📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 সমাজ ব্যবস্থার নয়া কাঠামো

📄 সমাজ ব্যবস্থার নয়া কাঠামো


এ দূরদর্শিতা এবং বুদ্ধিমত্তার কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি নয়া সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। তবে সমাজের বাহ্যিক রূপ আল্লাহর রসূলকে কেন্দ্র করেই বিকশিত ও পরিস্ফুটিত হয়েছিলো। তাঁর মোহনীয় ব্যক্তিত্বই ছিলো সকল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নৈতিক চরিত্র গঠনের উপাদান, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্বের নমুনা, এবাদাত বন্দেগী ও আনুগত্য মুসলমানদের নব জীবন লাভে ধন্য করে তুলেছিলো।
একজন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোন ইসলাম উৎকৃষ্ট? অর্থাৎ ইসলামের মধ্যে কোন আমল উত্তম? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তুমি অন্যদের খাবার খাওয়াবে এবং চেনা অচেনা সবাইকে সালাম করবে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার পর আমি তাঁর কাছে হাযির হলাম। তাঁর পবিত্র চেহারা দেখেই আমি বুঝে ফেললাম যে, এই চেহারা কোন মিথ্যাবাদী মানুষের নয়। এরপর তিনি আমার সামনে প্রথম কথা এটাই বলেছিলেন যে, 'হে লোক সকল, সালাম দিতে থাকো, খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো, রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন নামায পড়ো, জান্নাতে নিরাপদে প্রবেশ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, 'সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার দুর্বৃত্তপনা এবং ধ্বংসকারিতা থেকে নিরাপদ না থাকে। '
তিনি বলতেন, 'সেই ব্যক্তিই ভালো মুসলমান, যার মুখ এবং হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।'
তিনি বলতেন, 'তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মোমেন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের জন্যে পছন্দ করা জিনিস নিজের ভাইয়ের জন্যে পছন্দ না করবে। '
তিনি বলতেন, 'সকল মোমেন একজন মানুষের মতো। যদি তার চোখে ব্যথা হয়, তবে সারা দেহে সেই কষ্ট অনুভূত হয়। যদি মাথায় ব্যথা হয়, তবে সারা দেহে সেই ব্যথার কষ্ট অনুভূত হয়। '
তিনি বলতেন, 'মোমেন মোমেনের জন্যে ইমারত স্বরূপ। এর এক অংশ অন্য অংশকে শক্তি প্রদান করে।'
তিনি বলতেন, 'নিজেদের মধ্যে পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, শত্রুতা করো না, বিবাদ করো না, একে অন্যের দিকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। আল্লাহর বান্দা এবং ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোন মুসলমানের জন্যে এটা বৈধ নয় যে, নিজের ভাইকে তিনদিনের বেশী দূরে সরিয়ে রাখে। '
তিনি বলতেন, 'মুসলমান মুসলমানের ভাই। একজন মুসলমান যেন অন্য মুসলমানের ওপর যুলুম না করে এবং তাকে শত্রুর হাতে তুলে না দেয়। যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দুঃখ দুশ্চিন্তা দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা রোজ কেয়ামতে সেই ব্যক্তির দুঃখসমূহের মধ্যে একটি দুঃখ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করে রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দোষ গোপন রাখবেন। '
তিনি বলতেন, 'তোমরা যমিনের অধিবাসীদের ওপর দয়া করো, আকাশের মালিক তোমাদের ওপর দয়া করবেন। '
তিনি বলতেন, 'সেই ব্যক্তি মোমেন নয়, যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায়, অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।'
তিনি বলতেন, 'মুসলমানকে গালাগাল দেয়া ফাসেকের কাজ। মুসলমানের সাথে মারামারি কাটাকাটি করা কুফুরী।'
তিনি বলতেন, 'রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা সদকার অন্তর্ভুক্ত। এই কাজ ঈমানের শাখাসমূহের একটি অন্যতম শাখা।'
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকা-খয়রাতের তাকিদ দিতেন। এই সদকা খয়রাতের ফযিলত এতো বেশী বলে বর্ণনা করতেন যে, আপনা থেকেই সেদিকে মন আকৃষ্ট হতো। 'তিনি বলতেন, সদকা গুনাহসমূহকে এমনভাবে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।'
তিনি বলতেন, 'যে মুসলমান কোন নগ্ন মুসলমানকে পোশাক পরিধান করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। যে মুসলমান কোন ক্ষুধার্ত মুসলমানকে আহার করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে ফল খাওয়াবেন। যে মুসলমান কোন পিপাসিত মুসলমানকে পানি পান করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে ছিপি আঁটা শরাবান তহুরা পান করাবেন।'
তিনি বলতেন, 'খেজুরের এক টুকরো দান করে হলেও আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো। যদি সেইটুকু সামর্থও না থাকে, তবে ভালো কথার মাধ্যমে আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো।'
একই সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দূরে থাকার জন্যে তাকিদ দিয়েছেন। তিনি ধৈর্য, সহিষ্ণুতা এবং মিতব্যয়িতার শিক্ষা দিয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তিকে ভিক্ষুকের চেহারায় আঁচড় এবং অন্যান্য ধরনের যখম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে উল্লিখিত ধরনের অবমাননা থেকে তাদেরকে মুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন, যারা একান্ত নিরুপায় হয়েই ভিক্ষা করে।
তিনি একেক প্রকার এবাদাতের বিভিন্ন রকম ফযিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কাছে সেইসব এবাদতের ভিন্ন ভিন্ন রকম সওয়াবের কথা উল্লেখ করেছেন।
আকাশ থেকে তাঁর কাছে যে ওহী আসতো, তিনি মুসলমানদেরকে সেই সম্পর্কে অবহিত করতেন এবং সেই আলোকে জীবন যাপনে সহায়তা করতেন। তিনি সেই ওহী মুসলমানদের পড়ে শোনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে শোনার পর মুসলমানরা তাঁকে পুনরায় পড়ে শোনাতো। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও চিন্তাচেতনা ছাড়াও দাওয়াতে হক-এর পয়গাম্বরসূলভ দায়িত্বানুভূতি ও সচেতনতা সৃষ্টি হতো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের জীবনধারায় বিস্ময়কর উন্নতির সোপান তৈরী করেন। মানুষের মধ্যেকার খোদা প্রদত্ত যোগ্যতাকে উন্নত করেন। মানুষের কর্মপ্রণালী এবং চিন্তা-চেতনায় মাধুর্যের সৃষ্টি হয়। এমনকি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার কারণে সাহাবারা নবীদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন। মানবেতিহাসে তাঁরা আদর্শের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন মৃত ব্যক্তিদের আদর্শ অনুসরণ করে। কেননা জীবিত লোকদের ব্যাপারে ফেতনার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।
সাহাবারা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী। উম্মতে মোহাম্মদীর শ্রেষ্ঠ মনুষ, পুণ্যপ্রাণ, গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং সর্বাধিক নিরহংকার। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই সকল মানুষকে তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু ও সাথী এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে যোগ্য মানুষরূপে মনোনীত করেন। কাজেই তাঁদের বৈশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানা দরকার এবং তাঁদের অনুসরণ অনুকরণ ও আনুগত্য করা দরকার। তাঁদের চরিত্র মাধুর্য এবং জীবন চরিত যতোটা সম্ভব আত্মস্থ করা দরকার। কেননা তাঁরা ছিলেন হেদায়েতের ওপর, সেরাতুল মোস্তাকিমের ওপর।
আমাদের পয়গাম্বর হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম ও উন্নত আদর্শের এমন এক নমুনা ছিলেন যে, মন আপনা আপনি তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়। জান কোরবান করার ইচ্ছা জাগে। এর ফলে তাঁর পবিত্র মুখ নিসৃত কথা পালন করার জন্যে সাহাবারা ছুটে যেতেন। হেদায়াত ও পথনির্দেশের জন্যে তিনি যেসব কথা বলতেন, সেই কথা যথাযথভাবে পালন করতে সাহাবাদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতো।
এ ধরনের প্রচেষ্টার কারণেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এমন একটি সমাজ গঠনে সক্ষম হলেন, যা ছিলো ইতিহাসের আলোকে সর্বাধিক সফল সমাজ। তিনি সেই সমাজের সমস্যাসমূহের এমন সমাধান দিলেন যে, যারা অন্ধকারের আবর্তে হাত-পা ছোঁড়াছুঁড়ি করছিলো তারা স্বস্তি লাভ করলো। সেই সমাজ উন্নত শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে যুগের সকল প্রতিকূলতা সরিয়ে ইতিহাসের ধারাই পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম হলো।

টিকাঃ
৬. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৬. ৯
৭. তিরমিযি, ইবনে মাজা, দারেমী, মেশকাত প্রথম খন্ড, প. ১৬০
৮. সহীহ মুসলিম, মেশকাত দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
৯. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৬
১০. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৬
১১. মুসলিম, মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ ৪২১
১২. বোখারী, মুসলিম ও মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
১৩. সহীহ বোখারী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৮৯৬
১৪. বোখারী, মুসলিম ও মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
১৫. সুনানে আবুদাউদ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৩৩৫, তিরমিযি দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ১৪
১৬. বায়হাকী, মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২৪
১৭. বোখারী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৮৯৩
১৮. বোখারী মুসলিম, মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ১২, ১৬৭
১৯. আহমদ, তিরমিযি, ইবনে মাজা মেশকাত প্রথম খন্ড, পৃ. ১৪
২০. আবু দাউদ, তিরমিযি মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ১৬৯
২১. বোখারী, প্রথম খন্ড, ১৯০, দ্বিতীয় খন্ড, ৮৯০
২২. আবু দাউদ, তিরমিযি, নামাঈ, ইবনে মাজা, দারেমী মেশকাত দ্রষ্টব্য।
২৩. রাযীন, মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ৩২

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ইহুদীদের সাথে চুক্তি সম্পাদন

📄 ইহুদীদের সাথে চুক্তি সম্পাদন


হিজরতের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের মধ্যে চিন্তা-বিশ্বাস, রাজনীতি এবং ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে একটি নতুন সমাজের ভিত্তি স্থাপন করলেন। এরপর তিনি অমুসলিমদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাচ্ছিলেন যে, সকল মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করুক, মদীনা এবং আশপাশের এলাকার মানুষ একটি সুস্থ প্রশাসনের আওতাভুক্ত হোক। তিনি উদারতা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে এমন আইন প্রণয়ন করলেন, বর্তমান সংঘাত বিক্ষুব্ধ বিশ্বে যার কোন দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মদীনার নিকটবর্তী লোকেরা ছিলো ইহুদী। গোপনে এরা মুসলমানদের সাথে শত্রুতা করলেও প্রকাশ্যে তার পরিচয় দেয়নি। এ কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে একটি চুক্তিতে উপনীত হলেন। সেই চুক্তিতে ইহুদীদেরকে তাদের ধর্ম পালনে স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা দেয়া হলো। রাজনৈতিক হঠকারিতার কোন সুযোগ তাদের দেয়া হয়নি।
মুসলমানদের মধ্যকার পারস্পরিক চুক্তির আলোকেই ইহুদীদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছিলো। চুক্তি দফাসমূহ ছিলো নিম্নরূপ- এক. বনু আওফের ইহুদীরা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়ে একই উম্মত হিসাবে বিবেচিত হবে। ইহুদী ও মুসলমানরা নিজ নিজ দ্বীনের ওপর আমল করবে। বনু আওফ ছাড়া অন্যান্য ইহুদীরাও একই রকমের অধিকার লাভ করবে। দুই. ইহুদীরা নিজেদের সমুদয় ব্যয়ের জন্যে দায়ী হবে এবং মুসলমানরা নিজেদের ব্যয়ের জন্যে পৃথক পৃথকভাবে দায়ী হবে। তিন. এই চুক্তির আওতাভুক্তদের কোন অংশের সাথে যারা যুদ্ধ করবে সবাই সম্মিলিতভাবে তাদের সাথে প্রতিহত করবে। চার. এই চুক্তির অংশীদাররা সকলেই পরস্পরের কল্যাণ কামনা করবে। তবে সেই কল্যাণ কামনা ও সহযোগিতা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে-অন্যায়ের ওপর নয়। পাঁচ. কোন ব্যক্তি তার মিত্রের কারণে অপরাধী বিবেচিত হবে না। ছয়. মযলুমকে সাহায্য করা হবে। সাত. যতদিন যাবত যুদ্ধ চলতে থাকবে ততদিন ইহুদীরাও মুসলিমদের সাথে যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করবে। আট. এই চুক্তির অংশীদারদের জন্যে মদীনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাত নিষিদ্ধ থাকবে। নয়. এই চুক্তির অন্তর্ভুক্তদের মধ্যে কোন নতুন সমস্যা দেখা দিলে বা ঝগড়া-বিবাদ হলে আল্লাহর আইন অনুযায়ী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মীমাংসা করবেন। দশ. কোরায়শ এবং তাদের সাহায্যকারীদের আশ্রয় প্রদান করা হবে না। এগারো. ইয়াসরেবের ওপর কেউ হামলা করলে সেই হামলা মোকাবেলায় পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা করবে। সকল পক্ষ নিজ নিজ অংশের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন করবে। বারো. এই চুক্তির মাধ্যমে কোন অত্যাচারী বা অপরাধীকে আশ্রয় দেয়া হবে না।
এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর মদীনা এবং তার আশে পাশের এলাকা নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। সেই রাষ্ট্রের রাজধানী ছিলো মদীনা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সেই রাষ্ট্রের মহানায়ক। এর মূল কর্তৃত্ব ছিলো মুসলমানদের হাতে। এমনি করে মদীনা ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হলো। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরবর্তী সময়ে অন্যান্য গোত্রের সাথেও একই রকম চুক্তি করেন।

টিকাঃ
২৫. ইবনে হিশাম, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০৩, ৫০৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00