📄 আবু তালেব সকাশে কোরায়েশদের শেষ প্রতিনিধি দল
শা'বে আবু তালেব থেকে বেরোবার পর রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করলেন। বয়কট শেষ হলেও পৌত্তলিক দুর্বৃত্তরা ইসলাম প্রচারে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। এদিকে আবু তালেব তার ভাতিজাকে রক্ষা করার দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুজ। তাঁর বয়স আশি বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। ক্রমাগত কয়েক বছর যাবত দুঃখ-দুর্দশা বিপদ মুসিবতে তাঁর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলো। বিশেষ করে গিরিবর্তে অবরোধ তাঁর শক্তি সামর্থ নিশেষ করে দিয়েছিলো। সেখান থেকে বেরোবার কয়েকমাস পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পৌত্তলিকরা চিন্তা করলো যে, আবু তালেব দ্রুত অসুস্থ হচ্ছেন। যে কোন সময় তার জীবনের দিন শেষ হতে পারে। তার মৃত্যুর পর যদি আমরা তার ভাতিজার ওপর কোন বাড়াবাড়ি করি, তখন আমাদের দুর্নাম হবে। লোকে বলাবলি করবে যে, অভিভাবক নেই দেখে এখন সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে তারা আবু তালেবের জীবদ্দশাতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় উপনীত হতে চাচ্ছিলো। এক্ষেত্রে ছাড় দিতে তারা রাজি ছিলো না। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর একটি প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে হাযির হলো। এটা ছিলো তার কাছে কোরায়শদের শেষ প্রতিনিধি দল।
ইবনে ইসহাক প্রমুখ বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালেব অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কোরায়শরা আশঙ্কা করছিলো যে, হঠাৎ করেই আবু তালেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো যে, দেখো হামযা, ওমর মুসলমান হয়ে গেছে এবং মুহাম্মদের ধর্ম কোরায়শদের সব গোত্রে বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই, চলো, আবু তালেবের কাছে যাই। তিনি যেন তার ভাতিজাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখেন। এতে আমরা তার ব্যাপারে একটা চুক্তিতে উপনীত হতে পারব। আমরা আশঙ্কা করছি যে, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন বাড়াবাড়ি করলে সাধারণ লোকেরা আমাদের সমালোচনা করবে। তারা বলাবলি করবে আবু তালেব বেঁচে থাকতে কোন কিছু করার সাহস ছিলো না, এখন সুযোগ পেয়েছে।
মোটকথা কোরায়শ প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে গিয়ে আলোচনা করলো। কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এরা হলো আবু জেহেল ইবনে হেশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এবং অন্যান্য। সংখ্যায় এরা ছিলো পঁচিশ জন। তারা বললো, হে আবু তালেব, আমাদের কাছে আপনার যে মর্যাদা রয়েছে, সেটা আপনার অজানা নয়। বর্তমানে আপনি যে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, সেটাও আপনি জানেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার জীবনের দিন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনার ভাতিজার সাথে আমাদের বিরোধ আপনার অজানা নয়। আমরা চাই, আপনি তাকে ডেকে তার সাথে আমাদের একটা সমঝোতার ব্যবস্থা করুন। আমরা তার সাথে কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে এবং তাঁকেও কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ করতে চাই। আমরা তাকে তার দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেবো, তিনিও যেন আমাদেরকে আমাদের দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সব কথা শোনার পর আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভাতিজা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকে আনালেন। তিনি আসার পর বললেন, দেখো ভাতিজা, ওরা তোমার কওমের সম্মানিত লোক। তোমার জন্যেই ওরা একত্রিত হয়েছে। তোমার কাছ থেকে ওরা কিছু অঙ্গীকার নিতে চায়। এরপর আবু তালেব ওদের উত্থাপিত প্রস্তাব পেশ করলেন যে, ওরা চায়, তুমি তাদের ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ওরাও তোমার ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।
একথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরায়শ প্রতিনিধিদলকে বললেন, আপনারা বলুন, আমি যদি এমন কোন কথা পেশ করি, যে কথা গ্রহণ করলে আপনারা আরবের বাদশাহ হবেন এবং অন্যরাও আপনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন আপনারা কি করবেন? অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি আবু তালেবকে সম্বোধন করে বললেন, আমি তাদের কাছে এমন একটি কথার স্বীকারোক্তি চাই যদি সেই স্বীকারোক্তি করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অধীনস্থ হবে এবং অন্যরাও তাদের জিযিয়া দেবে। বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, চাচা আপনি ওদের একটা বিষয়ের প্রতি ডাকুন, এতে ওদের ভালো হবে। আবু তালেব জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের তুমি কোন বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি ওদের এমন একটা বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাই, যদি ওরা সেটা গ্রহণ করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অনুগত হয়ে যাবে এবং অনারবের ওপরও তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আপনারা শুধু একটি কথা মেনে নিন। এর ফলে আপনারা আরবের বাদশাহ হয়ে যাবেন এবং অনারব আপনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
মোটকথা এই প্রস্তাব শোনার পর কোরায়শ প্রতিনিধিদল থমকে গেলো। তারা অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো যে, মাত্র একটি কথা মেনে নিলে এত বড় লাভ যদি হয়, তবে সেটা কিভাবে উপেক্ষা করা যায়? আবু জেহেল বললো, বলো সেই কথা। তোমার পিতার শপথ, এ ধরনের কথা একটি কেন দশটি বললেও আমরা মানতে প্রস্তুত রয়েছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনারা বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, অন্য সকলের আনুগত্য উপাসনা পরিত্যাগ করুন। একথা শুনে কোরায়শরা হাতে তালি দিয়ে বললো, মোহাম্মদ, আমরা এক খোদা মানব? আসলেই তোমার ব্যাপার স্যাপার বড়ো অদ্ভুত!
এরপর তারা একে অন্যকে বললো, খোদার কসম, এই লোক তোমাদের কোন কথাই মানতে রাযি নয়। কাজেই এসো আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের ধর্মবিশ্বাসের ওপর অটল থাকি। এরপর আল্লাহ্ ওর এবং আমাদের মধ্যে একটা ফয়সালা করে দেবেন। একথা বলে তারা উঠে চলে গেলো। এ ঘটনার পর ওদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের। তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। কিন্তু কাফেররা ঔদ্ধত্য এবং বিরোধিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমি কতো জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন ওরা আর্ত চিৎকার করেছিলো। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিলো না। এরা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের কাছে এদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী আসলো এবং কাফেররা বললো, এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটাতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! ওদের প্রধানেরা সরে পড়ে এই বলে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। নিশ্চয়ই এটা একটি মনগড়া উক্তি মাত্র।'।
শা'বে আবু তালেব থেকে বেরোবার পর রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করলেন। বয়কট শেষ হলেও পৌত্তলিক দুর্বৃত্তরা ইসলাম প্রচারে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। এদিকে আবু তালেব তার ভাতিজাকে রক্ষা করার দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুজ। তাঁর বয়স আশি বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। ক্রমাগত কয়েক বছর যাবত দুঃখ-দুর্দশা বিপদ মুসিবতে তাঁর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলো। বিশেষ করে গিরিবর্তে অবরোধ তাঁর শক্তি সামর্থ নিশেষ করে দিয়েছিলো। সেখান থেকে বেরোবার কয়েকমাস পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পৌত্তলিকরা চিন্তা করলো যে, আবু তালেব দ্রুত অসুস্থ হচ্ছেন। যে কোন সময় তার জীবনের দিন শেষ হতে পারে। তার মৃত্যুর পর যদি আমরা তার ভাতিজার ওপর কোন বাড়াবাড়ি করি, তখন আমাদের দুর্নাম হবে। লোকে বলাবলি করবে যে, অভিভাবক নেই দেখে এখন সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে তারা আবু তালেবের জীবদ্দশাতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় উপনীত হতে চাচ্ছিলো। এক্ষেত্রে ছাড় দিতে তারা রাজি ছিলো না। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর একটি প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে হাযির হলো। এটা ছিলো তার কাছে কোরায়শদের শেষ প্রতিনিধি দল।
ইবনে ইসহাক প্রমুখ বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালেব অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কোরায়শরা আশঙ্কা করছিলো যে, হঠাৎ করেই আবু তালেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো যে, দেখো হামযা, ওমর মুসলমান হয়ে গেছে এবং মুহাম্মদের ধর্ম কোরায়শদের সব গোত্রে বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই, চলো, আবু তালেবের কাছে যাই। তিনি যেন তার ভাতিজাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখেন। এতে আমরা তার ব্যাপারে একটা চুক্তিতে উপনীত হতে পারব। আমরা আশঙ্কা করছি যে, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন বাড়াবাড়ি করলে সাধারণ লোকেরা আমাদের সমালোচনা করবে। তারা বলাবলি করবে আবু তালেব বেঁচে থাকতে কোন কিছু করার সাহস ছিলো না, এখন সুযোগ পেয়েছে।
মোটকথা কোরায়শ প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে গিয়ে আলোচনা করলো। কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এরা হলো আবু জেহেল ইবনে হেশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এবং অন্যান্য। সংখ্যায় এরা ছিলো পঁচিশ জন। তারা বললো, হে আবু তালেব, আমাদের কাছে আপনার যে মর্যাদা রয়েছে, সেটা আপনার অজানা নয়। বর্তমানে আপনি যে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, সেটাও আপনি জানেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার জীবনের দিন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনার ভাতিজার সাথে আমাদের বিরোধ আপনার অজানা নয়। আমরা চাই, আপনি তাকে ডেকে তার সাথে আমাদের একটা সমঝোতার ব্যবস্থা করুন। আমরা তার সাথে কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে এবং তাঁকেও কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ করতে চাই। আমরা তাকে তার দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেবো, তিনিও যেন আমাদেরকে আমাদের দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সব কথা শোনার পর আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভাতিজা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকে আনালেন। তিনি আসার পর বললেন, দেখো ভাতিজা, ওরা তোমার কওমের সম্মানিত লোক। তোমার জন্যেই ওরা একত্রিত হয়েছে। তোমার কাছ থেকে ওরা কিছু অঙ্গীকার নিতে চায়। এরপর আবু তালেব ওদের উত্থাপিত প্রস্তাব পেশ করলেন যে, ওরা চায়, তুমি তাদের ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ওরাও তোমার ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।
একথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরায়শ প্রতিনিধিদলকে বললেন, আপনারা বলুন, আমি যদি এমন কোন কথা পেশ করি, যে কথা গ্রহণ করলে আপনারা আরবের বাদশাহ হবেন এবং অন্যরাও আপনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন আপনারা কি করবেন? অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি আবু তালেবকে সম্বোধন করে বললেন, আমি তাদের কাছে এমন একটি কথার স্বীকারোক্তি চাই যদি সেই স্বীকারোক্তি করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অধীনস্থ হবে এবং অন্যরাও তাদের জিযিয়া দেবে। বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, চাচা আপনি ওদের একটা বিষয়ের প্রতি ডাকুন, এতে ওদের ভালো হবে। আবু তালেব জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের তুমি কোন বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি ওদের এমন একটা বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাই, যদি ওরা সেটা গ্রহণ করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অনুগত হয়ে যাবে এবং অনারবের ওপরও তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আপনারা শুধু একটি কথা মেনে নিন। এর ফলে আপনারা আরবের বাদশাহ হয়ে যাবেন এবং অনারব আপনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
মোটকথা এই প্রস্তাব শোনার পর কোরায়শ প্রতিনিধিদল থমকে গেলো। তারা অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো যে, মাত্র একটি কথা মেনে নিলে এত বড় লাভ যদি হয়, তবে সেটা কিভাবে উপেক্ষা করা যায়? আবু জেহেল বললো, বলো সেই কথা। তোমার পিতার শপথ, এ ধরনের কথা একটি কেন দশটি বললেও আমরা মানতে প্রস্তুত রয়েছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনারা বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, অন্য সকলের আনুগত্য উপাসনা পরিত্যাগ করুন। একথা শুনে কোরায়শরা হাতে তালি দিয়ে বললো, মোহাম্মদ, আমরা এক খোদা মানব? আসলেই তোমার ব্যাপার স্যাপার বড়ো অদ্ভুত!
এরপর তারা একে অন্যকে বললো, খোদার কসম, এই লোক তোমাদের কোন কথাই মানতে রাযি নয়। কাজেই এসো আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের ধর্মবিশ্বাসের ওপর অটল থাকি। এরপর আল্লাহ্ ওর এবং আমাদের মধ্যে একটা ফয়সালা করে দেবেন। একথা বলে তারা উঠে চলে গেলো। এ ঘটনার পর ওদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের। তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। কিন্তু কাফেররা ঔদ্ধত্য এবং বিরোধিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমি কতো জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন ওরা আর্ত চিৎকার করেছিলো। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিলো না। এরা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের কাছে এদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী আসলো এবং কাফেররা বললো, এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটাতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! ওদের প্রধানেরা সরে পড়ে এই বলে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। নিশ্চয়ই এটা একটি মনগড়া উক্তি মাত্র।'।
📄 দুঃখ বেদনার বছর
আবু তালেবের ইন্তেকাল
আবু তালেবের অসুখ বেড়ে গেলো এবং এক সময় তিনি ইন্তেকাল করলেন। আবু তালেব ঘাঁটিতে অবরোধ থেকে মুক্ত হওয়ার ছয়মাস পর নবুয়তের দশম বর্ষে রজব মাসে তাঁর মৃত্যু হয়েছিলো। অন্য এক বর্ণনায় একথা উল্লেখ রয়েছে যে, বিবি খাদিজার ইন্তেকালের তিনদিন আগে রমযান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
সহীহ বোখারীতে হযরত মোসায়েব থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু তালেবের ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে যান। সেখানে আবু জেহেলও উপস্থিত ছিলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাচাজান, আপনি শুধু লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলুন। এই স্বীকারোক্তি করলেই আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্যে সুপরিশ করতে পারব। আবু জেহেল এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া বললো, আবু তালেব, আপনি কি আবদুল মোত্তালেবের মিল্লাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? এরপর এরা দু'জন আবু তালেবের সাথে কথা বলতে লাগলো। আবু তালেব শেষ কথা বলেছিলেন যে, আবদুল মোত্তালেবের মিল্লাতের উপর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি আপনার জন্যে মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকব। এরপর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'আত্মীয়স্বজন হলেও মোশরেকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মোমেনদের জন্যে সঙ্গত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ওরা জাহান্নামী।' (১১৩, ৯)
আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াতও নাযিল করেন, 'তুমি যাকে ভালোবাসো, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভালো জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।' (৫৬, ২৮)
আবু তালেব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিরূপ সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকৃতপক্ষে মক্কায় কোরায়শ নেতা এবং নির্বোধ লোকদের ইসলামের ওপর হামলার মুখে তিনি ছিলেন একটি দুর্গের মতো। কিন্তু তিনি নিজে তাঁর পূর্ব পুরুষদের ধর্ম বিশ্বাসের ওপর অটল অবিচল ছিলেন। এ কারণে বোখারীতে হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মোত্তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি আপনার চাচার কি কাজে আসলেন? তিনি তো আপনাকে হেফাযত করতেন, আপনার জন্যে অন্যদের সাথে ঝগড়া বিবাদ, শত্রুতার ঝুঁকি নিতেন। রসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি জাহান্নামের একটি সাধারণ জায়গায় রয়েছেন। যদি আমি না থাকতাম, তবে তিনি জাহান্নামের সবচেয়ে গভীর গহ্বরে থাকতেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একবার তাঁর চাচার প্রসঙ্গ আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত হয়তো তার কিছু উপকারে আসবে। তাকে জাহান্নামের একটি উঁচু জায়গায় রাখা হবে যা শুধু তার উভয় পায়ের হাঁটু পর্যন্ত পৌছুবে।
📄 আবু তালেবের ইন্তেকাল
আবু তালেবের অসুখ বেড়ে গেলো এবং এক সময় তিনি ইন্তেকাল করলেন। আবু তালেব ঘাঁটিতে অবরোধ থেকে মুক্ত হওয়ার ছয়মাস পর নবুয়তের দশম বর্ষে রজব মাসে তাঁর মৃত্যু হয়েছিলো। অন্য এক বর্ণনায় একথা উল্লেখ রয়েছে যে, বিবি খাদিজার ইন্তেকালের তিনদিন আগে রমযান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
সহীহ বোখারীতে হযরত মোসায়েব থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু তালেবের ইন্তেকালের সময় ঘনিয়ে এলে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে যান। সেখানে আবু জেহেলও উপস্থিত ছিলো। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, চাচাজান, আপনি শুধু লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলুন। এই স্বীকারোক্তি করলেই আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্যে সুপরিশ করতে পারব। আবু জেহেল এবং আবদুল্লাহ ইবনে উমাইয়া বললো, আবু তালেব, আপনি কি আবদুল মোত্তালেবের মিল্লাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? এরপর এরা দু'জন আবু তালেবের সাথে কথা বলতে লাগলো। আবু তালেব শেষ কথা বলেছিলেন যে, আবদুল মোত্তালেবের মিল্লাতের উপর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমাকে নিষেধ না করা পর্যন্ত আমি আপনার জন্যে মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকব। এরপর আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'আত্মীয়স্বজন হলেও মোশরেকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মোমেনদের জন্যে সঙ্গত নয়, যখন এটা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ওরা জাহান্নামী।' (১১৩, ৯)
আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াতও নাযিল করেন, 'তুমি যাকে ভালোবাসো, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎপথে আনতে পারবে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন এবং তিনিই ভালো জানেন সৎপথ অনুসারীদেরকে।' (৫৬, ২৮)
আবু তালেব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিরূপ সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকৃতপক্ষে মক্কায় কোরায়শ নেতা এবং নির্বোধ লোকদের ইসলামের ওপর হামলার মুখে তিনি ছিলেন একটি দুর্গের মতো। কিন্তু তিনি নিজে তাঁর পূর্ব পুরুষদের ধর্ম বিশ্বাসের ওপর অটল অবিচল ছিলেন। এ কারণে বোখারীতে হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মোত্তালেব (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি আপনার চাচার কি কাজে আসলেন? তিনি তো আপনাকে হেফাযত করতেন, আপনার জন্যে অন্যদের সাথে ঝগড়া বিবাদ, শত্রুতার ঝুঁকি নিতেন। রসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তিনি জাহান্নামের একটি সাধারণ জায়গায় রয়েছেন। যদি আমি না থাকতাম, তবে তিনি জাহান্নামের সবচেয়ে গভীর গহ্বরে থাকতেন।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে একবার তাঁর চাচার প্রসঙ্গ আলোচনা করা হলে তিনি বললেন, কেয়ামতের দিন আমার শাফায়াত হয়তো তার কিছু উপকারে আসবে। তাকে জাহান্নামের একটি উঁচু জায়গায় রাখা হবে যা শুধু তার উভয় পায়ের হাঁটু পর্যন্ত পৌছুবে।
টিকাঃ
২. সহীহ বোখারী, আবু তালেবের কিসসা অধ্যায় ১ম খন্ড, পৃ. ৫৪৮
৩. সহীহ বোখারী, আবু তালেবের কিসসা অধ্যায়, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৪৮
৪. সহীহ বোখারী আবু তালেবের কিসসা অধ্যায়, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৪৮
📄 হ হযরত খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল
জনাব আবু তালেবের ইন্তেকালের দু' মাস অথবা শুধু তিনদিন পর উম্মুল মোমেনীন খাদিজাতুল কোবরা (রা.) ইহলোক ত্যাগ করেন। নবুয়তের দশম বর্ষের রমযান মাসে তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিলো সেই সময় তাঁর বয়স ছিলো ৬৫ বছর। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স সে সময় পঞ্চাশে পড়েছিলো।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আল্লাহর এক বিশিষ্ট নেয়ামত। সিকি শতাব্দী যাবত তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনসঙ্গিনী ছিলেন। এ সময় দুঃখে কষ্ট ও বিপদের সময় প্রিয় স্বামীর জন্যে তাঁর প্রাণ কেঁদে উঠতো, বিপদের সময় তাঁকে তিনি ভরসা দিতেন, তাবলীগে দ্বীনের ক্ষেত্রে তার সঙ্গী থাকতেন। নিজের জানমাল দিয়েও তাঁর দুঃখ-কষ্ট দূর করতেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে সময় মানুষ আমার সাথে কুফুরী করছিলো সে সময় খাদিজা আমার ওপর ঈমান এনেছিলেন, যে সময় লোকেরা আমাকে অবিশ্বাস করেছিলো সে সময় খাদিজা আমাকে সত্যবাদী বলে গ্রহণ করেছেন, যে সময় লোকেরা আমাকে বঞ্চিত করেছিলো, সে সময় তিনি আমাকে নিজের ধন-সম্পদের অংশীদার করেছেন। তাঁর গর্ভ থেকে আল্লাহ আমাকে সন্তান দিয়েছেন, অন্য স্ত্রীদের গর্ভ থেকে আমাকে কোন সন্তান দেয়া হয়নি।'
সহীহ বোখারীতে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত জিববরাঈল (আ.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল, দেখুন, খাদিজা আসছেন। তাঁর কাছে একটি বরতন রয়েছে। সেই বরতনে আগুন, খাবার অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি আপনার কাছে এলে আপনি তাঁকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন এবং জান্নাতে একটি মতিমহলের সুসংবাদ দেবেন। সেই মহলে কোন শোরগোল থাকবে না এবং ক্লান্তি ও অবসন্নতাও কাউকে গ্রাস করবে না।