📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 নামাযের আদেশ

📄 নামাযের আদেশ


প্রথম যা কিছু নাযিল হয়েছিলো এরমধ্যে নামাযের আদেশও ছিলো। মোকাতেল ইবনে সোলায়মান বলেন, ইসলামের শুরুতে আল্লাহ তায়ালা দু'রাকাত নামায সকালে এবং দু'রাকাত নামায সন্ধ্যার জন্যে নির্দিষ্ট করেছিলেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'সকাল এবং সন্ধ্যায় তোমরা প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর সেজদা করো।'
ইবনে হাজার বলেন, প্রিয় রসূল এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম মে'রাজের ঘটনার আগেই নামায আদায় করতেন। তবে এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আগে অন্য কোন নামায ফরয ছিলো কিনা। কেউ কেউ বলেন, সূর্য উদয় হওয়ার আগে এবং অস্ত যাওয়ার আগে এক এক নামায ফরয ছিলো।
হারেস ইবনে ওসামা হযরত যায়েদ ইবনে হারেছা থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, প্রিয় নবীর কাছে প্রথম যখন ওহী এসেছিলো, সেই সময় জিবরাঈল এসে তাঁকে প্রথমে ওযুর নিয়ম শিক্ষা দেন। ওযু শেষ করার পর এক আঁজলা পানি লজ্জাস্থানে ছুঁড়ে মারেন। ইবনে মাজাও এ ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। বারা' ইবনে আযেব এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও এ ধরনের হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ রয়েছে যে, এই নামায ছিলো প্রথম দিকের ফরযের অন্তর্ভুক্ত।
ইবনে হিশাম বর্ণনা করেছেন যে, প্রিয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম নামাযের সময়ে পাহাড়ে চলে যেতেন এবং গোপনে নামায আদায় করতেন। একবার আবু তালেব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আলী (রা.)-কে নামায আদায় করতে দেখে ফেলেন। তিনি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তাঁকে জানানোর পর তিনি বলেন, এই অভ্যাস অব্যাহত রেখো।
কোরায়শদের সংবাদ প্রদান
বিভিন্ন ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সময়ে তাবলীগের কাজ যদিও গোপনভাবে করা হচ্ছিলো, কিন্তু কোরায়শরা কিছু কিছু বুঝতে পারছিলো। তবে তারা ব্যাপারটিকে কোন গুরুত্ব দেয়নি।
ইমাম গাজ্জালী লিখেছেন যে, কোরায়শরা মুসলমানদের তৎপরতার খবর পাচ্ছিলো। কিন্তু তারা এর প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়নি। সম্ভবত তারা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মনে করেছিলো, যারা বৈরাগ্যবাদ এবং সংসার বিরাগী হওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা বলে থাকেন। আরব সমাজে এ ধরনের লোক ছিলো। যেমন, উমাইয়া ইবনে আবু ছালত, কুস ইবনে সা'দাহ, আমর ইবনে তোফায়েল প্রমুখ। তবে কোরায়শরা এটা লক্ষ্য করেছিলো যে, তাঁর তৎপরতা যেন একটু বেশী এবং ভিন্ন ধরনের। সময়ের গতিধারার সাথে সাথে কোরায়শরা প্রিয় নবীর ধর্মীয় তৎপরতা এবং তাবলীগের প্রতি ক্রমে ক্রমে দৃষ্টি বাড়িয়ে দিচ্ছিলো।
তিন বছর যাবত দ্বীনের কাজ গোপনভাবে চললো। এ সময়ে ঈমানদারদের একটি দল তৈরী হয়ে গেলো। এরা ভ্রাতৃত্ব এবং সহায়তার ওপর কায়েম ছিলো। তারা আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাচ্ছিলো এবং এ পয়গামকে একটা পর্যায়ে উন্নীত করতে চেষ্টা করছিলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা ওহী নাযিল করেন এবং তাঁর কওমকে নির্দেশ প্রদান করেন। দ্বীনের দাওয়াতের সাথে সাথে কোরায়শদের বাতিল শক্তির সাথে সংঘাত এবং তাদের মূর্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরারও নির্দেশ দেয়া হয়।

টিকাঃ
৪. মুখতাছারুছ ছিরাত, শেখ আবদুল্লাহ পৃ. ৮৮
৫. ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ. ১৪৭
৬. ফেকহুস সিরাত পৃ; ৭৬

📘 আর রাহিকুল মাখতুম > 📄 কোরায়শদের সংবাদ প্রদান

📄 কোরায়শদের সংবাদ প্রদান


বিভিন্ন ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সময়ে তাবলীগের কাজ যদিও গোপনভাবে করা হচ্ছিলো, কিন্তু কোরায়শরা কিছু কিছু বুঝতে পারছিলো। তবে তারা ব্যাপারটিকে কোন গুরুত্ব দেয়নি।
ইমাম গাজ্জালী লিখেছেন যে, কোরায়শরা মুসলমানদের তৎপরতার খবর পাচ্ছিলো। কিন্তু তারা এর প্রতি কোন গুরুত্ব দেয়নি। সম্ভবত তারা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মনে করেছিলো, যারা বৈরাগ্যবাদ এবং সংসার বিরাগী হওয়ার বিষয়ে কথাবার্তা বলে থাকেন। আরব সমাজে এ ধরনের লোক ছিলো। যেমন, উমাইয়া ইবনে আবু ছালত, কুস ইবনে সা'দাহ, আমর ইবনে তোফায়েল প্রমুখ। তবে কোরায়শরা এটা লক্ষ্য করেছিলো যে, তাঁর তৎপরতা যেন একটু বেশী এবং ভিন্ন ধরনের। সময়ের গতিধারার সাথে সাথে কোরায়শরা প্রিয় নবীর ধর্মীয় তৎপরতা এবং তাবলীগের প্রতি ক্রমে ক্রমে দৃষ্টি বাড়িয়ে দিচ্ছিলো।
তিন বছর যাবত দ্বীনের কাজ গোপনভাবে চললো। এ সময়ে ঈমানদারদের একটি দল তৈরী হয়ে গেলো। এরা ভ্রাতৃত্ব এবং সহায়তার ওপর কায়েম ছিলো। তারা আল্লাহর পয়গাম পৌঁছাচ্ছিলো এবং এ পয়গামকে একটা পর্যায়ে উন্নীত করতে চেষ্টা করছিলেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা ওহী নাযিল করেন এবং তাঁর কওমকে নির্দেশ প্রদান করেন। দ্বীনের দাওয়াতের সাথে সাথে কোরায়শদের বাতিল শক্তির সাথে সংঘাত এবং তাদের মূর্তির ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরারও নির্দেশ দেয়া হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00