📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 সর্বাত্মক বয়কট

📄 সর্বাত্মক বয়কট


চার সপ্তাহ বা তার চেয়ে কম সময়ের ভেতর পৌত্তলিকরা চারটি বড় ধরনের ধাক্কা খেলো। হযরত হামযা এবং হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। সর্বোপরি বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেব একত্রিত হয়ে আল্লাহর রসূলকে রক্ষার ব্যাপারে একমত হলো। পৌত্তলিকরা এতে অস্থির হয়ে উঠলো। অস্থির হবে না কেন, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলো যে, এখন যদি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে রক্ষা করতে যে রক্তপাত হবে, এতে মক্কার প্রান্তর লাল হয়ে যাবে। তাদের নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা ছিলো। এ কারণে আল্লাহর রসূলকে হত্যা করার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করে পৌত্তলিকরা অত্যাচার নির্যাতনের একটি নতুন পথ আবিষ্কার করলো। এটি ছিলো ইতিপূর্বে গৃহীত সব পদক্ষেপের চেয়ে আরো বেশী মারাত্মক।
ইবনে কাইয়েম লিখেছেন যে, বলা হয়ে থাকে, এই দলিল মনসুর ইবনে একরামা ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। কারো কারো মতে নযর ইবনে হারেস লিখেছিলো। কিন্তু সঠিক কথা হচ্ছে, এই দলিল বোগাইজ ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্যে বদদোয়া করায় তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিলো। লেখার পর দলিল কাবাঘরে টাঙিয়ে দেয়া হলো। তাতে আবু লাহাব ব্যতীত বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের মুসলিম অমুসলিম, নারী-পুরুষ শিশু সবাই শা'বে আবু তালেব নামক 'স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। এটা ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবী হিসাবে আবির্ভাবের সপ্তম বছরের ঘটনা।

টিকাঃ
১. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৪৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 শা'বে আবু তালেবে তিন বছর

📄 শা'বে আবু তালেবে তিন বছর


এ বয়কটে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলো। খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলো। যা-ও বা মক্কায় আসতো পৌত্তলিকরা তাড়াতাড়ি সেগুলো কিনে নিতো। ফলে অবরুদ্ধ মুসলিম অমুসলিম কারো কাছে কোন কিছু স্বাভাবিক উপায়ে পৌছুতো না। তারা গাছের পাতা এবং চামড়া খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। ক্ষুধার কষ্ট এতো মারাত্মক ছিলো যে, ক্ষুধার্ত নারী ও শিশুর কাতর কান্না শাবে আবু তালেব বা আবু তালেব ঘাঁটির বাইরে থেকে শোনা যেতো। তাদের কাছে কোন খাদ্যসামগ্রী পৌছার সম্ভাবনা ছিলো ক্ষীণ। যা কিছু পৌছুতো সেসব গোপনীয়ভাবেই পৌঁছাতো। নিষিদ্ধ মাসসমূহ ছাড়া প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্যে তারা ঘাঁটির বাইরে বেরও হতেন না। বাইরে থেকে মক্কায় আসা জিনিস কেনার চেষ্টা করেও অনেক সময় তারা সক্ষম হতেন না। কারণ পৌত্তলিকরা সেসব জিনিসের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতো।
হাকিম ইবনে হাজাম ছিলেন হযরত খাদিজা (রা.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র। মাঝে মাঝে তিনি ফুফুর জন্যে গম পাঠাতেন। একবার গম পাঠানোর উদ্যোগ নিতেই আবু জেহেল বাধা দিলো। কিন্তু আবুল বাখতারি হাকিম ইবনে হাজামের পক্ষাবলম্বন করে গম পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিলেন।
এদিকে আবু তালেব সব সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। রাতে সবাই শুয়ে পড়ার পর তিনি ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলতেন, যাও, তুমি এবার তোমার বিছানায় শুয়ে পড়ো। তিনি একথা এ জন্যেই বলতেন যাতে, কোন গোপন আততায়ী থাকলে বুঝতে পারে যে, তিনি কোথায় শয়ন করছেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভ্রাতুষ্পত্রের শোয়ার স্থান বদলে দিতেন। ভ্রাতুষ্পত্রের বিছানায় নিজের পুত্র ভাই বা অন্য কাউকে শয়ন করাতেন। রাত্রিকালে প্রিয় ভ্রাতুষ্পত্র আল্লাহর রসূল মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটাতেন।
এ ধরনের কঠিন অবরোধ সত্তেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্যান্য মুসলমান হজ্জের সময় বাইরে বের হতেন এবং হজ্জের উদ্দেশ্যে আসা লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এ সময় আবু লাহাব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলমানদের সাথে যেরূপ আচরণ করতো, ইতিপূর্বে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

টিকাঃ
২. আবু তালেবের মৃত্যু হয়েছিল দলিল ছিন্ন করার ঘটনার ছয়মাস পরে। সঠিক তথ্য হচ্ছে যে, তাঁর মৃত্যু রজব মাসে হয়েছিল। যারা বলে যে, তার মৃত্যু রমযান মাসে হয়েছিল, তারা এও বলে যে, তার মৃত্যু দলিল ছিন্ন করার ঘটনার আটমাস কয়েকদিন পরে হয়েছিল। উভয় অবস্থায় এটা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল মহররম মাসে।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 দলিল ছিন্ন করার ঘটনা

📄 দলিল ছিন্ন করার ঘটনা


এ অবস্থায় পুরো তিন বছর কেটে যায়। এরপর নবুয়তের দশম বর্ষে মহররম মাসে দলিল ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অত্যাচার নির্যাতনের অবসান ঘটে। কোরায়শদের মধ্যেকার কিছু লোক এ ব্যবস্থার বিরোধী থাকায় তারা অবরোধ বাতিল করারও উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এই অমানবিক অবরোধ সম্পর্কিত প্রণীত দলিল বিনষ্ট করার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বনু আমের ইবনে লুয়াই গোত্রের হেশাম ইবনে আমের নামক এক ব্যক্তি। হেশাম রাত্রিকালে চুপিসারে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে আবু তালেব ঘাঁটির অসহায় লোকদের সাহায্য করতেন। প্রথমে হেশাম যুহাইর ইবনে আবু উমাইয়া মাখযুমির কাছে যান। যুহাইয়ের মা আতেকা ছিলেন আবদুল মোত্তালেবের কন্যা। অর্থাৎ আবু তালেবের বোন। হেশাম তাকে বললেন, যুহাইর তুমি কি চাও যে, তোমরা মজা করে পানাহার করবে অথচ তোমার মামা এবং অন্যরা ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? তারা কি অবস্থায় রয়েছে, সেটা কি তুমি জানো না? যুহাইর বললেন, আফসোস, আমি একা কি করতে পারি? যদি আমার সাথে আরো কেউ এগিয়ে আসে তবে আমি সে দলিল বিনষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি। হেশাম বললেন, অন্য একজন রয়েছেন। যুহাইর জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কে? হেশাম বললেন, আমি। যুহাইর বললেন, আচ্ছা তবে তৃতীয় কাউকে খুঁজে বের করো। একথা শোনার পর হেশাম মোয়াম ইবনে আদীর কাছে গেলেন এবং বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তার সাহায্য চাইলেন। ওরা যে তার নিকটাত্মীয় সেকথাও বললেন। মোআম বললেন, আমি একা কি করতে পারি? 'হেশাম বললেন, আরো একজন আছেন। মোআম জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কে? হেশাম বললেন, আমি। মোয়াম বললেন, আচ্ছা, তৃতীয় একজন লোক খুঁজে নাও। হেশাম বললেল, সেটাও করেছি। মোয়াম বললেন, তিনি কে? হেশাম বললেন, তিনি হচ্ছেন যুহাইর ইবনে উমাইয়া। মোয়াম বললেন আচ্ছা চতুর্থ একজন তালাশ করো। এরপর হেশাম আবুল বাখতারির কাছে গেলেন এবং তার সাথেও মোতয়ামের কাছে যে ভাবে বলেছেন, সেভাবে কথা বললেন। আবুল বাখতারি জানতে চাইলেন, এ ব্যাপারে সমর্থক কেউ আছে কিনা। হেশাম বললেন, হাঁ আছে। এরপর তিনি যুহাইর ইবনে আবু উমাইয়া মোয়াম ইবনে আদী এবং নিজের কথা জানালেন। আবুল বাখতারি বললেন, আচ্ছা তবে বিশ্বস্ত একজন লোক খোঁজ করো। এরপর হেশাম জাময়া ইবনে আছোয়াদ ইবনে মোত্তালেব ইবনে আছাদের কাছে গেলেন। তার সাথেও বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের দুরবস্থার বিষয়ে আলোচনা করে সাহায্য চাইলেন। তিনি জানতে চাইলেন অন্য কেউ সহায়তাকারী আছে কিনা। হেশাম বললেন, হাঁ, আছে। এরপর সকলের নাম জানালেন। পরে উল্লিখিত সবাই হাজুন নামক জায়গায় একত্রিত হয়ে দলিল বিনষ্ট করার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন। যুহাইর বললেন, প্রথমে আমি কথা তুলবো।

সকাল বেলা নিয়মানুযায়ী সবাই মজলিসে একত্রিত হলো। যুহাইর দামী পোশাক পরিধান করে সেজে গুজে উপস্থিত হলো। প্রথমে কাবাঘর সাতবার তওয়াফ করে সবাইকে সম্বোধন করে বললো, মক্কাবাসীরা শোনো, আমরা পানাহার করবো, পোশাক পরিধান করবো, আর বনু হাশেম ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের কাছে কিছু বিক্রি করা হচ্ছে না, তাদের কাছ থেকে কেনাও হচ্ছে না। খোদার কসম, এ ধরনের অমানবিক দলিল বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আমি নীরব হয়ে থাকতে পারি না। আমি চাই এ দলিল বিনষ্ট করে ফেলা হোক।

আবু জেহেল এ কথা শুনে বললো, তুমি ভুল বলছো। খোদার কসম, এ দলিল ছিন্ন করা যাবে না।

জাময়া ইবনে আসোয়াদ বললেন, খোদার কসম, তুমি ভুল বলছো। এ দলিল যখন লেখা হয়েছিলো, তখনো আমি রাযি ছিলাম না। আমি এটা মানতে প্রস্তুত নাই। এরপর মোয়াম ইবনে আদী বললেন, তোমরা দু'জনে ঠিকই বলছো। আমরা এ দলিলে যা কিছু লেখা রয়েছে, তা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।

হেশাম ইবনে আমরও এ ধরনের কথা বললেন।

এ অবস্থা দেখে আবু জেহেল বললো, হুঁহ বুঝেছি, রাত্রিকালেই এ ধরনের ঐকমত্য হয়েছে। এ পরামর্শ এখানে নয়, বরং অন্য কোথাও করা হয়েছে।

সে সময় আবু তালেবও অদূরে উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, দলিল বিনষ্ট করতে আল্লাহ তায়ালা এক রকম পোকা পাঠিয়েছেন। তারা যুলুম অত্যাচারের বিবরণসমূহ কেটে ছারখার করে ফেলেছে, শুধু যেখানে যেখানে আল্লাহর নাম রয়েছে, সেসব অবশিষ্ট রয়েছে।

আবু তালেব কোরায়শদের বললেন, আমার ভাতিজা আমাকে আপনাদের কাছে এ কথা বলতে পাঠিয়েছেন যে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জানিয়েছেন যে, আপনাদের অংগীকার পত্রটি আল্লাহ তায়ালা এক রকম পোকা পাঠিয়ে নষ্ট করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার নামটুকু সেখানে অবশিষ্ট আছে। এ কথা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে আমি তার ও আপনাদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াব এবং আপনারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। আর, সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাহলে বয়কটের মাধ্যমে আমাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ করছেন, তা থেকে বিরত থাকবেন। এতে কোরায়শরা সম্মত হলো।

এ নিয়ে আবু জেহেল ও অন্যান্যদের মধ্যে তর্ক-বির্তক শেষ হলে মুতয়া'ম বিন আদী অংগীকারপত্র ছিঁড়তে গিয়ে দেখলেন যে, আল্লাহর নাম লেখা অংশ বাদে বাকি অংশ সত্যি সত্যি পোকা খেয়ে ফেলেছে। পরে অংগীকারপত্র ছিঁড়ে ফেলা হলে বয়কটের অবসান হলো এবং রসূলুল্লাহ (সঃ) ও অন্য সকলে শাবে আবু তালিব থেকে বেরিয়ে এলেন। কাফেররা এ বিস্ময়কর নিদর্শনে আশ্চর্য হলো, কিন্তু তাদের মনোভাবের কোন পরিবর্তন হলো না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যদি তারা কোন মোজেযা দেখে, তখন টালবাহানা করে এবং বলে, এ তো যাদু।

আরবের পৌত্তলিকরা নবুয়তের বিস্ময়কর এ নিদর্শন থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিল এবং নিজেদের কুফুরীর পথে আরো কয়েক কদম অগ্রসর হলো।

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 আবু তালেব সকাশে কোরায়েশদের শেষ প্রতিনিধি দল

📄 আবু তালেব সকাশে কোরায়েশদের শেষ প্রতিনিধি দল


শা'বে আবু তালেব থেকে বেরোবার পর রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করলেন। বয়কট শেষ হলেও পৌত্তলিক দুর্বৃত্তরা ইসলাম প্রচারে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। এদিকে আবু তালেব তার ভাতিজাকে রক্ষা করার দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুজ। তাঁর বয়স আশি বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। ক্রমাগত কয়েক বছর যাবত দুঃখ-দুর্দশা বিপদ মুসিবতে তাঁর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলো। বিশেষ করে গিরিবর্তে অবরোধ তাঁর শক্তি সামর্থ নিশেষ করে দিয়েছিলো। সেখান থেকে বেরোবার কয়েকমাস পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পৌত্তলিকরা চিন্তা করলো যে, আবু তালেব দ্রুত অসুস্থ হচ্ছেন। যে কোন সময় তার জীবনের দিন শেষ হতে পারে। তার মৃত্যুর পর যদি আমরা তার ভাতিজার ওপর কোন বাড়াবাড়ি করি, তখন আমাদের দুর্নাম হবে। লোকে বলাবলি করবে যে, অভিভাবক নেই দেখে এখন সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে তারা আবু তালেবের জীবদ্দশাতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় উপনীত হতে চাচ্ছিলো। এক্ষেত্রে ছাড় দিতে তারা রাজি ছিলো না। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর একটি প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে হাযির হলো। এটা ছিলো তার কাছে কোরায়শদের শেষ প্রতিনিধি দল।

ইবনে ইসহাক প্রমুখ বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালেব অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কোরায়শরা আশঙ্কা করছিলো যে, হঠাৎ করেই আবু তালেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো যে, দেখো হামযা, ওমর মুসলমান হয়ে গেছে এবং মুহাম্মদের ধর্ম কোরায়শদের সব গোত্রে বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই, চলো, আবু তালেবের কাছে যাই। তিনি যেন তার ভাতিজাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখেন। এতে আমরা তার ব্যাপারে একটা চুক্তিতে উপনীত হতে পারব। আমরা আশঙ্কা করছি যে, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন বাড়াবাড়ি করলে সাধারণ লোকেরা আমাদের সমালোচনা করবে। তারা বলাবলি করবে আবু তালেব বেঁচে থাকতে কোন কিছু করার সাহস ছিলো না, এখন সুযোগ পেয়েছে।

মোটকথা কোরায়শ প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে গিয়ে আলোচনা করলো। কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এরা হলো আবু জেহেল ইবনে হেশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এবং অন্যান্য। সংখ্যায় এরা ছিলো পঁচিশ জন। তারা বললো, হে আবু তালেব, আমাদের কাছে আপনার যে মর্যাদা রয়েছে, সেটা আপনার অজানা নয়। বর্তমানে আপনি যে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, সেটাও আপনি জানেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার জীবনের দিন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনার ভাতিজার সাথে আমাদের বিরোধ আপনার অজানা নয়। আমরা চাই, আপনি তাকে ডেকে তার সাথে আমাদের একটা সমঝোতার ব্যবস্থা করুন। আমরা তার সাথে কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে এবং তাঁকেও কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ করতে চাই। আমরা তাকে তার দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেবো, তিনিও যেন আমাদেরকে আমাদের দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেন।

এ সব কথা শোনার পর আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভাতিজা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকে আনালেন। তিনি আসার পর বললেন, দেখো ভাতিজা, ওরা তোমার কওমের সম্মানিত লোক। তোমার জন্যেই ওরা একত্রিত হয়েছে। তোমার কাছ থেকে ওরা কিছু অঙ্গীকার নিতে চায়। এরপর আবু তালেব ওদের উত্থাপিত প্রস্তাব পেশ করলেন যে, ওরা চায়, তুমি তাদের ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ওরাও তোমার ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।

একথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরায়শ প্রতিনিধিদলকে বললেন, আপনারা বলুন, আমি যদি এমন কোন কথা পেশ করি, যে কথা গ্রহণ করলে আপনারা আরবের বাদশাহ হবেন এবং অন্যরাও আপনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন আপনারা কি করবেন? অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি আবু তালেবকে সম্বোধন করে বললেন, আমি তাদের কাছে এমন একটি কথার স্বীকারোক্তি চাই যদি সেই স্বীকারোক্তি করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অধীনস্থ হবে এবং অন্যরাও তাদের জিযিয়া দেবে। বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, চাচা আপনি ওদের একটা বিষয়ের প্রতি ডাকুন, এতে ওদের ভালো হবে। আবু তালেব জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের তুমি কোন বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি ওদের এমন একটা বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাই, যদি ওরা সেটা গ্রহণ করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অনুগত হয়ে যাবে এবং অনারবের ওপরও তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আপনারা শুধু একটি কথা মেনে নিন। এর ফলে আপনারা আরবের বাদশাহ হয়ে যাবেন এবং অনারব আপনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

মোটকথা এই প্রস্তাব শোনার পর কোরায়শ প্রতিনিধিদল থমকে গেলো। তারা অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো যে, মাত্র একটি কথা মেনে নিলে এত বড় লাভ যদি হয়, তবে সেটা কিভাবে উপেক্ষা করা যায়? আবু জেহেল বললো, বলো সেই কথা। তোমার পিতার শপথ, এ ধরনের কথা একটি কেন দশটি বললেও আমরা মানতে প্রস্তুত রয়েছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনারা বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, অন্য সকলের আনুগত্য উপাসনা পরিত্যাগ করুন। একথা শুনে কোরায়শরা হাতে তালি দিয়ে বললো, মোহাম্মদ, আমরা এক খোদা মানব? আসলেই তোমার ব্যাপার স্যাপার বড়ো অদ্ভুত!

এরপর তারা একে অন্যকে বললো, খোদার কসম, এই লোক তোমাদের কোন কথাই মানতে রাযি নয়। কাজেই এসো আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের ধর্মবিশ্বাসের ওপর অটল থাকি। এরপর আল্লাহ্ ওর এবং আমাদের মধ্যে একটা ফয়সালা করে দেবেন। একথা বলে তারা উঠে চলে গেলো। এ ঘটনার পর ওদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের। তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। কিন্তু কাফেররা ঔদ্ধত্য এবং বিরোধিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমি কতো জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন ওরা আর্ত চিৎকার করেছিলো। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিলো না। এরা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের কাছে এদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী আসলো এবং কাফেররা বললো, এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটাতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! ওদের প্রধানেরা সরে পড়ে এই বলে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। নিশ্চয়ই এটা একটি মনগড়া উক্তি মাত্র।'।

শা'বে আবু তালেব থেকে বেরোবার পর রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করলেন। বয়কট শেষ হলেও পৌত্তলিক দুর্বৃত্তরা ইসলাম প্রচারে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছিলো। এদিকে আবু তালেব তার ভাতিজাকে রক্ষা করার দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন বয়সের ভারে ন্যুজ। তাঁর বয়স আশি বছর ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। ক্রমাগত কয়েক বছর যাবত দুঃখ-দুর্দশা বিপদ মুসিবতে তাঁর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলো। বিশেষ করে গিরিবর্তে অবরোধ তাঁর শক্তি সামর্থ নিশেষ করে দিয়েছিলো। সেখান থেকে বেরোবার কয়েকমাস পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় পৌত্তলিকরা চিন্তা করলো যে, আবু তালেব দ্রুত অসুস্থ হচ্ছেন। যে কোন সময় তার জীবনের দিন শেষ হতে পারে। তার মৃত্যুর পর যদি আমরা তার ভাতিজার ওপর কোন বাড়াবাড়ি করি, তখন আমাদের দুর্নাম হবে। লোকে বলাবলি করবে যে, অভিভাবক নেই দেখে এখন সুযোগ নিচ্ছে। এ কারণে তারা আবু তালেবের জীবদ্দশাতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে একটি ফয়সালায় উপনীত হতে চাচ্ছিলো। এক্ষেত্রে ছাড় দিতে তারা রাজি ছিলো না। নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার পর একটি প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে হাযির হলো। এটা ছিলো তার কাছে কোরায়শদের শেষ প্রতিনিধি দল।

ইবনে ইসহাক প্রমুখ বর্ণনা করেছেন যে, আবু তালেব অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কোরায়শরা আশঙ্কা করছিলো যে, হঠাৎ করেই আবু তালেব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবেন। তারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিলো যে, দেখো হামযা, ওমর মুসলমান হয়ে গেছে এবং মুহাম্মদের ধর্ম কোরায়শদের সব গোত্রে বিস্তার লাভ করেছে। কাজেই, চলো, আবু তালেবের কাছে যাই। তিনি যেন তার ভাতিজাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখেন। এতে আমরা তার ব্যাপারে একটা চুক্তিতে উপনীত হতে পারব। আমরা আশঙ্কা করছি যে, সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোন বাড়াবাড়ি করলে সাধারণ লোকেরা আমাদের সমালোচনা করবে। তারা বলাবলি করবে আবু তালেব বেঁচে থাকতে কোন কিছু করার সাহস ছিলো না, এখন সুযোগ পেয়েছে।

মোটকথা কোরায়শ প্রতিনিধিদল আবু তালেবের কাছে গিয়ে আলোচনা করলো। কোরায়শদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এরা হলো আবু জেহেল ইবনে হেশাম, উমাইয়া ইবনে খালফ, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এবং অন্যান্য। সংখ্যায় এরা ছিলো পঁচিশ জন। তারা বললো, হে আবু তালেব, আমাদের কাছে আপনার যে মর্যাদা রয়েছে, সেটা আপনার অজানা নয়। বর্তমানে আপনি যে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, সেটাও আপনি জানেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার জীবনের দিন দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনার ভাতিজার সাথে আমাদের বিরোধ আপনার অজানা নয়। আমরা চাই, আপনি তাকে ডেকে তার সাথে আমাদের একটা সমঝোতার ব্যবস্থা করুন। আমরা তার সাথে কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে এবং তাঁকেও কিছু অঙ্গীকারে আবদ্ধ করতে চাই। আমরা তাকে তার দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেবো, তিনিও যেন আমাদেরকে আমাদের দ্বীনের ওপর ছেড়ে দেন।

এ সব কথা শোনার পর আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভাতিজা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকে আনালেন। তিনি আসার পর বললেন, দেখো ভাতিজা, ওরা তোমার কওমের সম্মানিত লোক। তোমার জন্যেই ওরা একত্রিত হয়েছে। তোমার কাছ থেকে ওরা কিছু অঙ্গীকার নিতে চায়। এরপর আবু তালেব ওদের উত্থাপিত প্রস্তাব পেশ করলেন যে, ওরা চায়, তুমি তাদের ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং ওরাও তোমার ধর্মের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না।

একথা শুনে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোরায়শ প্রতিনিধিদলকে বললেন, আপনারা বলুন, আমি যদি এমন কোন কথা পেশ করি, যে কথা গ্রহণ করলে আপনারা আরবের বাদশাহ হবেন এবং অন্যরাও আপনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তখন আপনারা কি করবেন? অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি আবু তালেবকে সম্বোধন করে বললেন, আমি তাদের কাছে এমন একটি কথার স্বীকারোক্তি চাই যদি সেই স্বীকারোক্তি করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অধীনস্থ হবে এবং অন্যরাও তাদের জিযিয়া দেবে। বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, চাচা আপনি ওদের একটা বিষয়ের প্রতি ডাকুন, এতে ওদের ভালো হবে। আবু তালেব জিজ্ঞাসা করলেন, ওদের তুমি কোন বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি ওদের এমন একটা বিষয়ের প্রতি ডাকতে চাই, যদি ওরা সেটা গ্রহণ করে, তবে সমগ্র আরব তাদের অনুগত হয়ে যাবে এবং অনারবের ওপরও তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। ইবনে ইসহাকের একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আপনারা শুধু একটি কথা মেনে নিন। এর ফলে আপনারা আরবের বাদশাহ হয়ে যাবেন এবং অনারব আপনাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

মোটকথা এই প্রস্তাব শোনার পর কোরায়শ প্রতিনিধিদল থমকে গেলো। তারা অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো যে, মাত্র একটি কথা মেনে নিলে এত বড় লাভ যদি হয়, তবে সেটা কিভাবে উপেক্ষা করা যায়? আবু জেহেল বললো, বলো সেই কথা। তোমার পিতার শপথ, এ ধরনের কথা একটি কেন দশটি বললেও আমরা মানতে প্রস্তুত রয়েছি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আপনারা বলুন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, অন্য সকলের আনুগত্য উপাসনা পরিত্যাগ করুন। একথা শুনে কোরায়শরা হাতে তালি দিয়ে বললো, মোহাম্মদ, আমরা এক খোদা মানব? আসলেই তোমার ব্যাপার স্যাপার বড়ো অদ্ভুত!

এরপর তারা একে অন্যকে বললো, খোদার কসম, এই লোক তোমাদের কোন কথাই মানতে রাযি নয়। কাজেই এসো আমরা আমাদের পূর্ব-পুরুষদের ধর্মবিশ্বাসের ওপর অটল থাকি। এরপর আল্লাহ্ ওর এবং আমাদের মধ্যে একটা ফয়সালা করে দেবেন। একথা বলে তারা উঠে চলে গেলো। এ ঘটনার পর ওদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'শপথ উপদেশপূর্ণ কোরআনের। তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। কিন্তু কাফেররা ঔদ্ধত্য এবং বিরোধিতায় ডুবে আছে। এদের পূর্বে আমি কতো জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছি, তখন ওরা আর্ত চিৎকার করেছিলো। কিন্তু তখন পরিত্রাণের কোন উপায় ছিলো না। এরা বিস্ময় বোধ করছে যে, এদের কাছে এদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী আসলো এবং কাফেররা বললো, এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী। সে কি বহু ইলাহের পরিবর্তে এক ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? এটাতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার! ওদের প্রধানেরা সরে পড়ে এই বলে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের দেবতাগুলোর পূজায় অবিচল থাকো। নিশ্চয়ই এই ব্যাপারটি উদ্দেশ্যমূলক। আমরা তো অন্য ধর্মাদর্শে এরূপ কথা শুনিনি। নিশ্চয়ই এটা একটি মনগড়া উক্তি মাত্র।'।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00