📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ঘর থেকে গারে ছুরে

📄 ঘর থেকে গারে ছুরে


প্রিয় রসূল ২৭ শে সফর মোতাবেক ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সালের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ ১২ই সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে হিজরত করেন। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সাথী হযরত আবু বকর (রা.)। তাঁরা সূর্যোদয়ের আগেই মক্কার সীমানা অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে চললেন।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জানতেন যে, কোরায়শ দুর্বৃত্তরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় তাঁকে খুঁজবে এবং স্বাভাবিকভাবে মদীনা অভিমুখী পথের দিকেই অগ্রসর হবে। এ কারণে প্রিয় নবী উল্টো দিকে ইয়েমেনের পথে অগ্রসর হলেন। মদীনার পথ হচ্ছে মক্কা থেকে উত্তর দিকে। আর ইয়েমেনের পথ দক্ষিণ দিকে। পাঁচ মাইল অতিক্রমের পর প্রিয় নবী একটি পাহাড়ের পাদদেশে পৌছুলেন, সেই পাহাড় 'ছুর পাহাড়' নামে পরিচিতি। একটি সুউচ্চ পাহাড়। এই পাহাড়ে ওঠা খুব কষ্টকর। এখানে বহু পাথর রয়েছে। সেই পাথর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরণযুগল রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিলো। বলা হয়ে থাকে যে, পায়ের ছাপ গোপন রাখার উদ্দেশ্যে তিনি পায়ের গোড়ালী দিয়ে হাঁটছিলেন। এ কারণে তাঁর পা জখম হয়ে যায়।
হযরত আবু বকর (রা.) প্রথমে পাহাড়ের কিছু অংশে উঠে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওপরে উঠতে সহায়তা করেন। এরপর উভয়ে পাহাড় চূড়ার একটি গুহায় আশ্রয় নেন। এই গুহা ইতিহাসে 'গারে ছুর' নামে বিখ্যাত।

টিকাঃ
১১. রহমতুল লিল আলমিন, ১ম খন্ড, পৃ. ৯৫, মুখতাছারুছ সিরাহ্ শেখ আবদুল্লাহ, পৃ. ১৬৭৭, ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮২

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 ছুর পর্বতের গুহায়

📄 ছুর পর্বতের গুহায়


গুহার কাছে পৌঁছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আবু বকর (রা.) বললেন, একটু অপেক্ষা করুন। গুহায় কোন কিছু থাকলে তার মোকাবেলা আমার সাথেই যা হবার হবে। এরপর তিনি গুহায় প্রবেশ করে তারা পরিষ্কার করলেন। কয়েকটি গর্ত ছিলো, যেগুলো তহবন্ধ ছিঁড়ে বন্ধ করলেন। দু'টি গর্ত বাকি ছিলো, সেগুলোতে পা চাপা দিয়ে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভেতরে আসার আহ্বান জানালেন। প্রিয় নবী ভেতরে গেলেন এবং আবু বকরের কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। ইতিমধ্যে হযরত আবু বকর (রা.)-কে কিসে যেন দংশন করলো। কিন্তু প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে এ আশঙ্কায় তিনি নড়াচড়া করলেন না। বিষের কষ্টে তাঁর চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠলো, বেখেয়ালে এক ফোটা অশ্রু প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারায় পড়তেই তিনি জেগে গেলেন। আবু বকর (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে? তিনি বললেন, কিসে যেন আমাকে দংশন করেছে।
এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খানিকটা থুথু নিয়ে দংশিত স্থলে লাগিয়ে দিলেন। সাথে সাথে বিষের যাতনা দূর হয়ে গেলো।
এখানে উভয়ে শুক্র, শনি ও রবিবার এ তিনদিন অবস্থান করেন। এ সময়ে হযরত আবু বকরের পুত্র আবদুল্লাহও একই সঙ্গে রাত্রি যাপন করেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, আবদুল্লাহ ছিলো খুব বুদ্ধিমান যুবক। সে শেষ রাতে উভয়ের কাছ থেকে চলে আসতো কিন্তু মক্কায় তাকে সকাল বেলাই দেখা যেতো। যে কেউ দেখে ভাবতো, রাতে সে মক্কাতেই ছিলো। সারাদিন উভয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যেসব কথা শুনতো, সন্ধ্যায় অন্ধকার ঘনিয়ে এলে সেসব খবর নিয়ে 'গারে ছুরে' চলে যেতো।
এদিকে হযরত আবু বকরের ক্রীতদাস আমের ইবনে যোহায়রা বকরি চরাতেন। রাতের আঁধার গভীর হলে তিনি বকরি নিয়ে তাদের কাছে যেতেন এবং দুধ দোহন করে দিতেন। উভয়ে তৃপ্তির সাথে দুধ পান করতেন। খুব ভোরে আমের বকরি নিয়ে রওয়ানা হতেন। তিন রাতেই তিনি এরূপ করেছিলেন। এছাড়া আমের ইবনে যোহায়রা আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরের মক্কা যাওয়ার চিহ্ন সেই পথে বকরী তাড়িয়ে মুছে দিতেন।

টিকাঃ
১২. এই বক্তব্য ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণনা করা হযেছে। এ বর্ণনায়, একথাও রয়েছে যে, পরবর্তী সময়ের সেই বিষের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং সেই বিষের প্রভাবেই তিনি ইন্তেকাল করেন। দেখুন, মেশকাত, ২য় খন্ড, পৃ, ৫৫৬, মানাকেরে আবু বকর শীর্ষক অধ্যায়।
১৩. ফতহুল বারী, ৭ম খন্ড, পৃ. ৩৩৬
১৪. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৩-৫৫৪
১৫. ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কোরায়শদের অভিযান

📄 কোরায়শদের অভিযান


কোরায়শদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা যখন পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছেন, তখন তারা যেন উন্মাদ হয়ে গেলো। প্রথমে তারা হযরত আলীর ওপর তাদের ক্রোধ প্রকাশ করলো। তাকে টেনে হিঁচড়ে কাবাঘরে নিয়ে গেলো এবং কথা আদায়ের চেষ্টা করলো। কিন্তু এতে কোন লাভ হলো না। এরপর তারা হযরত আবু বকরের বাড়ীতে গেলো। দরজা খুললেন হযরত আসমা বিনতে আবু বকর। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তোমার আব্বা কোথায়? তিনি বললেন, আমি তো জানি না। এ জবাব শুনে দুর্বৃত্ত আবু জেহেল আসমাকে এতো জোরে চড় দিলো যে, তার কানের বালি খুলে পড়ে গেলো।
এরপর কোরায়শ নেতারা এক জরুরী বৈঠকে মিলিত হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিলো যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে গ্রেফতার করার জন্যে সর্বাত্মক অভিযান চালাতে হবে। মক্কা থেকে বাইরের দিকে যাওয়ার সকল পথে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করলো। সেই সাথে ঘোষণা করা হলো যে, যদি কেউ হযরত মোহাম্মদ এবং আবু বকর (রা.)-কে বা দু'জনের একজনকে জীবিত বা মৃত হাযির করতে পারে, তাকে একশত উট পুরস্কার দেয়া হবে। এ ঘোষণা সর্বসাধারণ্যে প্রচারিত হবার পর চারিদিকে বহু লোক বেরিয়ে পড়লো। পায়ের চিহ্ন বিশারদরাও উভয়কে তালাশ করতে লাগলো। পাহাড়ে প্রান্তরে ও উঁচু নীচু এলাকায় সর্বত্র চষে বেড়াতে লাগলো। কিন্তু এতো কিছু করেও কোন লাভ হলো না।
অনুসন্ধানকারীরা 'ছুর' পাহাড়ের গুহার কাছেও পৌঁছুলো। কিন্তু সারা দুনিয়ার বাদশাহ আল্লাহ তায়ালা নিজের ইচ্ছাকেই পূর্ণতা দান করেন। সহীহ বোখারীতে হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে গুহায় ছিলাম, মাথা তুলতেই দেখি, লোকদের পা দেখা যাচ্ছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল, ওরা কেউ যদি একটুখানি নিচু হয়ে এদিকে তাকায়, তবেই আমাদের দেখতে পাবে। প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আবু বকর চুপ করো, আমরা এখানে দু'জন নই বরং আমাদের সাথে তৃতীয় হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা। অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আবু বকর এমন দুঃজন সম্পর্কে তোমার কি ধারণা, যাদের তৃতীয় হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা।
মোটকথা অনুসন্ধানকারীরা তখনই চলে গেলো, যখন আল্লাহর রসূল এবং দুর্বৃত্তদের মধে ব্যবধান ছিলো খুব কম— মাত্র কয়েক কদম।

টিকাঃ
১৬. রহমতুল লিল আলামীন ১ম খন্ড, পৃ. ৯৯
১৭. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮৭
১৮. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৪
১৯. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫১৬-৫৫৮। এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, হযরত আবু বকরের অস্থিরতা নিজের জীবন রক্ষার জন্য ছিলো না। তিনি প্রিয় নবী (সঃ)-এর জন্য উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি দুর্বত্তদের পা দেখতে পাচ্ছিলেন, সে সময় তিনি অস্থির হয়ে উঠলেন এবং বললেন, যদি আমি মারা যাই তবে একজন আবু বকর মারা যাবে। কিন্তু আপনি মারা গেলে সমগ্র উম্মত বরবাদ হয়ে যাবে। এ সময়ে রসূল বলেছিলেন, ভয় পেয়ো না, আবু বকর, আল্লাহ পাক আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।
২০. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৩-৫৫৫ ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 মদীনার পথে

📄 মদীনার পথে


মক্কার কোরায়শদের নেতৃত্বে পুরস্কারলোভী লোকদের অনুসন্ধান তৎপরতা নিষ্ফল প্রমাণিত হলো। ক্রমাগত তিনদিন অনুসন্ধান করে তারা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়লো। তাদের অনুসন্ধান উৎসাহ স্তিমিত হয়ে এলো। এ অবস্থা লক্ষ্য করে প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.) মদীনার পথে রওয়ানা হলেন। বিভিন্ন পথ সম্পর্কে অভিজ্ঞ আবদুল্লাহ ইবনে আরিকত লাইছির সাথে আগেই চুক্তি হয়েছিলো যে, তিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এই দুইজনকে মদীনায় পৌঁছে দেবেন। কোরায়শদের ধর্ম বিশ্বাসের ওপর থাকলেও এ লোকটি ছিলো বিশ্বস্ত। এ কারণে তাকে সওয়ারীও দেয়া হয়েছিলো। তাকে বলা হয়েছিলো যে, তিনদিন পর সে দু'টি সওয়ারীসহ ছুর গুহার সামনে যাবে। সোমবার রাতে ১লা রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৬ই সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সালের সোমবার রাতে আবদুল্লাহ ইবনে আরিকত সওয়ারী নিয়ে এলেন। হযরত আবু বকর (রা.) এ সময় তাঁর দুটি উটনী দেখিয়ে বললেন, হে রসূল, আপনি এ দুটির মধ্যে একটি গ্রহণ করুন। রসূল বললেন, হাঁ, তবে মূল্যের বিনিময়ে।
এদিকে আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) উটের ওপর বিছানোর বিছানা নিয়ে এলেন। কিন্তু বাঁধার দড়ি আনতে ভুলে গিয়েছিলেন। রওয়ানা হওয়ার সময় হযরত আসমা উটের পিঠে বিছানা রাখার পর দেখা গেলো বাঁধার দড়ি রেখে এসেছেন। তিনি তখন নিজের কোমরবন্দ খুলে সেটি দু'ভাগ করে ছিঁড়ে বিছানা উটের পিঠের সাথে বেঁধে দিলেন, অন্য অংশ নিজের কোমরে বাঁধলেন। এ কারণে তাঁর উপাধি হয়েছিলো 'যাতুন নেতাকাইন'।
এরপর প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.) রওয়ানা হলেন। আমের ইবনে যোহায়রাও সঙ্গে ছিলেন। রাহবার আবদুল্লাহ ইবনে আরিকত উপকূলীয় পথে মদীনা রওয়ানা হলেন।
গারে ছুর থেকে বেরোবার পর আবদুল্লাহ প্রথমে ইয়েমেনের দিকে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে বহুদূর অগ্রসর হলেন। এরপর পশ্চিমাভিমুখী হয়ে সমুদ্রোপকূল ধরে চলতে শুরু করলেন। পরে এমন এক পথে চলতে লাগলেন, যে পথ সম্পর্কে সাধারণ লোকেরা কেউ অবহিত ছিলো না। সে পথে উত্তর দিকে অগ্রসর হলেন। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এ পথে খুব কম সময়েই লোক চলাচল করতো।
আল্লাহর রসূল এ পথে যেসব স্থান অতিক্রম করেছেন, ইবনে ইসহাক তার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, পথ প্রদর্শক যখন তাদের নিয়ে বের হলেন, তখন মক্কার নিম্ন ভূমি এলাকা দিয়ে অতিক্রম করলেন। উপকূল দিয়ে চলার পর আসফানের নীচু এলাকায় বাঁক ঘুরলেন। সানিয়াতুল মুররা দিয়ে তারপর লকফ হয়ে লকফের বিস্তীর্ণ ভূমি অতিক্রম করলেন। এরপর হেজাযের বিস্তীর্ণ ভূমিতে পৌছে এবং সেখান থেকে মুজাহের মোড় দিয়ে শস্যশ্যামল ভূমিতে গমন করেন। তারপর যি কেশরার মাঠে প্রবেশ করে জুদাজাদের দিকে যান এবং সেখান থেকে আজার্দে পৌঁছেছেন। এরপর তাহানের বিস্তীর্ণ এলাকার পাশ দিয়ে যু যালাম অতিক্রম করেন। সেখানে থেকে আবাদি, তারপর ফাজা অভিমুখে রওয়ানা হন। তারপর অবতরণ করেন আজরে। পরে রকুবার ডান পাশ দিয়ে পানিয়াতুল আযেরে গেলেন এবং রিম উপত্যকায় অবতরণ করেন। সবশেষে কোবায় গিয়ে পৌছুলেন।

টিকাঃ
২০. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৫৩-৫৫৫ ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৮৬
২১. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৯১, ৪৯২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00