📄 বনু হাশেম ও বনু মোত্তালেবের সাথে আবু তালেবের বৈঠক
ইতিমধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আবু তালেব তখনও ছিলেন শঙ্কিত। পৌত্তলিকদের পক্ষ থেকে তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছিলেন। তিনি এযাবত সংঘটিত ঘটনাবলী পর্যালোচনা করছিলেন। পৌত্তলিকরা তাঁকে মোকাবেলার হুমকি দিয়েছিলো। আম্মারা ইবনে ওলীদের বিনিময়ে তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার প্রস্তাব করেছিলো। আবু জেহেল একটা ভারি পাথর দিয়ে তাঁর ভাতিজার মস্তক চূর্ণ করার চেষ্টা করেছিলো। ওকবা ইবনে আবু মুঈত গলার চাদর পেঁচিয়ে তাঁর ভাতিজাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে চেয়েছিলো। খাত্তাবের পুত্র খোলা তলোয়ার হাতে তাঁকে হত্যা করতে বেরিয়েছিলো। পর্যায়ক্রমে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার প্রতি লক্ষ্য করে আবু তালেব এমন গুরুতর বিপদের আশঙ্কা করলেন যে, তাঁর বুক কেঁপে উঠলো।
তিনি ভালোভাবে বুঝতে পারলেন যে, পৌত্তলিকরা তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে হত্যা করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এমতাবস্থায় কোন কাফের যদি তাঁর ভাতিজার ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায় তাহলে বিচ্ছিন্নভাবে হযরত হামযা বা হযরত ওমর বা অন্য কেউ কি করে তাঁকে রক্ষা করবে?
আবু তালেবের এ আশঙ্কা অমূলক ছিলো না। কেননা পৌত্তলিকরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করতে সঙ্কল্পবদ্ধ ছিলো। তাদের এ সঙ্কল্পের প্রতি ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'ওরা কি কোন ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে? আমিই তো সিদ্ধান্তকারী।' (৭৯, ৪৩)
প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবু তালেবের কি করা উচিত? তিনি যখন দেখলেন যে, পৌত্তলিকরা চারিদিক থেকে তার ভাতিজাকে নাজেহাল করতে উঠে লেগেছে তখন তিনি তাঁর পিতামহের দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হাশেম এবং মোত্তালেবের বংশধরদের একত্রিত করলেন। তিনি সেই সমাবেশে তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে রক্ষার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্যে সকলের প্রতি আহ্বান জানালেন। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বললেন, যে দায়িত্ব এতোদিন আমি একা পালন করেছি, এবার এসো, আমরা সবাই মিলে সে দায়িত্ব পালন করি। আবু তালেবের এ আহ্বানে তাঁর দুই পূর্ব পুরুষের বংশধররা সাড়া দিলেন। আবু তালেবের ভাই আবু লাহাব শুধু ভিন্নমত পোষণ করলো। সে অস্বীকৃতি জানিয়ে পৌত্তলিকদের সাথে গিয়ে মিলিত হলো।
টিকাঃ
৫২. ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ. ২৬৫, ২৬৬
৫৩. মোখতাসারুস্ সীরাত, শেখ মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব নজদী, পৃঃ ৬৮
৫৪. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, ২৬৬ ২৬৭
৮২. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ২৬৯, মুখতাছারুছ সীরাত, শেখ আবদুল্লাহ, পৃ. ১০৬
📄 সর্বাত্মক বয়কট
চার সপ্তাহ বা তার চেয়ে কম সময়ের ভেতর পৌত্তলিকরা চারটি বড় ধরনের ধাক্কা খেলো। হযরত হামযা এবং হযরত ওমর (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেন। সর্বোপরি বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেব একত্রিত হয়ে আল্লাহর রসূলকে রক্ষার ব্যাপারে একমত হলো। পৌত্তলিকরা এতে অস্থির হয়ে উঠলো। অস্থির হবে না কেন, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলো যে, এখন যদি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যা করার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে তাঁকে রক্ষা করতে যে রক্তপাত হবে, এতে মক্কার প্রান্তর লাল হয়ে যাবে। তাদের নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা ছিলো। এ কারণে আল্লাহর রসূলকে হত্যা করার পরিকল্পনা পরিত্যাগ করে পৌত্তলিকরা অত্যাচার নির্যাতনের একটি নতুন পথ আবিষ্কার করলো। এটি ছিলো ইতিপূর্বে গৃহীত সব পদক্ষেপের চেয়ে আরো বেশী মারাত্মক।
ইবনে কাইয়েম লিখেছেন যে, বলা হয়ে থাকে, এই দলিল মনসুর ইবনে একরামা ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। কারো কারো মতে নযর ইবনে হারেস লিখেছিলো। কিন্তু সঠিক কথা হচ্ছে, এই দলিল বোগাইজ ইবনে আমের ইবনে হাশেম লিখেছিলো। এতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্যে বদদোয়া করায় তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিলো। লেখার পর দলিল কাবাঘরে টাঙিয়ে দেয়া হলো। তাতে আবু লাহাব ব্যতীত বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের মুসলিম অমুসলিম, নারী-পুরুষ শিশু সবাই শা'বে আবু তালেব নামক 'স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। এটা ছিলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবী হিসাবে আবির্ভাবের সপ্তম বছরের ঘটনা।
টিকাঃ
১. যাদুল মায়াদ, ২য় খন্ড, পৃ. ৪৬
📄 শা'বে আবু তালেবে তিন বছর
এ বয়কটে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলো। খাদ্যসামগ্রীর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলো। যা-ও বা মক্কায় আসতো পৌত্তলিকরা তাড়াতাড়ি সেগুলো কিনে নিতো। ফলে অবরুদ্ধ মুসলিম অমুসলিম কারো কাছে কোন কিছু স্বাভাবিক উপায়ে পৌছুতো না। তারা গাছের পাতা এবং চামড়া খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। ক্ষুধার কষ্ট এতো মারাত্মক ছিলো যে, ক্ষুধার্ত নারী ও শিশুর কাতর কান্না শাবে আবু তালেব বা আবু তালেব ঘাঁটির বাইরে থেকে শোনা যেতো। তাদের কাছে কোন খাদ্যসামগ্রী পৌছার সম্ভাবনা ছিলো ক্ষীণ। যা কিছু পৌছুতো সেসব গোপনীয়ভাবেই পৌঁছাতো। নিষিদ্ধ মাসসমূহ ছাড়া প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্যে তারা ঘাঁটির বাইরে বেরও হতেন না। বাইরে থেকে মক্কায় আসা জিনিস কেনার চেষ্টা করেও অনেক সময় তারা সক্ষম হতেন না। কারণ পৌত্তলিকরা সেসব জিনিসের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতো।
হাকিম ইবনে হাজাম ছিলেন হযরত খাদিজা (রা.)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র। মাঝে মাঝে তিনি ফুফুর জন্যে গম পাঠাতেন। একবার গম পাঠানোর উদ্যোগ নিতেই আবু জেহেল বাধা দিলো। কিন্তু আবুল বাখতারি হাকিম ইবনে হাজামের পক্ষাবলম্বন করে গম পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিলেন।
এদিকে আবু তালেব সব সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। রাতে সবাই শুয়ে পড়ার পর তিনি ভ্রাতুষ্পুত্রকে বলতেন, যাও, তুমি এবার তোমার বিছানায় শুয়ে পড়ো। তিনি একথা এ জন্যেই বলতেন যাতে, কোন গোপন আততায়ী থাকলে বুঝতে পারে যে, তিনি কোথায় শয়ন করছেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আবু তালেব তাঁর প্রিয় ভ্রাতুষ্পত্রের শোয়ার স্থান বদলে দিতেন। ভ্রাতুষ্পত্রের বিছানায় নিজের পুত্র ভাই বা অন্য কাউকে শয়ন করাতেন। রাত্রিকালে প্রিয় ভ্রাতুষ্পত্র আল্লাহর রসূল মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটাতেন।
এ ধরনের কঠিন অবরোধ সত্তেও রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং অন্যান্য মুসলমান হজ্জের সময় বাইরে বের হতেন এবং হজ্জের উদ্দেশ্যে আসা লোকদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। এ সময় আবু লাহাব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুসলমানদের সাথে যেরূপ আচরণ করতো, ইতিপূর্বে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
টিকাঃ
২. আবু তালেবের মৃত্যু হয়েছিল দলিল ছিন্ন করার ঘটনার ছয়মাস পরে। সঠিক তথ্য হচ্ছে যে, তাঁর মৃত্যু রজব মাসে হয়েছিল। যারা বলে যে, তার মৃত্যু রমযান মাসে হয়েছিল, তারা এও বলে যে, তার মৃত্যু দলিল ছিন্ন করার ঘটনার আটমাস কয়েকদিন পরে হয়েছিল। উভয় অবস্থায় এটা প্রমাণিত হয় যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল মহররম মাসে।
📄 দলিল ছিন্ন করার ঘটনা
এ অবস্থায় পুরো তিন বছর কেটে যায়। এরপর নবুয়তের দশম বর্ষে মহররম মাসে দলিল ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে অত্যাচার নির্যাতনের অবসান ঘটে। কোরায়শদের মধ্যেকার কিছু লোক এ ব্যবস্থার বিরোধী থাকায় তারা অবরোধ বাতিল করারও উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এই অমানবিক অবরোধ সম্পর্কিত প্রণীত দলিল বিনষ্ট করার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বনু আমের ইবনে লুয়াই গোত্রের হেশাম ইবনে আমের নামক এক ব্যক্তি। হেশাম রাত্রিকালে চুপিসারে খাদ্য দ্রব্য পাঠিয়ে আবু তালেব ঘাঁটির অসহায় লোকদের সাহায্য করতেন। প্রথমে হেশাম যুহাইর ইবনে আবু উমাইয়া মাখযুমির কাছে যান। যুহাইয়ের মা আতেকা ছিলেন আবদুল মোত্তালেবের কন্যা। অর্থাৎ আবু তালেবের বোন। হেশাম তাকে বললেন, যুহাইর তুমি কি চাও যে, তোমরা মজা করে পানাহার করবে অথচ তোমার মামা এবং অন্যরা ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? তারা কি অবস্থায় রয়েছে, সেটা কি তুমি জানো না? যুহাইর বললেন, আফসোস, আমি একা কি করতে পারি? যদি আমার সাথে আরো কেউ এগিয়ে আসে তবে আমি সে দলিল বিনষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি। হেশাম বললেন, অন্য একজন রয়েছেন। যুহাইর জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কে? হেশাম বললেন, আমি। যুহাইর বললেন, আচ্ছা তবে তৃতীয় কাউকে খুঁজে বের করো। একথা শোনার পর হেশাম মোয়াম ইবনে আদীর কাছে গেলেন এবং বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তার সাহায্য চাইলেন। ওরা যে তার নিকটাত্মীয় সেকথাও বললেন। মোআম বললেন, আমি একা কি করতে পারি? 'হেশাম বললেন, আরো একজন আছেন। মোআম জিজ্ঞাসা করলেন তিনি কে? হেশাম বললেন, আমি। মোয়াম বললেন, আচ্ছা, তৃতীয় একজন লোক খুঁজে নাও। হেশাম বললেল, সেটাও করেছি। মোয়াম বললেন, তিনি কে? হেশাম বললেন, তিনি হচ্ছেন যুহাইর ইবনে উমাইয়া। মোয়াম বললেন আচ্ছা চতুর্থ একজন তালাশ করো। এরপর হেশাম আবুল বাখতারির কাছে গেলেন এবং তার সাথেও মোতয়ামের কাছে যে ভাবে বলেছেন, সেভাবে কথা বললেন। আবুল বাখতারি জানতে চাইলেন, এ ব্যাপারে সমর্থক কেউ আছে কিনা। হেশাম বললেন, হাঁ আছে। এরপর তিনি যুহাইর ইবনে আবু উমাইয়া মোয়াম ইবনে আদী এবং নিজের কথা জানালেন। আবুল বাখতারি বললেন, আচ্ছা তবে বিশ্বস্ত একজন লোক খোঁজ করো। এরপর হেশাম জাময়া ইবনে আছোয়াদ ইবনে মোত্তালেব ইবনে আছাদের কাছে গেলেন। তার সাথেও বনু হাশেম এবং বনু মোত্তালেবের দুরবস্থার বিষয়ে আলোচনা করে সাহায্য চাইলেন। তিনি জানতে চাইলেন অন্য কেউ সহায়তাকারী আছে কিনা। হেশাম বললেন, হাঁ, আছে। এরপর সকলের নাম জানালেন। পরে উল্লিখিত সবাই হাজুন নামক জায়গায় একত্রিত হয়ে দলিল বিনষ্ট করার ব্যাপারে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলেন। যুহাইর বললেন, প্রথমে আমি কথা তুলবো।
সকাল বেলা নিয়মানুযায়ী সবাই মজলিসে একত্রিত হলো। যুহাইর দামী পোশাক পরিধান করে সেজে গুজে উপস্থিত হলো। প্রথমে কাবাঘর সাতবার তওয়াফ করে সবাইকে সম্বোধন করে বললো, মক্কাবাসীরা শোনো, আমরা পানাহার করবো, পোশাক পরিধান করবো, আর বনু হাশেম ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের কাছে কিছু বিক্রি করা হচ্ছে না, তাদের কাছ থেকে কেনাও হচ্ছে না। খোদার কসম, এ ধরনের অমানবিক দলিল বিদ্যমান থাকা অবস্থায় আমি নীরব হয়ে থাকতে পারি না। আমি চাই এ দলিল বিনষ্ট করে ফেলা হোক।
আবু জেহেল এ কথা শুনে বললো, তুমি ভুল বলছো। খোদার কসম, এ দলিল ছিন্ন করা যাবে না।
জাময়া ইবনে আসোয়াদ বললেন, খোদার কসম, তুমি ভুল বলছো। এ দলিল যখন লেখা হয়েছিলো, তখনো আমি রাযি ছিলাম না। আমি এটা মানতে প্রস্তুত নাই। এরপর মোয়াম ইবনে আদী বললেন, তোমরা দু'জনে ঠিকই বলছো। আমরা এ দলিলে যা কিছু লেখা রয়েছে, তা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।
হেশাম ইবনে আমরও এ ধরনের কথা বললেন।
এ অবস্থা দেখে আবু জেহেল বললো, হুঁহ বুঝেছি, রাত্রিকালেই এ ধরনের ঐকমত্য হয়েছে। এ পরামর্শ এখানে নয়, বরং অন্য কোথাও করা হয়েছে।
সে সময় আবু তালেবও অদূরে উপস্থিত ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, দলিল বিনষ্ট করতে আল্লাহ তায়ালা এক রকম পোকা পাঠিয়েছেন। তারা যুলুম অত্যাচারের বিবরণসমূহ কেটে ছারখার করে ফেলেছে, শুধু যেখানে যেখানে আল্লাহর নাম রয়েছে, সেসব অবশিষ্ট রয়েছে।
আবু তালেব কোরায়শদের বললেন, আমার ভাতিজা আমাকে আপনাদের কাছে এ কথা বলতে পাঠিয়েছেন যে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জানিয়েছেন যে, আপনাদের অংগীকার পত্রটি আল্লাহ তায়ালা এক রকম পোকা পাঠিয়ে নষ্ট করে দিয়েছেন। শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার নামটুকু সেখানে অবশিষ্ট আছে। এ কথা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে আমি তার ও আপনাদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াব এবং আপনারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। আর, সত্য বলে প্রমাণিত হয় তাহলে বয়কটের মাধ্যমে আমাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ করছেন, তা থেকে বিরত থাকবেন। এতে কোরায়শরা সম্মত হলো।
এ নিয়ে আবু জেহেল ও অন্যান্যদের মধ্যে তর্ক-বির্তক শেষ হলে মুতয়া'ম বিন আদী অংগীকারপত্র ছিঁড়তে গিয়ে দেখলেন যে, আল্লাহর নাম লেখা অংশ বাদে বাকি অংশ সত্যি সত্যি পোকা খেয়ে ফেলেছে। পরে অংগীকারপত্র ছিঁড়ে ফেলা হলে বয়কটের অবসান হলো এবং রসূলুল্লাহ (সঃ) ও অন্য সকলে শাবে আবু তালিব থেকে বেরিয়ে এলেন। কাফেররা এ বিস্ময়কর নিদর্শনে আশ্চর্য হলো, কিন্তু তাদের মনোভাবের কোন পরিবর্তন হলো না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যদি তারা কোন মোজেযা দেখে, তখন টালবাহানা করে এবং বলে, এ তো যাদু।
আরবের পৌত্তলিকরা নবুয়তের বিস্ময়কর এ নিদর্শন থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিল এবং নিজেদের কুফুরীর পথে আরো কয়েক কদম অগ্রসর হলো।