📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কোবায় অবস্থান

📄 কোবায় অবস্থান


নবুয়তের চূর্তদশ বছরের ৮ই রবিউল আউয়াল অর্থাৎ ২৩শে সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সালের সোমবার প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোবায় অবতরণ করেন।
হযরত ওরওয়া ইবনে যোবায়ের (রা.) বলেন, মদীনার মুসলমানরা মক্কা থেকে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওয়ানা হওয়ার খবর জেনেছিলেন এ কারণে মদীনার বাইরে হাররার নামক স্থানে এসে প্রতিদিন তারা অপেক্ষা করতেন। দুপুরের রোদ অসহ্য হয়ে উঠলে ফিরে যেতেন। একদিন এমনি করে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সবাই ঘরে ফিরে গেছেন। এ সময় একজন ইহুদী ব্যক্তিগত কাজে একটি টিলার উপর উঠেছিলো। হঠাৎ সে সাদা কাপড়ের তৈরী চাঁদোয়া লক্ষ্য করলো। আনন্দের আতিশয্যে সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, শোনো মুসলমানরা, শোনো, তোমরা যার জন্যে প্রতিদিন অপেক্ষা করছিলে, তিনি আসছেন। একথা শোনা মাত্রই মুসলমানরা ছুটে এলো এবং অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্যে বেরিয়ে পড়লো।
ইবনে কাইয়েম বলেন, ঘোষণার সাথে সাথে বনি আমর ইবনে আওফের মধ্যে শোরগোল পড়ে গেলো এবং তকবির ধ্বনি শোনা গেলো। মুসলমানরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমনের সম্বর্ধনার জন্যে বেরিয়ে পড়লো। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অভ্যর্থনা জানালো এবং তাঁর চারপাশে ভিড় করতে লাগলো। সে সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নীরব। তাঁর ওপর তখন কোরআনের এই আয়াত নাযিল হচ্ছিলো, 'কিন্তু তোমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে একে অপরের পৃষ্ঠপোষকতা করো, তবে জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালাই তার বন্ধু, জিবরাঈল ও সৎকর্মপরায়ন মোমেনরা, উপরন্তু অন্যান্য ফেরেশতারাও তাঁর সাহায্যকারী।' (সূরা তাহরীম, আয়াত ৪)
হযরত ওরওয়া ইবনে যোবায়ের (রা.) বলেন, লোকদের সাথে মিলিত হওয়ার পর প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামতাদের সাথে ডানদিকে অগ্রসর হলেন এবং বনি আমর ইবনে আওফের বাড়ী অভিমুখে রওয়ানা হলেন। এ দিন ছিলো সোমবার, মাস ছিলো রবিউল আউয়াল। হযরত আবু বকর (রা.) আগন্তুকদের অভ্যর্থনার জন্যে দাঁড়িয়েছিলেন, আর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপচাপ বসেছিলেন।
আনসারদের মধ্যে যারা ইতিপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি, তারা হযরত আবু বকর (রা.)-কে সালাম করছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গায়ের ওপর ঢলে পড়া সূর্যের কিরণ এসে পড়লে হযরত আবু বকর (রা.) একখানি চাদর দিয়ে তাঁকে ছায়া করে দাঁড়ালেন। এতে সবাই রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনতে পারলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যর্থনার জন্যে মদীনায় জনতার ঢল নামলো। এটি ছিলো এক ঐতিহাসিক দিন। মদীনার মাটি এ ধরনের দৃশ্য অতীতে কোনোদিন দেখেনি। ইহুদীরাও প্রতিশ্রুত নবীর আগমন প্রত্যক্ষ করলো। বাইবেলে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ দক্ষিণ দিক থেকে তার আগমন ঘটাবেন এবং যিনি পবিত্র, তিনি 'ফারান' পর্বত থেকে আগমন করবেন। রসূল মদীনায় কুলসুম ইবনে হাদাম, মতান্তরে সায়াদ ইবনে খায়ছামার ঘরে অবস্থান করেন। তবে প্রথম তথ্যটি অধিক নির্ভরযোগ্য।
ইতিমধ্যে হযরত আলী (রা.) মক্কায় তিনদিন অবস্থান করে মানুষের আমানতসমূহ বুঝিয়ে দিয়ে মদীনায় আসেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোবায় মোট চারদিন। সোম, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার অবস্থান করেন। কারো কারো মতে ১০ দিন, কারো কারো মতে রওয়ানা ও পথের কয়েকদিন ছাড়া কোবায় মোট ২৪ দিন অবস্থান করেন। এ সময়ে তিনি মসজিদে কোবার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং সেই মসজিদে নামায আদায় করেন। নবুয়ত প্রাপ্তির পর এটি ছিলো প্রথম মসজিদ। তাকওয়ার ওপর এই মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছিলো। পঞ্চম, দ্বাদশ বা ২৬তম দিনের শুক্রবারে তিনি আল্লাহর নির্দেশে সওয়ারীর ওপর আরোহন করেন। রওয়ানা হওয়ার আগে তিনি তাঁর মামার গোত্র বনু নাজ্জাহকে খবর পাঠালে তারা তলোয়ার সজ্জিত করে হাযির হলো। তিনি তাদের সাথে নিয়ে মদীনার পথে রওয়ানা হলেন। বনু সালেম ইবনে আওফের জনপদে পৌঁছার পর জুমার নামাযের সময় হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকালয়ে জুমার নামায আদায় করলেন। জুমার জামাতে একশ মুসল্লী হাযির হয়েছিলেন। এখনো সেখানে এ মসজিদ রয়েছে।

টিকাঃ
৩১. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৫
৩৩. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৫
৩৪ বাইবেল, হাবকুক অধ্যায়, পৃ. ৩
৩৫. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৪, ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৯৩ রহমাতুল লিল আলামিন।
৩৬. এটা ইবনে ইসহাকের বর্ণনা। ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৯৪ দেখুন। এই বর্ণনাই আল্লামা মনসুরপুরী গ্রহণ করেছেন। রহমাতুল লিল আলামীন ১ম খন্ড, পৃ. ১০২ দেখুন। কিন্তু সহীহ বোখারীর একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, প্রিয় রসূল সেখানে ২৪ রাত অবস্থান করেন। ১ম খন্ড পৃ. ৬১। অন্য এক বর্ণনায় ১০ রাতের চেয়ে কিছু বেশীর কথা রয়েছে। ১ম খন্ড পৃ. ৫৫৫। তৃতীয় এক বর্ণনায় ১৪ রাতের কথা রয়েছে। ১ম খন্ড পৃ. ৫৬০। ইবনে কাইয়েম শেষোক্ত বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ইবনে কাইয়েম ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রিয় নবী সোমবার কোবায় পৌছেছেন এবং শুক্রবার সেখান থেকে রওয়ানা হয়েছেন। যাদুল মা'য়াদ ২য় খন্ড, পৃ. ৫৪-৫৫। সোমবার ও শুক্রবার যদি পৃথক দুই সপ্তাহের নেয়া হয় তবে পথের দিনগুলো ছাড়া মোট ১০ দিন হয়। পথের সময়সহ ১২

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 রসূলুল্লাহর মদিনায় প্রবেশ

📄 রসূলুল্লাহর মদিনায় প্রবেশ


জুমার নামায আদায়ের পর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা গমন করেন। সেদিন থেকে ইয়াসরেবের নাম হয়েছে 'মদীনাতুর রসূল' বা শহরে রসূল। সংক্ষেপে মদীনা। এই দিন ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন। চারদিকে আল্লাহর প্রশংসা ধ্বনি শোনা যাচ্ছিলো। আনসার শিশুরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে এ গান গাইছিলো। 'দক্ষিণের সেই পাহাড় থেকে উদয় হলো মোদের ওপর চতুর্দশীর চাঁদ। শোকরিয়া আদায় করা আল্লাহর, কর্তব্য মোদের সকলের। তোমার আদেশ পালন আর আনুগত্য কর্তব্য মোদের সকলের, পাঠিয়েছেন তোমায় আল্লাহ সর্ব শক্তিমান।'
আনসাররা ধনী বা বিত্তশালী ছিলেন না কিন্তু সবাই চাচ্ছিলেন যে, নবী তার বাড়ীতেই অবস্থান করবেন। যে এলাকা দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন, সেখানের লোকেরাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উটের রশি ধরে তাঁর বাড়ীতে আসার আবেদন জানাতেন। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে দিলেন যে, উটনীর পথ ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর তরফ থেকে আদেশ পেয়েছে। এরপর উটনী ইচ্ছামতো চলতে লাগলো এবং বর্তমানে যেখানে মসজিদে নববী রয়েছে সেখানে গিয়ে থামলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উটনী থেকে নামলেন না। উটনী সামনে কিছুদূরে এগিয়ে গেলো এরপর পুনরায় ঘুরে আগের জায়গায় ফিরে এসে বসে পড়লো। এটা ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নানাদের মহল্লা অর্থাৎ বনু নাজ্জারদের মহল্লা। উটনীকে আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়ায় সে বনু নাজ্জার এলাকায় থেমে নানাদের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মনে মনে এটাই চাচ্ছিলেন। এবার বনু নাজ্জার গোত্রের লোকেরা নিজ নিজ বাড়ীতে নিয়ে তাকে যাওয়ার জন্যে আবেদন নিবেদন শুরু করলো। আবু আইয়ুব আনসারী এগিয়ে এসে উটের লাগাম ধরলেন এবং তাঁর বাড়ীতে নিয়ে গেলেন। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মানুষ তার উটের পালানের সঙ্গে রয়েছে। এরপর হযরত আসআদ ইবনে যোরারাহ এসে উটনীর লাগাম ধরলেন, উটনী তখন থেকে তাঁর নিয়ন্ত্রণেই থাকলো।
সহীহ বোখারী শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমাদের মধ্যে কার ঘর সবচেয়ে কাছে? হযরত আবু আইউব আনসারী বললেন, আমার ঘর, হে আল্লাহর রসূল। এই হচ্ছে আমার ঘর, আর এই হচ্ছে আমার দরজা। আল্লাহর রসূল বললেন, যাও আমাদের জন্যে কাইলুলা অর্থাৎ মধ্যাহ্নের বিশ্রামের ব্যবস্থা করো। আবু আইউব বললেন, আপনারা উভয়ে আসুন, আল্লাহ তায়ালা বরকত দেবেন।
কয়েকদিন পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহধর্মিনী উম্মুল মোমেনীন হযরত সাওদা, দুই কন্যা ফাতেমা এবং উম্মে কুলসুম, ওসামা ইবনে যায়েদ এবং উম্মে আরমানও এসে পড়লেন। এদের সবাইকে হযরত আবু বকরের পরিবারের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর মদীনায় নিয়ে আসেন। হযরত আয়েশা (রা.)-ও এদের সঙ্গে ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক কন্যা হযরত যয়নব হযরত আবুল আস-এর কাছে রয়ে গেলেন। তিনি তখন আসতে দেননি। তিনি বদরের যুদ্ধের পর আগমন করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, প্রিয় রসূল (রা.) মদীনায় আসার পর হযরত আবু বকর এবং হযরত বেলাল (রা.) জ্বরে আক্রান্ত হলেন। আমি তাদের কাছে গিয়ে বললাম, আব্বাজান, আপনি কেমন আছেন? বেলাল (রা.), আপনি কেমন আছেন? হযরত আবু বকরের জ্বর এলে তিনি এ কবিতা আবৃতি করতেন, 'পরিবারের সদস্যদের সবাই বলে সুপ্রভাত কেউ ভাবে না জুতোর ফিতার চেয়েও তার মরণ কাছে।'
হযরত বেলাল (রা.) কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাঁর সুরেলা কণ্ঠে আবৃত্তি করলেন, 'জানতাম যদি রাত্রি যাপন করবো আমি মক্কার প্রান্তরে চারিপাশে রবে ইযখিরও জালিল (ঘাস)। মার্জিন্নার ঝর্ণার ধারে যেতে পারব কিনা জানি না। সামা আর তোফায়েল পাহাড় দেখতে কি পাবো?'
হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছাকাছি গিয়ে এ খবর দিলাম, তিনি বললেন, হে আল্লাহ তায়ালা, মক্কা যেমন আমাদের কাছে প্রিয় ছিলো, মদীনাকেও তেমন প্রিয় করে দাও, বরঞ্চ মদীনার পরিবেশ ও আবহাওয়া তার চেয়ে বেশী স্বাস্থ্যকর করে দাও। এখানে শস্যের মধ্যে বরকত দাও। এখান থেকে অসুখ জাহফায় সরিয়ে নাও। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর দোয়া কবুল করলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলো।
এ পর্যন্ত প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এক অংশ এবং ইসলামী দাওয়াতের মক্কী যুগ পূর্ণ হয়ে গেলো।

টিকাঃ
৩৭. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৫, ৫৬০ যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৫, ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড পৃ. ৪৯৪ রহমাতুললিল আলামীন ১ম খন্ড পৃ. ১০২
৩৮. কবিতার এ তরজমা আল্লামা মনসুরপুরী করেছেন। আল্লামা ইবনে কাইয়েম লিখেছেন, এই কবিতা তবুক থেকে রসূলের ফেরার সময় আবৃত্তি করা হয়েছিলো। যিনি বলেন যে, মদীনায় নবী (সাঃ)-এর প্রবেশের সময়েই শুধু এ কবিতা পড়া হয়েছে একথাকে তিনি ভুল বলেছেন। যাদুল মায়াদ, ৩য় খন্ড, পৃ ১০। তবে আল্লামা ইবনে কাইয়েম ভুল বললেও নির্ভরযোগ্য যুক্তি প্রমাণ দিতে পারেননি। পক্ষান্তরে আল্লামা মনসুরপুরী একথাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন যে, এ কবিতা মদীনায় প্রবেশের সময় পড়া হয়েছিলো। তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি প্রমাণও রয়েছে। দেখুন রহমতুল লিল আলামিন, ১ম খন্ড, পৃ. ১০৬
৩৯. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. রহমাতুল লিল আলামীন ১ম খন্ড পৃ. ১০৬
৪০. সহীহ বোখারী ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৬
৪১. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৫৫
৪২. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৮৮-৫৮৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00