📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কঠিন থেকে কঠিনতর সে অবস্থা

📄 কঠিন থেকে কঠিনতর সে অবস্থা


কোরআনের যেসব আয়াত পর্যায়ক্রমে নাযিল হচ্ছিলো, তাতে ইসলামের বুনিয়াদী শিক্ষা ও আদর্শ আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হচ্ছিলো। কোরআনের সেসব আয়াতে মানব জাতির সামনে সবচেয়ে সম্মানজনক ও বৈশিষ্টমন্ডিত ইসলামী সমাজের ঈমানের সজীবতা এবং দৃঢ়তাকে আরো শক্তিমান করে তোলা হচ্ছিলো। আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করছিলেন এবং হেকমত বা কৌশল মুসলমানদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা কি মনে করো যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে যদিও এখনো তোমাদের কাছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা আসেনি এবং তারা ভীত ও কম্পিত হয়েছিলো। এমনকি রসূল ও তাঁর সাথে ঈমান আনয়নকারীরা বলে উঠেছিলো, আল্লাহর সাহায্য কবে আসবে? হাঁ আল্লাহর সাহায্য কাছেই।' (২১৪, ২) আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, 'আলিফ লাম মীম। মানুষ কি মনে করে, আমরা ঈমান এনেছি, একথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে অব্যাহতি দেয়া হবে? আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম। আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী।' (১-৩, ২৯) পাশাপাশি এমন সব আয়াত নাযিল হচ্ছিলো যেসব আয়াতে কাফের মোশরেকদের বিভিন্ন প্রশ্নের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হচ্ছিলো। তাদের কোন অজুহাতই ধোপে টেকার মতো ছিলো না।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কঠোর ধৈর্য

📄 কঠোর ধৈর্য


এসব কথা ছাড়াও মুসলমানরা অত্যাচারিত হওয়ার কেবল শুরু থেকেই নয়, বরং তার আগে থেকেই এটা জানতো যে, ইসলাম গ্রহণের অর্থ এই নয় যে, চিরস্থায়ীভাবে দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হবে। বরং ইসলামের দাওয়াতের মূল কথাই ছিলো জাহেলী যুগের অবসান, সকল প্রকার অত্যাচার ও নির্যাতন নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার মূলোৎপাটন। ইসলামের দাওয়াতের একটা লক্ষ্য এটাও ছিলো যে, মুসলমানরা পৃথিবীতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করবে এবং রাজনৈতিকভাবে এমন বিজয় অর্জন করবে, যাতে সকল মানুষকে আল্লাহর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করা যায়। মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দাসত্বে প্রবেশ করানো যায়।
কোরআনে করীমের এসব সুসংবাদ কখনো ইশারা এবং কখনো খোলাখুলিভাবে নাযিল হচ্ছিলো। একদিকে অবস্থা এমন ছিলো যে, প্রশস্ত হওয়া সত্তেও পৃথিবী মুসলমানদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছিলো, তাদের টিকে থাকাই ছিলো কঠিন। তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করতে একদল লোক ছিলো সদা সক্রিয়। অন্যদিকে মুসলমানদের শক্তি সাহস ও মনোবল বাড়াতে এমন সব আয়াত নাযিল হচ্ছিলো যাতে পূর্বকালের ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ের নবীদের অবিশ্বাস করা হয়েছে এবং তাদের ওপরও অত্যাচার নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেসব আয়াতে যে চিত্র অঙ্কন করা হচ্ছিলো তার সঙ্গে মক্কার মুসলমান ও কাফেরদের অবস্থার হুবহু সাদৃশ্য ছিলো। পরিশেষে একথা উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইতিপূর্বে অবিশ্বাসীরা কিভাবে ধ্বংস এবং আল্লাহর পুণ্যশীল বান্দাদের তাঁর যমীনের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে। পরিণামে মক্কার অবিশ্বাসীরাই ব্যর্থ ও পরাজিত ও মুসলমান এবং ইসলামের দাওয়াতের সাফল্যই অর্জিত হবে। সেই সময়ে এমন সব আয়াতও নাযিল হয়েছে, যেসব আয়াতে ঈমানদারদের বিজয়ের সুসংবাদ স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন, 'আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এ বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে এবং আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী। অতএব কিছুকালের জন্যে তুমি ওদেরকে উপেক্ষা কর। তুমি ওদের পর্যবেক্ষণ কর, শীঘ্রই ওরা প্রত্যক্ষ করবে।'
ওরা কি আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়? তাদের আঙ্গিনায় যখন শান্তি নেমে আসবে তখন সতর্কীকৃতদের প্রতিফল ভয়াবহ ও জঘন্য হবে। (১৭১, ১৭৭, ৩৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00