📄 মসজিদে নববীর নির্মাণ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববী নির্মাণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মিলন ও মিল মহব্বতের একটি কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। একইভাবে তিনি মানব ইতিহাসের এক অসাধারণ কাজ সম্পন্ন করেন এবং তা হচ্ছে মোহাজের ও আনসারদের মধ্যেকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি। আল্লামা ইবনে কাইয়েম লিখেছেন, অতপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আনাস ইবনে মালেকের গৃহে মোহাজের ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন। সে সময় মোট নব্বইজন সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। অর্ধেক ছিলেন মোহাজের আর অর্ধেক ছিলেন আনসার। ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মূল কথা ছিলো তারা একে অন্যের দুঃখে দুখী এবং সুখে সুখী হবে। মৃত্যুর পর নিকটাত্মীয়দের পরিবর্তে একে অন্যের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। উত্তরাধিকারী হওয়ার এ নিয়ম বদরের যুদ্ধ পর্যন্ত কার্যকর ছিলো। এরপর আল্লাহ তায়ালা কোরআনে করিমের এই আয়াত নাযিল করেন, 'নিকটাত্মীয়রা একে অন্যের বেশী হকদার।'
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর আনসার ও মোহাজেরদের মধ্যেকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক অটুট থাকে। বলা হয় যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুমাত্র মোহাজেরদের মধ্যে আরেকটি ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু প্রথমে উল্লেখিত ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সম্পর্কই প্রমাণিত রয়েছে। এমনিতেই বোঝা যায় যে, মোহাজেররা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, স্বদেশী ভ্রাতৃত্ব এবং আত্মীয়তার বন্ধনের কারণে পরস্পর ছিলেন খুবই ঘনিষ্ঠ। অন্য কোন প্রকার ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কের তারা মুখাপেক্ষী ছিলেন না। কিন্তু মোহাজের এবং আনসারদের প্রসঙ্গ ছিলো ভিন্ন রকমের।²
এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমাম গাযযালী (র.) লিখেছেন, জাহেলী যুগের রীতিনীতির অবসান ঘটানো, ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বর্ণ, গোত্র ও আঞ্চলিকতার পার্থক্য মিটিয়ে দেয়াই ছিলো এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উদ্দেশ্য। এর ফলে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, উচু নীচুর মানদন্ড তাকওয়া ব্যতীত অন্য কিছুতেই নেই।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে শুধু অন্তসারশূন্য শব্দের আবরণে সজ্জিত করেননি। বরং এমন একটি অবশ্য করণীয় ও পালনীয় অঙ্গীকাররূপে আখ্যায়িত করেছিলেন, যার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো জানমাল। এটা শুধুমাত্র মুখে মুখে উচ্চারিত এমন সালাম ও মোবারকবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, যার কোন ফলাফল নেই। বরং এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সাথে আত্মত্যাগ, পরদুঃখকাতরতা এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির প্রেরণাও জাগরুক ছিলো। একারণে এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন মদীনার নতুন সমাজকে দুর্লভ ও সমুজ্জল কর্ম তৎপরতায় পরিপূর্ণ করে দিয়েছিলো।³
সহীহ বোখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে যে, মোহাজেররা মদীনায় আগমনের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে রবি (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। এরপর হযরত সা'দ ইবনে রবি (রা.) হযরত আবদুর রহমান (রা.)-কে বললেন, আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আপনি আমার ধন-সম্পদের অর্ধেক গ্রহণ করুন। আমার দু'জন স্ত্রী রয়েছে। আপনি ওদের দেখুন। যাকে আপনার বেশী পছন্দ হয় তার কথা বলুন। আমি তাকে তালাক দেবো। ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর আপনি তাকে বিবাহ করবেন। একথা শুনে হযরত আবদুর রহমান (রা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা আপনার পরিবার পরিজন এবং ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। আপনাদের এখানে বাজার কোথায়? তাকে বনু কাইনুকা বাজারের কথা জানানো হলো। তিনি বাজার থেকে ফিরে আসার পর তাঁর কাছে কিছু পনির এবং ঘি দেখা গেলো। এরপর প্রতিদিন নিয়মিত তিনি বাজারে যাওয়া আসা করতেন। একদিন তিনি ফিরে আসার পর তাঁর গায়ে হলুদের চিহ্ন দেখা গেলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কারণ জানতে চাইলেন। হযরত আবদুর রহমান (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমি বিবাহ করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, মোহরানা কতো দিয়েছো? হযরত আবদুর রহমান বললেন, সোয়া তোলা সোনা।⁴
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে যে, আনসাররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবেদন জানালেন যে, আপনি আমাদের এবং আমাদের ভাইদের মধ্যে আমাদের মালিকানাধীন খেজুরের বাগানগুলো বণ্টন করে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাযি হলেন না। আনসাররা তখন বললেন, তাহলে মোহাজেররা আমাদের বাগানে কাজ করুক, আমরা উৎপাদিত ফলের মধ্য থেকে তাদেরকে অংশ দেবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতে সম্মতি দিলেন। অতপর আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করলাম।⁵
এর দ্বারা বোঝা যায় যে, আনসাররা কিভাবে মোহাজেরদের সম্মান করেছিলেন। মোহাজের ভাইয়ের প্রতি আনসারদের ভালোবাসা, সরল-সহজ আন্তরিকতা এবং আত্মত্যাগের পরিচয়ও এতে পাওয়া যায়। মোহাজেররা আনসাদের এ ধরনের আচরণের যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। তাঁরা আনসারদের কাছ থেকে কোন প্রকার বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করেননি। বরং ভঙ্গুর অর্থনীতি কিছুটা সজীব করে তুলতে যতোটা সাহায্য গ্রহণ প্রয়োজন, ততোটাই গ্রহণ করেছিলেন।
আনসার ও মোহাজেরদের মধ্যেকার এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন এক অনন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণ্ণতার প্রমাণ। সেই সময় মুসলমানরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, এই ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন ছিলো তার একটি চমৎকার সমাধান।
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১, ৫৫৫, ৫৬০। যাদুল মায়াদ দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৫৬।
২. যাদুল মায়াদ, দ্বিতীয়, খন্ড, পৃষ্ঠা, ৫৬
৩. ফেকা হু সসিরাত পৃ. ১৪০-১৪১
৪. সহীহ বোখারী। মোহাজের ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়। প্রথম খন্ড, পৃ. ৫৫৩।
৫. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৩১২।
📄 মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববী নির্মাণের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মিলন ও মিল মহব্বতের একটি কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। একইভাবে তিনি মানব ইতিহাসের এক অসাধারণ কাজ সম্পন্ন করেন এবং তা হচ্ছে মোহাজের ও আনসারদের মধ্যেকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি। আল্লামা ইবনে কাইয়েম লিখেছেন, অতপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আনাস ইবনে মালেকের গৃহে মোহাজের ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন। সে সময় মোট নব্বইজন সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। অর্ধেক ছিলেন মোহাজের আর অর্ধেক ছিলেন আনসার। ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের মূল কথা ছিলো তারা একে অন্যের দুঃখে দুখী এবং সুখে সুখী হবে। মৃত্যুর পর নিকটাত্মীয়দের পরিবর্তে একে অন্যের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে। উত্তরাধিকারী হওয়ার এ নিয়ম বদরের যুদ্ধ পর্যন্ত কার্যকর ছিলো। এরপর আল্লাহ তায়ালা কোরআনে করিমের এই আয়াত নাযিল করেন, 'নিকটাত্মীয়রা একে অন্যের বেশী হকদার।'
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর আনসার ও মোহাজেরদের মধ্যেকার সম্পত্তির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক অটুট থাকে। বলা হয় যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধুমাত্র মোহাজেরদের মধ্যে আরেকটি ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করেন। কিন্তু প্রথমে উল্লেখিত ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সম্পর্কই প্রমাণিত রয়েছে। এমনিতেই বোঝা যায় যে, মোহাজেররা ইসলামী ভ্রাতৃত্ব, স্বদেশী ভ্রাতৃত্ব এবং আত্মীয়তার বন্ধনের কারণে পরস্পর ছিলেন খুবই ঘনিষ্ঠ। অন্য কোন প্রকার ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কের তারা মুখাপেক্ষী ছিলেন না। কিন্তু মোহাজের এবং আনসারদের প্রসঙ্গ ছিলো ভিন্ন রকমের।²
এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ইমাম গাযযালী (র.) লিখেছেন, জাহেলী যুগের রীতিনীতির অবসান ঘটানো, ইসলামের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং বর্ণ, গোত্র ও আঞ্চলিকতার পার্থক্য মিটিয়ে দেয়াই ছিলো এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উদ্দেশ্য। এর ফলে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, উচু নীচুর মানদন্ড তাকওয়া ব্যতীত অন্য কিছুতেই নেই।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে শুধু অন্তসারশূন্য শব্দের আবরণে সজ্জিত করেননি। বরং এমন একটি অবশ্য করণীয় ও পালনীয় অঙ্গীকাররূপে আখ্যায়িত করেছিলেন, যার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো জানমাল। এটা শুধুমাত্র মুখে মুখে উচ্চারিত এমন সালাম ও মোবারকবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না, যার কোন ফলাফল নেই। বরং এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সাথে আত্মত্যাগ, পরদুঃখকাতরতা এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির প্রেরণাও জাগরুক ছিলো। একারণে এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন মদীনার নতুন সমাজকে দুর্লভ ও সমুজ্জল কর্ম তৎপরতায় পরিপূর্ণ করে দিয়েছিলো।³
সহীহ বোখারী শরীফে বর্ণিত রয়েছে যে, মোহাজেররা মদীনায় আগমনের পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) এবং হযরত সা'দ ইবনে রবি (রা.)-এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছিলেন। এরপর হযরত সা'দ ইবনে রবি (রা.) হযরত আবদুর রহমান (রা.)-কে বললেন, আনসারদের মধ্যে আমি সবচেয়ে ধনী। আপনি আমার ধন-সম্পদের অর্ধেক গ্রহণ করুন। আমার দু'জন স্ত্রী রয়েছে। আপনি ওদের দেখুন। যাকে আপনার বেশী পছন্দ হয় তার কথা বলুন। আমি তাকে তালাক দেবো। ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর আপনি তাকে বিবাহ করবেন। একথা শুনে হযরত আবদুর রহমান (রা.) বললেন, আল্লাহ তায়ালা আপনার পরিবার পরিজন এবং ধন-সম্পদে বরকত দান করুন। আপনাদের এখানে বাজার কোথায়? তাকে বনু কাইনুকা বাজারের কথা জানানো হলো। তিনি বাজার থেকে ফিরে আসার পর তাঁর কাছে কিছু পনির এবং ঘি দেখা গেলো। এরপর প্রতিদিন নিয়মিত তিনি বাজারে যাওয়া আসা করতেন। একদিন তিনি ফিরে আসার পর তাঁর গায়ে হলুদের চিহ্ন দেখা গেলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কারণ জানতে চাইলেন। হযরত আবদুর রহমান (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রসূল, আমি বিবাহ করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, মোহরানা কতো দিয়েছো? হযরত আবদুর রহমান বললেন, সোয়া তোলা সোনা।⁴
হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত রয়েছে যে, আনসাররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবেদন জানালেন যে, আপনি আমাদের এবং আমাদের ভাইদের মধ্যে আমাদের মালিকানাধীন খেজুরের বাগানগুলো বণ্টন করে দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাযি হলেন না। আনসাররা তখন বললেন, তাহলে মোহাজেররা আমাদের বাগানে কাজ করুক, আমরা উৎপাদিত ফলের মধ্য থেকে তাদেরকে অংশ দেবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতে সম্মতি দিলেন। অতপর আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করলাম।⁵
এর দ্বারা বোঝা যায় যে, আনসাররা কিভাবে মোহাজেরদের সম্মান করেছিলেন। মোহাজের ভাইয়ের প্রতি আনসারদের ভালোবাসা, সরল-সহজ আন্তরিকতা এবং আত্মত্যাগের পরিচয়ও এতে পাওয়া যায়। মোহাজেররা আনসাদের এ ধরনের আচরণের যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। তাঁরা আনসারদের কাছ থেকে কোন প্রকার বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করেননি। বরং ভঙ্গুর অর্থনীতি কিছুটা সজীব করে তুলতে যতোটা সাহায্য গ্রহণ প্রয়োজন, ততোটাই গ্রহণ করেছিলেন।
আনসার ও মোহাজেরদের মধ্যেকার এ ভ্রাতৃত্ব বন্ধন এক অনন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণ্ণতার প্রমাণ। সেই সময় মুসলমানরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন, এই ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন ছিলো তার একটি চমৎকার সমাধান।
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭১, ৫৫৫, ৫৬০। যাদুল মায়াদ দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৫৬।
২. যাদুল মায়াদ, দ্বিতীয়, খন্ড, পৃষ্ঠা, ৫৬
৩. ফেকা হু সসিরাত পৃ. ১৪০-১৪১
৪. সহীহ বোখারী। মোহাজের ও আনসারদের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক স্থাপন অধ্যায়। প্রথম খন্ড, পৃ. ৫৫৩।
৫. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৩১২।
📄 ইসলামের প্রতি সহযোগিতার অঙ্গীকার
উল্লিখিত ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক ছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের জন্যে আরেকটি অঙ্গীকারনামা প্রণয়ন করেন। এর মাধ্যমে জাহেলী যুগের সকল দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও গোত্রীয় বিরোধের বুনিয়াদ ধ্বংস করে দেয়া হয়। এ ছাড়া জাহেলী যুগের রুসম-রেওয়াজের জন্যে কোন অবকাশই রাখা হয়নি। উক্ত অঙ্গীকারনামার দফাসমূহ ছিলো এই,
এই লেখা নবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে কোরায়শী, ইয়াসরেবী, তাদের অধীনস্থ এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্টদের এবং জেহাদে অংশগ্রহণকারী মোমেনীন ও মোসলেমীনদের মধ্যে সম্পাদিত হচ্ছে-
এক) এরা সবাই অন্য সকল মানুষের চাইতে একটি ভিন্ন জাতি।
দুই) কোরায়শ মোহাজেররা তাদের পূর্বতন রীতি অনুযায়ী পরস্পর মুক্তিপণ আদায় করবে। মোমেনদের মধ্যে সুবিচারমূলকভাবে কয়েদীদের ফিরিয়ে দেবে। আনসারদের সকল গোত্র নিজেদের পূর্বতন রীতি অনুযায়ী পরস্পর মুক্তিপণ আদায় করবে। তাদের সকল দল প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ঈমানদারদের মধ্য সুবিচারমূলকভাবে নিজ নিজ কয়েদীদের ফিদিয়া আদায় করবে।
তিন) ঈমানদাররা নিজেদের মধ্যেকার কাউকে ফিদিয়া বা মুক্তিপণের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দান ও উপঢৌকন থেকে বঞ্চিত করবে না।
চার) যারা বাড়াবাড়ি করবে, সকল সত্যনিষ্ঠ মুসলমান তাদের বিরোধিতা করবে। ঈমানদারদের মধ্যে যারা যুলুম-অত্যাচার, পাপ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা ফেতনা ফাসাদ সৃষ্টি করবে, সকল মোমেন তাদের বিরোধিতা করবে।
পাঁচ) মোমেনরা সম্মিলিতভাবে অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে থাকবে। অন্যায়কারী কোন মোমেনের সন্তান হলেও এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না।
ছয়) কোন মোমেন অন্য মোমেনকে কোন কাফেরের হত্যার অভিযোগে হত্যা করবে না।
সাত) কোন মোমেন কোন কাফেরের সাহায্যের জন্যে অন্য মোমেনের বিরোধিতায় অবতীর্ণ হবে না।
আট) সকলেই থাকবে আল্লাহর যিম্মায়। একজন সাধারণ মানুষের কৃত অঙ্গীকারও সকল মানুষ পালনে বাধ্য থাকবে।
নয়) যে সকল ইহুদী আমাদের আদর্শে দীক্ষিত হবে, তাদের সাহায্য করা হবে। তারা অনান্য মুসলমানের মতোই ব্যবহার পাবে। তাদের ওপর কোন প্রকার যুলুম-অত্যাচার করা হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করা হবে না।
দশ) মুসলমানদের সমঝোতা হবে অভিন্ন। কোন মুসলমান অন্য মুসলমানকে বাদ দিয়ে আল্লাহর পথে জেহাদে অন্যের সাথে আপোস করবে না। বরং সকলেই সাম্য ও সুবিচারের ভিত্তিতে চুক্তি বা সমঝোতায় উপনীত হবে।
এগারো) আল্লাহর পথে জেহাদে প্রবাহিত রক্তের ক্ষেত্রে সকল মুসলমানই অভিন্ন বিবেচিত হবে।
বারো) কোন মুসলমানই কাফের কোরায়শদের কাউকে জানমালের নিরাপত্তা বা আশ্রয় দিতে পারবে না। কোন কাফেরের জানমালের নিরাপত্তা অথবা আশ্রয় দেয়ার জন্যে কোন মোমেনের কাছে অনুরোধ জানাতে পারবে না।
তেরো) কোন ব্যক্তি যদি কোন মোমেনকে হত্যা করে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে এর পরিবর্তে তার কাছ থেকে কেসাস আদায় করা হবে। অর্থাৎ হত্যার অপরাধে অপরাধী হওয়ায় তাকেও হত্যা করা হবে। তবে যদি নিহত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনকে হত্যাকারী ক্ষতিপূরণ দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে কেসাস করা হবে না।
চৌদ্দ) সকল মোমেন কোন বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত হলে অন্য কেউ তার বিরোধিতা করতে পারবে না।
পনেরো) কোন হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী বা বেদয়া'তীকে সাহায্য করা মোমেনের জন্যে বৈধ বিবেচিত হবে না। অশান্তি সৃষ্টিকারী কোন ব্যক্তিকে কেউ আশ্রয় দিতে পারবে না। যদি কেউ আশ্রয় দেয় বা সাহায্য করে, তাহলে কেয়ামতের দিন তার উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হবে। ইহলৌকিক জীবনে তার ফরয ও নফল এবাদাত কোনটাই কবুল হবে না।
ষোল) তোমাদের মধ্যে যে কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে সেই বিষয় আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ অনুযায়ী মীমাংসা করবে।
টিকাঃ
৬. ইবনে হিশাম, প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৫০৩. ৫০৩
📄 সমাজ ব্যবস্থার নয়া কাঠামো
এ দূরদর্শিতা এবং বুদ্ধিমত্তার কারণে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি নয়া সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। তবে সমাজের বাহ্যিক রূপ আল্লাহর রসূলকে কেন্দ্র করেই বিকশিত ও পরিস্ফুটিত হয়েছিলো। তাঁর মোহনীয় ব্যক্তিত্বই ছিলো সকল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, নৈতিক চরিত্র গঠনের উপাদান, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্বের নমুনা, এবাদাত বন্দেগী ও আনুগত্য মুসলমানদের নব জীবন লাভে ধন্য করে তুলেছিলো।
একজন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোন ইসলাম উৎকৃষ্ট? অর্থাৎ ইসলামের মধ্যে কোন আমল উত্তম? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, তুমি অন্যদের খাবার খাওয়াবে এবং চেনা অচেনা সবাইকে সালাম করবে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় আসার পর আমি তাঁর কাছে হাযির হলাম। তাঁর পবিত্র চেহারা দেখেই আমি বুঝে ফেললাম যে, এই চেহারা কোন মিথ্যাবাদী মানুষের নয়। এরপর তিনি আমার সামনে প্রথম কথা এটাই বলেছিলেন যে, 'হে লোক সকল, সালাম দিতে থাকো, খাবার খাওয়াও, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো, রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন নামায পড়ো, জান্নাতে নিরাপদে প্রবেশ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, 'সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার দুর্বৃত্তপনা এবং ধ্বংসকারিতা থেকে নিরাপদ না থাকে। '
তিনি বলতেন, 'সেই ব্যক্তিই ভালো মুসলমান, যার মুখ এবং হাত থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে।'
তিনি বলতেন, 'তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মোমেন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের জন্যে পছন্দ করা জিনিস নিজের ভাইয়ের জন্যে পছন্দ না করবে। '
তিনি বলতেন, 'সকল মোমেন একজন মানুষের মতো। যদি তার চোখে ব্যথা হয়, তবে সারা দেহে সেই কষ্ট অনুভূত হয়। যদি মাথায় ব্যথা হয়, তবে সারা দেহে সেই ব্যথার কষ্ট অনুভূত হয়। '
তিনি বলতেন, 'মোমেন মোমেনের জন্যে ইমারত স্বরূপ। এর এক অংশ অন্য অংশকে শক্তি প্রদান করে।'
তিনি বলতেন, 'নিজেদের মধ্যে পরস্পর ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, শত্রুতা করো না, বিবাদ করো না, একে অন্যের দিকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করো না। আল্লাহর বান্দা এবং ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোন মুসলমানের জন্যে এটা বৈধ নয় যে, নিজের ভাইকে তিনদিনের বেশী দূরে সরিয়ে রাখে। '
তিনি বলতেন, 'মুসলমান মুসলমানের ভাই। একজন মুসলমান যেন অন্য মুসলমানের ওপর যুলুম না করে এবং তাকে শত্রুর হাতে তুলে না দেয়। যে ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রয়োজন পূরণ করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দুঃখ দুশ্চিন্তা দূর করবে, আল্লাহ তায়ালা রোজ কেয়ামতে সেই ব্যক্তির দুঃখসমূহের মধ্যে একটি দুঃখ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করে রাখবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দোষ গোপন রাখবেন। '
তিনি বলতেন, 'তোমরা যমিনের অধিবাসীদের ওপর দয়া করো, আকাশের মালিক তোমাদের ওপর দয়া করবেন। '
তিনি বলতেন, 'সেই ব্যক্তি মোমেন নয়, যে ব্যক্তি নিজে পেট ভরে খায়, অথচ তার পাশে তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।'
তিনি বলতেন, 'মুসলমানকে গালাগাল দেয়া ফাসেকের কাজ। মুসলমানের সাথে মারামারি কাটাকাটি করা কুফুরী।'
তিনি বলতেন, 'রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা সদকার অন্তর্ভুক্ত। এই কাজ ঈমানের শাখাসমূহের একটি অন্যতম শাখা।'
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকা-খয়রাতের তাকিদ দিতেন। এই সদকা খয়রাতের ফযিলত এতো বেশী বলে বর্ণনা করতেন যে, আপনা থেকেই সেদিকে মন আকৃষ্ট হতো। 'তিনি বলতেন, সদকা গুনাহসমূহকে এমনভাবে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।'
তিনি বলতেন, 'যে মুসলমান কোন নগ্ন মুসলমানকে পোশাক পরিধান করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন। যে মুসলমান কোন ক্ষুধার্ত মুসলমানকে আহার করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে ফল খাওয়াবেন। যে মুসলমান কোন পিপাসিত মুসলমানকে পানি পান করায়, আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে ছিপি আঁটা শরাবান তহুরা পান করাবেন।'
তিনি বলতেন, 'খেজুরের এক টুকরো দান করে হলেও আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো। যদি সেইটুকু সামর্থও না থাকে, তবে ভালো কথার মাধ্যমে আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো।'
একই সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দূরে থাকার জন্যে তাকিদ দিয়েছেন। তিনি ধৈর্য, সহিষ্ণুতা এবং মিতব্যয়িতার শিক্ষা দিয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তিকে ভিক্ষুকের চেহারায় আঁচড় এবং অন্যান্য ধরনের যখম বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে উল্লিখিত ধরনের অবমাননা থেকে তাদেরকে মুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন, যারা একান্ত নিরুপায় হয়েই ভিক্ষা করে।
তিনি একেক প্রকার এবাদাতের বিভিন্ন রকম ফযিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কাছে সেইসব এবাদতের ভিন্ন ভিন্ন রকম সওয়াবের কথা উল্লেখ করেছেন।
আকাশ থেকে তাঁর কাছে যে ওহী আসতো, তিনি মুসলমানদেরকে সেই সম্পর্কে অবহিত করতেন এবং সেই আলোকে জীবন যাপনে সহায়তা করতেন। তিনি সেই ওহী মুসলমানদের পড়ে শোনাতেন এবং তাঁর কাছ থেকে শোনার পর মুসলমানরা তাঁকে পুনরায় পড়ে শোনাতো। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও চিন্তাচেতনা ছাড়াও দাওয়াতে হক-এর পয়গাম্বরসূলভ দায়িত্বানুভূতি ও সচেতনতা সৃষ্টি হতো।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের জীবনধারায় বিস্ময়কর উন্নতির সোপান তৈরী করেন। মানুষের মধ্যেকার খোদা প্রদত্ত যোগ্যতাকে উন্নত করেন। মানুষের কর্মপ্রণালী এবং চিন্তা-চেতনায় মাধুর্যের সৃষ্টি হয়। এমনকি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার কারণে সাহাবারা নবীদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হন। মানবেতিহাসে তাঁরা আদর্শের চূড়ান্ত সীমায় উপনীত হন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি আদর্শ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন মৃত ব্যক্তিদের আদর্শ অনুসরণ করে। কেননা জীবিত লোকদের ব্যাপারে ফেতনার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।
সাহাবারা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথী। উম্মতে মোহাম্মদীর শ্রেষ্ঠ মনুষ, পুণ্যপ্রাণ, গভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং সর্বাধিক নিরহংকার। আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই সকল মানুষকে তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু ও সাথী এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে যোগ্য মানুষরূপে মনোনীত করেন। কাজেই তাঁদের বৈশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানা দরকার এবং তাঁদের অনুসরণ অনুকরণ ও আনুগত্য করা দরকার। তাঁদের চরিত্র মাধুর্য এবং জীবন চরিত যতোটা সম্ভব আত্মস্থ করা দরকার। কেননা তাঁরা ছিলেন হেদায়েতের ওপর, সেরাতুল মোস্তাকিমের ওপর।
আমাদের পয়গাম্বর হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম ও উন্নত আদর্শের এমন এক নমুনা ছিলেন যে, মন আপনা আপনি তাঁর দিকে আকৃষ্ট হয়। জান কোরবান করার ইচ্ছা জাগে। এর ফলে তাঁর পবিত্র মুখ নিসৃত কথা পালন করার জন্যে সাহাবারা ছুটে যেতেন। হেদায়াত ও পথনির্দেশের জন্যে তিনি যেসব কথা বলতেন, সেই কথা যথাযথভাবে পালন করতে সাহাবাদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতো।
এ ধরনের প্রচেষ্টার কারণেই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এমন একটি সমাজ গঠনে সক্ষম হলেন, যা ছিলো ইতিহাসের আলোকে সর্বাধিক সফল সমাজ। তিনি সেই সমাজের সমস্যাসমূহের এমন সমাধান দিলেন যে, যারা অন্ধকারের আবর্তে হাত-পা ছোঁড়াছুঁড়ি করছিলো তারা স্বস্তি লাভ করলো। সেই সমাজ উন্নত শিক্ষা ও আদর্শের মাধ্যমে যুগের সকল প্রতিকূলতা সরিয়ে ইতিহাসের ধারাই পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম হলো।
টিকাঃ
৬. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৬. ৯
৭. তিরমিযি, ইবনে মাজা, দারেমী, মেশকাত প্রথম খন্ড, প. ১৬০
৮. সহীহ মুসলিম, মেশকাত দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
৯. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৬
১০. সহীহ বোখারী, প্রথম খন্ড, পৃ. ৬
১১. মুসলিম, মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ ৪২১
১২. বোখারী, মুসলিম ও মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
১৩. সহীহ বোখারী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৮৯৬
১৪. বোখারী, মুসলিম ও মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২২
১৫. সুনানে আবুদাউদ, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৩৩৫, তিরমিযি দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ১৪
১৬. বায়হাকী, মেশকাত, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৪২৪
১৭. বোখারী, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৮৯৩
১৮. বোখারী মুসলিম, মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ১২, ১৬৭
১৯. আহমদ, তিরমিযি, ইবনে মাজা মেশকাত প্রথম খন্ড, পৃ. ১৪
২০. আবু দাউদ, তিরমিযি মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ১৬৯
২১. বোখারী, প্রথম খন্ড, ১৯০, দ্বিতীয় খন্ড, ৮৯০
২২. আবু দাউদ, তিরমিযি, নামাঈ, ইবনে মাজা, দারেমী মেশকাত দ্রষ্টব্য।
২৩. রাযীন, মেশকাত, প্রথম খন্ড, পৃ. ৩২