📄 আওলিয়ায়ে কিরামের কারামতে বিশ্বাস
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
আওলিয়ায়ে কিরামের কারামতে বিশ্বাসঃ
আহলে সুন্নাতের মূলনীতি সমূহের অর্ন্তভূক্ত হলঃ
২৮৭- আল্লাহর অলীগণের কারামতে (অলৌকিক ঘটনায়) বিশ্বাসী হওয়া।
২৮৮- আর যে সব অলৌকিক ঘটনাবলী মহান আল্লাহ তাঁদের হাতে প্রকাশ করে থাকেন, যেমন বিভিন্ন প্রকারের ইলম ও জ্ঞান, কাশফ্ট, বিভিন্ন ধরনের শক্তি ও প্রতিক্রিয়া যা সুরা কাহাফ ও অন্যান্য সুরায় পূর্ববর্তী উম্মতের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তেমনি এই উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার প্রথম সারির মুমিনগণ অর্থাৎ সাহাবাগণ, তাবেয়ীন এবং এই উম্মতের সর্বযুগের সৎ ব্যক্তিগণ হতে আল্লাহ তায়ালা কারামত প্রকাশ করে থাকেন।
২৮৯- আর কারামত এই উম্মতের কেয়ামত পর্যন্ত প্রকাশ পেতে থাকবে।
📄 আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ ও বৈশিষ্টাবলী
ষষ্ঠ অধ্যায়
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলীঃ
এই অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছেঃ
প্রথম পরিচ্ছেদঃ রাসূল ﷺ এর হাদীস সমূহের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলী।
📄 রাসূল ﷺ এর হাদীসের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ
প্রথম পরিচ্ছেদ
রাসূল ﷺ এর হাদীস সমূহের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পন্থা হলঃ
২৯০- রাসূল ﷺ এর আদর্শের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ জীবনে অনুসরণ করা।
২৯১- এবং মুহাজিরগণ ও আনসারীগণ, যাঁরা প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহনকারী তাঁদের পথের অনুসরণ করা।
২৯২- আর আল্লাহর রাসূল ﷺ এর অসিয়তের (উপদেশ) অসুসরণ করা। যেহেতু তিনি ﷺ বলেনঃ আমার ও আমার পর হিদায়াত প্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাতকে (মতাদর্শকে) আঁকড়ে ধর, তাকে মজবুত করে ধর। দাঁতের মাড়ি দ্বারা ধারণ কর। নব আবিষ্কৃত জিনিস হতে বিরত থাক। কারণ প্রতিটি নবপ্রথা বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত গুমরাহী (পথভ্রষ্টতা)। (আবু দাউদ- ৪৬০৭, ও তিরমিযী-২৬৭৬)
২৯৩- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহর বাণীই হচ্ছে সর্বাধিক সত্য বাণী। আর উত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শ।
২৯৪- সুতরাং তাঁরা আল্লাহর বাণীকে যেকোন মানুষের কথার উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
২৯৫- এবং মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শকে যে কোন মানুষের মতাদর্শের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তাই তাঁদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ ওয়ালা বলা হয়।
২৯৬- আর তাঁদেরকে জামাআত ওয়ালাও বলা হয়। কারণ জামাআতের অর্থই হচ্ছে একতাবদ্ধ হওয়া। আর তার বিপরীত হচ্ছে বিচ্ছিন্নতা। যদিও পরবর্তীতে কোন একটি একতাবদ্ধ দলকে জামাআত বলা হচ্ছে।
২৯৭- আর ইজমা হল (ইসলামী বিধানের) তৃতীয় উৎস, যার উপর শরীয়তের (দ্বীনের বিধানের) ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
২৯৮- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই তিনটি (কিতাব, সুন্নাত ও ইজমা) জিনিস দ্বারা মানুষের সেই সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপনীয় কথা ও কার্য সমূহের মাপ করে থাকে, যার ধর্মের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।
২৯৯- আর সেই ইজমাই গ্রহনযোগ্য যার উপর সালাফ-সলেহীনগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীন) ইজমা (ঐক্যমত) পোষণ করেছেন। কারণ তাঁদের পরে মতানৈক্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই উম্মতের মাঝে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।
📄 আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্যাবলী
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
আহলে সুন্নাতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলীঃ
অতঃপর আহলে সুন্নাত উপরোক্ত তিনটি মৌলিক উৎসের প্রতি বিশ্বাসের সাথে সাথে নিম্নল্লোখিত কার্যাবলীও সম্পাদন করে থাকেনঃ
৩০০- শরীয়তের দৃষ্টিতে তাঁরা সৎ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন ও অন্যায় কাজ থেকে বাধা দান করেন।
৩০১- মুসলিম সরকার সৎ হোক কিংবা পাপী (অসৎ) আইলে সুন্নাত তাদের সাথে হজ্জ, জিহাদ, (ধর্মযুদ্ধ) জুমআ ও ঈদ কায়েম করার মত পোষণ করেন।
৩০৩- তাঁরা মুসলিম উম্মাহর জন্য কল্যাণ কামনা করে থাকেন।
৩০৪- তাঁরা নবী ﷺ এর নিম্নলিখিত বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখেনঃ
রাসূল ﷺ এরশাদ করেনঃ এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ঘরের ন্যায়, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে। (বোখারী ও মুসলিম)
তিনি ﷺ আরো বলেনঃ মুমিনদের এক অপরের সাথে ভালবাসায়, দয়াশীল হওয়ায় এবং সমবেদনা প্রকাশের উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়। যখন দেহের কোন অঙ্গ রোগাক্রান্ত হয়, তখন সমস্ত দেহটি জ্বর ও অনিদ্রার মাধ্যমে উক্ত অঙ্গের সাথে সমবেদনা পেশ করে থাকে। (বোখারী ও মুসলিম)
৩০৫- আহলে সুন্নাত আপদ-বিপদে ধৈর্য্য ধারণের নির্দেশ দান করে, সচ্ছলতার সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে বলে এবং তিক্ত তকদীরের (ভাগ্যের) উপর সন্তষ্ট থাকার উপদেশ দিয়ে থাকে।