📄 সিনা চাকের ঘটনা
দুধ ছাড়ানোর পরও শিশু মোহাম্মদ বনু সা'দ গোত্রেই ছিলেন। তাঁর বয়স যখন চার অথবা পাঁচ বছর তখন 'সিনা চাক'-এর ঘটনাটি ঘটে।⁹
এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে হযরত জিবরাইল (আ.) আগমন করলেন। এ সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য শিশুদের সাথে খেলা করছিলেন। জিবরাঈল (আ.) তাঁকে শুইয়ে বুক চিরে দিল বের করলেন। তারপর দিল থেকে একটি অংশ বের করে বললেন, এটা তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ। এরপর দিল একটি তশতরিতে রেখে যমযম কূপের পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেন। তারপর যথাযথ স্থানে তা স্থাপন করলেন। অন্য শিশুরা ছুটে গিয়ে বিবি হালিমার কাছে বললো, মোহাম্মদকে মেরে ফেলা হয়েছে। পরিবারের লোকেরা ছুটে এলো। এসে দেখলো তিনি বিবর্ণমুখে বসে আছেন।¹⁰
টিকাঃ
৯. অধিকাংশ সীরাত রচয়িতা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিন বছর বয়সে এ ঘটনা ঘটেছিল। (ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ. ১৬৪, ১৬৫)
১০. সহীহ মুসলিম, আল আসরা অধ্যায়, ১ম খন্ড, পৃ. ৯২
📄 মায়ের স্নেহ ও দাদার আদরে এবং চাচার স্নেহবাৎসল্য
এ ঘটনার পর বিবি হালিমা ভীত হয়ে পড়লেন। তিনি শিশুকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এলেন। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত তিনি মায়ের স্নেহছায়ায় কাটালেন।
এদিকে হযরত আমেনার ইচ্ছে হলো যে, তিনি পরলোকগত স্বামীর কবর যেয়ারত করবেন। পুত্র মোহাম্মদ, দাসী উম্মে আয়মন এবং শ্বশুর আবদুল মোত্তালেবকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায় পাঁচ শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদীনায় পৌঁছুলেন। একমাস সেখানে অবস্থানের পর মক্কায় পথে রওয়ানা হলেন। মক্কা ও মদীনার মাঝামাঝি আবওয়া নামক জায়গায় এসে বিবি আমেনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ক্রমে এই অসুখ বেড়ে চললো। অবশেষে তিনি আবওয়ায় ইন্তেকাল করেন।
বৃদ্ধ আবদুল মোত্তালেব পৌত্রকে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় পৌঁছুলেন। পিতৃমাতৃহীন পৌত্রের জন্যে তাঁর মনে ছিলো ভালোবাসার উত্তাপ। অতীতের স্মৃতিতে তার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠলো। পিতৃমাতৃহীন পৌত্রকে তিনি যতোটা ভালোবাসতেন, এতো ভালোবাসা তাঁর নিজ পুত্র কন্যা কারো জন্যেই ছিলো না। ভাগ্যের লিখন, বালক মোহাম্মদ সে অবস্থায় ছিলেন একান্ত নিঃসঙ্গ; কিন্তু আবদুল মোত্তালেব তাঁকে নিঃসঙ্গ থাকতে দিতেন না, তিনি পৌত্রকে অন্য সকলের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং স্নেহ করতেন। ইবনে হিশাম লিখেছেন, আবদুল মোত্তালেবের জন্যে কাবাঘরের ছায়ায় বিছানা পেতে দেয়া হতো। তাঁর সব সন্তান সেই বিছানার চারিদিকে বসতো। কিন্তু মোহাম্মদ গেলে বিছানায়ই বসতেন। তিনি ছিলেন অল্প বয়স্ক শিশু। তাঁর চাচারা তাঁকে বিছানা থেকে সরিয়ে দিতেন। কিন্তু আবদুল মোত্তালেব বলতেন, ওকে সরিয়ে দিয়ো না। ওর মর্যাদা অসাধারণ। বরং তাকে নিজের পাশে বসাতেন। শুধু বসানোই নয়, তিনি প্রিয় দৌহিত্রকে সব সময় নিজের সাথে রাখতেন। বালক মোহাম্মদের কাজকর্ম তাঁকে আনন্দ দিতো।
বয়স আট বছর দুই মাস দশদিন হওয়ার পর তাঁর দাদার স্নেহের ছায়াও উঠে গেলো। তিনি ইন্তেকাল করলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার পুত্র আবু তালেবকে ওসিয়ত করে গেলেন, তিনি যেন ভ্রাতুষ্পুত্রের বিশেষভাবে যত্ন নেন। উল্লেখ্য আবু তালেব এবং আবদুল্লাহ ছিলেন একই মায়ের সন্তান।
চাচার স্নেহবাৎসল্যে আবু তালেব ভ্রাতুষ্পুত্রকে গভীর স্নেহ-মমতার সাথে প্রতিপালন করেন। তাঁকে নিজ সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। বরং নিজ সন্তানদের চেয়ে বেশিই স্নেহ করতেন, চল্লিশ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রকে সহায়তা দেন। আবু তালেব ভ্রাতুষ্পুত্রের স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখেই মানুষের সাথে শত্রুতা মিত্রতার বন্ধনও স্থাপন করতেন।
আল্লাহর রহমতের সন্ধানে ইবনে আসাকের জলাহামা ইবনে আরফাতার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, আমি মক্কায় এলাম। চারিদিকে দুর্ভিক্ষ, অনাবৃষ্টির ফলেই এর সৃষ্টি হয়েছে। কোরায়শ বংশের লোকেরা বৃষ্টির জন্যে দোয়া করতে আবু তালেবের কাছে আবেদন জানালো। আবু তালেব একটি বালককে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। বালকটিকে দেখে মেঘে ঢাকা সূর্য মনে হচ্ছিলো। আশে পাশে অন্যান্য বালকও ছিলো। আবু তালেব সেই বালককে সঙ্গে নিয়ে কাবাঘরের সামনে গেলেন। বালকের পিঠ কাবার দেয়ালের সাথে লাগিয়ে দিলেন। বালক তাঁর হাতে আঙ্গুল রাখলো। আকাশে এক টুকরো মেঘও ছিলো না। কিন্তু অল্পক্ষণের মধ্যেই সমগ্র আকাশ মেঘে ছেয়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। শহর প্রান্তর সজীব উর্বর হয়ে গেলো। পরবর্তীকালে আবু তালেব এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, 'তিনি সুদর্শন, তাঁর চেহারা থেকে বৃষ্টির করুণা প্রত্যাশা করা হয়। তিনি এতিমদের আশ্রয় এবং বিধবাদের রক্ষাকারী। '
টিকাঃ
১১. তালকিহুল ফুহুম, পৃ. ৭, ইবনে হিশাম ১ম খন্ড পৃ. ১৬৮
১২. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ১৬৮, তালকিছুল তুহুম পৃ. ৭ তারীখে খাজরামি, ১ম খন্ড, পৃ. ৬৩ ফেকহুছ সীরাত, গাজ্জাযযলী, পৃ. ৫০
১৩. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ; ১৬৮
১৪. তালকিহুল ফুহুম, পৃ. ৭, ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ ১৪৯
১৫. মুখতাছারু সীরাত, শেখ আবদুল্লাহ, পৃ. ১৫, ১৬
📄 আল্লাহর রহমতের সন্ধানে
ইবনে আসাকের জলাহামা ইবনে আরফাতার বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, আমি মক্কায় এলাম। চারিদিকে দুর্ভিক্ষ, অনাবৃষ্টির ফলেই এর সৃষ্টি হয়েছে। কোরায়শ বংশের লোকেরা বৃষ্টির জন্যে দোয়া করতে আবু তালেবের কাছে আবেদন জানালো। আবু তালেব একটি বালককে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। বালকটিকে দেখে মেঘে ঢাকা সূর্য মনে হচ্ছিলো। আশে পাশে অন্যান্য বালকও ছিলো। আবু তালেব সেই বালককে সঙ্গে নিয়ে কাবাঘরের সামনে গেলেন। বালকের পিঠ কাবার দেয়ালের সাথে লাগিয়ে দিলেন। বালক তাঁর হাতে আঙ্গুল রাখলো। আকাশে এক টুকরো মেঘও ছিলো না। কিন্তু অল্পক্ষণের মধ্যেই সমগ্র আকাশ মেঘে ছেয়ে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। শহর প্রান্তর সজীব উর্বর হয়ে গেলো। পরবর্তীকালে আবু তালেব এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, 'তিনি সুদর্শন, তাঁর চেহারা থেকে বৃষ্টির করুণা প্রত্যাশা করা হয়। তিনি এতিমদের আশ্রয় এবং বিধবাদের রক্ষাকারী।
📄 পাদ্রী বুহাইরা ও ফুজ্জারের যুদ্ধ
নবী মোহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স যখন বারো বছর, মতান্তরে বারো বছর দুই মাস দশদিন হলো তখন আবু তালেব তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় রওয়ানা হলেন। বসরায় পৌঁছার পর এক জায়গায় তাঁবু স্থাপন করলেন। সে সময় আরব উপদ্বীপের রোম অধিকৃত রাজ্যের রাজধানী সেরা ছিলো। সেই শহরে জারজিস নামে একজন পাদ্রী ছিলেন। তিনি বুহাইরা নামে পরিচিত ছিলেন। কাফেলা তাঁবু স্থাপনের পর বুহাইরা গীর্জা থেকে বের হয়ে কাফেলার লোকদের কাছে এলেন এবং তাদের মেহমানদারী করলেন। অথচ পাদ্রী বুহাইরা কখনো তার গীর্জা থেকে বের হতেন না। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চিনে ফেললেন এবং তাঁর হাত ধরে বললেন, তিনি সাইয়েদুল আলামিন। আল্লাহ তায়ালা এঁকে রহমাতুললিল আলামিন হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আবু তালেব বুহাইরাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এটা কিভাবে বুঝলেন? তিনি বললেন, আপনারা এই এলাকায় আসার পর এই বালকের সম্মানে এখানকার সব গাছপালা এবং পাথর সেজদায় নত হয়েছে। এরা নবী ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করে না। তাছাড়া মোহরে নবুয়তের দ্বারা আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি। তাঁর কাঁধের নীচে নরম হাড়ের পাশে এটি 'সেব' ফলের মতো মজুদ রয়েছে। আমরা তাঁর উল্লেখ আমরা আমাদের ধর্মীয় গ্রন্থে দেখেছি।
এরপর পাদ্রী বুহাইরা আবু তালেবকে বললেন, ওকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দিন। সিরিয়ায় নেবেন না। ইহুদীরা ওর ক্ষতি করতে পারে। এ পরামর্শ অনুযায়ী আবু তালেব কয়েকজন ভৃত্যের সঙ্গে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রকে মক্কায় পাঠিয়ে দিলেন।
ফুজ্জারের যুদ্ধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বয়স যখন পনের বছর, তখন ফুজ্জারের যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধে একদিকে কোরায়শ এবং তাদের সাথে ছিলো বনু কেনানা অন্যদিকে ছিলো কয়সে আয়নাল। কোরায়শ এবং কেনানার প্রধান ছিলো হারব ইবনে উমাইয়া। বয়স এবং বংশ মর্যাদার কারণে কোরায়শের কাছে সে সম্মানের পাত্র ছিলো। বনু কেনানাও তাকে সম্মান করতো। যুদ্ধের প্রথম প্রহরে কেনানার ওপর কয়েসের পাল্লা ভারি ছিলো। কিন্তু দুপুর হতে না হতেই কয়েসের ওপর কেনানার পাল্লা ভারি হয়ে গেলো। এই যুদ্ধকে ফুজ্জারের যুদ্ধ বলা হয়। কারণ যেহেতু এতে হরম এবং হারাম মাস উভয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিলো। এই যুদ্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও স্বয়ং অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর চাচাদের হাতে তীর তুলে দিতেন।
হেলফুল ফুযুল ফুজ্জারের যুদ্ধের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত যিলকদ মাসে হেলফুল ফুযুল সংঘটিত হয়। কয়েকটি গোত্র যেমন কোরায়শ অর্থাৎ বনি হাশেম, বনি মোত্তালেব, বনি আসাদ ইবনে আবদুল ওযযা, বনি যোহরা ইবনে কেলাব এবং বনু তাইম ইবনে মোররা এর ব্যবস্থা করেন। এরা সবাই আবদুল্লাহ ইবনে জুদআন তাইমির ঘরে একত্রিত হন। এরা বয়স এবং আভিজাত্যে ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। এরা পরস্পর এ মর্মে অংগীকার করলেন যে, মক্কায় সংঘটিত যে কোন প্রকার যুলুম অত্যাচার প্রতিরোধ করবেন।
হোক মক্কার অধিবাসী বা বাইরের কেউ— অত্যাচারিত হলে প্রতিকার করে তার অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হবে। এ সমাবেশে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ও উপস্থিত ছিলেন। নবুয়ত পাওয়ার পর এ ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলতেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে জুদআনের ঘরে এমন চুক্তিতে শরিক ছিলাম, যার বিনিময়ে লাল উটও আমার পছন্দ নয়। ইসলামী যুগে সেই চুক্তির জন্যে যদি আমাকে ডাকা হতো, তবে আমি অবশ্যই হাযির হতাম।
এ চুক্তির মূল ছিলো জাহেলী যুগের যাবতীয় বে-ইনসাফী দূরীকরণ। এ চুক্তির কারণ এটাই বলা হয়েছে যে, যোবায়েরের একজন লোক কিছু জিনিস নিয়ে মক্কায় এসেছিলো। আস ইবনে ওয়ায়েল তার কাছ থেকে সেই জিনিস ক্রয় করে, কিন্তু তার মূল্য পরিশোধ করেনি। আস ইবনে ওয়ায়েলের কাছে জিনিস বিক্রেতা আবদুদ দার, মাখজুম, জামিহ, ছাহাম এবং আদীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়নি। এরপর সেই লোকটি আবু কুরাইস পাহাড়ে উঠে উচ্চস্বরে কয়েকটি কবিতা আবৃত্ত করলো। সে কবিতায় তার প্রতি অত্যাচারের কথা বর্ণনা করা হয়েছিলো।
এতে যোবায়ের ইবনে আবদুল মোত্তালেব ছুটোছুটি শুরু করে বলেন, এই লোকটির কোন সাহায্যকারী নেই কেন? তার চেষ্টায় উল্লেখিত কয়েকটি গোত্র একত্রিত হলো। প্রথমে তারা চুক্তি করলো পরে আস ইবনে ওয়ায়েলের কাছ থেকে বিক্রীত পণ্যের মূল্য আদায় করে দিল।
সংগ্রামী জীবন যাপন তরুণ বয়সে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দিষ্ট কোন কাজ ছিলো না। তবে বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি বকরি চরাতেন। সেগুলো ছিলো বনি সা'দ গোত্রের। কয়েক কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কায় বিভিন্ন লোকের বকরিও তিনি চরাতেন। পঁচিশ বছর বয়সে তিনি হযরত খাদিজা (রা.) বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে সিরিয়ায় সফর করেন। ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, খাদিজা বিনতে খোয়াইলেদ একজন অভিজাত ও ধনবতী মহিলা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন লোককে দিয়ে পণ্য কিনতেন এবং সেসব পণ্য বিক্রি করাতেন। লাভের একটা অংশ তিনি গ্রহণ করতেন। সমগ্র কোরায়শ গোত্রই ব্যবসা করতো। বিবি খাদিজা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সততা, সচ্চরিত্রতা এবং নম্রতার কথা শুনে তাঁকে ব্যবসায় নিয়োগের জন্যে প্রস্তাব পাঠালেন। তিনি তাঁর ক্রীতদাস মায়ছারাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রস্তাব দিলেন। বিবি খাদিজা একথাও বললেন যে অন্য লোকদের তিনি যে পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেবেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং বিবি খাদিজার ব্যবসায়িক পণ্য (তথা মসলাদী) তাঁর ক্রীতদাস মায়ছারাকে সাথে করে নিয়ে সিরিয়া গেলেন।
টিকাঃ
১৬. তালকিহুল ফুহুম, ইবনে জওযি, পৃ. ৭
১৭. মুখতাছারুছ সীরাত, শেখ আবদুল্লাহ, পৃ. ১৬, ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ১৮০, ১৮৩, তিরমিযি সহ অনন্য গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি হযরত বেলালের সাথে মক্কায় ফিরে যান, কিন্তু এটা ভুল। বেলালের- তখনো জন্মই হয়নি। আর জন্ম হয়ে থাকলেও তিনি আবু তালেব বা আবু বকরের সাথে পরিচিত ছিলেন না। যাদুল মা'য়াদ, ১ম খন্ড, পৃ. ১৭
১৮. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ১৮৪-১৮৬ কলবে জাযিরাতুল আরব, পৃ. ৩৬০, তারীখে খাযরামি, ১ম খন্ড, পৃ. ৬৩
১৯. ইবনে হিশাম, ১ম খন্ড, পৃ. ১৩৩, ১৩৫, মুখতাছারুছ সীরাত, শেখ আবদুল্লাহ, পৃ. ৩০, ৩১।
২০. মুখতাছারুছ সীরাত, পৃ. ৩০-৩১
২১. ইবনে হিশাম ১ম খন্ড, পৃ. ৬২, ১৬৬
২২. সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃ. ৩০১