📄 দাওয়াতের প্রথম নির্দেশ
এ সম্পর্কে সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা এ নির্দেশ নাযিল করেছিলেন যে, 'হে নবী, তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদান করো।' এটি হচ্ছে সূরা শোয়ারার একটি আয়াত। এ সূরায় সর্বপ্রথম হযরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা ব্যক্ত করা হয়। অর্থাৎ বলা হয়, কিভাবে হযরত মুসা (আ.) নবুয়ত পেয়েছিলেন এবং বনি ইসরাইলসহ হিজরত করে ফেরাউন এবং ফেরাউনের জাতি এবং তার সঙ্গী সাথীদের নীল নদে ডুবিয়ে মারা হয়েছিলো। অন্যকথায় এ সূরায় হযরত মুসা (আ.) ফেরাউন এবং বনি ইসরাইলদের কাছে যেভাবে দাওয়াত দিয়েছিলেন, সেই দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।
আমার ধারণা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর কওমের মধ্যে প্রকাশ্য তাবলীগের নির্দেশ বলে দেয়ার পর হযরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা এ কারণেই বলা হয়েছে যাতে, একটা উদাহরণ তার সামনে থাকে। প্রকাশ্যে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার পর হযরত মুসা (আ.)-কে যেভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছিলো এবং যে ধরনের বাড়াবাড়ি তাঁর সাথে করা হয়েছিলো রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের সামনে যেন তার একটা নমুনা সব সময় বিদ্যমান থাকে।
অন্যদিকে এ সূরায় যেসব সম্প্রদায় নবীদের মিথ্যাবাদী বলেছিলো, যেমন ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, নূহের সম্প্রদায়, আদ, সামুদ, ইবরাহীমের সম্প্রদায়, লুতের সম্প্রদায়, আইকার অধিবাসীসহ এদের সবার পরিণাম কিরূপ হয়েছিলো, সে সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, যেসব লোক আল্লাহর রসূলকে মিথ্যাবাদী বলবে, তারা যেন বুঝতে পারে যে, এ ধরনের আচরণের ওপর অবিচল থাকলে তাদের পরিণাম এবং আল্লাহর কিরূপ পাকড়াও এর সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া ঈমানদাররাও বুঝতে পারবেন যে, উত্তম পরিণাম তাদেরই জন্যে রয়েছে। পক্ষান্তরে যারা নবীকে মিথ্যাবাদী বলে, তাদের পরিণাম মোটেই ভালো হবে না।
📄 নিকটাত্মীয়দের মধ্যে তাবলীগ
এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বনু হাশেমদের সমবেত করলেন। তাদের সাথে বনু মোত্তালেব ইবনে আবদে মান্নাফের একটি দলও ছিলো। তারা ছিলো মোট পঁয়তাল্লিশ জন। আবু লাহাব কথা লুফে নিয়ে বিরোধিতার সুরে বললো, দেখো, এরা তোমার চাচা এবং চাচাতো ভাই। কথা বলো তবে মুর্খতার পরিচয় দিয়ো না এবং মনে রেখো, তোমার খান্দান সমগ্র আরবের সাথে মোকাবেলা করতে পারবে না। আমিই তোমাকে পাকড়াও করার বেশী হকদার। তোমার জন্যে তোমার পিতৃকূলের লোকেরাই যথেষ্ট। যদি তুমি তোমার কথার ওপর অটল থাকো, তাহলে কোরায়শদের সমগ্র গোত্র তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আরবের অন্যান্য গোত্রও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। এরপর কি হবে? তোমার পিতৃকূলের মধ্যে তুমিই হবে সবচেয়ে বেশী ধ্বংসাত্মক কাজের মানুষ। এসব কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ করে রইলেন, সেই মজলিসে কোন কথা বললেন না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর পুনরায় তাদের সমবেত করলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর জন্যেই সকল প্রশংসা। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাইছি। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করছি। তাঁর ওপর ভরসা করছি। আমি এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত এবাদাতের উপযুক্ত কেউ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরিক নেই। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, পথ প্রদর্শক তার পরিবারের লোকদের কাছে মিথ্যা কথা বলতে পারে না। সেই আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, আমি তোমাদের প্রতি বিশেষভাবে এবং অন্য সব মানুষের প্রতি সাধারণভাবে আল্লাহর রসূল। আল্লাহর শপথ, তোমরা যেভাবে ঘুমিয়ে থাকো, সেভাবেই একদিন মৃত্যুমুখে পতিত হবে। ঘুম থেকে যেভাবে তোমরা জাগ্রত হও, সেভাবেই একদিন তোমাদের উঠানো হবে। এরপর তোমাদের থেকে তোমাদের কৃতকর্মের হিসাব নেয়া হবে। তারপর রয়েছে চিরকালের জন্যে হয়তো জান্নাত নতুবা জাহান্নাম।'
একথা শুনে আবু তালেব বললেন, তোমাকে সহায়তা করা আমার কতো যে পছন্দ, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তোমার উপদেশ গ্রহণযোগ্য। তোমার কথা আমি সত্য বলে বিশ্বাস করি। এখানে তোমার পিতৃকূলের সকলে উপস্থিত রয়েছে, আমিও তাদের একজন। কাজেই তুমি যে কাজের নির্দেশ পেয়েছো, আমি অব্যাহতভাবে তোমার হেফাযত এবং সহায়তা করে যাবো। তবে আমার মন আবদুল মোত্তালেবের দ্বীন ছাড়ার পক্ষপাতি নয়। আবু লাহাব বললো, আল্লাহর শপথ এটা মন্দ কাজ। অন্যদের আগে তুমিই তার হাত ধরেছো? আবু তালেব বললেন, আল্লাহর শপথ, যতোদিন বেঁচে থাকি, ততোদিন আমি তার হেফাযত করতে থাকবো।¹
টিকাঃ
১. ফেকহুছ সীরাত পৃ. ৭৭, ৮৮, ইবনুল আছির রচিত।
📄 সাফা পাহাড়ের ওপর তাবলীগ
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নিশ্চিতভাবে বুঝলেন যে, আল্লাহর দ্বীনের তাবলীগের ক্ষেত্রে আবু তালেব তাঁকে সহায়তা করবেন, তখন তিনি একদিন সাফা পাহাড়ে উঠে আওয়ায দিলেন, ইয়া সাবাহাহ, অর্থাৎ হায় সকাল। এই আওয়ায শুনে কোরায়শ গোত্রসমূহ তাঁর কাছে সমবেত হলো। তিনি তাদেরকে আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর রেসালত এবং রোয কেয়ামতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের দাওয়াত দিলেন। এ ঘটনার একটি অংশ সহীহ বোখারীতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এভাবে বর্ণিত হয়েছে: 'হে নবী, তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো।' এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফা পাহাড়ের ওপর আরোহন করে আওয়ায দিলেন, হে বনি ফেহর, হে বনি আদী। এই আওয়ায শুনে কোরায়শদের নেতৃস্থানীয় সকল লোক একত্রিত হলো। যিনি যেতে পারেননি, তিনি একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন কি ব্যাপার সেটা জানার জন্যে। কোরায়শরা এসে হাযির হল, আবু লাহাবও তাদের সঙ্গে ছিলো। এরপর তিনি বললেন, তোমরা বলো, যদি আমি তোমাদের বলি যে, পাহাড়ের ওদিকের প্রান্তরে একদল ঘোড় সওয়ার আত্মগোপন করে আছে, ওরা তোমাদের ওপর হামলা করতে চায়, তোমরা কি সে কথা বিশ্বাস করবে? সবাই বললো, হাঁ বিশ্বাস করবো, কারণ আপনাকে আমরা কখনো মিথ্যা বলতে শুনিনি। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তবে শোনো, আমি তোমাদেরকে এক ভয়াবহ আযাবের ব্যাপারে সাবধান করতে প্রেরিত হয়েছি। আবু লাহাব বললো, তুমি ধ্বংস হও। তুমি আমাদেরকে একথা বলার জন্যে এখানে ডেকেছ?
আবু লাহাব একথা বলার পর আল্লাহ তায়ালা সূরা লাহাব নাযিল করেন। এতে বলা হয় আবু লাহাবের দু'টি হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক।
এই ঘটনার আরেক অংশ ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। হযরত আবু হোরায়রা (রা.) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'নিকটাত্মীয়দের আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভয় প্রদর্শন করো' এই আয়াত নাযিল হওয়ার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আওয়ায দিলেন সাধারণ ও বিশেষভাবে। তিনি বললেন, 'হে কোরায়শ দল, তোমরা নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে বনি কা'ব, নিজেদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। হে মোহাম্মদের মেয়ে ফাতেমা, নিজেকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করো। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষার ব্যাপারে আদিষ্ট হয়েছি। যেহেতু তোমাদের সাথে আমার আত্মীয়তা রয়েছে, কাজেই এই সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে যথাসম্ভব সজাগ করবো।'
টিকাঃ
২. তখনকার দিনে কোনো ভয়াবহ সংবাদ দেয়ার দরকার হলে মানুষরা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে 'ইয়া সাবাহ' 'ইয়া সাবাহ' হায় সকাল, হায় সকাল বলে চীৎকার করতে থাকতো।
৩. সহীহ বোখারী ২য় খন্ড, পৃ. ৭০৬, ৭৪৩ সহীহ মুসলিম ১ম খন্ড, পৃ. ১১৪
৪. সহীহ মুসলিম ১ম খন্ড পৃ. ৩৮৫
📄 দাওয়াতের প্রকাশ্য ঘোষণা
এই আওয়াযের স্পন্দন তখনো মক্কার আশে পাশে শোনা যাচ্ছিলো, এমন সময় আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাযিল করেন, 'তোমাকে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেটা খোলাখুলি তুমি ঘোষণা করো এবং মোশরেকদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।' (১৫, ৯৪)
এরপর রসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৌত্তলিকতার নোংরামি ও অকল্যাণসমূহ প্রকাশ্যে তুলে ধরে মিথ্যার পর্দা উন্মোচিত করেন। তিনি মূর্তিসমূহের অন্তসারশূন্যতা ও মূল্যহীনতা তুলে ধরে তাদের স্বরূপও উদঘাটন করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে দিয়ে বোঝাতে থাকেন যে, মূর্তিসমূহ নিরর্থক এবং শক্তিহীন। তিনি আরো জানান যে, যারা এসব মূর্তিপূজা করে এবং নিজের ও আল্লাহর মধ্যে এদেরকে মাধ্যম হিসাবে স্থির করে, তারা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।
পৌত্তলিক এবং মূর্তির উপাসকদের পথভ্রষ্ট বলা হয়েছে একথা শোনার পর মক্কার অধিবাসীরা ক্রোধে দিশেহারা হয়ে পড়লো। তাদের ওপর যেন বজ্রপাত হলো, তাদের নিরুদ্বেগ শান্তিপূর্ণ জীবনে যেন ঝড়ের তান্ডব দেখতে পেলো। এ কারণেই কোরায়শরা অকস্মাৎ উৎসারিত এ বিপ্লবের শেকড় উৎপাটনের জন্যে উঠে দাঁড়ালো। কেননা এ বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পৌত্তলিক রুসম রেওয়াজ নির্মূল হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কোরায়শরা কোমর বেঁধে উঠে দাঁড়ালো। কারণ তারা জানতো যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য সকলকে মাবুদ হিসাবে অস্বীকার করা এবং রেসালাত ও আখেরাতের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের অর্থ হচ্ছে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে রেসালাতের হাতে ন্যস্ত এবং তার কাছে নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করা। এতে করে অন্যদের তো প্রশ্নই আসে না, নিজের জানমাল সম্পর্কে পর্যন্ত নিজের কোন স্বাধীন অধিকার থাকে না। এর অর্থ হচ্ছে যে, আরবের লোকদের ওপর মক্কার লোকদের ধর্মীয় ক্ষেত্রে যে শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব ছিলো, সেটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এর ফলে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের ইচ্ছা ও মর্জিই হবে চূড়ান্ত, নিজেদের ইচ্ছামতো তারা কিছুই করতে পারবে না। নীচু শ্রেণীর লোকদের ওপর তারা যে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো, সকাল সন্ধ্যা তারা যেসব ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত ছিলো সেসব থেকে তাদের দূরে থাকতে হবে। কোরায়শরা এর অর্থ ভালোই বুঝতে পারছিলো। তাই তাদের দৃষ্টিতে অবমাননাকর এরূপ অবস্থা তারা মেনে নিতে পারছিলো না। কিন্তু এটা কোন কল্যাণ বা মঙ্গলের প্রত্যাশায় নয়, বরং আরো বেশী মন্দ কাজে নিজেদের জড়িত করাই এর উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'বরং এ জন্যে যে, মানুষ চায় ভবিষ্যতেও তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হবে।' (৫, ৭৫)
কোরায়শরা এসব কিছুই বুঝতে পারছিলো। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে, তাদের সামনে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি ছিলেন, সত্যবাদী এবং বিশ্বাসী। তিনি ছিলেন আদর্শের উত্তম দৃষ্টান্ত। দীর্ঘকাল যাবত মক্কার অধিবাসীরা পূর্ব পুরুষদের মধ্যে এ ধরনের দৃষ্টান্ত দেখেনি, শোনেওনি। এমন এক ব্যক্তিত্বের সাথে তারা কিভাবে মোকাবেলা করবে, সেটাও ভেবে ঠিক করতে পারছিলো না। তারা ছিলো অবাক ও বিস্মিত। অবশ্য এভাবে বিস্মিত হওয়ার পেছনে কিছু কারণও ছিলো।
কোরায়শরা অনেক চিন্তা-ভাবনার পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো যে, তারা প্রিয় নবীর চাচা আবু তালেবের কাছে যাবে এবং তাকে এক মাস অনুরোধ করবে যে, তিনিই যেন নিজের ভ্রাতুষ্পুত্রকে তাঁর এই কাজ থেকে বিরত রাখেন। নিজেদের দাবীকে যুক্তিগ্রাহ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে তারা এ দলিল তৈরী করলো যে, তাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করার দাওয়াত দেয়া এবং তারা যে ভালো-মন্দ কোন কিছু করার শক্তি রাখে না এ কথা বলা প্রকৃতপক্ষে তাদের উপাস্যদের প্রতি অবমাননাকর এবং মারাত্মক গালিস্বরূপ।
তাছাড়া এটা হচ্ছে আমাদের পিতা ও পিতামহ অর্থাৎ আমাদের পূর্ব পুরুষদের নির্বোধ এবং পথভ্রষ্ট আখ্যায়িত করার শামিল। কেননা বর্তমানে আমরা যে ধর্ম বিশ্বাসের ওপর রয়েছি, তারাও একই ধর্ম বিশ্বাসের ওপর জীবন যাপন করেছিলেন। অপরাপর কোরায়শদের এসব কথা বোঝানোর পর তারা সহজেই বুঝাতে পারলো এবং এতে দ্রুত সাড়া দিলো।