📄 সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদার সার কথা। (সংক্ষিপ্ত আক্বীদা)
২৫০- নবী ﷺ এর সাহাবা (সহচরগণ) সম্পর্কে নাজাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর ও যবান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও গ্লানী মুক্ত থাকে।
২৫১-যেমন কি মহান আল্লাহ স্বীয় বাণীতে তাঁদের গুণাবলী বর্ণনা করেছেনঃ
الذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين
سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلا للذين عامنوا ربنا إنك رعوف
رحيم (الحشر: ১০)
অর্থাৎ- যারা তাদের পর আগমন করেছে তারা বলে থাকে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রগামী আমাদের ভাতৃগণকে ক্ষমা করে দাও। আর মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি করো না। হে আমাদের পালনকর্তা, নিশ্চয় তুমি অতীব দয়াশীল পরম করুণাময়।
(সুরা হাশরঃ ১০)
২৫২- আর তারা নবী ﷺ এর আনুগত্যে, তাঁর এই বাণীর অনুসরণ করেনঃ আমার সাহাবাগণকে গালি-গালাজ করবেনা, কারণ সেই সত্ত্বার শপথ করি যার অধীনে আমার জীবন, তোমাদের কোন ব্যক্তি ওহুদ পর্বত সমপরিমাণ সোনা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তবুও তাঁদের এক মুদ (৬০০ গ্রাম) বা আধা মুদ (৩০০ গ্রাম) দান খয়রাতের নেকী অর্জন করতে পারবেনা।
(বোখারী হাঃ নং-৩৬৭৩, মুসলীম হাঃ নং-২৫৪১ এবং ২২২. এই হাদীসের বর্ণনাকারী আবু সাঈদ খুদরী।
২৫৩- আর সাহাবায়ে কেরামগণের ফজিলত ও মান-মর্যাদা সম্পর্কে কুরআন, সুন্নাহ (হাদীস) এবং ইজমা (মুসলিম ওলামাগণের ঐক্যমত) দ্বারা যা প্রমাণিত তা গ্রহন করেন।
২৫৪- সুতরাং তারা (নাজাতপ্রাপ্ত দল) যে সমস্ত সাহাবীগণ হুদায়বিয়ার সন্ধির পূর্বে আল্লাহর পথে জান ও মালকে উৎসর্গ করেছেন, তাদেরকে পরবর্তী কালে যারা আল্লাহর পথে জান ও মাল উৎসর্গ করেছেন, তাদের উপর ফজিলত ও মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
২৫৫- এবং মুহাজিরদেরকে আনসারীদের উপর মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
২৫৬- আর তারা ইহাও বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহ বদর যুদ্ধে উপস্থিত সাহাবীগণ সম্পর্কে বলেছেন, যাদের সংখ্যা ছিল ৩১০ জন, তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো নিঃসন্দেহে আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। (বুখারী-৩০০৭, মুসলিম-২৪৯৫)
২৫৭- আর তারা এটাও বিশ্বাস করেন যে, যারা হুদায়বিয়া প্রান্তে গাছের তলায় নবী ﷺ এর সাথে বায়আত (শপথ) করেছিলেন, তাদের কোন একজনও নরকে যাবেনা। যেমন নবী ﷺ একথার সংবাদ দিয়েছেনঃ বরং আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের সংখ্যা ছিল ১৪০০ এরও অধিক।
২৫৮- নবী ﷺ যে ব্যক্তির জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান করেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তার জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান করে। যেমন দশজন সাহাবা (আশারা মুবাশশারাহ) সাবিত বিন ক্বায়স বিন শিম্মাস ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম।
২৫৯- আর নাজাতপ্রাপ্ত দল (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত) ইহাও বিশ্বাস রাখেন, যা আমিরুল মুমিনীন, আলী বিন আবি তালিব ও অন্যান্য সাহাবাগণ হতে বিশুদ্ধ সূত্র দ্বারা প্রমাণিত যে, নবী ﷺ এর পর এই উম্মাতের সর্বোত্তম ব্যক্তি হচ্ছেন, আবু বাকর তারপর উমর তারপর হযরত উসমান এবং চতুর্থ স্থানের অধিকারী হলেন আলী। আর ইহা অনেক হাদীস দ্বারা প্রমানিত। (মুসনাদে আহমাদ- আলবানী সহীহ বলেছেন)
২৬০- অনুরূপ সাহাবাগণ খেলাফতের বায়আতের (শপথের) ক্ষেত্রে হযরত উসমান কে প্রাধান্য দেয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত হয়েছেন। যদিও আহলে সুন্নাতের কতিপয় বিদ্যানগণ হযরত উসমান ও আলী সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, তাঁদের দুজনের কে উত্তম? তবে তারা হযরত আবু বাকর ও হযরত উমরের সর্বোত্তম হওয়ার ব্যাপারে একমত।
কিছু সংখ্যক লোকেরা হযরত উসমানকে ﷺ প্রাধান্য দিয়ে নীরব হয়েছেন অথবা হযরত আলীকে চতুর্থ স্থান দান করেছেন। আর কিছু লোকেরা হযরত আলী কে প্রাধান্য দিয়েছেন বা উত্তম বলেছেন। আর একদল আলেমরা এ সম্বন্ধে নীরব থেকেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আহলে সুন্নাতের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে যে, হযরত উসমানের পর হযরত আলীর স্থান।
২৬১- যদিও হযরত উসমান ও হযরত আলী ﷺ দুজনের কে উত্তম? এই ব্যাপারটি কোন মৌলিক বিষয় নয়, যাতে বিরোধী দলকে গুমরাহ (পথভ্রষ্ট) বলা যেতে পারে। ইহাই অধিকাংশ আহলে সুন্নাতের মত।
২৬২- তবে যে ব্যাপারটিকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের পথভ্রষ্ট বলা যেতে পারে তা হলো, খেলাফতের ব্যাপার। (অর্থাৎ কেউ যদি হযরত উসমানের বা হযরত আলী বা হযরত উমর অথবা হযরত আবু বকরের খেলাফতকে অস্বীকার করে, তাহলে সে গুমরাহ। (অনুবাদক)
২৬৩- কারণ তারা বিশ্বাস রাখে যে, রাসূল ﷺ এর পর খলীফা ছিলেন আবু বাকর অতঃপর উমর অতঃপর উসমান তারপর হযরত আলী।
২৬৪- এই চার খলীফার কোন একজনের খলীফা হওয়াই যে ব্যক্তি আপত্তি করে, সে তার পালিত গাধা অপেক্ষা নিকৃষ্ট ও জঘণ্য।
২৬৫- নাজাতপ্রাপ্ত দল রাসূল ﷺ এর আহলে বায়ত (বংশধর মুসলিমদের) ভালবাসবে এবং তাদের শ্রদ্ধা করবে।
২৬৬- আর তারা আল্লাহর রাসূল ﷺ এর অসিয়তের প্রতি যত্নবান, কারণ তিনি গাদীরে খুম (একটি জায়গার নাম) এর দিন বলেনঃ আমার আহলে বায়তের (বংশধর) সম্পর্কে তোমাদেরকে উপদেশ দান করছি, আমার আহলে বায়ত সম্পর্কে তোমাদেরকে উপদেশ দান করছি।
(সহীহ মুসলিম-২৪০৮)
২৬৭- আর তিনি নিজ চাচা হযরত আব্বাস কে বলেনঃ যখন তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট অভিযোগ করলেন যে, কুরায়শ গোত্রের কিছু লোকেরা হাশেম গোত্রের সাথে দুর্ব্যবহার করে, সেই সত্ত্বার শপথ করে বলি যার হাতে আমার জীবন রয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুমিন হতে পারবেনা, যতক্ষণ তারা আল্লাহর সন্তষ্টির উদ্দেশ্যে ও আমার আত্মীয়তার কারণে তোমাদেরকে না ভালবাসবে। (মুসনাদে আহমদ- যয়ীফ)
২৬৮- রাসূল ﷺ আরো বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ পাক হযরত ইসমাইল (আঃ) এর বংশধরকে মনোনীত করেন এবং ইসমাইল (আঃ) এর বংশধর হতে কিনানাকে মনোনীত করেন। আর কিনানার গোত্র থেকে কুরায়শকে মনোনীত করেন, অতঃপর কুরায়শ বংশ থেকে হাশিম গোত্রকে মনোনীত করেন। তারপর হাশিম গোত্র হতে আমাকে মনোনীত করেন।
(সহীহ মুসলিম- ২২৭৬)
২৬৯- আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত রাসূল ﷺ এর বিবিগণকে (যাঁরা মুমিনদের মাতা) ভালবাসেন এবং মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন।
২৭০- আর একথায় অকাট্য বিশ্বাস রাখে যে, তাঁরা পরকালেও রাসূল ﷺ এর হারেমে থাকবেন।
২৭১- বিশেষ করে হযরত খাদীজা যিনি রাসূল ﷺ এর অধিকাংশ সন্তানদের মাতা, যিনি সর্ব প্রথম তাঁর প্রতি ঈমান নিয়ে আসেন এবং তাঁর মিশনে সাহায্য সহযোগীতা করেন। আর রাসূল ﷺ এর নিকট তাঁর বড় মান মর্যাদা ছিল।
২৭২- আর হযরত (আবু বকর) ছিদ্দীকের কন্যা হযরত (আয়েশা) সিদ্দীকা, যাঁর সম্পর্কে নবী ﷺ বলেছেন, নারী জাতির মাঝে আয়েশার ফযিলত ও মর্যাদা তেমনি, যেমন সারীদ এর, (মাংস মিশ্রিত চূর্ণ রুটি) অন্যান্য খাদ্যের উপর প্রাধান্য রয়েছে। (আরবদের নিকট) (বোখারী)
২৭৩- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত রাফেযীদের (শীয়াহ) ধর্ম হতে সম্পর্কহীন, যারা সাহাবাগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ রাখে এবং তাদেরকে গালাগালি করে। অনুরূপ নাসেবীদের ধর্ম পন্থা হতেও সম্পর্কহীন, যারা আলে বায়তকে (রাসূল ﷺ এর বংশধরকে) কথায় বা কাজে কষ্ট দিয়ে থাকে।
২৭৪- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত সেসব দ্বন্দ্বের সমালোচনা ও পর্যালোচনা থেকে বিরত থাকে, যা সাহাবাদের মাঝে ঘটে ছিল।
২৭৫- আর তাঁরা বলেন, সাহাবীগণের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা নিম্নরূপঃ অনেক বর্ণনা মিথ্যা ও জাল। অনেক আবার এমন, যাতে বাড়তি বা ঘাটতি করা হয়েছে অথবা তার বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। আর যা সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তাতে তারা মায়ুর (যার ওযর গ্রহন যোগ্য)। কারণ তাঁরা হয়তো এই ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করে সঠিক কাজ করেছিলেন, কিংবা ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে না পৌঁছে ভুল-ত্রুটিতে নিমজ্জিত হয়েছিলেন।
২৭৬- আহলে সুন্নাতের একথাই দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, প্রত্যেক সাহাবী বড় ও ছোট পাপ হতে নিরাপদ নন। বরং তাঁদের দ্বারাও গুনাহ খাত্বা হতে পারে।
২৭৭- আর তাঁদের যদি গুনাহও হয়ে থাকে, তবুও তাঁদের এমন পরিমাণ নেক আমল (সৎ কার্য সমূহ) ও গুণাবলী রয়েছে, যার কারণে তাঁদের গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি মাফ হয়ে গিয়েছে।
২৭৮- এমন কি তাঁদের (সাহাবাগণের) যত গুনাহ খাতা মাফ হয়েছে, তা পরবর্তী লোকদের হতে পারে না। কারণ সাহাবাগণের যে পরিমাণ নেকী রয়েছে, তা তাঁদের পরবর্তীদের নেই, যা গুনাহ সমূহ মিটিয়ে দেয়।
২৭৯- রাসূল ﷺ এর পবিত্র বাণী দ্বারা প্রমাণিত যে, সাহাবাগণের যুগ হচ্ছে সর্বোত্তম যুগ। (বোখারী ও মুসলিম)
২৮০- আর কোন সাহাবী যদি এক মুদ (৬০০ গ্রাম) সাদাক্বা করে থাকেন, তা পরবর্তী লোকদের ওহুদ পর্বত সমপরিমাণ সোনার সাদাক্বা অপেক্ষা উত্তম।
২৮১- তার পরেও যদি কোন সাহাবীর দ্বারা কোন রকম গুনাহ হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তা হতে তওবা করে নিয়েছেন অথবা এত বেশী নেক আমল করেছেন, যা তাঁর গুনাহ মোচন করে দিয়েছে। অথবা প্রথম শ্রেণীর মুসলিম হওয়ার কারণে তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছে কিংবা মুহাম্মদ ﷺ এর শাফাআতের অধিক হকদার (বেশী অধিকারী)। বা ইহজগতে তাঁদের উপর এমন কিছু আপদ-বিপদ এসেছে, যা দ্বারা গুনাহের মোচন হয়ে গেছে।
২৮২- সুতরাং যখন তাঁদের গুণাহের এই অবস্থায় হয়, তাহলে যে সমস্ত দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে তাঁরা ইজতিহাদ করেছিলেন, তাতে আর কি বলা যেতে পারে। যদি ঠিক করে থাকেন, তাহলে দ্বিগুণ সওয়াব পেয়েছেন আর যদি ভুল করে থাকেন, তাহলে একগুণ সওয়াব পেয়েছেন এবং গুণাহ মাফ করা হয়েছে।
২৮৩- আর কতিপয় সাহাবাগণের কিছু কাজ-কর্মের উপর আপত্তি করা হয়েছে। তার পরিমাণ, তাঁদের নেক আমল ও ফজিলত এবং তাঁদের মর্যদার তুলনায় অতি অল্প। তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, তাঁর পথে জিহাদ, হিজরত (স্বদেশ হতে নির্বাসন) ও দ্বীনের সাহায্য করেছেন। আর ফলদায়ক ইলম (শরীয়তের জ্ঞান) ও সৎ কাজ-কর্ম সম্পাদন করেছেন।
২৮৪- আর যে ব্যক্তি সাহাবীগণের জীবনের উপর জ্ঞানচক্ষু নিয়ে গবেষণা করবে এবং লক্ষ্য করবে যে, মহান আল্লাহ তাদের উপর যে নানা দিক দিয়ে অনুগ্রহ করেছেন, সে ব্যক্তি অবশ্যই একথা নিঃসন্দেহে জানতে পারবে যে, তাঁরা নবীগণের পর সৃষ্টি জগতের উত্তম জাতি।
২৮৫- তাঁদের তুলনায় কেউ অতীতেও ছিল না আর ভবিষ্যতেও হবেনা।
২৮৬- আর তাঁরাই হলেন এই উম্মতের মনোনীত দল, যেই উম্মত হলো সর্বোত্তম ও আল্লাহর নিকট সম্মানিত জাতি।
📄 আওলিয়ায়ে কিরামের কারামতে বিশ্বাস
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
আওলিয়ায়ে কিরামের কারামতে বিশ্বাসঃ
আহলে সুন্নাতের মূলনীতি সমূহের অর্ন্তভূক্ত হলঃ
২৮৭- আল্লাহর অলীগণের কারামতে (অলৌকিক ঘটনায়) বিশ্বাসী হওয়া।
২৮৮- আর যে সব অলৌকিক ঘটনাবলী মহান আল্লাহ তাঁদের হাতে প্রকাশ করে থাকেন, যেমন বিভিন্ন প্রকারের ইলম ও জ্ঞান, কাশফ্ট, বিভিন্ন ধরনের শক্তি ও প্রতিক্রিয়া যা সুরা কাহাফ ও অন্যান্য সুরায় পূর্ববর্তী উম্মতের সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। তেমনি এই উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার প্রথম সারির মুমিনগণ অর্থাৎ সাহাবাগণ, তাবেয়ীন এবং এই উম্মতের সর্বযুগের সৎ ব্যক্তিগণ হতে আল্লাহ তায়ালা কারামত প্রকাশ করে থাকেন।
২৮৯- আর কারামত এই উম্মতের কেয়ামত পর্যন্ত প্রকাশ পেতে থাকবে।
📄 আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ ও বৈশিষ্টাবলী
ষষ্ঠ অধ্যায়
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথ ও প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলীঃ
এই অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছেঃ
প্রথম পরিচ্ছেদঃ রাসূল ﷺ এর হাদীস সমূহের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রশংসনীয় বৈশিষ্টাবলী।
📄 রাসূল ﷺ এর হাদীসের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ
প্রথম পরিচ্ছেদ
রাসূল ﷺ এর হাদীস সমূহের ও পূর্ববর্তী মুমিনগণের পন্থার অনুসরণ।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পন্থা হলঃ
২৯০- রাসূল ﷺ এর আদর্শের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ জীবনে অনুসরণ করা।
২৯১- এবং মুহাজিরগণ ও আনসারীগণ, যাঁরা প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহনকারী তাঁদের পথের অনুসরণ করা।
২৯২- আর আল্লাহর রাসূল ﷺ এর অসিয়তের (উপদেশ) অসুসরণ করা। যেহেতু তিনি ﷺ বলেনঃ আমার ও আমার পর হিদায়াত প্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাতকে (মতাদর্শকে) আঁকড়ে ধর, তাকে মজবুত করে ধর। দাঁতের মাড়ি দ্বারা ধারণ কর। নব আবিষ্কৃত জিনিস হতে বিরত থাক। কারণ প্রতিটি নবপ্রথা বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত গুমরাহী (পথভ্রষ্টতা)। (আবু দাউদ- ৪৬০৭, ও তিরমিযী-২৬৭৬)
২৯৩- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহর বাণীই হচ্ছে সর্বাধিক সত্য বাণী। আর উত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শ।
২৯৪- সুতরাং তাঁরা আল্লাহর বাণীকে যেকোন মানুষের কথার উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
২৯৫- এবং মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শকে যে কোন মানুষের মতাদর্শের উপর অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তাই তাঁদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ ওয়ালা বলা হয়।
২৯৬- আর তাঁদেরকে জামাআত ওয়ালাও বলা হয়। কারণ জামাআতের অর্থই হচ্ছে একতাবদ্ধ হওয়া। আর তার বিপরীত হচ্ছে বিচ্ছিন্নতা। যদিও পরবর্তীতে কোন একটি একতাবদ্ধ দলকে জামাআত বলা হচ্ছে।
২৯৭- আর ইজমা হল (ইসলামী বিধানের) তৃতীয় উৎস, যার উপর শরীয়তের (দ্বীনের বিধানের) ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
২৯৮- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই তিনটি (কিতাব, সুন্নাত ও ইজমা) জিনিস দ্বারা মানুষের সেই সমস্ত প্রকাশ্য ও গোপনীয় কথা ও কার্য সমূহের মাপ করে থাকে, যার ধর্মের সাথে সম্পর্ক রয়েছে।
২৯৯- আর সেই ইজমাই গ্রহনযোগ্য যার উপর সালাফ-সলেহীনগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীন) ইজমা (ঐক্যমত) পোষণ করেছেন। কারণ তাঁদের পরে মতানৈক্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই উম্মতের মাঝে বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।