📄 বাইয়াতেবিপদজ্জনক অবস্থার বিবরণ
বাইয়াতের শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পর উপস্থিত লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইয়াতের ইচ্ছা করলেন। এ সময় দু'জন মুসলমান উঠে দাঁড়ালেন। এরা নবুয়তের একাদশ ও দ্বাদশ বছরের মাঝামাঝির হজ্জের মৌসুমে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তারা নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিত ভালোভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে চাইলেন। তারা চাচ্ছিলেন যে, বিষয়টির সব দিক যথাযথভাবে তুলে ধরে তারপর বাইয়াত করবেন। তারা এটাই জানতে এবং বুঝতে চাচ্ছিলেন যে, কওমের লোকেরা কতোটা আত্মত্যাগে প্রস্তুত রয়েছে।
ইবনে ইসহাক লিখেছেন, লোকেরা বাইয়াতের জন্যে সমবেত হওয়ার পর হযরত আব্বাস ইবনে ওবাদা ইবনে নায়লা বললেন, তোমরা নিশ্চয়ই জানো যে, তাঁর সাথে কিসের ব্যাপারে বাইয়াত করছো? সবাই বললেন, হাঁ জানি। হযরত আব্বাস বললেন, তোমরা কালো এবং লাল লোকদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁর হাতে বাইয়াত করছো। যদি তোমরা এরূপ মনে করে থাকো যে, তোমাদের ধন-সম্পদ ব্যয়িত হলে এবং তোমাদের নেতৃস্থানীয় লোকেরা নিহত হলে তোমরা তাকে পরিত্যাগ করবে তবে এখনই তাঁকে পরিত্যাগ করো। কেননা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর নিসঙ্গ অবস্থায় পরিত্যাগ করা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্যে অবমাননাকর হবে। যদি তোমরা মনে করো যে, ধন-সম্পদ কোরবানী দেয়ার পর নেতৃস্থানীয় লোকদের নিহত হওয়ার পরও তাঁর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি পালন করবে, যেদিকে তোমাদের ডাকা হচ্ছে সেদিকে যাবে, তবে তোমরা তাঁকে নিয়ে নাও। আল্লাহর শপথ, এতে দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে।
এসব কথা বলার পর সবাই সমস্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, ধন-সম্পদ কোরবানী করবো এবং নেতৃস্থানীয় লোকদের নিহত হওয়ার ঝুঁকি নেবো কিন্তু বিনিময়ে আমরা কী পাব? আমরা আমাদের অঙ্গীকার যথাযথ পালন করবো, কিন্তু আমাদের বিনিময় কী হবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জান্নাত। সবাই তখন হাত বাড়ালেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাত বাড়ালেন। বাইয়াত হয়ে গেলো।
হযরত জাবের (রা.) বলেন, সমবেত লোকের মধ্যে আসআদ ইবনে যোরারা ছিলেন সবচেয়ে কম বয়সের, আসআদ তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাত ধরে বললেন, মদীনাবাসীরা একটু থামো। আমরা তাঁর কাছে উটের বুক শুকানো দূরত্ব অতিক্রম করে এ কারনেই হাযির হয়েছি, যেহেতু তিনি আল্লাহর রসূল। আজ তাঁকে মক্কা থেকে নিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে সমগ্র আরবের সাথে শত্রুতা, তোমাদের বিশিষ্ট নেতাদের নিহত হওয়া ও তলোয়ারের ঝনঝনানি। কাজেই এসব কিছু যদি সহ্য করতে পারো তবেই তাঁকে নিয়ে যাও। তোমাদের একাজের বিনিময় আল্লাহর কাছে রয়েছে। আর যদি নিজেদের প্রাণ তোমাদের কাছে প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তাঁকে এখনই ছেড়ে দাও। এটা হবে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য ওযর।
টিকাঃ
৫. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৪২
৬. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৪৬
৭. মোসনাদে আহমদ