📄 কোরায়শদের সংবাদ প্রদান
বিভিন্ন ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সময়ে তাবলীগের কাজ যদিও গোপনভাবে করা হচ্ছিলো, কিন্তু কোরায়শরা কিছু কিছু বুঝতে পারছিলো। তবে তারা ব্যাপারটিকে কোন গুরুত্ব দেয়নি।
ইমাম গাজ্জালী লিখেছেন যে, কোরায়শরা মুসলমানদের তৎপরতার খবর পাচ্ছিলো। কিন্তু তারা এর প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়নি। সম্ভবত তারা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মনে করেছিলো, যারা বৈরাগ্যবাদ এবং সংসার বিরাগী হওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা বলে থাকেন। আরব সমাজে এ ধরনের লোক ছিলো। যেমন, উমাইয়া ইবনে আবু ছালত, কুস ইবনে সা'দাহ, আমর ইবনে তোফায়েল প্রমুখ। তবে কোরায়শরা এটা লক্ষ্য করেছিলো যে, তাঁর তৎপরতা যেন একটু বেশী এবং ভিন্ন ধরনের। সময়ের গতিধারার সাথে সাথে কোরায়শরা প্রিয় নবীর ধর্মীয় তৎপরতা এবং তাবলীগের প্রতি ক্রমে ক্রমে দৃষ্টি বাড়িয়ে দিচ্ছিলো।
তিন বছর যাবত দ্বীনের কাজ গোপনভাবে চললো। এ সময়ে ঈমানদারদের একটি দল তৈরী হয়ে গেলো। এরা ভ্রাতৃত্ব এবং সহায়তার ওপর কায়েম ছিলো। তারা আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাচ্ছিলো এবং এ পয়গামকে একটা পর্যায়ে উন্নীত করতে চেষ্টা করছিলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা ওহী নাযিল করেন এবং তাঁর কওমকে নির্দেশ প্রদান করেন। দ্বীনের দাওয়াতের সাথে সাথে কোরায়শদের বাতিল শক্তির সাথে সংঘাত এবং তাদের মূর্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরারও নির্দেশ দেয়া হয়।