরিচয় দেয়নি। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে একটি চুক্তিতে উপনীত হলেন। সেই চুক্তিতে ইহুদীদেরকে তাদের ধর্ম পালনে স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা দেয়া হলো। রাজনৈতিক হঠকারিতার কোন সুযোগ তাদের দেয়া হয়নি।
মুসলমানদের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তির আলোকেই ইহুদীদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছিলো। চুক্তি দফাসমূহ ছিলো নিম্নরূপ- এক. বনু আওফের ইহুদীরা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়ে একই উম্মত হিসাবে বিবেচিত হবে। ইহুদী ও মুসলমানরা নিজ নিজ দ্বীনের ওপর আমল করবে। বনু আওফ ছাড়া অন্যান্য ইহুদীরাও একই রকমের অধিকার লাভ করবে। দুই. ইহুদীরা নিজেদের সমুদয় ব্যয়ের জন্যে দায়ী হবে এবং মুসলমানরা নিজেদের ব্যয়ের জন্যে পৃথক পৃথকভাবে দায়ী হবে। তিন. এই চুক্তির আওতাভুক্তদের কোন অংশের সাথে যারা যুদ্ধ করবে সবাই সম্মিলিতভাবে তাদের সাথে প্রতিহত করবে। চার. এই চুক্তির অংশীদাররা সকলেই পরস্পরের কল্যাণ কামনা করবে। তবে সেই কল্যাণ কামনা ও সহযোগিতা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে-অন্যায়ের ওপর নয়। পাঁচ. কোন ব্যক্তি তার মিত্রের কারণে অপরাধী বিবেচিত হবে না। ছয়. মযলুমকে সাহায্য করা হবে। সাত. যতদিন যাবত যুদ্ধ চলতে থাকবে ততদিন ইহুদীরাও মুসলিমদের সাথে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করবে। আট. এই চুক্তির অংশীদারদের জন্যে মদীনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাত নিষিদ্ধ থাকবে। নয়. এই চুক্তির অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে কোন নতুন সমস্যা দেখা দিলে বা ঝগড়া-বিবাদ হলে আল্লাহর আইন অনুযায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মীমাংসা করবেন। দশ. কোরায়শ এবং তাদের সাহায্যকারীদের আশ্রয় প্রদান করা হবে না। এগারো. ইয়াসরেবের ওপর কেউ হামলা করলে সেই হামলা মোকাবেলায় পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। সকল পক্ষ নিজ নিজ অংশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। বারো. এই চুক্তির মাধ্যমে কোন অত্যাচারী বা অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া হবে না।
এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর মদীনা এবং তার আশে পাশের এলাকা নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। সেই রাষ্ট্রের রাজধানী ছিলো মদীনা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সেই রাষ্ট্রের মহানায়ক। এর মূল কর্তৃত্ব ছিলো মুসলমানদের হাতে। এমনি করে মদীনা ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গোত্রের সাথেও একই রকম চুক্তি করেন।
টিকাঃ
২৫. ইবনে হিশাম, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০৩, ৫০৪