📄 যাতুর রেকা অভিযান
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের তিনটি শক্তির মধ্যে দু'টি শক্তি নিজ নিয়ন্ত্রণে আনার পর তৃতীয় শক্তির প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পেলেন। এরা ছিলো বেদুইন। নজদের প্রান্তরে তাঁবুতে তারা জীবন কাটাতো। লুটতরাজই ছিলো তাদের জীবিকার উৎস।
বেদুইনরা কোন জনপদ বা শহরের অধিবাসী ছিলো না। বাড়ীঘর বা দুর্গের মধ্যে তারা বসবাস করতো না। এ কারণে মক্কা এবং খয়বরের অধিবাসীদের মতো তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং দস্যুবৃত্তির আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত করা ছিলো কষ্টসাধ্য। তাদের শুধু ভীত-সন্ত্রস্ত করার মতো কাজ করাই ছিলো প্রয়োজনীয়।
এ সকল বেদুইনকে প্রভাবিত মদীনার আশে পাশে সমবেত বেদুইনদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে রসূলুল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক শিক্ষাদানমূলক অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানই যাতুর রেকা অভিযান নামে পরিচিত।
সীরাত রচয়িতারা উল্লেখ করেছেন যে, চতুর্থ হিজরীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিলো। কিন্তু ইমাম বোখারী (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, সপ্তম হিজরীতে এ অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) এবং হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা.) অংশগ্রহণ করেছিলেন এ কারণে সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, খয়বর যুদ্ধের পরই এ ঘটনা ঘটেছিলো। কেননা হযরত আবু হোরায়রা (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খয়বর অভিযানে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর মদীনায় গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি খয়বরে গিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করেন। ততোদিনে খয়বর বিজয় সমাপ্ত হয়ে গেছে। হযরত আবু মূসা আশয়ারীও হাবশা থেকে সেই সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে খয়বরে পৌঁছেছিলেন যখন খয়বর বিজিত হয়েছে। এ কারণে যাতুর রেকা অভিযানে উল্লিখিত দু'জন সাহাবীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এ অভিযান খয়বর বিজয়ের পর কোন এক সময় ঘটেছিলো।
সীরাত রচয়িতারা এ অভিযান সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার সার কথা হচ্ছে এই যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসার বা বনু গাতফানের দু'টি শাখা বনি ছালাবা এবং বনি মাহারেবের সমবেত হওয়ার খবর পেয়ে মদীনায় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হযরত আবু যর গেফারী (রা.) মতান্তরে হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর ওপর ন্যস্ত করেন। পরে চারশত মতান্তরে সাতশত সাহাবাকে নিয়ে নজদ অভিমুখে যাত্রা করেন। মদীনা থেকে দুইদিনের পথের নাখলা নামক জায়গায় পৌছার পর তারা বনু গাতফানের একদল লোকের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাদের সাথে যুদ্ধ হয়নি। তবে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে খওফ নামায আদায় করেন।
সহীহ বোখারী শরীফে হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বেরুলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। মাত্র একটি উট ছিলো। পালাক্রমে আমরা সেই উটের পিঠে সওয়ার হচ্ছিলাম। ফলে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়। আমার নিজের দুই পা যখম হয়ে যায়, নখে আঘাত পাই। ফলে আমরা পায়ে পট্টি বেঁধেছিলাম। যাতুর রেকা মানে হচ্ছে পট্টিওয়ালা। কেননা এ অভিযানের সময় আমরা পায়ে পট্টি বেঁধে রেখেছিলাম।
সহীহ বোখারীতে হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা যাতুর রেকা অভিযানের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। নিয়ম ছিলো যখন আমরা কোন ছায়াদানকারী গাছের নীচে যেতাম তখন সেই গাছের ছায়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে রাখতাম। একবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ছায়াদানকারী গাছের নীচে বিশ্রাম করছিলেন, সাহাবারা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের শাখায় তলোয়ার ঝুলিয়ে বিশ্রাম নেয়ার এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। হযরত যাবের বলেন, আমরা সকলেও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ইত্যবসরে একজন পৌত্তলিক এসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তলোয়ার হাতে নিয়ে বললো, তুমি আমাকে ভয় পাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবিচলিত কণ্ঠে বললেন, না, মোটেই না। পৌত্তলিক বললো, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা।
হযরত জাবের (রা.) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ডাকলেন। আমরা তাঁর কাছে গিয়ে দেখি একজন অপরিচিত লোক তলোয়ার হাতে নিয়ে বসে আছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি শুয়েছিলাম, এমন সময় এই লোকটি আমার তলোয়ার হাতে নিয়েছে এরপর আমাকে বলেছে, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? আমি বলেছি, আল্লাহ রক্ষা করবেন। এই সেই লোক। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোন কটু কথা বলেননি।
আবু আওয়ানার বর্ণনায় আরো উল্লেখ রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করবেন তখনই তার হাত থেকে তলোয়ার খসে পড়ে যায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তলোয়ার হাতে নিয়ে লোকটিকে বললেন, এবার বলো, তোমাকে কে রক্ষা করবে? লোকটি বললো, আপনার দয়াই আমার ভরসা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রসূল। লোকটি বললো, আমি আপনার সাথে অঙ্গীকার করছি যে, আপনার সাথে লড়াই করবো না এবং যারা আপনার সাথে লড়াই করে তাদের কোন প্রকার সাহায্য করবো না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরে লোকটিকে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে হযরত জাবের (রা.) উল্লেখ করেছেন। লোকটি নিজের কওমের কাছে গিয়ে বললো, আমি সবচেয়ে ভালো মানুষের কাছ থেকে তোমাদের কাছে এসেছি।
সহীহ বোখারীর এক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, নামাযের একামত বলা হয়েছে এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল সাহাবাকে দুই রাকাত নামায পড়ালেন। এরপর তারা পেছনে চলে যান এবং তিনি অন্য একদল সাহাবাকে দুই রাকাত নামায পড়ান। এতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চার রাকাত এবং সাহাবাদের দুই রাকাত নামায আদায় হয়। এই বর্ণনার বর্ণনাক্রম থেকে বোঝা যায় যে, এই নামায উল্লিখিত ঘটনার পরেই আদায় করা হয়।
সহীহ বোখারীর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, এ লোকটির নাম গোওরেস ইবনে হারেছ। উক্ত বর্ণনা মোসাদ্দাদ আবু আওয়ানা থেকে এবং আবু আওয়ানা আবু বিশর থেকে উল্লেখ করেছেন।
ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, ওয়াকেদী এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, সেই বেদুইনের নাম ছিলো দাসুর এবং সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু ওয়াকেদীর কথা থেকে বোঝা যায় যে, ঘটনা দু'টি পৃথক সময়ে ঘটেছিলো। পৃথক পৃথক দু'টি যুদ্ধের সময় এ ঘটনা দু'টি ঘটে। আল্লাহই ভালো জানেন।
এ অভিযান থেকে ফিরে আসার সময় সাহাবায়ে কেরাম একজন মোশরেক নারীকে আটক করেন। এ খবর পেয়ে সেই মহিলার স্বামী প্রতিজ্ঞা করে যে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে থেকে সে একজনের রক্ত প্রবাহিত করবে। প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্যে যে রাত্রিকালে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে শত্রুদের হাত থেকে হেফাযত করতে ওব্বাদ ইবনে বাশার এবং আম্মার ইবনে ইয়াসেরকে নিযুক্ত রেখেছিলেন। লোকটি আসার সময়ে হযরত ওব্বাদ নামায আদায় করছিলেন। সে অবস্থায় শত্রু তাঁকে তীর নিক্ষেপ করে। তিনি নামায না ছেড়ে এক ঝটকায় তীর বের করে ফেলেন। লোকটি দ্বিতীয়বার তীর নিক্ষেপ করলো এরপর তৃতীয়বার তীর নিক্ষেপ করলো। প্রতিবারই তিনি তীর খুলে ফেলেন। ছালাম ফিরায়ে নামায শেষ করার পর সঙ্গীকে জাগালেন এবং সব কথা জানালেন। সঙ্গী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের বিস্মিত হয়ে বললেন, আপনি আমাকে কেন জাগালেন না? তিনি বললেন, আমি একটি সূরা তেলাওয়াত করছিলাম, সূরাটি শেষ না করে নামায শেষ করতে আমার ইচ্ছা হচ্ছিলো না।
কঠিন হৃদয় আরব বেদুইনদের অর্থাৎ যাযাবরদের প্রভাবিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত করতে এ যুদ্ধ ছিলো খুবই কার্যকর। এই অভিযানের পরবর্তী সময়ের অভিযানসমূহের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই অভিযানের পর গাতফানের গোত্রসমূহ মাথা তোলার সাহস পায়নি। তারা ধীরে ধীরে নিস্তেজ এবং হীনবল হয়ে এক সময় ইসলাম গ্রহণ করে। এ সকল আরব গোত্রের কয়েকটিকে মক্কা বিজয় এবং হোনায়েনের যুদ্ধের সময় মুসলমানদের সাথে দেখা গেছে। তাদেরকে গনীমতের মালের অংশও প্রদান করা হয়েছে। মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করতে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্মচারীদের প্রেরণ করা হয়েছিলো এবং তারা যথারীতি যাকাত পরিশোধ করেছিলো। মোটকথা, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মপদ্ধতির ফলে খন্দকের যুদ্ধের সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তিনটি শক্তিই চূণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। এর ফলে সমগ্র এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তার বিস্তার ঘটে। এরপরে বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু গোত্র হৈ চৈ করেছিলো কিন্তু মুসলমানরা সহজেই তাদেরকে কাবু করে ফেলেন। এই অভিযানের পরই বড় বড় শহর ও দেশ জয়ের অভিযানের পথ মুসলমানদের জন্যে প্রশস্ত হতে শুরু করে। কেননা, এ অভিযানের পর দেশের আভ্যন্তরীণ অবস্থা ইসলাম ও মুসলমানদের অনুকূলে আসে।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের তিনটি শক্তির মধ্যে দু'টি শক্তি নিজ নিয়ন্ত্রণে আনার পর তৃতীয় শক্তির প্রতি মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পেলেন। এরা ছিলো বেদুইন। নজদের প্রান্তরে তাঁবুতে তারা জীবন কাটাতো। লুটতরাজই ছিলো তাদের জীবিকার উৎস।
বেদুইনরা কোন জনপদ বা শহরের অধিবাসী ছিলো না। বাড়ীঘর বা দুর্গের মধ্যে তারা বসবাস করতো না। এ কারণে মক্কা এবং খয়বরের অধিবাসীদের মতো তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং দস্যুবৃত্তির আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত করা ছিলো কষ্টসাধ্য। তাদের শুধু ভীত-সন্ত্রস্ত করার মতো কাজ করাই ছিলো প্রয়োজনীয়।
এ সকল বেদুইনকে প্রভাবিত মদীনার আশে পাশে সমবেত বেদুইনদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে রসূলুল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক শিক্ষাদানমূলক অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানই যাতুর রেকা অভিযান নামে পরিচিত।
সীরাত রচয়িতারা উল্লেখ করেছেন যে, চতুর্থ হিজরীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিলো। কিন্তু ইমাম বোখারী (রা.) উল্লেখ করেছেন যে, সপ্তম হিজরীতে এ অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) এবং হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা.) অংশগ্রহণ করেছিলেন এ কারণে সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, খয়বর যুদ্ধের পরই এ ঘটনা ঘটেছিলো। কেননা হযরত আবু হোরায়রা (রা.) রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খয়বর অভিযানে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর মদীনায় গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি খয়বরে গিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করেন। ততোদিনে খয়বর বিজয় সমাপ্ত হয়ে গেছে। হযরত আবু মূসা আশয়ারীও হাবশা থেকে সেই সময় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে খয়বরে পৌঁছেছিলেন যখন খয়বর বিজিত হয়েছে। এ কারণে যাতুর রেকা অভিযানে উল্লিখিত দু'জন সাহাবীর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, এ অভিযান খয়বর বিজয়ের পর কোন এক সময় ঘটেছিলো।
সীরাত রচয়িতারা এ অভিযান সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার সার কথা হচ্ছে এই যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসার বা বনু গাতফানের দু'টি শাখা বনি ছালাবা এবং বনি মাহারেবের সমবেত হওয়ার খবর পেয়ে মদীনায় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হযরত আবু যর গেফারী (রা.) মতান্তরে হযরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর ওপর ন্যস্ত করেন। পরে চারশত মতান্তরে সাতশত সাহাবাকে নিয়ে নজদ অভিমুখে যাত্রা করেন। মদীনা থেকে দুইদিনের পথের নাখলা নামক জায়গায় পৌছার পর তারা বনু গাতফানের একদল লোকের মুখোমুখি হন। কিন্তু তাদের সাথে যুদ্ধ হয়নি। তবে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে খওফ নামায আদায় করেন।
সহীহ বোখারী শরীফে হযরত আবু মূসা আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে বেরুলাম। আমরা ছিলাম ছয়জন। মাত্র একটি উট ছিলো। পালাক্রমে আমরা সেই উটের পিঠে সওয়ার হচ্ছিলাম। ফলে হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোস্কা পড়ে যায়। আমার নিজের দুই পা যখম হয়ে যায়, নখে আঘাত পাই। ফলে আমরা পায়ে পট্টি বেঁধেছিলাম। যাতুর রেকা মানে হচ্ছে পট্টিওয়ালা। কেননা এ অভিযানের সময় আমরা পায়ে পট্টি বেঁধে রেখেছিলাম।
সহীহ বোখারীতে হযরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আমরা যাতুর রেকা অভিযানের সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। নিয়ম ছিলো যখন আমরা কোন ছায়াদানকারী গাছের নীচে যেতাম তখন সেই গাছের ছায়া রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্যে রাখতাম। একবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ছায়াদানকারী গাছের নীচে বিশ্রাম করছিলেন, সাহাবারা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে গিয়েছিলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের শাখায় তলোয়ার ঝুলিয়ে বিশ্রাম নেয়ার এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। হযরত যাবের বলেন, আমরা সকলেও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ইত্যবসরে একজন পৌত্তলিক এসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তলোয়ার হাতে নিয়ে বললো, তুমি আমাকে ভয় পাও? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবিচলিত কণ্ঠে বললেন, না, মোটেই না। পৌত্তলিক বললো, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা।
হযরত জাবের (রা.) বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের ডাকলেন। আমরা তাঁর কাছে গিয়ে দেখি একজন অপরিচিত লোক তলোয়ার হাতে নিয়ে বসে আছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি শুয়েছিলাম, এমন সময় এই লোকটি আমার তলোয়ার হাতে নিয়েছে এরপর আমাকে বলেছে, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? আমি বলেছি, আল্লাহ রক্ষা করবেন। এই সেই লোক। এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কোন কটু কথা বলেননি।
আবু আওয়ানার বর্ণনায় আরো উল্লেখ রয়েছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা রক্ষা করবেন তখনই তার হাত থেকে তলোয়ার খসে পড়ে যায়। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তলোয়ার হাতে নিয়ে লোকটিকে বললেন, এবার বলো, তোমাকে কে রক্ষা করবে? লোকটি বললো, আপনার দয়াই আমার ভরসা। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রসূল। লোকটি বললো, আমি আপনার সাথে অঙ্গীকার করছি যে, আপনার সাথে লড়াই করবো না এবং যারা আপনার সাথে লড়াই করে তাদের কোন প্রকার সাহায্য করবো না। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরে লোকটিকে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে হযরত জাবের (রা.) উল্লেখ করেছেন। লোকটি নিজের কওমের কাছে গিয়ে বললো, আমি সবচেয়ে ভালো মানুষের কাছ থেকে তোমাদের কাছে এসেছি।
সহীহ বোখারীর এক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, নামাযের একামত বলা হয়েছে এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল সাহাবাকে দুই রাকাত নামায পড়ালেন। এরপর তারা পেছনে চলে যান এবং তিনি অন্য একদল সাহাবাকে দুই রাকাত নামায পড়ান। এতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চার রাকাত এবং সাহাবাদের দুই রাকাত নামায আদায় হয়। এই বর্ণনার বর্ণনাক্রম থেকে বোঝা যায় যে, এই নামায উল্লিখিত ঘটনার পরেই আদায় করা হয়।
সহীহ বোখারীর বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, এ লোকটির নাম গোওরেস ইবনে হারেছ। উক্ত বর্ণনা মোসাদ্দাদ আবু আওয়ানা থেকে এবং আবু আওয়ানা আবু বিশর থেকে উল্লেখ করেছেন।
ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, ওয়াকেদী এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন, সেই বেদুইনের নাম ছিলো দাসুর এবং সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু ওয়াকেদীর কথা থেকে বোঝা যায় যে, ঘটনা দু'টি পৃথক সময়ে ঘটেছিলো। পৃথক পৃথক দু'টি যুদ্ধের সময় এ ঘটনা দু'টি ঘটে। আল্লাহই ভালো জানেন।
এ অভিযান থেকে ফিরে আসার সময় সাহাবায়ে কেরাম একজন মোশরেক নারীকে আটক করেন। এ খবর পেয়ে সেই মহিলার স্বামী প্রতিজ্ঞা করে যে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে থেকে সে একজনের রক্ত প্রবাহিত করবে। প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্যে যে রাত্রিকালে এলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে শত্রুদের হাত থেকে হেফাযত করতে ওব্বাদ ইবনে বাশার এবং আম্মার ইবনে ইয়াসেরকে নিযুক্ত রেখেছিলেন। লোকটি আসার সময়ে হযরত ওব্বাদ নামায আদায় করছিলেন। সে অবস্থায় শত্রু তাঁকে তীর নিক্ষেপ করে। তিনি নামায না ছেড়ে এক ঝটকায় তীর বের করে ফেলেন। লোকটি দ্বিতীয়বার তীর নিক্ষেপ করলো এরপর তৃতীয়বার তীর নিক্ষেপ করলো। প্রতিবারই তিনি তীর খুলে ফেলেন। ছালাম ফিরায়ে নামায শেষ করার পর সঙ্গীকে জাগালেন এবং সব কথা জানালেন। সঙ্গী হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসের বিস্মিত হয়ে বললেন, আপনি আমাকে কেন জাগালেন না? তিনি বললেন, আমি একটি সূরা তেলাওয়াত করছিলাম, সূরাটি শেষ না করে নামায শেষ করতে আমার ইচ্ছা হচ্ছিলো না।
কঠিন হৃদয় আরব বেদুইনদের অর্থাৎ যাযাবরদের প্রভাবিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত করতে এ যুদ্ধ ছিলো খুবই কার্যকর। এই অভিযানের পরবর্তী সময়ের অভিযানসমূহের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই অভিযানের পর গাতফানের গোত্রসমূহ মাথা তোলার সাহস পায়নি। তারা ধীরে ধীরে নিস্তেজ এবং হীনবল হয়ে এক সময় ইসলাম গ্রহণ করে। এ সকল আরব গোত্রের কয়েকটিকে মক্কা বিজয় এবং হোনায়েনের যুদ্ধের সময় মুসলমানদের সাথে দেখা গেছে। তাদেরকে গনীমতের মালের অংশও প্রদান করা হয়েছে। মক্কা বিজয় থেকে ফিরে আসার পর তাদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করতে ইসলামী রাষ্ট্রের কর্মচারীদের প্রেরণ করা হয়েছিলো এবং তারা যথারীতি যাকাত পরিশোধ করেছিলো। মোটকথা, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্মপদ্ধতির ফলে খন্দকের যুদ্ধের সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তিনটি শক্তিই চূণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। এর ফলে সমগ্র এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তার বিস্তার ঘটে। এরপরে বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু গোত্র হৈ চৈ করেছিলো কিন্তু মুসলমানরা সহজেই তাদেরকে কাবু করে ফেলেন। এই অভিযানের পরই বড় বড় শহর ও দেশ জয়ের অভিযানের পথ মুসলমানদের জন্যে প্রশস্ত হতে শুরু করে। কেননা, এ অভিযানের পর দেশের আভ্যন্তরীণ অবস্থা ইসলাম ও মুসলমানদের অনুকূলে আসে।
📄 বিদায় হজ্জ
দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ পূর্ণ হয়েছে। আল্লাহর রবুবিয়ত এবং অন্য সকল মতাদর্শের বিলোপ সাধন করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাতের ভিত্তিতে একটি নতুন সমাজ গঠন করা হয়েছে। এরপর যেন এর অদৃশ্য ঘোষক রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিন্তা ও চেতনায় এ ধারণা বন্ধমূল করেছিলো যে, পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানের মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মায়া'য (রা.)-কে ইয়েমেনের গবর্নর নিযুক্ত করে প্রেরণ করার সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় কথার পর বললেন, হে মায়া'য সম্ভবত এই বছরের পর আমার সাথে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে না। হয়তো এরপর তুমি আমার মসজিদ এবং কবরের কাছে দিয়ে অতিক্রম করবে। হযরত মায়া'য (রা.) একথা শুনে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিরবিদায়ের কথা ভেবে কাঁদতে শুরু করলেন।
প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা চাচ্ছিলেন যে, তাঁর রসূলকে দীর্ঘ বিশ বছরের দুঃখকষ্ট ও নির্যাতনের সুফল প্রত্যক্ষ করাবেন। হজ্জের সময় মক্কার বিভিন্ন এলাকা থেকে জনসাধারণ এবং জন প্রতিনিধিদল মক্কায় সমবেত হবেন এরপর তারা নবী করিমের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাছ থেকে শরীয়তের বিধি-বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের কাছ থেকে এ মর্মে সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন যে, আমি আমার ওপর অর্পিত আমানত পূর্ণ করেছি, আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং উম্মতের কল্যাণের হক আদায় করেছি। আল্লাহর এইরূপ ইচ্ছা অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐতিহাসিক হজ্জের তারিখ ঘোষণা করলেন তখন নির্দিষ্ট দিনে দলে দলে মুসলমান মক্কায় পৌছুতে শুরু করলেন। সমবেত সকলেই মনে-প্রাণে চাচ্ছিলেন যে, তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ গ্রহণ করে তাঁর আনুগত্য মেনে নেবেন। ১
অতপর শনিবার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার পথে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। যিলকদ মাসের তখনো চারদিন বাকি ছিলো। ২ তিনি মাথায় তেল দিলেন, চুল আঁচড়ালেন, তহবন্দ পরলেন, চাদর গায়ে জড়ালেন, কোরবানীর পশুকে সজ্জিত করলেন এবং যোহরের পর রওয়ানা হলেন। আছরের আগেই তিনি যুল হুলাইফা নামক জায়গায় পৌছুলেন। সেখানে আছরের দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। রাত যাপনের জন্যে তাঁবু স্থাপন করলেন। সেখানে রাত কাটালেন। সকালে তিনি সাহাবাদের বললেন, রাতে আমার পরওয়াদেগারের কাছ থেকে একজন আগন্তুক এসে বলেছে, হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পবিত্র প্রান্তরে নামায আদায় করুন এবং বলুন যে, হজ্জের মধ্যে ওমরাহ রয়েছে। ৩
টিকাঃ
১. এই হাদীস সহীহ মুসলিম শরীফে হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত রয়েছে। দ্রষ্টব্য প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৪, হুজ্জাতুল নবী অধ্যায়।
২. হাফেজ ইবনে হাজর এ ব্যাপারে চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন। কোন কোন বর্ণনায় জিলকদ মাসের ৫ দিন বাকি থাকার যে কথা রয়েছে তা সংশোধন করেছেন। দ্রষ্টব্য ফতহুল বারী, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা ১০৪
৩. বোখারী শরীফে হযরত ওমর (রাঃ) থেকে এই বর্ণনা সঙ্কলিত হয়েছে। প্রথম খন্ড, পৃষ্ঠা ২০৭।
📄 সর্বশেষ সামরিক অভিযান
সুবিস্তৃত রোমক সাম্রাজ্যের শাসকবর্গ ইসলাম এবং ইসলাম গ্রহণকারীদের বেঁচে থাকার অধিকার মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলো না। এ কারণে রোমক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কারো ইসলাম গ্রহণ করা ছিলো বিপজ্জনক। রোমক গবর্নর হযরত ফারওয়াহ ইবনে আমর জোযামীর ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা ছিলো অন্যদের জন্যেও প্রবল।
রোমক সাম্রাজ্যের শাসকদের এ ধরনের ঔদ্ধত্য এবং অহঙ্কারপূর্ণ আচরণের প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাদশ হিজরীর সফর মাসে এক বিরাট বাহিনী তৈরীর কাজ শুরু করলেন। হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-কে সেই বাহিনীর সিপাহসালার নিযুক্ত করে তিনি আদেশ দিলেন যে, বালকা এলাকা এবং দারুমের ফিলিস্তিনী ভূখন্ড সওয়ারদের মাধ্যমে নাস্তানাবুদ করে এসো। রোমকদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাসকারী আরব গোত্রসমূহের মনে সাহস সঞ্চার করাই ছিলো এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। এর ফলে কেউ একথা ভাবতে পারবে না যে, গীর্জার বাড়াবাড়ি ও স্বেচ্ছাচারিতার সামনে কথা বলার কেউ নেই। তাছাড়া একথাও কেউ মনে করতে পারবে না যে, ইসলাম গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে নিজের মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।
হযরত উসামা (রা.)-কে সেনাপতি নিযুক্ত করার কারণে কেউ কেউ সমালোচনা করে এ অভিযানের প্রস্তুতিও অংশগ্রহণে ইতস্তত করলেন। এ অবস্থা লক্ষ্য করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা যদি উসামার সেনাপতিত্বের প্রশ্নে সমালোচনা মুখর হও তবে তো বলতেই হয় যে, ইতিপূর্বে তার পিতাকে সেনাপতি নিযুক্ত করায় তোমরা সমালোচনা মুখর হয়েছিলে। অথচ আল্লাহর শপথ, যায়েদ ছিলো সেনাপতি হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন। এছাড়া সে ছিলো আমার প্রিয় ভাজনদের অন্যতম। উসামাও যায়েদের পর আমার প্রিয় ভাজনদের অন্যতম। ১
তখন সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হযরত উসামা (রা.)-এর আশপাশে সমবেত হয়ে তাঁর সেনাবাহিনীতে শামিল হলেন। এই সেনাবাহিনী রওয়ানা হয়ে মদীনা থেকে তিন মাইল দূরে মাকামে যরফ নামক স্থানে অবস্থান গ্রহণ করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসুখ সম্পর্কে উদ্বেগজনক খবর পেতে থাকায় তারা সামনে অগ্রসর হননি। আল্লাহর ফয়সালার অপেক্ষায় তারা সেখানেই অপেক্ষা করতে লাগলেন। আল্লাহর ফয়সালা ছিলো এই যে, হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম সামরিক অভিযান হিসাবে এটি আখ্যায়িত হবে। ২
টিকাঃ
১. সহীহ বোখারী, উসামাকে প্রেরণ অধ্যায়, উসামা দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৬১২ ২. সহীহ বোখারী, এবং ইবনে হিশাম, দ্বিতীয় খন্ড, পৃ. ৬০৬-৬৫০।