📄 রাসূল ﷺ এর হাদীসের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ
প্রথম পরিচ্ছেদ
রাসূল ﷺ এর হাদীস সমূহের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পন্থা হলঃ
২৯০- রাসূল ﷺ এর আদর্শের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ জীবনে অনুসরণ করা।
২৯১- এবং মুহাজিরগণ ও আনসারীগণ, যাঁরা প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহনকারী তাঁদের পথের অনুসরণ করা।
২৯২- আর আল্লাহর রাসূল ﷺ এর অসিয়তের (উপদেশ) অসুসরণ করা। যেহেতু তিনি ﷺ বলেনঃ আমার ও আমার পর হিদায়াত প্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাতকে (মতাদর্শকে) আঁকড়ে ধর, তাকে মজবুত করে ধর। দাঁতের মাড়ি দ্বারা ধারণ কর। নব আবিষ্কৃত জিনিস হতে বিরত থাক। কারণ প্রতিটি নবপ্রথা বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত গুমরাহী (পথভ্রষ্টতা)। (আবু দাউদ- ৪৬০৭, ও তিরমিযী-২৬৭৬)
২৯৩- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহর বাণীই হচ্ছে সর্বাধিক সত্য বাণী। আর উত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শ।
২৯৪- সুতরাং তাঁরা আল্লাহর বাণীকে যেকোন মানুষের কথার উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
২৯৫- এবং মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শকে যে কোন মানুষের মতাদর্শের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তাই তাঁদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ ওয়ালা বলা হয়।
২৯৬- আর তাঁদেরকে জামাআত ওয়ালাও বলা হয়। কারণ জামাআতের অর্থই হচ্ছে একতাবদ্ধ হওয়া। আর তার বিপরীত হচ্ছে বিচ্ছিন্নতা। যদিও পরবর্তীতে কোন একটি একতাবদ্ধ দলকে জামাআত বলা হচ্ছে।
২৯৭- আর ইজমা হল (ইসলামী বিধানের) তৃতীয় উৎস, যার উপর শরীয়তের (দ্বীনের বিধানের) ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
২৯৮- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই তিনটি (কিতাব, সুন্নাত ও ইজমা) জিনিস দ্বারা মানুষের সেই সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপনীয় কথা ও কার্য সমূহের মাপ করে থাকে, যার ধর্মের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।
২৯৯- আর সেই ইজমাই গ্রহনযোগ্য যার উপর সালাফ-সলেহীনগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীন) ইজমা (ঐক্যমত) পোষণ করেছেন। কারণ তাঁদের পরে মতানৈক্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই উম্মতের মাঝে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।
📄 আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যাবলী
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
আহলে সুন্নাতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলীঃ
অতঃপর আহলে সুন্নাত উপরোক্ত তিনটি মৌলিক উৎসের প্রতি বিশ্বাসের সাথে সাথে নিম্নল্লোখিত কার্যাবলীও সম্পাদন করে থাকেনঃ
৩০০- শরীয়তের দৃষ্টিতে তাঁরা সৎ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন ও অন্যায় কাজ থেকে বাধা দান করেন।
৩০১- মুসলিম সরকার সৎ হোক কিংবা পাপী (অসৎ) আইলে সুন্নাত তাদের সাথে হজ্জ, জিহাদ, (ধর্মযুদ্ধ) জুমআ ও ঈদ কায়েম করার মত পোষণ করেন।
৩০৩- তাঁরা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করে থাকেন।
৩০৪- তাঁরা নবী ﷺ এর নিম্নলিখিত বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখেনঃ
রাসূল ﷺ এরশাদ করেনঃ এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ঘরের ন্যায়, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। (বোখারী ও মুসলিম)
তিনি ﷺ আরো বলেনঃ মুমিনদের এক অপরের সাথে ভালবাসায়, দয়াশীল হওয়ায় এবং সমবেদনা প্রকাশের উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়। যখন দেহের কোন অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন সমস্ত দেহটি জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে উক্ত অঙ্গের সাথে সমবেদনা পেশ করে থাকে। (বোখারী ও মুসলিম)
৩০৫- আহলে সুন্নাত আপদ-বিপদে ধৈর্য্য ধারণের নির্দেশ দান করে, সচ্ছলতার সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বলে এবং তিক্ত তকদীরের (ভাগ্যের) উপর সন্তষ্ট থাকার উপদেশ দিয়ে থাকে।
📄 আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য
৩০৬- তাঁরা সৎ চরিত্র এবং উত্তম কার্যাবলীর দিকে আহবান করে।
৩০৭- তাঁরা নবী ﷺ এর বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখেন। তিনি ﷺ বলেনঃ মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
৩০৮- আর তাঁরা (আহলে সুন্নাত) মানুষকে উৎসাহিত করে, যে ব্যক্তিসম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে, তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে। যে ব্যক্তি কোন জিনিস হতে বঞ্চিত, তাকে প্রদান করবে। আর যে ব্যক্তি অন্যায় করে, তাকে ক্ষমা করে দেবে।
৩০৯- আহলে সুন্নাত মাতা-পিতার সেবা, আত্বীয়তায় সুসম্পর্ক, প্রতিবেশীদের সাথে সৎ ব্যবহার এবং ইয়াতীম (পিতৃহীন), দরিদ্র ও পথিকের সঙ্গে সদাচরণ আর কৃতদাসের সাথে নম্র ব্যবহার করার উপদেশ দিয়ে থাকে।
৩১০- আর অহংকার, আত্বগৌরব, অত্যাচার ও ন্যায় সঙ্গত হোক বা অন্যায় হোক, মানুষের উপর বাড়াবাড়ী করা হতে নিষেধ করে।
৩১১- আর তাঁরা উত্তম চরিত্রের নির্দেশ দিয়ে থাকেন।
৩১২- এবং নোংরা চরিত্র থেকে নিষেধ করে থাকেন।
৩১৩- আর তাঁরা যা কিছু বলেন অথবা করেন, তার সম্পর্ক এই বিষয়ের সাথে হোক বা অন্য বিষয়ের সাথে হোক, তাতে তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী।
৩১৪- আর তাঁদের পন্থা হল দ্বীনে ইসলাম, যা নিয়ে মহান আল্লাহ নবী মুহাম্মদ ﷺ কে প্রেরণ করেন।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্যঃ
৩১৫- নবী ﷺ এরশাদ করেনঃ নিঃসন্দেহে আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে, তাদের একটি দল ছাড়া সবগুলো নরকে যাবে, আর সেই দলটি হলঃ "জামাআত”। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা) (সহীহ, সিলসিলা সহীহ-২০৪)।
৩১৬- নবী ﷺ এর হাদীসে তিনি এরশাদ করেনঃ (একটি দল জান্নাতে যাবে) তাঁরা সেই লোক যাঁরা আমার ও আমার সাহাবীগণের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবেন।
(তিরমিযী, হাকেম মুসতাদরাক, সহীহ
(দেখুন সিলসিলা সহীহা আলবানী ২০৩-২০৪)।
সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতই একমাত্র হক্বপন্থি দল, যাঁরা খাঁটি ও নির্ভেজাল ইসলামকে শক্তভাবে ধারণ করে রেখেছেন।
৩১৭- আহলে সুন্নাতের মধ্যে শামিল রয়েছেনঃ সিদ্দীকগণ (অতি সত্যবাদী), শহীদগণ এবং সৎ-কর্মশীলগণ।
৩১৮- তাদের মাঝে রয়েছেন হিদায়াত প্রাপ্ত মনিষীগণ এবং মর্যাদা সম্পন্ন ও ফজিলতের অধিকারী ইসলামের উজ্জল তারকাগণ।
৩১৯- তাদের মধ্যে রয়েছেন আল্লাহর অলীগণ। যাঁরা সালাফ-সালেহীনদের উত্তরসূরী ছিলেন।
৩২০-আর তাদের মাঝে রয়েছেন সে সমস্ত ইমামগণ, যাঁদের সততা ও জ্ঞান-গরীমার ব্যাপারে মুসলিম উম্মত একমত হয়েছেন।
৩২১- তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতই হচ্ছে সাহায্য প্রাপ্তদল, যাদের ক্ষেত্রে নবী ﷺ এরশাদ করেছেনঃ সর্বদা আমার উম্মতের একটি দল ন্যায়ের উপর কিয়ামত পর্যন্ত জয়ী থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে অথবা তাঁদের লাঞ্ছিত করতে চাইবে, তারা তাঁদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবেনা। (বোখারী মুসলিম) (হাদীস মুতাওয়াতির)
📄 পরিশিষ্ট
পরিশিষ্টঃ
মহান আল্লাহর নিকট কামনা করি যেন তিনি আমাদেরকে তাঁদের (সাহায্যপ্রাপ্ত দলের) অর্ন্তভূক্ত করেন। এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করার পর আমাদের অন্তর সমূহকে বক্র পথে ফিরিয়ে না দেন ও আমাদেরকে তাঁর নিকট হতে অনুগ্রহ প্রদান করেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরম দাতা।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের পালনকর্তা। দরুদ ও শান্তির ধারা বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি, তাঁর বংশধর, সমস্ত নবী ও রাসূলগণ ও তাঁদের বংশধর এবং সমস্ত সৎকর্মশীলদের প্রতি।
সমাপ্ত
এই কিতাবটি পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় দশক সন ৭৩৬ হিজরীতে দামেস্কের মাদ্রাসা যাহেরিয়ায় লিখা সমাপ্ত হয়।
وصلى الله وسلم على خاتم الأنبياء والمرسلين وعلى آله
وأصحابه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين।